Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

রাজশাহীর নামে সাতক্ষীরা থেকে অপরিপক্ক নন-ব্যাগিং আম রপ্তানি

এবারও রপ্তানি হচ্ছে না রাজশাহী অঞ্চলের বিষমুক্ত ব্যাগিং আম
 ‘রাজশাহীর সুস্বাদু আমে’র নামে সাতক্ষীরা থেকে অপরিপক্ক নন-ব্যাগিং আম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশে রপ্তানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুইডেন থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সাতক্ষীরার ওই অপরিপক্ক আম সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের কাছে পৌঁছার পরই পচে নষ্ট হয়েছে। অথচ টানা চতুর্থ বার ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উত্পাদন করেছে দেশের প্রধান উত্পাদন অঞ্চল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের চাষীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র (সাবেক আম গবেষণা কেন্দ্র) উদ্ভাবিত এ আম সম্পূর্ণ নিরাপদ, বালাইমুক্ত ও শতভাগ রপ্তানিযোগ্য। কিন্তু রপ্তানিকারক, কোয়ারেনটাইন ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় এবারও রপ্তানি হচ্ছে না রাজশাহী অঞ্চলের আম।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী এগ্রোফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহবায়ক আনোয়ারুল হক ইত্তেফাককে বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের আম রপ্তানি না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পক্ষে গতবছরের জুলাইয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ককে লিখিত অভিযোগ দেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শেষে বিদেশে আম রপ্তানির সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে ৯ দফা সুপারিশ করেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সুপারিশগুলো ছিল অত্যন্ত বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত। সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে চলতি মৌসুমে বিদেশে আম রপ্তানি কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়ানো এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব ছিল। কিন্তু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগই নেননি সংশ্লিষ্টরা। অথচ বিদেশে আম রপ্তানির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের পহেলা নভেম্বর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ হচ্ছে— ১.ব্যাগিং পদ্ধতির সুবিধা বিবেচনায় রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা মেটাতে প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ; ২.বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সর্বত্র ব্যাগিং পদ্ধতি প্রচলন নিশ্চিতকরণ; ৩. বৈদেশিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাগিং পদ্ধতিতে উত্পাদিত আম অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্রহণ এবং যথাসময়ে হারভেস্ট, বাছাই, প্যাকিং, পরিবহণ ও জাহাজীকরণ পর্যন্ত তদারকি নিশ্চিতকরণ; ৪. রপ্তানির জন্য নির্বাচিত আম চাষিদের সাথে আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে লিখিত চুক্তিকরণ, চুক্তিপত্রে আমের চাষ পদ্ধতি, আমের জাত, সংগ্রহের পরিমাণ, সময়, মূল্য ইত্যাদি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন এবং উক্ত চুক্তির শর্ত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়পক্ষতে অনুসরণে বাধ্য করার বিষয়টি নিশ্চিতকরণ; ৫. রপ্তানির ক্ষেত্রে বাছাইকৃত আম স্থানীয়ভাবে প্যাকিং করার ব্যবস্থাকরণ; ৬. কীটনাশক ব্যবহার নিরুত্সাহিত করতে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ব্যাগিং পদ্ধতির ব্যবহার উত্সাহিতকরণ। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এসব সুপারিশের কোনোটাই বাস্তবায়ন করেননি। ফলে বিদেশে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না। আনোয়ারুল হক বলেন, গত ৫ জুন আমরা গাছ থেকে আম সংগ্রহ (নামানো) শুরু করেছি। বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের আম সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 

তিনি বলেন, গতবছর ব্যাগিং আম রপ্তানিতে অবহেলার অভিযোগ তদন্তের পর উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাগিং আমকে এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ২৮ জন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলের ৩১২ জন কৃষকের সাথে চুক্তির কথাও বলেন তিনি। কিন্তু কোনো আম চাষির সাথেই চুক্তি করেননি তারা।

 

উল্লেখ্য: গতবছর তারা বলেছিলেন, ব্যাগিং পদ্ধতি বলে কোনো কথা নেই। চুক্তিবদ্ধ চাষিদের কাছ থেকে রপ্তানিযোগ্য মানসম্মত আম নেওয়া হবে। এ যুক্তিতে তারা রাজশাহী অঞ্চল বাদ দিয়ে সাতক্ষীরা থেকে নন ব্যাগিং ৩১ টন আম রপ্তানি করেছিল।

 

তিনি আরও বলেন, চাষিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চুক্তি না করায় ব্যাগিং আম রপ্তানিতে জটিলতার বিষয়ে তিনি গত ৮ মে প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ককে আবারও স্মারকলিপি দেন। এতে তিনি চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে উত্পাদিত দুই হাজার মেট্রিক টন ব্যাগিং আম বিদেশে রপ্তানিতে চাষিদের শঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। এবং ২০১৬ সালের মত বাগানে প্যাকিং করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সরাসরি কোয়ারেনটাইনের মাধ্যমে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দাবি জানান।

 

অন্যদিকে সাতক্ষীরা থেকেও সম্প্রতি আম রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরার রপ্তানিকারক ও আলিফ ম্যাংগো প্রজেক্টের প্রোপাইটার মো. লিয়াকত হোসেন মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, সংশ্লিষ্টদের নজিরবিহীন গাফিলতি ও উদাসীনতায় বিদেশে আম রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত বিদেশে রপ্তানি করা আম আমদানিকারকের কাছে পৌঁছার পরপরই পচে গেছে। তাই আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে আম নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে আম রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়াই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উত্পাদন সত্ত্বেও রপ্তানি করতে না পারায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

 

বাংলাদেশে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উত্পাদনের প্রধান গবেষক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, সাধারণত আম গাছে মুকুল আসার আগে থেকে ফল নামানোর পূর্বপর্যন্ত বিভিন্ন রোগ ও পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন ধরণের বালাইনাশক স্প্রে করা হয়। এসব বালাইনাশকের যে খরচ, তার চেয়ে ব্যাগিং পদ্ধতি অনেক সাশ্রয়ী। এ পদ্ধতি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিরাপদ, বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্য সম্মত আম উত্পাদন করা সম্ভব। এতে বাগান মালিক-চাষি ও ভোক্তা সবাই লাভবান হন।

 

সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানান, ২০১৫ সালে রাজশাহী অঞ্চলে প্রথম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উত্পাদন শুরু হয়। ২০১৬ সালে ব্যাগিং পদ্ধতির আম বাগানেই প্যাকিং ও স্থানীয় কৃষি অফিসের ছাড়পত্র নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর কোয়ারেনটাইনের মাধ্যমে সরাসরি রপ্তানি করা হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটা ছিল সহজ ও ঝামেলামুক্ত। কিন্তু ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট কোয়ারেনটাইন কর্মকর্তারা কন্ট্রাক্ট ফার্মি পদ্ধতি অনুসরণ না করায় আম রপ্তানিতে জটিলতা দেখা দেয়। এতে রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষিরা  ক্ষতিগ্রস্ত হন।

 

ব্যাগিং আম উত্পাদনের উদ্ভাবক ও গবেষক ড. শরফ উদ্দীন বলেন, আম ব্যাগিং করলে বালাই বা কীটনাশকের (কার্বাইড, ইফিফোনসহ হরমোন ও ফরমালিনের মত বিষাক্ত রাসায়নিক) ব্যবহার ও খরচ শতকরা ৭০ ভাগ কমে যায়। ব্যাগিং করা আম সংগ্রহের পর ৯ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক উপায়ে ঘরে রেখে খাওয়া যায়।
সুত্র: http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/last-page/2018/06/10/282774.html

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মাটি ও আবহাওয়ার কারণে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম এবারও দেশের বাইরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হতে যাচ্ছে।   গত বছর কীটনাশক মুক্ত আম প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার ফলে এ অঞ্চলের আমচাষীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। গত বছর ১২ মেট্রিক টন আম ইউরোপিয়ান ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সারাদেশের ন্যায় মত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও টানা ৭দিন ধরে প্রবল বর্ষনের কারণে আম ব্যবসায়ী ও আম চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। টানা বর্ষনের কারনে আম ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। অন্যদিকে গাছে পাকা আম নিয়েও বিপাকে পড়েছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে দুর্যোগপূর্ণ ...
দেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদাদেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদা বিষমুক্ত ও ভালো মানের আম উৎপাদনে ফ্রুটব্যাগ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এত দিন আমদানিনির্ভর হলেও দুই বছর ধরে এটি দেশেই তৈরি হচ্ছে। আর এ ব্যাগ তৈরি হচ্ছে আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচরে একটি আম গাছের গোড়া থেকে গজিয়ে উঠেছে হাতসদৃশ মসজাতীয় উদ্ভিদ বা ছত্রাক। ওই ছত্রাককে অলৌকিক হাতের উত্থান এবং ওই হাত ভেজানো পানি খেলে যেকোন রোগ ভাল হয় বলে অপপ্রচার করছে স্থানীয় ভ- চক্র। আর ওই ভ-ামির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২