Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

ঠাকুরগাঁওয়ে তরুণ উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী কৃষি প্রকল্প

আমরা যারা শহর-নগরে থাকি, আমাদের সবার ভিতর একটা স্বপ্ন থাকে সবুজের ভিতর থাকার, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার। সেই স্বপ্ন থেকেই ইচ্ছে থাকে বসত আঙিনা বা ছাদে একটা বাগান করার।

কিন্তু ব্যস্ত নাগরিক জীবনে অনেক ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপদান করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। হয়তো পাওয়া হয়ে ওঠে না কৃষি সরঞ্জামাদি, নয়তো একটা ছাদের বহু মালিকানার প্রশ্নে কিংবা এরকম আরও অনেক সমস্যার কারণে বাগান করার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যায়। আবার অনেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে ঠিকই তার লালিত স্বপ্নকে ধরে ফেলে। শুধু তাই না, এক মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে দিচ্ছে আর একজন মানুষ। এমন এক মানুষের সন্ধান আমি পেয়েছি, যে শুধু নিজের স্বপ্ন না, অন্যের সবুজের স্বপ্নও বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তার নাম জাহিদ চাকলাদার। ঢাকার ছেলে জাহিদ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত দুটি গ্রামে এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। ধরা যাক আপনি একটা আম বাগানের মালিক হতে চান, জাহিদ আপনাকে সে আম বাগানের মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করে দেবে। কীভাবে? সে গল্পই আজ শোনাব আপনাদের।

ধারণাটি একেবারে নতুন। সময়ের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে জাহিদ চাকলাদার। এই তরুণ মূলত প্রবাসে ছিল। সেখান থেকে দেশে ফিরে স্বপ্ন দেখছিল নিজেই কিছু করার। একবার উত্তরাঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে বিস্তীর্ণ ও পতিত জমি দেখে তার মাথায় খেলে যায় উদ্ভাবনী চিন্তা। ব্যবসা করতে হবে শুধু নিজে নয়, সবাইকে নিয়ে। ২০১২ সালের যে স্বপ্নের সূচনা, আজ পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে স্বপ্ন পৌঁছেছে বহুদূর। আজকের দিনে অর্থচিন্তায় মগ্ন প্রতিটি মানুষ। সবাই চাইছে বিত্তশালী হয়ে অট্টালিকার পর অট্টালিকা গড়তে। বড় বড় ভবনের ভিতর দিয়েই সে অর্থবিত্তের নমুনা দেখাতে চায়। এটিই যেন তার চূড়ান্ত স্বপ্ন। এই স্বপ্ন দেখতে গিয়ে সে তিন ফসলি কৃষি জমি থেকে শুরু করে শস্য শ্যামল সুজলা সুফলা যে কোনো ক্ষেত্রকেই উপেক্ষা করতে পারে। যেখানে সেখানে গড়ে তুলতে পারে বড় বড় ভবন। কখনো তা আরাম আয়েশের জন্য কখনো তা বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য। কিন্তু বাণিজ্যিক চিন্তার ভিতরে থেকেও যে সবুজের সঙ্গে থাকা যায়, কৃষি উদ্যোগের একটি সমাজ গড়া যায়, নাগরিক মানুষকে কৃষিতে টেনে আনা যায়, জাহিদ চাকলাদার সেই নমুনাই হাজির করেছেন আমাদের সামনে।

 

কয়েক বছরের মধ্যে তার প্রকল্প এলাকা পরিণত হয়েছে সমৃদ্ধ আমবাগানে। অন্যের স্বপ্ন লালিত হচ্ছে এখানে। এখানে যারা আমবাগান বা প্লট কিনেছেন তারা যেমন নিজের করে পাচ্ছেন এই বাগানটিকে, একইভাবে জাহিদ চাকলাদারও তার প্রতিটি গ্রাহক মিলিয়ে একটি বড় পরিবারের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

জাহিদ চাকলাদার শুরুর গল্প জানাতে গিয়ে বলেন, শহরের মানুষের বিনিয়োগটাও শহরকেন্দ্রিক। কেউ ফ্ল্যাট কিনে, প্লট কিনে, কলকারখানা বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। কিন্তু কেউ কৃষিতে বিনিয়োগ করে না। অথচ কৃষিতে বিনিয়োগ করলে পাল্টে ফেলা সম্ভব কৃষি অর্থনীতি। তিনি চিন্তা করলেন, মানুষের কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার, বাগান করার স্বপ্নটাকে কাজে লাগিয়ে নিজে সাপোর্ট দিয়ে যদি লাভজনক কিছু একটা করে দিতে পারেন। তবে কৃষির যেমন উন্নয়ন হবে। লোকজনও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। প্রথমে কেনা হলো তিন একর জমি। সেখানে করা হলো আমের বাগান। আর তার সঙ্গে যুক্ত হলো কিছু স্বপ্নবান মানুষ। যাদের স্বপ্ন সবুজের উত্তরণের পাশাপাশি বিষমুক্ত ফল চাষের। তারাও যুক্ত করল তাদের আত্মীয়স্বজনকে। ধীরে ধীরে ছোট্ট একটা স্বপ্ন আকারে বড় হতে থাকল। পীরগঞ্জের দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় জাহিদের স্বপ্ন দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। বাগানও বড় হয়ে সাত একরের বেশি হয়ে গেছে এখন। প্রতিটি পাঁচ শতক আয়তনের ১৩১টি প্লটের ভিতর ৯০টি প্লট এরই ভিতর বিক্রি হয়ে গেছে।

 

এখানে প্লট রয়েছে ঢাকার একজন তরুণ মহিউদ্দিনের। কথা হলো তার সঙ্গে। জানালেন, এখানে পারিবারিকভাবে তাদের তিনটি প্লট কেনা হয়েছে ২০১৩ সালে। এ পর্যন্ত দুবার পেয়েছেন সতেজ ফল। প্রতিটি ইউনিট থেকে পেয়েছেন ৯৬ কেজি করে আম। জানিয়ে রাখি, জাহিদ চাকলাদার পাঁচ শতাংশ করে এক একটি প্লটকে ইউনিট হিসেবে ধরছেন। ৬০ ফিট দৈর্ঘ্যের ও ৩১ ফিট প্রস্থের এক একটি ইউনিটে রয়েছে ৫৪টি করে আম গাছ। যার মাঝে ৫২টি আম্রপালি। আর বাকি দুটি বড় জাতের গাছ ল্যাংড়া, ফজলি বা হিমসাগর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ ১০-১২ বছর পর  আম্রপালির গাছগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। থেকে যাবে ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগরের গাছ।    

 

এভাবেই একজনের দেখাদেখি আরেকজন করে একই পরিবারের অনেকেই কিনেছেন আমবাগান। রাজধানীতে বসেই তারা হয়ে উঠেছেন একেকজন আমবাগান মালিক। কোনো কোনো সংগঠনও এখানে আমবাগান কিনেছে। এমনই একজন কৃষিবিদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ৪৫ জন বন্ধু মিলে তারা একটা সংগঠন করেছেন। সেই সংগঠন থেকে তারা আরও চারটি বাগান কিনেছে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগে মাত্র পাঁচ শতাংশের মাঝে ৫৪টি গাছ। ব্যাপারটি পরিষ্কার করলেন কৃষিবিদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ডেন্স প্ল্যানটেশন পদ্ধতিতে ৫৪টি গাছ লাগানো আছে ঠিকই। কিন্তু এখানে একটা ছক করা আছে। কয়েক বছর পর পর এখান থেকে কিছু কিছু গাছ সরিয়ে ফেলা হবে। ওই হিসাবে এটি বিজ্ঞানসম্মত। তিনি আরও বলেন, জাহিদ ইন্টারক্রপিং সিস্টেম প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। শুধু এখানে আমের এক জাতের সঙ্গে আরেক জাতের চাষ। আর যেহেতু আম্রপালি গাছ আকারে ছোট তাই তেমন সমস্যা নেই।  

 

আমি যখন এই প্রকল্প দেখতে আসি তখন ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন আমবাগান মালিকের সঙ্গে আমার কথা হয়। যারা এখানে প্লট কিনছেন তাদের বাগানের গাছ দেখাশোনা করার দায়িত্বও জাহিদের। তবে সামান্য সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। মাসে প্লটপ্রতি ৫০০ টাকা। বাগানের সমস্ত ফল আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও জাহিদের। শতকরা ১০ ভাগ ফল অবশ্য রেখে দেয় জাহিদ মেইনটেনেন্স খরচ বাবদ। ১২ বছর ফল চাষের চুক্তি থাকে জাহিদের সঙ্গে। এরপর ক্রেতা সেখানে নিজের ইচ্ছা মতো যে কোনো কিছুই করতে পারবে।

 

যারা এখানে আমবাগান কিনেছেন তারা সবাই বলছেন শুরু থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো প্রতিশ্রুতি শুনেছেন, বাস্তবেও তাই পেয়েছেন তারা। এতেই দিনে দিনে তাদের আস্থা আরও বাড়ছে। একজন একটি বাগান কেনার পর তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও আগ্রহী হন কিনতে। এভাবেই এখানকার বাগানগুলো খণ্ড খণ্ডভাবে পারিবারিক একটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এখানে দুটি বাগান কিনেছেন সলিমুল্লাহ। তিনি এই উদ্যোগটি দেখেই প্রথমে আকৃষ্ট হন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিন যত যাচ্ছে তার আকর্ষণ ও আস্থা যেন বাড়ছে। সলিমুল্লাহ বলছেন, জাহিদ চাকলাদারের এই পরিকল্পনা অসাধারণ। সাধারণত প্লট কেনা বলতেই তিনি বা অন্যরা মনে করেন সেখানে দালান কোঠা তৈরি, কিন্তু মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় পাঁচ শতক জমি কিনে সেখানে বাগান করার এই পরিকল্পনা সত্যি চমৎকার পরিবেশ ও কৃষিবান্ধব উদ্যোগ বলে মনে করেন সলিমুল্লাহ।

 

জাহিদ চাকলাদার দারুণ স্বপ্নচারী এক তরুণ। তার উদ্যোগগুলো কৃষিবান্ধব ও সুদূরপ্রসারী। প্রকল্পটি নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার। পাশাপাশি সময়ের দিকেও তিনি তাকিয়ে আছেন। নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন সে সঙ্গে আগামীর চিন্তা ও বাস্তবতা যা দাবি করে সেদিকে যেতে চান তিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও জাহিদের এই উদ্যোগ বেশ গ্রহণযোগ্য। এই বাগান দেখে দৃষ্টি খুলে গেছে অনেকের। প্রিয় পাঠক, সম্মিলিত বাণিজ্যিক ভাবনা বা অন্যের স্বপ্ন পূরণের বাণিজ্যিক উদ্যোগ আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আমাদের দেশেও তরুণদের মধ্যে এমন উদ্ভাবনী চিন্তা আসছে, এটি এক আশাপ্রদ ব্যাপার।

এখানে অনেক ইতিবাচক দিক আছে। এক. উদ্যোগটি পুরোপুরি কৃষিবান্ধব, দুই. বছরান্তে পুরোপুরি বিষ ও রাসায়নিকমুক্ত আম খাওয়ার সুযোগ, তিন. নাগরিকদের কৃষির আকাঙ্ক্ষার সহজ বাস্তবায়ন। আমাদের বিশ্বাস, অনেক ক্ষেত্রেই এমন উদ্যোগ আসবে। একজনের উদ্ভাবনী চিন্তার অংশীদার হয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বহু মানুষ।   আপনি পাঁচ শতাংশ পরিমাণ জমির আম বাগানের গর্বিত মালিক হয়ে খেতে পারবেন বিষমুক্ত আম। পাঠাতে পারবেন বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিজ বাগানের আম।

Comment (0) Hits: 3594
 

ইকমার্স আম উদ্যোক্তাদের সাক্ষাৎকারে জামিল হোসাইন

২০১৪ সালের আমের মৌসুমে জামিল হোসাইন সেজান  অনলাইনে শুরু করেন আমের ব্যবসা। নতুন এ আইডিয়া কতটুকু মানুষ গ্রহণ করবে ভয় ছিল শুরুতে। কিন্তু অনলাইনে সটিকভাবে মার্কেটিং করার কারনে বর্তমানে এটি বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। আম বিক্রির এ ব্যবসার নাম ঠিক করেন “রাজশাহী আম”।  শুধুমাত্র ফেসবুক পেজ  খুলে প্রচার শুরু করেন। তবে বর্তমানে নিজস্ব ওয়েবসাইট  রয়েছে। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে রাজশাহীতে নিজস্ব আম বাগান থেকে সরাসরি আম সংগ্রহ করে সেটি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে থাকেন। তার দেখানো পথ ধরে ইতিমধ্যে অনেকেই শুরু করেছেন এ ব্যবসাটি। আজকে “রাজশাহী আম” এর CEO & Founder জামিল হোসাইন সেজানের সাথে আলাপচারিতায় উঠিয়ে আনার চেষ্টা করেছি এ অভিনব পরিকল্পনার পিছনের গল্প।

 

১) আপনার অনলাইন ভিক্তিক ব্যবসাটি কবে শুরু করেছেন? আপনার ব্যবসার ধরনটি সম্পর্কে কিছু বলুন।

সেজানঃ   সালটা ছিল ২০১৩ এর রোজার দিকে যখন আম প্রায় শেষের পথে।তখন ছিল আমের রাজা ফজলি আমের মৌসুম।একদিন বাসায় বেড়াতে আসলো এক ছোট ভাই।হাতে ছিল সুন্দর ভাবে প্যাক করা আমের দুইটা ঝুড়ি।এসেই বলল,জামিল ভাই আপনার জন্য নিয়ে এসেছি।হাতে পেয়ে দারুন খূশি হলাম।তখন মাথায় একটা আইডিয়া এসেছিল,যে এই ভাবে যদি গোটা বাংলাদেশে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন মুক্ত রাজশাহীর আম সরবরাহ করা হয়।তাহলে কেমন হয় ? আর এটা যদি হয় অনলাইনে !!! ভাবলাম অনলাইনে আম কে নিবে ?? প্রচুর গবেষনা করলাম,কিভাবে কি কি করা যায়।যেমন ভাবা ঠিক তেমনি কাজ।ভাবলাম অনলাইনের বেশ গুরু টাইপ এর কিছু মানুষ জন কে আম পাঠায়,এতে তারা অনেক খূশি হবেন এবং প্রচার ও হবে সাথে অনলাইনে একটা সাপোর্ট ও পাবো,যাতে সব কিছুই ভালভাবে হয়। আমার সেই ছোট ভাইয়ের বাগান হতে প্রায় ৫-৬ মন আম কিনে এক যোগে সবাই কে পাঠায় দিলাম,প্রথমে আম পাঠালাম  Billah Mamun  ভাইকে, Taher Chowdhury Sumon   ভাইকে , Aowlad Hossain ভাইকে.এইভাবে মোটামুটি অনেক জনকে আমের গিফট পাঠালাম,আস্তে আস্তে এগুচ্ছি।সেইবার তেমন প্রস্তুতি ছিলনা।তাই ভাবলাম আগামী বছর এটার কাজ করবো।২০১৪ থেকে শরু করলাম ফুল কাজ । লোগো বানানো,টিম বানানো,সব কি কিছুই,কিভাবে কি করবো,ভেবেই পাচ্ছিলাম না। আল্লাহর নাম নিয়ে মাঠে নেমে পড়লাম ।

ব্যবসার ধরনটি সম্পর্কে  : ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন মুক্ত রাজশাহীর আম ।

২) বর্তমানের টিম মেম্বারদের সাথে সবাইকে পরিচয় করে দিবেন

সেজানঃ বর্তমানে ৫ প্রকার টিম মেম্বারে ভাগ করা হয়েছে :

ক.অফলাইন টিম মেম্বার

খ.কুরিয়ার সার্ভিস টিম মেম্বার

গ.অনলাইন টিম মেম্বার

ঘ.গ্রাফিক্স ডিজাইন টিম মেম্বার

ঙ.ফোন কল টিম মেম্বার

 

ক.অফলাইন টিম মেম্বার :

অফলাইন টিম মেম্বারদের সাধারনত ফেসবুক আইডি থাকেনা।এরা মুলত চাষী। এরা আম গাছ হতে আম পাড়ে, আম পাড়ার পর সেটা বাছাই করে,বাছাই করার পরে সেটা ভাল মানের ঝুড়িতে প্যাকিং করে,এর পরে সেটাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিলে কাজ শেষ ।

এদের নাম : শরিফুল ইসলাম,মুজিবুর রহমান (বাগান হতে আম পাড়েন,)বাবু মন্ডল ( যার হাতেই হয় আমের যত প্যাকিং এর কেরামতি ),সালাউদ্দিন ( যিনি বারবার দেখেন যে ভাল আম ঠিক মত প্যাকিং হচ্ছে কিনা ),মেছের কাকা (আম বাগান পরিদর্শক)

খ.কুরিয়ার সার্ভিস টিম মেম্বার : 

কুরিয়ার সার্ভিস টিম মেম্বারদের কাজ হয় বেশ জটিল।ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে মাল বুকিং দিয়ে থাকে । এটা সব চাইতে বেশি বিরক্তকর কাজ । যদি একবার বুকিং সিরিয়াল অফ হয়ে যায়,তাহলে সেইদিন আর বুকিং হয়না । ফলে আম গুলি অনেক নষ্ট হয়ে যেতে থাকে । তাই এই কাজে বেশ দক্ষ হতে হয় । এই কাজ করে থাকেন Ahmed Sanuar Hossain Sohel  -Junior CEO and Consultant At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am) এবং Ismayeel Hossain

 

গ.অনলাইন টিম মেম্বার : অনলাইনে যাদের কাজ হচ্ছে মার্কেটিং,ক্রেতার সাথে যোগাযোগ সহ আরো অনেক রকম কাজ করা ইত্যাদি ।

১.মার্কেটিং ও ক্রেতার সাথে যোগাযোগ সহ  দ্বায়িত্বে   আছেন : Aynal Khan  -marketing manager At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am)

২.ফেসবুক পোষ্ট বিজ্ঞাপনের দ্বায়িত্ব আছেন : Anik Tangeer Mehedi -Facebook adviser At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am)

 

ঘ.গ্রাফিক্স ডিজাইন টিম মেম্বার : গ্রাফিক্স ডিজাইন টিম মেম্বারের দ্বায়িত্বে আছেন :

১. Towkir Ahmed Bappy  -Graphic designer At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am )

অনেক সময় আমিও গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে থাকি । এর সাথে সাথে marketing manager  Aynal Khan ও এই কাজ করে থাকেন ।

 

ঙ.ফোন কল টিম মেম্বার :

১.হ্যালো স্যার আমি রাজশাহীরআম.কম থেকে বলছি ?

২.হ্যালো স্যার আপনার রিসিভ মেমো নং টি লিখে নিন,আপনি ২ দিনের মাঝেই আম পেয়ে যাবেন ।

৩.হ্যালো স্যার আপনি কি আম পেয়েছেন ?

১.হ্যালো স্যার আমি রাজশাহীরআম.কম থেকে বলছি ?

এই কাজটি করেন :

Aynal Khan -marketing manager At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am )

২.হ্যালো স্যার আপনার রিসিভ মেমো নং টি লিখে নিন,আপনি ২ দিনের মাঝেই আম পেয়ে যাবেন ।

এই কাজটি করেন :

Ahmed Sanuar Hossain Sohel-Junior CEO and Consultant At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am)

( ২ দিন পরে) হ্যালো স্যার আমি রাজশাহীরআম.কম থেকে বলছি ?  আপনি কি আম পেয়েছেন ?

এই কাজটি করেন :

Ahmed Sanuar Hossain Sohel -Junior CEO and Consultant At রাজশাহীর আম – Rajshahir Am)

 

৩) শুরুর দিকের কিছু কথা সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ করছি

সেজানঃশুরুর দিকটা বেশ ঝামেলার ছিল।শুরু করে দিলাম এর সাথে সাথে ঝামেলা আরো বেড়ে গেলো।অনলাইন আমের বিজনেসে সব করতে চাইলাম আর সব কিছু হয়ে গেলো,সেটা কিন্তু না । শুরুর দিকে সবার ই সাপোর্ট ছিল,সবাই নিজের মত করে কাজ করেছেন।শিপলু মামা ও আইনাল খান ভাই শুরুর দিকে এটার জন্য বেশ মার্কেটিং করে দিয়েছিলেন,মোটামুটি সবরকম অনলাইন সাপোর্ট পেয়ে কাজ গুলো করতে বেশ ভালই লেগেছে । শিপলু মামা,আইনাল ভাই,সোহেল হোসেন সহ সবাই বেশ এটার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন,যেন ক্রেতারা ভাল কিছু পাই । গত বার সকালে আম ডেলিভারী যাবে প্রায় ২০ মন খানিক,এর মাঝে শুরু হলো সেই বৃষ্টি,চিন্তা শুরু হয়ে গেলো কিভাবে কি করবো,কারন আমরা আম ডেলিভারী বাগান থেকে আম পেড়ে দিই,দোয়া করতে লাগলাম কি করে কি করা যায়,১ মন আম না,প্রায় ২০ মন খানিক আম,প্রায় ২ ঘন্টা হয়ে গেলে,বৃষ্টি আস্তে আস্তে থামতে লাগলো,সেই দিন শুধুমাত্র ডেলিভারী দেবার জন্য প্রায় ৫-৬ জন লোক এক্সট্রা ভাবে নিলাম,আমি্ও তাদের সাথে বাগানে আম পাড়েতে শুরু করলাম,হঠাৎ চোখে পড়লো আমের আঠা,সাথে চোখ ভিষন জ্বলতে লাগলো,সেই জ্বলা শুরু আর থামা নেই……..

  

৪) কত পূজি নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করেছেন?

সেজানঃ: মোটামুটি ৩০-৪০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করে ছিলাম,ছোট ছোট কিছূ বাগান কিনতে হয়েছিল,আমাদের রাজশাহীর আম .কম এর লোগা বানানোর খরচ,বিজ্ঞাপন খরচ সহ আরো কিছু টাকা খরচ হয়েছিল । তবে যে কেউ খুব অল্প পুজিতে এই কাজ শুরু করতে পারেন ।

৫) ব্যবসার সফলতার প্রধান কাজ প্রচার এ প্রচারের কাজটি কিভাবে করছেন?

সেজানঃ ব্যবসাটা শুরুর দিকে অনলাইনের সকল প্রকার বন্ধুর সহযোগীতা পেয়েছিলাম,সবাইকে অনুরোধ করেছিলাম,যেন সবাই একটু একটু আমাদের এই কায্যক্রমের ব্যপারে সবাইকে একটু জানিয়ে দেন,এবং সবার ই সহযোগীতা পেয়েছিলাম,তাহের চৈাধুরী সুমন ভাই বেশ টিপস্ দিয়েছিলেন,শিপলু মামা নিজ অন্তর দিয়ে এটার জন্য প্রচার করেছিলেন,এছাড়া আমাদের আইনাল ভাই তো আছেন,যিনি আমাদের রাজশাহীর আমের মার্কেটিং ম্যানেজার । ওয়েব সাইট,ফেসবুক গ্রুপ,ও স্পনসর পোষ্টের মাধ্যমে এই সব প্রচার করা হয়েছে ।

 

৬) এ ব্যবসাটি পরিচালনা করতে প্রতিদিন কিরকম সময় ব্যয় করতে হয়?

সেজানঃ ব্যবসাটি পরিচালনা করতে প্রতিদিন গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘন্টা সময় ব্যায় হতো,কারন কোয়ালিটির ব্যাপারে আমাদের ছাড় নাই,কোয়ালিটিফুল জিনিস দিবো,সবাই এমনিতেই ভালবাসবে । ভালো আমের বাগান পর্যবেক্ষন করা,আম পরিক্ষা করা সহ নানা রকম কাজ করা হতো,যেন ভাল আম ই আমাদের ক্রেতারা খেতে পারেন ।

 

৭) ব্যবসাটি পরিচালনা করতে সার্বিক কাজের তালিকাটি সবাইকে জানাতে চাচ্ছি

সেজানঃ ১.প্রথমে প্রচুর প্রচার করতে হয়,এর জন্য গ্রাফিক্সের কাজ করতে হয় প্রায় ঘন্টা দুয়েক,এর পর গ্রাফিক্সের কাজ গুলো নিয়ে আমাদের পেইজে মার্কেটিং করতে হয় ।

২.ক্রেতারা আমাদের শিপিং তারিখ দেখে  আমের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার ফর্ম থেকে আমাদের অর্ডার দিয়ে থাকেন ।

৩.গুগর অর্ডার সিট হতে অর্ডার কালেক্ট করে,সেটাকে আমরা প্রিন্ট করে থাকি ।

৪.এর পরে ক্রেতার অর্ডার প্রিন্ট সিট অনুযায়ী আমরা আম বাগান হতে আম সংগ্রহ করে থাকি ।

৫.আম গুলো আগে থেকে চেক করা হয়,কোথা্ও কোন ভূল হচ্ছে কিনা। সব কিছু চেক করার পরে আম গাছ হতে আম পেড়ে সেই গুলোকে ভালভাবে বাছায় করে ভাল ভাবে প্যাকিং করে নিয়ে যেতে হয় ৪৫ কিলোমিটার রাজশাহীর মেইন শহরের কুরিয়ার সার্ভিসে,সেখানে আমাদের প্রতিনিধিরা লাইনে দাড়িয়ে সেই গুলো কুরিয়ার করেন ( সব চাইতে কষ্টের কাজ ) ।

৬.এর পরে ফোন কল টিম মেম্বারা ক্রেতাদের কল করে কুরিয়ার রিসিভ মেমো জানিয়ে দেন ।২ দিন পরে আবারো ফোন দে্ওয়া হয়,যে আপনারা আম পাইছেন কিনা ? পরে আবারো ফোন করা হয়,আম গুলোন কেমন লেগেছে । সবশেষে অভিযোগ সুনতে হয় ।এই ভাবেই চলে আমাদের কাজের তালিকা ।

৮) ব্যবসাটি পরিচালনা করতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?

সেজানঃব্যবসাটি পরিচালনা করতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম : ১.অতিবৃষ্টি ( মাঝে মাঝে অতিবৃষ্টির কারনে আমাদের আম ডেলিভারী বন্ধ রাখতাম,যার ফলে অনেক আম নষ্ট হয়ে যেতো ২.কুরিয়ার সার্ভিসের অব্যস্থাপনা (কুরিয়ার সার্ভিসের অব্যস্থাপনার জন্য আমাদের ডেলিভারীতে একটু সময় নিতো,যেটার জন্য ক্রেতারা আমাদের উপর রাগ করতো   ৩.যোগাযোগ ব্যবস্থা (আম বাগান থেকে আম নিয়ে যাবার রাস্তা ছিল বড়ই ভয়ানক,বৃষ্টি হলেতো আর কথা নাই ।)অনেক সময় আম বাগান হতে প্যাকিং করা আম কুরিয়ার সার্ভিস পর্যন্ত নিয়ে যেতে কোন রকম গাড়ি পেতাম না,অনেক সময় ভাংগা রাস্তার কারনে কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে চাইতোনা । অনেক সময় লোক রেখে মাথায় করে এই গুলো আনাতাম । যাই হোক যখন শুনি কাস্টোমার আমাদের আমের প্রসংশা করেছেন,ঠিক তখন ই আমরা এই সব ভূলে যেতাম ।

 

৯) বাজারে গিয়ে না কিনে আপনার কাছ থেকেই কেন কিনবে, সেটি অল্প কথাতে উল্লেখ করুন

সেজানঃ কারন আমরা আপনাকে সব ধরনের সেবা দিতে প্রস্তুত । আমের অর্ডার থেকে শুরু করে আম খা্ওয়া পর্যন্ত আমরা আপনাকে ট্রাক করবো । আমের ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকলে আমরা আবারো সেই পরিমান আম পাঠিয়ে দিবো । যেটা আপনি খোলা বাজার হতে এই সার্ভিস পাবেন না । যা্ আপনাকে আমরা দিবো ।আমরা এখানে ভাল জিনিস খা্ওয়াতে এসেছি ।

১০) যাদের সহযোগিতা পাচ্ছেন, তাদেরকে এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ধন্যবাদ দিতে পারেন

সেজানঃধন্যবাদ : আ্ওলাড হোসেন জয় ভাই,শিপলু মামা,আইনাল ভাই,আমিনুর ইসলাম,Ahmed Sanuar Hossain Sohel,Taher Chowdhury Sumon , Billah Mamun,নিলআকাশ,ইয়াসিনমামা,Towkir Ahmed Bappy,Abu Bakar Siddique Vai,Anik Tangeer Mehedi,Md Rubel Ahmed,Saiful Islam(Amargadget.com),Abdul Malek Vai,Sariful Islam,Mahbub Alam,Shahrana Wahed,

১১) নতুনরা অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে চাইলে কি কি প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিবেন?

সেজানঃ নতুনরা এই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসাতে আসতে হলে,অনলাইনে ভালভাবে পরিচিতি লাভ করতে হবে,যেন সবাই এটাকে বিশ্বাস করেন । এখানে বিশ্বাস করাটা মেইন ব্যপার । সব কাজ গুছিয়ে নিতে হবে,কার কোন কাজ,কে কিভাবে করবে সেটা উল্যেখ করতে হবে । কখন্ও ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া উচিৎ হবেনা,যেহেতেু এটাতে পুজি কম লাগে,তাই ভেবে চিন্তে লোনের ব্যপারে এগুবেন । আল্লাহর নাম নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন,কাজ হবেই ।।।।

১২) ইকমার্স ব্যবসার প্রসারে সরকারের কাছে কি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?

সেজানঃ ইকমার্স ব্যবসার প্রসারে সরকারের কাছে একটাই আবেদন,অন্তত সব জায়গাতে কুরিয়ার ব্যবস্থাপনা ভাল করা,যখন যেটার সময় ঠিক তখন সেটার ব্যপারে আগ্রহ প্রকাশ করা । কুরিয়ার সার্ভিস ভাল হলেই সব কিছুই হবে,আর এটার সাথে ছোট ছোট সকল প্রকার ইকার্সকে সরকার থেকে অনুমোদন প্রদান করা,যেন সকল ক্রেতা এটাকে পজেটিভ ভাবেন । এছাড়াএই খাতকে সম্পুর্ন জিরো ভ্যাটের আ্ওতায় আনার জন্য সরকার কে অনুরোধ জানাচ্ছি । সম্ভাবনাময় এই খাতটি কেবল মাত্র শুরু হতে যাচ্ছে,সব চাইতে বড় বাধা হলো ইকমার্স সাইট কে এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ বিস্বাস করতে চাইনা,তার উপরে যদি বাজারের ভ্যাটের চাইতে এখানে বেশি ভ্যাট  নেওয়া হয়,তাহলে মানুষের সেই বিস্বাস টুকু আর থাকবেনা । ক্রেতারা পণ্য কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে ।

 

Comment (0) Hits: 3672
 

সফল নারী উদ্যোক্তা কোহিনুর কামাল

সাম্প্রতিক সময়ে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি ও পরিচিতি লাভ করেছেন দেশের খ্যাতনামা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনুর কামাল। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে তার একাগ্র চেষ্টা, নিষ্ঠা ও কঠোর শ্রম ছিল মূল চালিকাশক্তি। তার আজকের এ সফলতার পেছনে তার স্বামী বিশিষ্ট শিল্পপতি এস এম কামাল পাশার বিশেষ অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি। একজন সফল নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তার আজকের এ অবস্থানে আসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমি যখন এইচএসসি পাস করি তখন আমার বিয়ে হয়। স্বামীর সংসারে এসে বিশাল যৌথ পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়। ঘরের বড় বউ হিসেবে আমি আমার শ্বশুরবাড়ির সব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করি। আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার স্বামীর ব্যবসা সীমিত পর্যায়ে ছিল। পরে আমার স্বামীর ব্যবসার পরিধি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে তার পক্ষে একা ব্যবসা সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না, আমি মাঝেমধ্যে তাকে তার ব্যবসা-ব্যাণিজ্যের ব্যাপারে সহযোগিতা করতাম এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিতাম। এরই মধ্যে আমার কোলজুড়ে আসে তিন পুত্রসন্তান।ঘরসংসার, স্বামী-সন্তানকে সময় দিয়ে আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে যেতে থাকি।'এদিকে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে সাফল্যের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে কোহিনুর কামালের দায়িত্ব দিন দিন বাড়তে থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের মেরিডিয়ান গ্রুপ প্রথম ব্যবসা শুরু করে চট্টগ্রাম শহরে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মেরিডিয়ান হোটেল দিয়ে। হোটেল ব্যবসায় সফলতার পর আমার স্বামী পটেটো চিপস ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। আমাদের নিজস্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেন মেরিডিয়ান চিপস ফ্যাক্টরি। মেরিডিয়ান চিপস সারা দেশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। মেরিডিয়ান চিপসের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কারখানার পরিধি এবং অফিসের পরিধি অনেক বেড়ে যায়। আমি এবং আমার স্বামী হোটেল ও চিপসের ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।
বান্দরবানের লামায় পাহাড় আবাদ করে গড়ে তুলি বিশাল বাগান, যা মেরিডিয়ান এগ্রো নামে পরিচিত। প্রায় ১ হাজার একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বাগানে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করেছি। আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের বাগানে রাবার ও আম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করছি। লামার গহিন পাহাড়ে উন্নত জাতের আম্রপালিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের চাষ করে পুরো পার্বত্য এলাকায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। এ দেশে আমরাই সর্বপ্রথম ভারতীয় উন্নত জাতের আম আম্রপালির চাষ শুরু করি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভিত্তিতে আম্রপালি আমের চাষ হচ্ছে। আমাদের বাগানে উৎপাদিত রাবার দেশের রাবারের চাহিদা কিছুটা হলেও মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। মেরিডিয়ান এগ্রোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় অবস্থিত মুহুরী প্রজেক্টে গড়ে তুলেছি কে কে ফিশারিজ নামে বিশাল মৎস্য খামার। আমাদের মৎস্য খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন হচ্ছে। তা ছাড়া আমাদের মৎস্য খামারে হ্যাচারি গড়ে তুলেছি। মৎস্য হ্যাচারিতে উৎপাদিত মাছের পোনা সারা দেশে সরবরাহ করছি। কে কে ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারি গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদনের জন্য ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেছে। মেরিডিয়ান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১০ সালে পরিবেশবান্ধব বাগান গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রীয় পদক লাভ করেছে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের অগ্রগতির জন্য ২০১৪ সালে মেরিডিয়ান এগ্রো বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। এসব জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও আমাদের প্রতিষ্ঠান আরো অসংখ্য পুরস্কার লাভ করে।'
একজন সফল নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পাক্ষিক অনন্যা শীর্ষদশ নারীর একজন হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করেছে। তিনি ব্যস্ত কর্মজীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে_ প্রেসিডেন্ট ইনার লুইলার ক্লাব অব চিটাগাং (২০১৫-১৬), চেয়ারপারসন লিও ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি ৪ (২০১৫-১৬), এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার অটোস (জাপান) (২০১৫-১৬), অ্যাডভাইজার প্রয়াস, প্রেসিডেন্ট লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সেন্ট্রাল (২০১২-১৩) এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তিনি আরো বহু কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।

Comment (0) Hits: 3934

সফল উদ্যোক্তা আতিক

সফল এক কৃষি উদ্যোক্তা নাটোরের আতিকুর রহমান আতিক। কীটনাশক ও সব রকমের রাসায়নিকমুক্ত ফল চাষ করে মাত্র ছয় বছরে বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন দেশ সেরার সম্মাননা।
শুরুটা হয় পেয়ারা চাষের মাধ্যমে। বর্তমানে তার খামারে এখন রকমারি আম, কলা, লেবু, ড্রাগনসহ নানা ফলের সমাহার। বাগানের পাশেই গরুর খামার আর শত শত বাহারি কবুতর। শুরু খামার ছিল মাত্র ছয় বিঘা। এখন এর পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড়শ বিঘায়। বছরে গড়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ব্যবসা।
সফল কৃষি উদ্যোক্তা আতিক এখন অন্যদের ভীষণভাবে অনুপ্রেরিত করেন। তিনি তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে পুরস্কৃত হন দেশের সেরা ফলচাষী হিসেবে। ফল চাষ করে তিনি ছয় বছরে আয় করেছেন কোটি টাকারও বেশি।
চলতি বছরের ১৬ থেকে ৩০ জুন, জাতীয় ফলদ বৃক্ষরোপন পক্ষ উপলক্ষে ঢাকার খামারবাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মিলন ঘটে দেশ সেরা ফলচাষীদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এই আয়োজনে কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ নাটোরের আতিকুর রহমান আতিকের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র আর প্রাইজমানি তুলে দেন। জাতীয় পর্যায়ে ২০১৪ সালে ফলদ বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যক্তি পর্যায়ে নাটোরের আতিক দেশ সেরা।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সেনভাগ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে আতিকুর রহমান আতিক। উচ্চ মাধ্যমিকের পর ডেন্টাল কোর্স শেষ করে তার বেকার জীবনে দেখা দেয় হতাশা। এ সময় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন দেখে পরামর্শ নেন কৃষি বিভাগের। বাড়ির সবার আপত্তি উপেক্ষা করে ছয় বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ২০০৯ সালে গড়ে তোলেন পেয়ারা বাগান। খামারে তার কাজে নিয়মিত সহযোগিতা দেন কৃষিতে অনার্সপড়ুয়া তার ছোট বোন আরিফা। এরপর থেকে এই কৃষি উদ্যোক্তার শুধুই সামনে এগিয়ে চলা।
সাফল্যের এই গতিধারায় আতিক তার ফলের বাগানকে সম্প্রসারিত করেছেন একশ ৫০ বিঘায়। শত শত যুবক ও আগ্রহীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করছেন।
২০০৯ সালে আতিক শুরু করেছিলেন থাই-৩ জাতের পেয়ারা দিয়ে। স্থানভেদে একরপ্রতি এর গড় ফলন প্রায় দুই টন। খরচ বাদে প্রতি বছর মুনাফা অন্তত ৬০ হাজার টাকা। চারা লাগানোর ১৮ থেকে ২৪ মাস পর থেকে সারা বছর ফলন পাওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে অধিক ফলন হয়। আতিকের বাগানের ২০ থেকে একশ মণ পর্যন্ত পেয়ারা প্রতিদিন ঢাকায় যাচ্ছে।
আতিকের খামারে উৎপাদিত পেয়ারা ও অনান্য ফল কীটনাশক ও সব রকমের রাসায়নিক মুক্ত। তিনি বলেন, গাছের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য মাটিতে জৈব সার এবং পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করি সেক্সর ফেরোমেন হরমোন প্রযুক্তি। ক্ষতিকারক মাছির সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে গাছের পেয়ারাগুলোকে পিপি পলিথিনে মুড়ে দেয়া হয়। সারা দেশে ফলের রাসায়নিক দূষণের আতঙ্ক সংবাদে আতিকের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং ক্রেতা পর্যায়ে প্রশান্তির।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, দেশের বেকার যুবকেরা হতাশায় দিন না কাটিয়ে আতিকের মতো প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করলে দেশ এগিয়ে যাবে অনেক দূর।

Comment (0) Hits: 3933
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
দেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদাদেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদা বিষমুক্ত ও ভালো মানের আম উৎপাদনে ফ্রুটব্যাগ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এত দিন আমদানিনির্ভর হলেও দুই বছর ধরে এটি দেশেই তৈরি হচ্ছে। আর এ ব্যাগ তৈরি হচ্ছে আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড কাউন্টির ছোট্ট শহর বাউয়েন। ছোট এ শহরের বড় গর্ব একটা আম। আমটি নিয়ে বাউয়েন শহরের মানুষেরও গর্বের শেষ নেই। লোকে তাদের শহরকে চেনে আমের রাজধানী হিসেবে। ৩৩ ফুট লম্বা, সাত টন ওজনের বিশাল এই আমের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার লোকের অভাব হয় না। তবে দিনকয়েক আগে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২