Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

জমে উঠছে আমের বাজার

বার উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া আম উৎপাদনের খুব একটা অনুকূল না থাকলেও আমের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। দিন যত যাচ্ছে জমে উঠছে রাজশাহীর আমের বাজার। অপেক্ষার প্রহর শেষ করে রকমারি স্বাদের আম কোটি কোটি মানুষের রসনা মেটাতে প্রস্তুত। রাজশাহীতে কেমিক্যালমুক্ত আমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেউ যেন অপরিপক্ক আম না পাড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রেখেছিল জেলা প্রশাসন। গত ২৫শে মে সে বিধি আরোপ উঠে যেতেই আম চাষি/ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এর আগেই গোপালভোগ জাতের আম পেকে যাওয়ায় কিছু কিছু করে বাজারে উঠতে শুরু করে। আমচাষিরা বলছেন, অন্তত ৪/৫দিন আগেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হতো। এখন দ্রুত বাজারজাত করতে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এবার আমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম চড়া থাকছে। তবে এরপরও রাজশাহী থেকেই প্রায় ৪০ টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী মানবজমিনকে জানান, ‘গত বছর থেকে রাজশাহী আম বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাগিং পদ্ধতিতে রপ্তানি উপযোগী করা হচ্ছে। এবার রাজশাহীতে প্রায় এক লাখ আম ব্যাগিং করা হয়েছে। রাজশাহী  থেকে প্রায় ৪০ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হবে। গেল বছর বাংলাদেশ থেকে ৮২৫ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। এবার তার দ্বিগুণ হবে।’ এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৫শে মে থেকে শুরু হয়েছে গোপালভোগ ও গুটি জাতের আমের বাজারজাত। তবে ক্ষিরসাপাত ও লক্ষণভোগ ১ জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বাই ১০ জুন, ফজলি ২৫ জুন, আম্রপালি ১ জুলাই এবং আশ্বিনা ১৫ই জুলাই থেকে পাড়তে ও বাজারজাত করতে পারবেন চাষিরা। পরবর্তীতে নাবি জাতের ফজলিসহ অন্যান্য আম বাজারে আসবে। সূত্রমতে, রাজশাহীতে ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে রয়েছে আমের বাগান। রাজশাহীতে এবার প্রায় ২২ লাখ আম গাছ থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৯ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় কড়া রৌদ্রে অনেক গাছের মুকুল পুড়ে জ্বলে যায়। এরপর কয়েক দফা ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল আলিম মানবজমিনকে জানান, ‘আবহাওয়া বৈরি থাকায় আমের ফলন অনেকটা কমেছে সত্য। কিন্তু এরপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। একটু প্রকৃতির সাপোর্ট পেলে এবার রাজশাহীতে বাম্পার ফলন হতো।’ রাজশাহীর বড় আমের হাট বানেশ্বর বাজারে আম ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, গত মৌসুমে তিনি ২ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। তারা ভালো সাড়া দিয়েছেন। এবার ১৫ টন আম বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য ৫০ হাজার ক্ষিরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি আম ব্যগিং পদ্ধতিতে তৈরি করেছেন। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের নজরদারির কারণে গত দুই বছর থেকে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আম খেতে পাচ্ছেন দেশের মানুষ। বানেশ্বর থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক আম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শহরে যাওয়া শুরু হয়েছে। বাঘা উপজেলার আম চাষি জসীমউদ্দিন জানান, প্রচণ্ড গরমের পরপরই বৃষ্টি হওয়ায় আগেভাগে  পেকেছে গোপালভোগ আর গুটি জাতের আম। কিন্তু প্রশাসনের বাধা-নিষেধ থাকায় কোনো কিছু করার উপায় ছিলো না তাদের। এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, ‘কেমিক্যালমুক্ত আমের বাজারজাত নিশ্চিতে আমরা খুবই সচেতন। চাঁপাই নবাবগঞ্জে আম পাড়ার ক্ষেত্রে সময় বেঁধে  দেয়া হলেও রাজশাহীতে তা করা হয়নি। তবে অপরিপক্ক আম গাছ থেকে নামিয়ে কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাতকরণ ঠেকাতে প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছিল। তারা সেই বিষয়গুলো দেখেছেন। পুরো মৌসুম জুড়ে মনিটরিং থাকবে।’ সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীর বাজারে নামতে শুরু করেছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের সুস্বাদু রসালো আম। প্রথমেই নেমেছে গোপালভোগ ও গুটি জাতের আম। সারি সারি বাগান থেকে ভাঙা হচ্ছে আম। তারপর বাগান থেকে ডালিতে করে বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। আমের রাজধানী রাজশাহীতে সর্বত্র এখন আমের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মিষ্টি মধুর রসালো আম বাগান থেকে নেমে ঠেকছে সড়কের কিনারায়। নগরীর আশপাশের বাজারগুলোতে শোভা পাচ্ছে পাকা আমের ডালি। সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, রেলস্টেশন, রেলগেট, শালবাগান, হড়গ্রাম বাজার, উপ-শহর, তেরখাদিয়া, নওদাপাড়া, বিনোদপুর ও পার্শ্ববর্তী, বায়া, নওহাটা, কাশিয়াডাঙ্গা, বিন্দুমোড়সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আমের পর্যাপ্ত সরবারহ থাকলেও দাম একটু চড়া। গুটিজাতের আম হাজার থেকে ১৪শ’, গোপালভোগ ২৩শ’ থেকে ২৫শ’ এবং ক্ষিরসাপাত ১৬শ’ থেকে ১৯শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আগেভাগে পেকে যাওয়ায় বাজারে আসতে শুরু করেছে লক্ষণা জাতের কিছু আম। বর্তমানে লক্ষণভোগ/লক্ষণা ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২