Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

গাছের চারায় স্বপ্ন বুনছেন ওহিদ শেখ

মানুষ স্বপ্ন দেখত আকাশ ছোঁয়ার। আকাশ ছোঁয়ার পর সেই ক্ষুদ্র মানুষগুলো এখন মহাকাশে বসবাস করার পরিকল্পনা করছে। আঁকছে রঙ্গিন স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়? স্বপ্ন কি মাত্র একজন দেখে? কোটি কোটি মানুষ স্বপ্ন দেখে। রংপুরের ওহিদ শেখের স্বপ্নটা আলাদা। তিনি গাছের চারায় চারায় স্বপ্ন আঁকেন,স্বপ্ন বুনেন,স্বপ্ন দ্যাখেন। প্রশ্ন হতে পারে গাছের চারায় কোন স্বপ্ন থাকে নাকি? স্ব-চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। ২৫ একর জমিতে ৯ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করে ওহিদ শেখ স্বপ্ন দেখছেন“ দেশটাকে বৃক্ষে বৃক্ষে সবুজ করে তুলবেন।
ওহিদ শেখের সাথে একদিন

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের ওহিদ শেখ কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল এক মাত্র পুঁজি তার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সামান্য মালীর চাকরী করতেন তিনি। চাকুরীরত অবস্থায় ৯০এর দশকে নগরীর মর্ডান মোড়ে ২৪ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে গাছের চারা রোপণ করেন। উৎপাদিত চারা বিক্রি করতে অবসর সময়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়াতেন। নিজ উদ্যোগে তিনি রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা রোপণ করে দিয়েছিলেন। চাকরী থেকে অবসর নিয়ে ধার দেনা করে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। বর্তমানে নগরীর মর্ডান মোড় ও রংপুর জেলার সদর উপজেলার শলেয়া শাহ, হরকলি, রতিরামপুর এলাকায় নিজের জমি৬ একরও চুক্তিবদ্ধ ১৯একরসহ মোট২৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন নিজ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নাসিম নার্সারি। সেখানে প্রায় দেশী-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের ৯ লক্ষ চারা রয়েছে। তার নার্সারির উৎপাদিত চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদা ব্যাপক। দেশের বান্দরবন, সিলেট, মৌলভী বাজার, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া,সাতক্ষিরা, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা নির্বিঘ্নে ট্রাক নিয়ে এসে তার নার্সারি থেকে চারা ভর্তি করে নিয়ে যায়। তার নার্সারি থেকে প্রতি বছর ব্যয় মিটিয়ে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। নিজে অক্ষরজ্ঞান না জানলে ও ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন ওহিদ শেখ। তার নার্সারিতে কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক বেকারের। তিনি এখন স্বপ্ন দেখবেন এটাই বাস্তবতা।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়

 

রংপুর দিনাজপুর সড়কের পার্শ্বেই নাসিম নার্সারির সাইনবোর্ড। বর্ষার বৃষ্টি নেই। প্রচণ্ড রোদ। ওহিদ শেখ শ্রমিকদের সাথে কাজ করছেন। দেখিয়ে দিচ্ছেন চারা টবে রোপণের পদ্ধতি। ওহিদ শেখ আমরা এসেছি জেনে উঠে দাঁড়ালেন ক্ষণিক থেমে আমাদের উদ্দেশে বললেন“ এই যে আম গাছের চারা গুলো টবে রোপণ করা হচ্ছে। এ গুলো আমার সন্তান। আমি তাদের সন্তানের মতোই পালন করেছি। একটু বড় হলে সে গুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বল্প মূল্যে পাঠাবো। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় আমার নার্সারির চারা যাচ্ছে । আমি মনে করি চারা নয় আমার সন্তান যাচ্ছে।

 

আবেগের করুন রূপ

 

একটি ফোন এলো। ওহিদ শেখ রিসিভ করলেন। চোখ লাল হয়ে উঠলো তার। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কার ফোন? তিনি কেঁদে ফেললে। বললেন,নার্সারির আয়তন বাড়াতে গিয়ে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়েছে। টাকা চেয়ে ফোন করেছে একজন। সুদের উপর টাকা না নিয়েও কোন উপায় ছিল না। ৭৫ লক্ষ টাকা ঋণের মধ্যে আছেন। চারা বিক্রি হলে শোধ করতে হবে। এর পর নতুন চারা লাগানোর সময় আবার ঋণ করতে হবে। যা আয় হয় তাও জমা থাকে না।

 

গাছের চারার সমারোহ

 

চারি দিকে গাছের চারা আর চারা। অধিকাংশ চারাগাছ হাড়িঁভাঙ্গা আমের। তার নার্সারিতে ফলজ চারা গাছের মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা, লেংড়া, রুপালী, আম্রnasim narsaryপলি, গোপাল ভোগ, আশ্বিনা, মিশ্রিভোগ, খিরসা, ফজলিসহ নানান রকম আমের কলম চারা। বেদানা,চায়না,বোম্বাই, মাদ্রাজি লিচুর চারা আছে। ছয় ফুট থেকে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের চারা ও আছে। এ ছাড়া আকাশমণি, অ্যাকাশিয়া ক্রস, ম্যানজিয়াম, রেইনট্রি, আমড়া, ডালিম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং ঔষধি নিম, আগরসহ দেশীয় প্রজাতির গাছের চারাও রয়েছে। তার সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক দুর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি প্রতিষ্ঠায়। এরই মধ্যে তার নার্সারি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের একদল গবেষক। পরিদর্শন দলে ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার মন্ডল, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শংকর কুমার রাহা, ডীন, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ ছোলায়মান আলী ফকির প্রমুখ।

 

ওহিদ শেখের মুখে ক্ষোভের কথা

 

আমার নার্সারি ব্যবসা বেড়েছে। জমির পরিমাণ বেড়েছে। উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু খরচ সমালাতে হিমশিম খেতে হয়। বর্গাকৃত জমির ভাড়া,শ্রমিক বেতন,চারা উৎপাদন খরচ,ফসফেট,পটাস, গোবর,দোআঁশ মাটি ক্রয়, সেচ,টব ক্রয় ইত্যাদি খাতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি নেই তাই বিক্রিও কম। তাই ঋণের মধ্যে আছি। দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ উৎপাদন করছি। এ পর্যন্ত সরকারী কোন সহায়তা পাইনি । সরকারের সাহায্য পাওয়া আমার অধিকার।

 

আমরা মানুষ কতই না স্বপ্ন দেখি। কত কিছুই না পারি। ওহিদ শেখ কি পারবে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে? তিনি বলেন আমি ভীত নই। অনেক ঋণ তবুও। আমি নার্সারির আয়তন আরও বাড়াবো। সারাদেশে স্বল্প মূল্যে গাছের চারা ছড়িয়ে দেবো। দেশটাকে বৃক্ষে বৃক্ষে সবুজে ভরে দেবো। সবুজের সৌন্দর্যকে দেখার জন্যই তো আমাদের বাংলাদেশে জন্ম। এমন কথা শোনার পর কথা থাকে না। আপনি সফল হয়ে উঠুন ওহিদ শেখ।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
এক আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?- ভাবা যায়! একটি আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা। তাও আবার আমের রাজধানী-খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। ঘটনাটা কী! শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু জানান, শনিবার সকালে দুলর্ভপুর ইউনিয়নের ...
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থেকে চলতি মৌসুমে আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে উপজেলার মাহমুদপুর ফলচাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বাগানিরা আম বাগানের নিবিড় পরিচর্যা শুরু করেছে । উপজেলা কৃষি অধিপ্তরের সহায়তায় বিষ মুক্ত ও রপ্তানীযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য তারা সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও ফ্রুট ব্যাগিং ...
ঝিনাইদহে দিন দিন বাড়ছে আম চাষের আবাদ। স্বাস্থ্য ঝুঁকিবিহীন জৈব আর ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করছে এই এলাকার আমচাষিরা। এ বছর ফলন ভালো হওয়ার আশায় খুশি তারা। জেলা থেকে বিদেশে রপ্তানী আর আম সংরক্ষণের দাবি চাষিদের। জানা যায়, ২০১১ সালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় আমের আবাদি জমির ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
দেশের বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট নিয়ে আসলো ম্যাংগো। এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ম্যাংগো ১১ টি মডেলের হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছে। এগুলোর মধ্যে ৫টি স্মার্টফোন এবং ৬ টি ফিচার ফোন। এর একটি মডেলের নাম ফজলি। এটি ফিচার ফোন। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ম্যাংগো অনুষ্ঠানিকভাবে ফোনগুলো অবমুক্ত করে। ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২