Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আম ধৌতকরণ ও শোধনে হট ওয়াটার প্রযুক্তি

আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ রোগ সংক্রমণে সহায়তা করতে পারে। এজন্য আম পরিষ্কার পানি দ্বারা ধোয়া অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঠাণ্ডা পানিতে ধুলে কষ দূর হলেও রোগাক্রমণ খুব একটা নিয়ন্ত্রিত হয় না। সেজন্য আম হালকা গরম পানিতে ধোয়া উচিত। রোগ নিয়ন্ত্রণ, গুণাগুণ রক্ষা, সুষ্ঠুভাবে পাকা ও সংরক্ষণশীলতা বৃদ্ধিতে আমের হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট বেশ কার্যকরী। আবার ঠাণ্ডা বা গরম পানিতে নির্ধারিত মাত্রায় সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড মিশিয়ে ওই মিশ্রণে আম চুবিয়ে রেখেও ধৌতকরণ করা যায় এবং ভালো ফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের পরীক্ষায় ‘ফজলি’ আমের ক্ষেত্রে গরম পানিতে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড মিশিয়ে কার্যকরিতা অধিক পাওয়া গেছে। গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, জাতের ওপর নির্ভর করে ৫২ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রার গরম পানিতে ৫ মিনিট ধরে আম শোধন করলে বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমন করা যায়। এভাবে আম নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে এ পদ্ধতি কাজে লাগানোর জন্য গরম পানিতে আম শোধন যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে।
 

 

যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো

 

২ কিলোওয়াট ক্ষমতার ৮টি বৈদ্যুতিক ওয়াটার হিটারের মাধ্যমে পানি গরম করা হয়।

 

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক ব্যবহার করা হয়।

 

আম ভর্তি প্লাস্টিক ক্রেট বহনের জন্য মটরচালিত কনভেয়ার রোলার ব্যবহার করা হয়।

 

যন্ত্রটি দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে আম শোধন করা যায়। যন্ত্রটি চালানোর জন্য ছয়জন লোকের প্রয়োজন হয়। এ যন্ত্র দ্বারা আমকে সুষমভাবে ৫২ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে ৫ থেকে ৭ মিনিট ডুবিয়ে শোধন করা হয়।

 

গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা আমের গায়ে লেগে থাকা পচনে সাহায্যকারী জীবাণু মারা যায়।

 

শোধনকৃত আম ৫ থেকে ৬ দিনের পরিবর্তে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে এবং আমের রঙ উজ্জ্বল হয়। যন্ত্রটি দিয়ে ঘণ্টায় ১০০০ কেজি আম শোধন করা যায়।
উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় প্রতি কেজির শোধন খরচ মাত্র ৫০ পয়সা। যন্ত্রটির বাজার মূল্য ১,৩৫,০০০ টাকা।     

 

হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি : বড় কোনো খোলা মুখওয়ালা পাত্রে পানি রেখে তাপ দিতে হবে। পানির তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ওই পানিতে আম ৫ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে। তারপর পানি থেকে আম উঠিয়ে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে উদ্ভাবিত হট ওয়াটার প্লান্ট ব্যবহার করে উল্লিখিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে সুষমভাবে একসাথে অনেক আমের হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করা যায়

Comment (0) Hits: 722
 

আমের বিশেষ হিমাগার

আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন খরচই ওঠে না। অথচ ব্যবসায়ীদের ধারণা, আর ২০ দিন ঘরে রাখতে পারলেই ওই আম দ্বিগুণ দামে বেচা যায়। এবার চাষির সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক এম মনজুর হোসেন। রাজশাহী মহানগরের নামোভদ্রা এলাকায় ‘আকাফুজি অ্যাগ্রোটেকনোলজি’ গবেষণা খামারে আম সংরক্ষণের এই ‘বিশেষায়িত হিমাগার’ নির্মাণ করা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সাড়ে ১১ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৯ ফুট। তিন টন ধারণক্ষমতার এই হিমাগার প্রস্তুত করতে ব্যয় হয়েছে তিন লাখ টাকা। ১ মাস ৪ দিন আগে আম রাখা হয়েছিল হিমাগারে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) হিমাগার থেকে আম বের করে পরীক্ষা করে দেখা হলো। ল্যাংড়া, বারি-ফোর ও সুরমা ফজলি জাতের আম অবিকল রয়েছে। এ ছাড়া ১ মাস ২০ দিন আগে রাখা লকনা ও আম্রপালিও রয়েছে। হিমাগার থেকে বের করা আম কেটে উপস্থিত লোকজনকে খাওয়ানো হয়। উদ্ভিদবিজ্ঞানী এম মনজুর হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল, ২০ থেকে ২৫ দিন আম পাকা বিলম্বিত করা যায় কি না। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে সেটা করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমের ভেতর থেকে যে হরমোন নিঃসরণের কারণে আম পেকে যায়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার আম যাতে পচে না যায়, সে জন্য হিমাগারের ভেতরে বিশেষ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এম মনজুর হোসেন বলেন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, মেক্সিকোতে আম পাকা বিলম্বিত করার প্রযুক্তি আরও আগেই বেরিয়েছে। কিন্তু তিনি করেছেন একটা ব্যয়সাশ্রয়ী সহজ প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই হিমাগারে প্রতিদিন গড়ে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিদ্যুৎ ও শ্রমিক খরচ যোগ করলে এক কেজি আম বাজার থেকে কিনে এই হিমাগারে এক মাস সংক্ষরণ করতে মাত্র পাঁচ টাকা খরচ পড়বে। তিন টন আম রাখতে খরচ হবে ১৫ হাজার টাকা। আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের নির্বাহী সহসভাপতি মুহাম্মদ নাদিম বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের (সিএসআর) আওতায় এই গবেষণাকাজে তাঁরা অর্থায়ন করেছেন। প্রকল্প সফল হলে তাঁরা তাঁদের হিমাগার প্রস্তুতের জন্য অর্থায়ন করবেন। তা ছাড়া উদ্ভাবক এম মনজুর হোসেনের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তাতে সমানভাবে ব্যাংকও এই গবেষণাকাজের মেধাস্বত্বের মালিক হবে। এই পদ্ধতিতে আম পাকা বিলম্বিত করতে হলে আধুনিক ঠুসি ব্যবহার করে বোঁটার একটু ওপর থেকে আম কেটে গাছ থেকে পাড়তে হয়। এরপর ইথিলিন জৈব সংশ্লেষণ প্রতিরোধক দ্রব্য দিয়ে সৃষ্ট পরিবেশে ২৪ ঘণ্টা আম রেখে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া হরমোন নিঃসরণ বন্ধে সহায়তা করে। এই পর্ব শেষে আম হিমাগারে রেখে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আম সংরক্ষণের উপায় আগেই উদ্ভাবন করা হয়েছে। আমরাই দেরিতে করলাম।’ হিমাগারের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের আম বিভিন্ন কার্টনে রাখা। কোন আম কোন তারিখে সংগ্রহ করা হয়েছে, তার তারিখ কার্টনের গায়ে লেখা রয়েছে। দেখা গেল, হিমাগারে সবচেয়ে ভালো রয়েছে বারি-ফোর ও সুরমা ফজলি আম। এগুলো এক মাস চার দিন আগে রাখা হয়েছিল। হেরিটেজ-রাজশাহীর প্রতিষ্ঠাতা ও আম গ্রন্থের লেখক মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের মে থেকে আগস্ট—এই চার মাস আমের মৌসুম। তবে আগস্টে প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফজলি পাওয়া যায়। তারপর শুধু আশ্বিনা থাকে। নতুন এই হিমাগার আমের মৌসুমকে আরও এক মাস বাড়িয়ে দেবে। এই হিমাগারের সুবিধা নিতে পারলে চাষিকে আর আম পাকা নিয়ে চিন্তায় পড়তে হবে না।

Comment (0) Hits: 661
 

ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনকে আধুনিক সরঞ্জাম প্রদান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আমচাষীদের নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী ও সভা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে এলাকার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। এ সময় উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতিতে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।  এ সময় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এফএও এর কনসালটেন্ট প্রফেসর মিস এলডা এ্যাজগুইরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল হায়াত মোঃ রফিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।  আম উৎপাদনের কলাকৌশল, উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতিতে আম প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আম বাজারজাতকরণ করা হলে দেশি এবং বিদেশি মুদ্রা অর্জনের সুফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উদ্যানত্তত্ব গবেষণা কেন্দ্র বারীর পোষ্ট হারভেষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ আতিকুর রহমান, ফল বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ জিল্লুর রহমান, এফএওর প্রোগ্রাম অফিসার শামিম আহমেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষনা কেন্দ্র) উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ শরফউদ্দিন, ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ, ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।  সভায় বক্তারা বলেন, আম চাষীরা চলমান সনাতন পদ্ধতিতে যেভাবে আম বাজারজাতকরণ করেন তাতে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আম বিভিন্নভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চাষীরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আধুনিক পদ্ধতিতে আম বাজারজাতকরণ হলে ৩০ শতাংশ আম নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে আম বাজারজাত করে বিদেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানীর সুযোগ অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই বিদেশি মুদ্রা অর্জন করতে সকল আম চাষীদের ও দেশের উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।  ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনকে এফএওর পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে আম বাজারজাতকরণের জন্য গরম পানিতে আম প্রক্রিয়াকরণ মেশিন, পানির তাপমাত্রা মাপক যন্ত্র, আম শুকানো ও আমের কষ ঝড়ানো মেশিন, আম পাড়ার আধুনিক ঠুসি, আম পরিবহনের জন্য একটি ভ্যানগাড়িসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ১৫ প্রকার সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদির ব্যবহার উদ্বোধন করেন অতিথিরা।  এর আগে অতিথিরা উপজেলার হাসপুকুর এলাকার একটি আমবাগানে আধুনিক পদ্ধতিতে গাছ থেকে আম নামানোর বাস্তব চিত্র দেখেন এবং আম চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। শেষে স্থানীয় আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের আম বাগানে সরাসরি হাতেকলমে আম প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

Comment (0) Hits: 613

আম পাড়ার নতুন কৌশল

গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের ব্যবস্থাপক।
প্রচলিত পদ্ধতিতে গাছ থেকে আম নামাতে গেলে বোঁটা ভেঙে আমের সারা গায়ে কষ ছড়িয়ে পড়ে। আমপাড়ুয়ার চোখেমুখেও কষ লাগে। যেখানে লাগে, সেখানে ঘা হয়ে যায়। সহজে সারে না। শুধু তা-ই নয়, কষের কারণে আম ‘অ্যানথ্রাকনোজ’ ছত্রাকে আক্রান্ত হয়। পাকতে না-পাকতেই আম পচে যায়। বোঁটা থেকেই এর পচন শুরু হয়। আবার ঠুসি থেকে বের হয়েও নিচে পড়ে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আঘাত লাগা আম পাকার আগেই পচে যায়। আম ঠুসিতে পড়ার কারণে লগি ভারী হয়ে যায়। ধরে রাখতে কষ্ট হয়। হযরত আলীর ঠুসির ক্ষেত্রে তা হবে না। আম সরাসরি নিচে চলে আসবে। লগি ভারী হবে না।
প্রচলিত আম পাড়ার ঠুসির মতোই এই ঠুসি তৈরির জন্য একটি বাঁশের লগির প্রয়োজন হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে লগির মাথায় দড়ি দিয়ে তৈরি জালের একটা ঠুসি বাঁধা থাকে। গাছে ঝুলে থাকা আম ঠুসিতে ভরে টান দিয়ে ছিঁড়তে হয়। তখন আম বোঁটা থেকে ছিঁড়ে ঠুসির ভেতরে পড়ে। একসঙ্গে কয়েকটি আম ঠুসিতে ভরে তারপর ঠুসি কাছে এনে আম নামানো হয়।
শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ বলেন, বুয়েটের এক সাবেক ছাত্র ঠুসির লগির সঙ্গে একটি কাপড় লাগিয়ে ঠুসি থেকে সরাসরি আম নিচে নামানোর পদ্ধতি বের করেন। এটা দেখে হযরত আলী প্রস্তাব করেন ঠুসির মুখে একটি কাটার যন্ত্র লাগাতে পারলে বোঁটার একটু ওপর থেকে কেটে নেওয়া যাবে। বোঁটাসহ কাটতে পারলে কষ বের হবে না। জাহাঙ্গীর শাহ হযরত আলীর এ ধারণাটা কাজে লাগিয়ে ঠুসির মাথায় একটি কাটার যন্ত্র লাগিয়ে দেন।তার সঙ্গে একটি রশি বেঁধে নিচ থেকে কাটার যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করেন। এই ঠুসির ভেতরে গাছে ঝুলে থাকা আম ভরে নিচের রশিতে টান দিলেই বোঁটার ইচ্ছামতো দূরত্ব থেকে কেটে নেওয়া যায়। কাটার সঙ্গে সঙ্গে আম ঠুসি থেকে কাপড়ের পাইপের মধ্য দিয়ে সরাসরি নিচে চলে আসে। জাহাঙ্গীর শাহ বলেন, লগির গায়ে রেইনকোটের কাপড় দিয়ে আম নিচে নামানোর পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ একটি ঠুসি তৈরি করতে প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়। আধুনিক ঠুসি বানাতে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হবে।
রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ঠুসির সঙ্গে কাঁচি লাগিয়ে আম পাড়ার পদ্ধতি বের করেছে। তবে ওই ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির মতোই ঠুসি ভরে গেলেই আম নামাতে হয়। কিন্তু হযরত আলীর এই পদ্ধতি আরও এক ধাপ আগানো। এই পদ্ধতিতে আম সরাসরি নিচে চলে আসে।’

Comment (0) Hits: 884
মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
নব্য জেএমবির বিভিন্ন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ সংগঠনের প্রধান আব্দুর রহমানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রায় ১৯টির মতো সাংগঠনিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত আব্দুর রহমান ওরফে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২