Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

জুনে বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম

আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময় রংপুরের ঐতিহ্য সুস্বাদু ও বিখ্যাত আশবিহীন হাঁড়িভাঙা আমবাজারে পুরোদমে বেচা-বিক্রি শুরু হবে। এবার রংপুরে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল নয় দশমিক চার মেট্রিক টন। তবে এবার ফলন কম হতে পারে। চাষিদের দাবি কৃষি বিভাগের সু্ষ্ঠু মনিটরিং থাকলে রংপুরের অর্থনীতিতে এই আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

রংপুর ছাড়াও গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর উপজেলা, কুড়িগ্রামের সদর ও রাজারহাট, লালমনিরহাটের সদর ও কালিগঞ্জ এবং নীলফামারীর সদর ও সৈয়দপুরে ছড়িয়ে গেছে হাড়িভাঙার চাষ। জনপ্রিয়তার কারণে এসব জেলায় দিনদিন হাড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। তবে এবার রংপুরে আমের অফ ইয়ার হওয়ায় ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিভাগ।

 

 

এই হাড়িভাঙ্গা আমের জন্ম নিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ ঘটনা। প্রায়এক’শ বছর আগে এই আমের যাত্রা শুরু হলেও ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে নব্বই’র দশক থেকে। হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ প্রসঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, তার বাবা নফেল উদ্দিন প্রায় ৮০ বছর আগে মাসিমপুর এলাকার কুমোর বাড়ির পাশে জঙ্গল থেকে একটি আম গাছ আনেন। বাড়ির পাশে ভাঙ্গা হাড়ির টুকরোর মাঝখানে গাছটি জন্মেছিল বলে গাছটির নামকরণ করা হয় হাড়িভাঙ্গা। তখন থেকেই এ অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গা আমের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তার চারটি আমের বাগান রয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার আমের ফলন কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক আব্দুছ ছালাম জানান, প্রায় শত বছর আগে মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসুমপুর এলাকার জমিদার ছিলেন তাজবাহাদুর সিংহ। তিনি খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। তার একটি ফলের বাগান ছিল। এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ছিল। পেশাদার কিছু আম ব্যবসায়ী তার বাগান থেকে আম নিয়ে পদাগঞ্জ হাটে বিক্রি করতো। সেখান থেকে হয়তো নফেল উদ্দিন এই হাড়ি ভাঙ্গা আম ক্রয় করে আবাদ শুরু করেন। হাড়িভাঙ্গা আমের জনক হিসেবে তিনি নফেল উদ্দিনকেই স্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক হিসেবে দাবি করেন।

 

 

আব্দুছ ছালাম ১৯৯২ সাল থেকে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ শুরু করেন এবং এখন রংপুরে কয়েক লাখ হাড়িভাঙ্গা আমের গাছ রয়েছে। বর্তমানে তিনি ২৫ টি আমের বাগান করেছেন। আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাড়িভাঙ্গা আমবাজারে বিক্রি হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমের ফলন কম বলে তিনি জানান।

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, মধ্য জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাড়িভাঙ্গা আমের ফুল বা মুকুল আসে। আম পরিপক্ক হয় জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা হয়। এক একটি আমের গড় ওজন ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত। পুষ্ট কাঁচা আম ৪-৫ দিন এবং পাকা আম ২-৩ দিন সংরক্ষণ করা যায়।
প্রতি হেক্টরে হাড়িভাঙ্গা আমের গড় ফলন ১১ মেট্রিক টন। আর বিঘা প্রতি দেড় মেট্রিক টন। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ব্যয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। আর বিঘায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানায় স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

 

 

মৌসুমের শুরুতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাজার দর প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মাঝামাঝি সময়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং শেষ দিকে ৩০০ থেকে ৪২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় হাড়িভাঙ্গা আম। এ নআম চাষ করে হেক্টর প্রতি প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করেন কৃষকরা।

 

রংপুরের মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জহাট ও বদরগঞ্জের স্টেশন বাজার এ অঞ্চলের হাঁড়িভাঙ্গা আমের বড় পাইকারি হাট। এ হাট থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে হাড়িভাঙ্গা আম নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। রংপুরের ফলের আড়ত ছাড়াও টার্মিনালের পশ্চিম কোনে বসে হাঁড়িভাঙ্গা আমের হাট। এখান থেকেও পাইকাররা আম কিনে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

 

 

কৃষকরা জানান, আম পাকার আগেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাগান কিনে ক্ষতিকর বালাইনাশক মিশিয়ে আম পাকিয়ে তা বাজারজাত করছে। এতে করে যারা আম কিনে খাচ্ছেন, তারা হাড়িভাঙ্গা আমের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রচুর পরিমাণ কীটনাশক খাচ্ছেন। এতে করে আমের বদনাম হচ্ছে।

 

রংপুর কৃষি তথ্য সার্ভিসের বেতার তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সায়েম জানান, আম ফলনে এক বছর অনইয়ার এবং এক বছর অফ ইয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার রংপুর অঞ্চলে আমের অফ ইয়ার। এছাড়া অসময়ে ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় আমের ফলন কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

 রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শ ম আশরাফ বলেন, হাড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ঐতিহ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মিঠাপুকুর এবং বদরগঞ্জ উপজেলায়। সদর উপজেলার কিছু জমিতেও হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ আমের ফলন ভাল। কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা আম পড়লেও বাগানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
আম ছাড়া মধুমাস যেন চিনি ছাড়া মিষ্টি। বছর ঘুরে এই আমের জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। রসালো এ ফলের জন্য অবশ্য অপেক্ষার পালা এবার শেষ হয়েছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আম পাড়া। এর আগে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমের রাজধানীতে এতদিন আম পাড়া বন্ধ ছিল। তাইতো ...
গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও ...
রাজধানীর মালিবাগের আবদুস সালাম। বয়স ৭২ বছর। তার চার তলার বাড়িতে রয়েছে একটি দুর্লভ ‘ছাদবাগান’। শখের বসে এ বাগান করেছেন। বছরের সব ঋতুতেই পাওয়া যায় নানা ধরনের ফল। এখনো পাকা আম ঝুলে আছে ওই ছাদবাগানে। শুধু আম নয়, ৫ কাঠা ওই বাগানজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফলসহ অন্তত ১০০ ...
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার আম সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রফতানি পণ্যের তালিকায় উঠে আসার এক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আম ব্যবসায়ীরা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছে এখানকার আম তাদের দেশে নিয়ে যাবার ব্যাপারে। যদিও ইতোপূর্বে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুই হাজার টন আম ...
দেশের বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট নিয়ে আসলো ম্যাংগো। এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ম্যাংগো ১১ টি মডেলের হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছে। এগুলোর মধ্যে ৫টি স্মার্টফোন এবং ৬ টি ফিচার ফোন। এর একটি মডেলের নাম ফজলি। এটি ফিচার ফোন। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ম্যাংগো অনুষ্ঠানিকভাবে ফোনগুলো অবমুক্ত করে। ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২