Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আম নিয়ে আশাবাদী রাজশাহীর কৃষক

কোনো গাছে আমের মুকুল, আবার কোনো গাছে মোটরদানার মতো গুটি। এসবের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আম চাষিরা। এরই মধ্যে বৃষ্টি হয়ে গেছে একদফা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বৃষ্টির কারণে এবার আমের উৎপাদন হবে ভালো। এতে লাভবান হবেন চাষিরা। কৃষি বিভাগের এমন আশ্বাসে এবার আশায় বুক বাঁধছেন রাজশাহীর আম চাষিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমির বাগান থেকে ১০ থেকে ১২ টন আম উৎপাদন হয়। সে হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে রাজশাহীতে সাধারণত ১ লাখ ৭০ হাজার টন আম উৎপাদন হয়; কিন্তু এবার কালবৈশাখী কম হলে আমের উৎপাদন এর চেয়েও বেশি হবে।

সরজমিনে দেখা গেছে, আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে রাজশাহীর আমবাগানগুলো। কিছু কিছু গাছে গুটিও আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমের জন্য খুবই উপকারী এ বৃষ্টি। দিনের পর দিন গাছের গোড়ায় পানি ঢেলেও যে লাভ না হতো, তার চেয়েও বেশি লাভ হয়েছে এ বৃষ্টিতে। বৃষ্টির কারণে আমের গুটি আকারে বড় হবে, ফলনও বেশি হবে। তাই অন্য বছরের চেয়ে এবার আমের ফলন হবে ভালো।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন বলেন, বৃষ্টিতে আমগাছের পাতার ওপর থেকে ধুলা-ময়লা ধুয়ে গেছে। ফলে এখন পাতার মাধ্যমে মুকুলগুলো বেশি পরিমাণে সূর্যালোক থেকে খাদ্য গ্রহণ করছে। এ কারণে গুটির ঝরে পড়া কমছে। কম সময়ে গুটি আকারে বড়ও হচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টির পর থেকেই পর্যাপ্ত রোদ হচ্ছে। এতে মুকুলের ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গগুলো মারা যাচ্ছে। ফলে এবার আমের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালিও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এবার গাছে যখন মুকুল আসা শুরু হয় তখন শীত ছিল। আবার শেষের দিকে গরমও পড়তে শুরু করেছিল। তাই গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে বেশি মুকুল এসেছে। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাজশাহীতে এবার সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর রায়পাড়ার আম চাষি জুলফিকার শেখ বলেন, গাছে মুকুল থাকা অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় তিনি আতঙ্কে ছিলেন। ভেবেছিলেন, অকাল বৃষ্টিতে আমের মুকুল ঝরতে শুরু করবে। তাই পরামর্শ নিতে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন কৃষি অফিসে। সেখানে তাকে আশ্বস্ত করা হয়, বৃষ্টিতে ক্ষতি নয়; লাভই হয়েছে আমের মুকুলের। এখন মুকুলগুলো যেভাবে গুটি হয়ে উঠছে তা দেখে তিনি বেশি লাভের আশা করছেন।

তবে উৎপাদনের পর আমের দাম কেমন পাওয়া যাবেÑ তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন কোনো কোনো চাষি। গত মৌসুমে বাজারজাতকরণে তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনেও ভয় পাচ্ছেন অনেক চাষি। এ অবস্থায় পরামর্শের জন্য চাষিদের কৃষি দপ্তরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপে আম রপ্তানির আশায় গত মৌসুমে জেলার প্রায় শতাধিক চাষি ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করেছিলেন; কিন্তু এসব চাষির অধিকাংশই স্থানীয় বাজারে আম বিক্রি করেন। অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের এ আম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করায় ক্ষতি না হলেও খুব বেশি লাভ হয়নি। কৃষি বিভাগ বলছে, গেল বছর ফ্রুট ব্যাগিংয়ের ব্যবসা করতেই একটি মহল প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তাই প্রায় তিন কোটি ফ্রুট ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল। চাষিরা ভেবেছিলেন, শুধু ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করলেই বিদেশে রপ্তানি হবে; কিন্তু তা সঠিক নয়। বিদেশে রপ্তানি করতে হলে মৌসুমের শুরুতেই চাষি ও রপ্তানিকারকের মধ্যে চুক্তি হতে হয়। চুক্তিতে দামসহ বেশকিছু বিষয় উল্লেখ থাকে।
দামের বিষয়টি ঠিক করে দেয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এ চুক্তিতে আম চাষের পদ্ধতি ও গুণগত মানের কথাও উল্লেখ থাকে। এ বিষয়গুলো ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তা যাচাই করে কৃষি বিভাগ। সবকিছু ঠিক থাকলেই চাষির আম যায় বিদেশে। কিন্তু গেল বছর ফ্রুট ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্ররোচনায় এসব নিয়মকানুন না মেনেই আম উৎপাদন করেছিলেন চাষিরা। তাই তাদের আম আর দেশের বাইরে যায়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত শুধু জেলার বাঘা উপজেলার ২২ চাষি আম রপ্তানির করতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। কৃষি বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক তারা রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করবেন। দেশের বাইরে আম রপ্তানি করতে চাইলে এখনই চাষিদের কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় দু ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন-রানীহাটি ইউনিয়নের বহরম গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে মো. কামাল হোসেন (৩৫) ও একই এলাকার শীষ মোহাম্মদের ছেলে মো. আবু। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ...
দেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদাদেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদা বিষমুক্ত ও ভালো মানের আম উৎপাদনে ফ্রুটব্যাগ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এত দিন আমদানিনির্ভর হলেও দুই বছর ধরে এটি দেশেই তৈরি হচ্ছে। আর এ ব্যাগ তৈরি হচ্ছে আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
এখন বৈশাখ মাস গাছে গাছে ভরা আছে মধু ফল আমে। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আম গাছে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডালছাড়া গাছের মধ্যখানে ধরেছে কয়েকশত আম। আর ব্যতিক্রমী ভাবে ধরা এ আম দেখেতে শিশুসহ অসংখ্য লোকের ভির হচ্ছে সেখানে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২