Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

বাম্পার ফলনে হাঁড়িভাঙ্গা আমে নতুন স্বপ্ন

গ্রামগঞ্জের মেঠোপথ থেকে হাট-বাজার হয়ে রংপুর শহরের অলিগলি ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমে ভরে উঠেছে। বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভাল হওয়ায় হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষ করে দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করার স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা। আবার স্বল্প দামে মনকাড়া আম হাতের নাগালে পেয়ে ভীষণ খুশি ক্রেতারাও। ইতোমধ্যে রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদিত হাঁড়িভাঙ্গা আমের বিক্রি ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে এ এলাকার অর্থনীতি।

রংপুরের পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের স্টেশন বাজার এ অঞ্চলের হাঁড়িভাঙ্গা আমের বড় পাইকারি হাট। এই হাট থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে হাঁড়িভাঙ্গা আম নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রংপুরের ফলের আড়ত ছাড়াও টার্মিনালের পশ্চিম কোনে বসেছে হাঁড়িভাঙ্গার মিনি হাট। এখান থেকেও পাইকাররা আম নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পদাগঞ্জে গেলে চোখে পড়বে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান। এ অঞ্চলের কুতুবপুর, খোড়াগাছ পাইকারের হাট, পদাগঞ্জ, কদমতলী, পীরের হাট, তালপুকুর, মাঠের হাট, আখড়ের হাট ছাড়াও সমস্ত এলাকাজুড়ে হচ্ছে এ আমের চাষ। এখানকার মাটি আম চাষের সম্পূর্ণ উপযোগী হওয়ায় ওই এলাকার চাষীরা অন্য ফসলের চেয়ে আম বাগানে সবচেয়ে মনোযোগী হয়ে উঠছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, রংপুরের তিন উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় শিল্পপতিরা এসব এলাকায় জমি কিনে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান করছেন। এই আম বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৯৫০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমের কারণে অনেকেই রাজশাহীর পর এখন রংপুরকে আমের এলাকা বলে থাকেন।

রংপুর মহানগরীর প্রবেশ দ্বার পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামের মেঠোপথে সারি সারি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। মিঠাপুকুর উপজেলাতেই ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩ হাজার ৮টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে এ জাতের আম চাষ করে অনেকেই ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। অন্য ফসলে খুব একটা লাভ না হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমের চাষ। চাষীরা আগ্রহ নিয়ে আম চাষে এগিয়ে আসছেন। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত বেকার যুবকরাও ঝুঁকে পড়েছেন আম চাষে। পদাগঞ্জের আম চাষী আনসার বকশী জানান, তিনি ৮ একর জমিতে আমের বাগান করেছেন । গত বছর তিনি দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি আড়াই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। হাঁড়িভাঙা আম কিনতে রাজশাহী থেকেও ক্রেতারা পদাগঞ্জে আসছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাগান মালিক সালাম সরকার কয়েকটি বাগানের আম বিক্রি করেছেন সাড়ে ১৫ লাখ টাকায়। তিনিই এ এলাকার সবচেয়ে বড় আম বাগানের মালিক। তার বাগানের আম জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আম বাগানের মালিকদের মধ্যে খোড়াগাছ পাইকার হাটের নওশাদ, তার ভাই শওকত, বাবুল মিয়া ও আনছার অন্যতম। তারা প্রত্যেকে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। ঘাঁড়িভাঙ্গা ছাড়াও এ অঞ্চলে মিছরিভোগ, ফজলি, গোপালভোগ, কপিল বাঙ্গরিসহ নানা জাতের আম চাষ হয়। আম বাগানগুলোতে সারাবছর শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন হাজার হাজার শ্রমিক। চাহিদা থাকায় বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাগান মালিকরা বলছেন, রংপুরে এবার যে আমের ফলন হয়েছে, তা সারাদেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। ঘাঁড়িভাঙ্গা আমের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত মিঠাপুকুর উপজেলার সর্দারপাড়া প্রামের আব্দুস সালাম সরকার জানান, চলতি বছর ১২ একর জমিতে আম চাষ হয়েছে। ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি করা যাবে। ময়েনপুর গ্রামের আম চাষী সুলতান মিয়া বলেন, ‘চলতি বছর ২ একর জমিতে আম চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে।’ বদরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গা আম আমার ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করেছে। মৌসুমের শুরুতে এ আম প্রতি কেজি ৫০ টাকা ও শেষের দিকে ১৫০ টাকা থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ আলী জানান, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দিনে রংপুরের আম সারাদেশের চাহিদা মিটিয়ে আরও বেশি করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। বেশি লাভের আশায় আম চাষ করছেন চাষীরা। এ বছর আমের ব্যাপক ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় চাষীদের মাঝে আম চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম জানান, সারাদেশে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বিস্তার ঘটেছে। হাঁড়িভাঙ্গা আমে রোগবালাই কম হয়। চারা লাগানোর পরের বছরই গাছে মুকুল আসে। আর ৫-৬ বছর বয়সে গাছে পুরোদমে আম আসতে শুরু করে। এছাড়া বোঁটা শক্ত হওয়ায় গাছ থেকে তা অকালে ঝরে যায় না। পূর্ণাঙ্গ একেকটি আমের ওজন চারশ থেকে সাড়ে পাঁচশ গ্রাম হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, এ বছর রংপুরে ২৮০ কোটি টাকার আম উৎপাদন হয়েছে। হাঁড়িভাঙ্গা আমের সু-স্বাদের কারণে রাজশাহীর ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্ণরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা আম বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
এক আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?- ভাবা যায়! একটি আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা। তাও আবার আমের রাজধানী-খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। ঘটনাটা কী! শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু জানান, শনিবার সকালে দুলর্ভপুর ইউনিয়নের ...
চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ নয়ালাভাঙাতে মাইক্রোবাস হতে ছোড়া বোমার আঘাতে দুই জন আহত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- রানিহাটি ইউনিয়নের বহরম গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে মো. ...
গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
নব্য জেএমবির বিভিন্ন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ সংগঠনের প্রধান আব্দুর রহমানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রায় ১৯টির মতো সাংগঠনিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত আব্দুর রহমান ওরফে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২