Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

শিবগঞ্জে পোকার আক্রমণে বিবর্ণ নাবিজাত আশ্বিনা

আমের মৌসুম প্রায় শেষ হতে চলছে, তবে ব্যবসায়ীদের মন ভালো নেই। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই আমের বাজার ছিল মন্দা। এখন শেষ সময়ে এসেও যেন নাবিজাত আশ্বিনা আম নিয়ে মহা বিপদেই পড়েছেন তারা। বিবর্ণ আমের রংয়ের কারণে ক্রেতা আকৃষ্ট করতেই পারছেন না। সেই সাথে আম পোকায় আক্রান্ত হওয়ায় আম কিনছেন না ক্রেতারা। ফলে অনেক বাগানে আশ্বিনা আম গাছেই নষ্ট হচ্ছে। আবার অনেকেই কম দামে বিভিন্ন জুস কোম্পানীর কাছে বিক্রি করছেন এসব আম।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার আম ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন শামীম খাঁন সিল্কসিটি নিউজকে  জানান, তারা কয়েকজন এ বছরে ১১ লাখ টাকা দিয়ে আশ্বিনা আম বাগানেই কিনে রেখেছিলেন। ওই বাগান থেকে অন্তত ১২ শ মণ আম তারা পাবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু এ বছর অধিক পরিমাণে আমে মাছি পোকার আক্রমণের ফলে অধিকাংশ আম পচে গেছে। ফলে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে করে সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬০০ মণ আম বিক্রি হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।

 

এছাড়াও পোকার কারণে আমের রং নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাজারে আমের চাহিদা একে বারেই কম। কিছু আম দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো গেলেও দাম একেবারেই কম।

 

তিনি বলেন, ‘আমের মাণের উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে এখন নাবিজাত আশ্বিনা। এর বাইরে ৬০০ থেকে ৮০০ বা হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে আশ্বিনা আম।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত আশ্বিনা আমের ক্রেতা বিভিন্ন জুস কোম্পানী। কিন্তু তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার থেকে তারা ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা মণ দরে আম কিনছে।’

 

শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের আরেক আম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জেম আলী সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘এ বছর প্রায় ৩০ লাখ টাকার ফজলী ও আশ্বিনাসহ বিভিন্ন আমের বাগান কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু বছরের শুরুতেই শীলাবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণের কারণে অনেক আম নষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পোকায় আক্রান্ত হয়েছে ফজলী ও আশ্বিনা আম।’

 

তিনি বলেন, বারে বারে আমে সেপ্রে করেও ঠেকানো যাচ্ছে না পোকার আক্রমণ। আর এ পোকার কারণে আমরা আমের ভালো দাম পাচ্ছি না। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থও হচ্ছি।

 

শিবগঞ্জের বিভিন্ন আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আধিক্য এখন শুধু আশ্বিনার বাইরে কিছু কিছু ফজলী আম পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে ৮০০’ থেকে ১২০০ টাকা আর ফজলী ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানসাট আম বাজারেও বিক্রেতারা আম নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতাদের তেমন অগ্রহ নেই আমের প্রতি।

 

আম ব্যবসায়ী বাইরুল ইসলাম জানান, কয়েক ডালি আম নামলেও ক্রেতাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়াও শেষ সময়ে এ বছর  দেশের বিভিন্ন বাজারে আম পাঠিয়ে অনেক আম পচে যাওয়াসহ ও পোকা থাকা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তারা।

 

আমের পোকা আক্রমণ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আশ্বিনা আমে পোকার আক্রমণ অনেক বেশি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০টি আশ্বিনা আমের মধ্যে ৬০টি আমের ফ্রুট ফাই পোকা থাকে।

 

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘আমের বয়স ৫৫-৬০ দিন থেকে আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয় আম। ফলে মাছি পোকার আক্রামণে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। আম রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সমস্যা। কারণ আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় বাইরে থেকে বোঝা যায় না ‘

 

তিনি আরো বলেন, ‘আম পাকার মৌসুমে স্ত্রী মাছি পরিপক্ক আমের গায়ে ডিম পাড়ে। ১-৩ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে সাদা লার্ভা বের হয়। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা মাছি পোকায় পরিণত হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় মাছি পোকার আক্রমন বুঝা যায় না তবে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে আক্রান্ত আমের গায়ে ডিম পাড়ার স্থানে ক্ষুদ্র চিহ্ন দেখা যায়। ওই স্থানটি কিছুটা বিবর্ণ হয়ে যায়। আক্রান্ত আম পাকা শুরু হলে এ আক্রান্ত স্থান থেকে রস ঝরতে দেখা যায়। পোকায় আক্রান্ত হওয়ায় পাকা আম কাটলে আমের শাঁসের ভিতর ১০০-১৫০টি সাদা সাদা পোকার কীড়া দেখা যায়। এ পোকায় আক্রান্ত আম অনেক সময় পচে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মে মাসের আগে যেসব আম পাড়া হয়। সেগুলো পোকা আক্রমণ শতকরা ৫ ভাগের নিচে। জুন মাসে আমে পোকার আক্রমণের হার শতকরা ৫-১০ ভাগ। জুন মাসের শেষদিক থেকে সবচেয়ে বেশি আম মাছি পোকায় আক্রান্ত হয়। জুলাই মাসে গিয়ে তা ঠেকে শতকরা ৫০-৬০ ভাগে।

 

ড. শরফ উদ্দিন জানান, এ বছর তিনি ১০ ইস্কার মিটারের একটি সেঙ ফোরোমন ফাঁদের মাধ্যমে জুলাই মাসেই প্রায় ৯ হাজার পোকা মেরেছেন। পোকার এত বেশি বংশ বিস্তারের কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে এই পোকা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। চাষিরা যদি সেঙ ফোরোমান পদ্ধতি ব্যবহার করে তবে কিছুটা হলেও আমের মাছি পোকা থেকে রক্ষা পাবে। তবে পোকার আক্রমণ শতভাগ ঠেকাতে হলে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
রাজশাহী ও রংপুরের পর এবার মেহেরপুরেও তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার। এখানে অল্প খরচে সংরক্ষণ করা যাবে পিঁয়াজ ও আলু। এই হিমাগার সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে আম ও লিচুর সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগ বলছে, এই সংরক্ষণাগার ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচরে একটি আম গাছের গোড়া থেকে গজিয়ে উঠেছে হাতসদৃশ মসজাতীয় উদ্ভিদ বা ছত্রাক। ওই ছত্রাককে অলৌকিক হাতের উত্থান এবং ওই হাত ভেজানো পানি খেলে যেকোন রোগ ভাল হয় বলে অপপ্রচার করছে স্থানীয় ভ- চক্র। আর ওই ভ-ামির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২