Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

কানসাটের আম বাজারে দেখা নেই ব্যাপারীদের

হতাশার কথা বলতে গিয়ে তারা জানান, এ বছর ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জের আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে কমেছে আমের উৎপাদন। অন্যদিকে ওজন সংক্রান্ত জটিলতায় দেরিতে কানসাটে আম বেচাকেনা শুরু হওয়ায় ব্যাপারীরা কানসাটমুখী হচ্ছেন না। এই দুই কারণেই জমে উঠেনি দেশের বৃহৎ আমের বাজার কানসাট আম বাজার।

শনিবার সকাল ১০টা। কানসাটে অন্য বছর যেখানে রাস্তায় দুই ধারে আম বেচাকেনার কারণে চলাচল ছিল দায়, এ বছর অনেকাংশেই সেই চিত্র নেই। দুই একটা ভ্যান ও সাইকেল আম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কানসাটের মূল বাজারে দেখা গেল, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাইকেলে, ভ্যানে করে আসা আমে ভরে গেছে।

সেখানে কথা হয় নিজ বাগানের বোম্বাই ও ল্যাংড়াজাতের আম নিয়ে বাজারে আসা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার হুসেন আলীর সাথে। বাজারের অবস্থা কেমন জানতে চাইলে বলেন, ঢাকার ব্যাপরীরা নাই, আমের দাম বলে না। যে কয়জন আছে তারা আশানুরূপ দাম বলছে না। বেশি ব্যাপারি নামলে আমের দাম ভালো পাওয়া যায়। 

মাসুদ রানা নামে একজন নিয়ে এসেছেন ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আম। তার আম বিক্রি হলো ২৩৫০ টাকা মন ধরে। তিনি জানালেন ফ্রুট ব্যাগ করেছিলেন ৫০ হাজার আমে, নানা ঝামেলায় বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না, তাই কানসাটে নিয়ে এসেছি।

কানসাট বাজারে আম কিনছেন শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান। তিনি কানসাট থেকে আম কিনে ঢাকায় পাঠান।

তিনি বলেন, এ বছর আম পাঠিয়ে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। এবার কানসাটে বাজার একটু চড়া। তবে তার কাছে প্রশ্ন ছিলো আম ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের ক্ষতি হচ্ছে, আপনি বলছেন দাম চড়া। উত্তরে তিনি জানান, এবার ঝড় ও শিলার কারণে শিবগঞ্জে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা যে আমের কথা চিন্তা করে বাগান কিনেছিলেন তার অনেক কম পাচ্ছেন, ফলে দাম কিছুটা গতবারের চেয়ে বেশি হলেও কিছুটা ক্ষতি হচ্ছেই তাদের। আমার নিজেরও বাগান আছে আমারও ক্ষতি গুনতে হবে।

অন্যদিকে যখন আম পাঠানোর চিন্তা করছি, তখন দেখছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য এলাকার আম কিছুটা কম দামে ও বেশি ওজনে কিনে ব্যাপারিরা ঢাকা পাঠাচ্ছে, তখন ঢাকার আড়তে বেশি দামে আমাদের আম নিতে চায় না।

কানসাট আম বাজর ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের খিরসাপাতি (হিম সাগর) বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২৫০০-২৬০০ টাকায়, মাঝারি মানের ২০০০-২২০০ টাকা ও ছোট সাইজের ১৪০০-১৬০০ টাকা।

অন্যদিকে ভালো মানের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২০০০ টাকায়, মাঝারি মানের ১৫০০ টাকায়, ছোট সাইজের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। সব আমই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ কেজিতে মণ হিসাবে। সেই সাথে আরো ১ কেজি আম দিতে হচ্ছে আড়তদারকে।

এদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আম পাঠানোর কাজ সহজ করতে কানসাট এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২ শতাধিক আমের আড়ত। তবে সরেজমিনকালে দেখা যায় এ বছর এই আড়তগুলোর অর্ধেকও এখনো চালু হয়নি।

কানসাটে একটি বড় আমের আড়ত মেসার্স শফিকুল ট্রেডার্স। কথা হয় এর মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে। এ বছর ব্যবসা বাণিজ্য কেমন প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, এ বছর আমের আমদানি কম, এ বছর ঝড় ও শিলার কারণে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই ব্যবসার পরিস্থিতি খুব ভালো না।

তিনি জানান, গতবছর এই সময় তার আড়ত থেকে প্রতিদিন ৫-৬ ট্রাক আম পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। এবার তার আড়ত থেকে কয়েকজন ব্যাপারি মিলিয়ে গড়ে ১ বা ২ ট্রাক আম নিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার অনেক ব্যাপারি এখনো আসেনি বলে তিনি জানান। তার আড়তে কাজ করার জন্য ৬০-৬৫ জন শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে ২০ জনকে কাজে লাগাতে পেরেছেন। তবে আড়তদার আশাবাদী ঈদের পর দেশের অন্য স্থানের আমের জোগান শেষ হলে কানসাটমুখী হবেন ব্যাপারীরা। একই আশাবাদের কথা জানিয়েছেন আড়তদার, আম ব্যবসায়ীসহ সকলেই।

তবে ঝড় ও শিলায় আমের ক্ষতি হলেও সব মিলিয়ে গড় উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে মনে করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা। তিনি জানান, জেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মে. টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার মে. টন। তবে তিনি ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্বীকার করেন।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার আম সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রফতানি পণ্যের তালিকায় উঠে আসার এক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আম ব্যবসায়ীরা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছে এখানকার আম তাদের দেশে নিয়ে যাবার ব্যাপারে। যদিও ইতোপূর্বে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুই হাজার টন আম ...
ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচরে একটি আম গাছের গোড়া থেকে গজিয়ে উঠেছে হাতসদৃশ মসজাতীয় উদ্ভিদ বা ছত্রাক। ওই ছত্রাককে অলৌকিক হাতের উত্থান এবং ওই হাত ভেজানো পানি খেলে যেকোন রোগ ভাল হয় বলে অপপ্রচার করছে স্থানীয় ভ- চক্র। আর ওই ভ-ামির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২