Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

রাজশাহীতে প্রতিদিন বেচা-কেনা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার আম

বৃহত্তর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে আমের বাজার। এসব বাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার উপরে আম বেচা-কেনা হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের আম ব্যবসায়ীদের ভিড় এখন রাজশাহীসহ আশপাশের বাজারগুলোতে। এই কেনা বেচাকে কেন্দ্র করে এখানকার হাট-বাজারসহ আমভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য গোটা অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এনেছে ব্যপক পরিবর্তন। একই কর্ম সংস্থান হয়েছে বহু বেকার মানুষের। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে যেন এক উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
এবার প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে এবার সঠিক সময়ে জমে উঠেছে রাজশাহীর আমের বাজার। অপরিপক্ক আমে কেমিক্যালের মিশ্রণ নয়, এবার উপযুক্ত সময়ে পাকা আমে ভরে উঠেছে রাজশাহীর বাজার। আমের জন্য প্রসিদ্ধ রাজশাহীজুড়ে এখন আম আর আম। শহরের পাড়া মহল্লার অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার সর্বত্রই এখন আমের বাজার। তাই আমকেন্দ্রিক বাণিজ্য নিয়ে এখন ব্যস্ত রাজশাহীর লাখো মানুষ। প্রতিবছর এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০ জাতের আম উৎপন্ন হয়। তবে এবার ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা ও মোহনভোগ জাতের আমের চাষ বেশি হয়েছে। রাজশাহীর প্রায় সব এলাকাতেই আমের আবাদ হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট ও পবা উপজেলায় আবাদ হয় বেশি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ২০০৭-০৮ মৌসুমে রাজশাহীতে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৮৫৪ হেক্টর এবং গাছ ছিল ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৪টি। ওই বছর আম উৎপাদিত হয় এক লাখ দুই হাজার ৯৫০ টন। ২০১১-১২ মৌসুমে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল আট হাজার ৯৮৬ হেক্টর এবং গাছ ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ৮৮১টি। ওই বছর আম উৎপাদিত হয় এক লাখ ১০ হাজার ৪৮৮ টন। হেক্টর প্রতি ফলন ছিল ১২ দশমিক ২৯ টন। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে গত বছর অর্থাৎ ২০১২-১৩ মৌসুমে রাজশাহীতে আমের উৎপাদন হয় দুই লাখ ১২ হাজার ৭৬৭ টন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০১৩-১৪ মৌসুমে আমের আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার পাঁচ হেক্টর জমিতে। এই জমিতে গাছ রয়েছে ১৪ লাখ ২১ হাজার ৫০৩টি এবং কৃষক ৪০ হাজার ২১৩ জন। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে গতবারের সমান উৎপাদন অর্থাৎ দুই লাখ ১২ হাজার ৭৬৭ টন। হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ১৬ টন। সব মিলিয়ে গত ছয় বছরে রাজশাহীতে আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে ছয় হাজার ১৫১ হেক্টর, গাছ বেড়েছে সাত লাখ ৪১ হাজার ৮১৯টি, আর আমের উৎপাদন বেড়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৮১৭ টন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, রাজশাহীতে প্রতি বছরই বাড়ছে আমের আবাদ। গত ছয় বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি জমি এসেছে আমবাগানের আওতায়। ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন আম আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। আগামী দুই থেকে তিন মাস জুড়ে চলবে আমের মহোৎসব। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে এবার রাজশাহীর আম বাগানগুলোতে আমের ফলন খারাপ হয়েছে। তবে গত বারের থেকে এবার বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আম আসে বানেশ্বর বাজারে। প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে আম বেচা-কেনা। চারদিকে তাকালেই শুধু দেখা যায় আম আর আম। বাজারজুড়ে পাইকারি ও খুচরা আম বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ আমের কেনাবেচা।
এসব আম ট্রাকে করে চালান হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। কয়েক হাজার মানুষ এসব কাজে নিয়োজিত থাকেন। দিনরাত চলে এই কাজ। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী পুরো দুই থেকে তিন মাসই এ মোকামে অবস্থান করেন।
বাজারে বর্তমানে গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২৪০০ থেকে ২৬০০ টাকায় এবং লেংড়া ও হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং পাইকারী বাজারে মূল্য ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। এদিকে প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ ট্রাক আম পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি ট্রাকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ ক্যারেট (প্লাস্টিকের ঝুড়ি) আম পাঠানো হয়। এছাড়া গন্তব্য সহজে আম পাঠানোর জন্য রয়েছে কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলো। এদিকে কেবল হাট-বাজার নয়, আমকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিও। রাজশাহী অঞ্চলের দু’টি বড় আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে দুই কোটি টাকার আম। আমের কারবার নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় লাখ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানও হয়েছে। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের পরও জুনের পুরো মাস জুড়েই চলবে ‘আম বাণিজ্য’। তাই গাছের আম নামানোর পারদর্শী থেকে আম চালানের ঝুঁড়ি বানানো এবং বাজারগুলোতে নানা সহায়ক কাজে নিয়োজিত লোকজনের কর্মসংস্থানে গ্রামীণ জনপদ ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। আম বাণিজ্যের কারণে অর্থবছরের শেষ দিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও বেড়েছে লেনদেনের হার। উৎপাদন বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, এবার রাজশাহীতে অন্তত সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
বাজারে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই আম আম রব। ক্রেতা যে আমেই হাত দিক না কেন দোকানি বলবে হিমসাগর নয়তো রাজশাহীর আম। ক্রেতা সতর্ক না বলে রঙে রূপে একই হওয়ায় দিব্যি গুটি আম চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে হিমসাগরের নামে। অনেকসময় খুচরা বিক্রেতা নিজেই জানে না তিনি কোন আম বিক্রি করছেন। ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
সারা দেশে যখন ‘ফরমালিন’ বিষযুক্ত আমসহ সব ধরনের ফল নিয়ে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে, তখন বরগুনা জেলার অনেক সচেতন মানুষ বিষমুক্ত ফল খাওয়ার আশায় ভিড় জমাচ্ছেন মজিদ বিশ্বাসের আমের বাগানে। জেলার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে শাখারিয়া-গোলবুনিয়া গ্রামে মজিদ বিশ্বাসের ২ একরের ...
এখন বৈশাখ মাস গাছে গাছে ভরা আছে মধু ফল আমে। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আম গাছে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডালছাড়া গাছের মধ্যখানে ধরেছে কয়েকশত আম। আর ব্যতিক্রমী ভাবে ধরা এ আম দেখেতে শিশুসহ অসংখ্য লোকের ভির হচ্ছে সেখানে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২