Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

ফলনের আশায় বাগানে কালটার, মারা যাচ্ছে আমগাছ!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের একটি গ্রাম দেবীনগর। শ্যামল ছায়ায় এই গ্রামের ভেতরে ‘সেলিমাবাদ জামে মসজিদ’। মসজিদটির একটি আমবাগান রয়েছে যেখানকার আম বিক্রি করে ইমামের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষাঙ্গিক খরচ মেটায় মসজিদ কমিটি। কিন্তু বাগানের ১২ টি আমগাছের মধ্যে ৯ টিই মারা গেছে! আর যে তিনটি বেঁচে আছে- সেগুলোও মারা দ্রুত মারা যাবে বলে আশঙ্কা করছে মসজিদ কমিটি কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করেই ৯ টি আমগাছ মারা যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুষছেন ‘কালটার’ নামে এক হরমোনকে!

সেলিমাবাদ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসলাইল খান শামীম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ২০০৬ সালে তিন বছরের জন্য মসজিদের বাগানটি এক ব্যবসায়ীকে লিজ দেওয়া হয়। লিজের সময় শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে ৯ টি গাছ মরে গেছে। আর যে ৩ টি গাছ আছে তাও মারা যাওয়ার পথে।

তিনি দাবি করেন, অতি মুনাফার লোভে ওই ব্যবসায়ী গাছগুলোতে কালটার প্রয়োগ করেন। এতে আমের ফলন বেশি হয়েছে; লাভ হয়েছে তার। কিন্তু নষ্ট হল মসজিদের সম্পদ।

এই অবস্থা শুধু মসজিদের আমবাগানের নয়, আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক বাগানেরই। ব্যাপকভাবে কালটার ব্যবহারে অনেক বাগানেরই এমন অবস্থা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে বর্তমানে কালটার আতঙ্কে ভুগছেন বাগান মালিকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আম চাষি শামীম খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যে ব্যবসায়ীকে বাগান ইজারা দিয়েছিলাম- তিনি গোপনে কালটার ব্যবহার করেন। এজন্য প্রথম বছরে প্রচুর আমের ফলন পেয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর খেয়াল করি যে কয়েকটি গাছ আস্তে আস্তে মারা যাচ্ছে। তাই ইজারা বাতিল করে দিয়েছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালটার বাণিজ্যিক নাম, এর রাসায়নিকের জেনেরিক নাম পাকলোবিউট্টাজল। এই হরমোনের কাজ হল আম গাছের সাধারণ বৃদ্ধিকে ঠেকিয়ে রাখা। কিন্তু এদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক ফলনের জন্য আমগাছে কালটার ব্যবহার করছেন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি- দেশে কালটারের যে অবৈধ চাহিদা তার প্রায় ৯০ ভাগই সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবহার হয়। বর্তমানে এদেশের আম বিদেশে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু কালটার ব্যবহারে আস্তে আস্তে যেমন আম বাগানগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে- তেমনি অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখনই সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কালটার বলে পরিচিত এই রাসায়নিক দেশে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে চোরাই পথে আনছে কালটার।

কানসাটের আম ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, কালোবাজারিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে নিয়ে আসছে কালটার। তার পর গোপনে তা বিক্রি করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটার তৈরি একেকটি বোতল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আম বাগানে গোপনে কালটার ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, কালটার ব্যবহার ঠেকানোর জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এ বছর এখনো কালটার ব্যবহারে তার নজরে আসেনি বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা পরিষদের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পাকলোবিউট্রাজল দিলে আমের লতাপাতা গজানোর জন্য যে হরমোন আছে তার সাথে বিক্রিয়া করে। ফলে গাছের বৃদ্ধিকে আটকে দেয়। আমগাছের নির্দিষ্ট বয়সে এই হরমোন দেওয়া হয়ে থাকে বিভিন্ন দেশে। তবে তা মূলত স্বল্প আয়ুর আমের জাতে দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব আম জাতের বয়স থাকে মুলত ১০ থেকে ১৫ বছর- সেগুলোতে এই হরমোন দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই হরমোন পানির সাথে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দেওয়া হয়।

যেহেতু বাংলাদেশের আমের জাতগুলো দীর্ঘজীবী অর্থাৎ এদের আয়ু কমপক্ষে ১০০ বছর তাই বিজ্ঞানীরা তা ব্যবহারে পরামর্শ দেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দশ বছরের কম বয়সে কালটার ব্যবহার করলে গাছের অনেক ক্ষতি হতে পারে। আবার ৩০ বছরের বেশি বয়সের গাছে প্রয়োগ করলে ক্ষতি হয়। যেহেতু আমাদের গবেষণার দিক থেকে কোনো ক্লিয়ারেন্স নাই। এজন্য কালটার ব্যবহারের জন্য আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি না।

তারমতে, উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ আম বাগান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অবৈধ পথে আনা কালটার ব্যবহার বাড়ছে।

বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই কালটারের ব্যবহার ঠেকাতে। সচেতনতা চালাচ্ছি চাষী পর্যায়ে। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি যেন, চোরাই পথে পাকলোবিউট্রাজল জাতীয় কোন হরমোন ঢুকতে না পারে।

এ বছরের শুরুর দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কালটার ব্যবহারের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৫০ শতাংশ বাগানে, গোমস্তাপুরে ৩০ শতাংশ, সদরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং নাচোলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আমগাছে এই কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় দু ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন-রানীহাটি ইউনিয়নের বহরম গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে মো. কামাল হোসেন (৩৫) ও একই এলাকার শীষ মোহাম্মদের ছেলে মো. আবু। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ...
দেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদাদেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদা বিষমুক্ত ও ভালো মানের আম উৎপাদনে ফ্রুটব্যাগ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এত দিন আমদানিনির্ভর হলেও দুই বছর ধরে এটি দেশেই তৈরি হচ্ছে। আর এ ব্যাগ তৈরি হচ্ছে আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
এখন বৈশাখ মাস গাছে গাছে ভরা আছে মধু ফল আমে। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আম গাছে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডালছাড়া গাছের মধ্যখানে ধরেছে কয়েকশত আম। আর ব্যতিক্রমী ভাবে ধরা এ আম দেখেতে শিশুসহ অসংখ্য লোকের ভির হচ্ছে সেখানে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ...
ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচরে একটি আম গাছের গোড়া থেকে গজিয়ে উঠেছে হাতসদৃশ মসজাতীয় উদ্ভিদ বা ছত্রাক। ওই ছত্রাককে অলৌকিক হাতের উত্থান এবং ওই হাত ভেজানো পানি খেলে যেকোন রোগ ভাল হয় বলে অপপ্রচার করছে স্থানীয় ভ- চক্র। আর ওই ভ-ামির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২