Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

হাফছড়ি এলাকায় ১৫ একর টিলা ভূমিতে আম বাগান

এক সময়ে বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ অনাবাদি পাহাড়ি টিলায় এখন সারি সারি আম বাগান। আম্রপালি, রুপালি,মল্লিকা, লেংরা, গোপালভোগ, মোহনভোগ প্রভৃতি জাতের থোকায় থোকায় আম দোল খাচ্ছে গাছে গাছে। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে আম গাছের ডালপালা। চারিদিকে আমের মুহুর্মুহু সুগন্ধি। রামগড়ের বড়পিলাকে আসাদ গাজীর আম বাগানের এমনই নজরকাড়া দৃশ্য। এ সফল চাষী আসাদ গাজী এবার পাহাড়ে আম বিপ্লব ঘটিয়েছেন। রাজশাহী কিংবা চাপাইনবাবগঞ্জের মত এ পার্বত্য এলাকাকেও আমের জন্য বিখ্যাত করতে চান তিনি। বাণিজ্যিকভিত্তিক পরিকল্পিত আম চাষ করে বৃক্ষপ্রেমী আসাদ গাজী পাহাড়ে উন্নত জাতের আম উৎপাদনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। আজ আম বাগান করে তিনি শুধু রামগড়ে নয়, গোটা খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পরিচিত। সরকারি কোন সাহায্য সহায়তায় নয়, নিজের কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় পাহাড়ের অনাবাদি টিলায় উন্নত জাতের আম চাষে তিনি ঈর্ষণীয়

সফলতা অর্জন করেছেন। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় তাঁর বাগানের আমের কদর সবার কাছেই বেশি। তাই পার্বত্য এলাকার সীমানা পেরিয়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সমতল জেলাতেও সরবরাহ হচ্ছে আসাদ গাজীর বাগানের আম। রামগড় উপজেলা সদর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে হাফছড়ি ইউনিয়নের বড়পিলাক এলাকায় ১৫একর টিলা ভূমিতে তিনি আম বাগান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে দুই- আড়াই হাজারটি ফলন্ত আম গাছ আছে। আম বাগানের মাঝেই তাঁর বসতবাড়ি। আম্রপালি,রুপালি,মল্লিকা,রাজাপুরি,কালুয়া, মোহনভোগ,গোপালভোগ,লেংরা সব জাতের আমের ফলই এবছর বেশ ভাল হয়েছে। এক কথায় বাম্পার ফলন। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, আসাদ গাজী আর তাঁর সহধর্মিণী সুফিয়া বেগম শ্রমিকদের নিয়ে গাছ থেকে আম পারছেন। ফলের ভারে নুয়ে পড়া গাছ থেকে তাঁদের আম পারার আনন্দকে তখন কাঠফাটা রোদের প্রচ- তাপও ম্লান করতে পারেনি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ৭০ বছর বয়সী আসাদ গাজী বলেন, ‘আমার দুই পুত্র ও এক কন্যার মত বাগানের প্রতিটি আম গাছও সন্তানের মত। এগুলোকে লালন পালন করে বড় করে তোলার পর এখন আমাকে ফল দিচ্ছে।’ এবছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে। প্রতিটি আম্রপালি গাছে গড়ে ৬০কেজির মত আম ধরেছে। অন্যান্য জাতের আমের ফলনও প্রায় সমান। এরইমধ্যে রুপালি ও আম্রপালি তোলা শুরু হয়েছে। খুচরা ৫০-৬০ টাকা এবং পাইকারি ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করছেন। আসাদ গাজী বলেন, এবছর ১৫-২০ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন। খাগড়াছড়ির স্থানীয় হাটবাজারে খুচরা বিক্রি হলেও চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীরাই তাঁর বাগানের সিংহভাগ আম কিনে নিয়ে যায়। আসাদ গাজী বলেন, তিনি তাঁর বাগানের আমে ফরমালিন বা কোন বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করেন না। বিষমুক্ত হওয়ায় তাঁর বাগানের আমের চাহিদাও সকলের কাছে বেশি। চট্টগ্রামের আমের আরতদার ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, আম্রপালি ও রুপালি আম অত্যন্ত মিস্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় এর বেশ চাহিদা আছে। তাই তাঁরা আসাদ গাজীর বাগান থেকে প্রতি বছরই আম কিনে নিয়ে যান। আসাদ গাজী বলেন, গত কয়েক বছরে রামগড় ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রচুর আমের বাগান হয়েছে। এখানে ফলনও বেশ ভাল হচ্ছে। কিন্তু হিমাগার না থাকায় চাষীরা বাধ্য হয়ে কম দামেও অনেক সময় ফল বিক্রি করতে হয়। এছাড়া ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষ করে জুস তৈরির কারখানা স্থাপিত হলে চাষীরা ন্যায্য দাম পেতো এবং আরো অনেকে এ ধরণের বাগান করতো। এ ব্যাপারে পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
সারা দেশে যখন ‘ফরমালিন’ বিষযুক্ত আমসহ সব ধরনের ফল নিয়ে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে, তখন বরগুনা জেলার অনেক সচেতন মানুষ বিষমুক্ত ফল খাওয়ার আশায় ভিড় জমাচ্ছেন মজিদ বিশ্বাসের আমের বাগানে। জেলার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে শাখারিয়া-গোলবুনিয়া গ্রামে মজিদ বিশ্বাসের ২ একরের ...
মৌসুমি ফল দিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করে স্বার্থ উদ্ধারের পদ্ধতি অনেক দিনের। বর্তমানে এই খুশি বিষয়টি আদায় করতে নগদ অর্থ খরচ করতে হলেও ফল থেরাপি ধরে রেখেছে অনেকেই। এর একটি হল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২