Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আম্রপলি চাষ: কোটিপতি হওয়ার সিঁড়ি

বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে প্রিয় ফল আম। এতে কারো দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না। কারণ আম এমনই একটি ফল যাতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি, মন মাতনো স্বাদ আর গঠন-প্রকৃতিতে অপরূপ সৌন্দর্য। আম বাংলাদেশের জাতীয় ফল না হলেও এদেশে উৎপাদিত ফলসমূহের মধ্যে আমের স্থান সবার উপরে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের সর্বত্র উৎকৃষ্টমানের বিভিন্ন ধরনের আম উৎপাদন করা সম্ভব। প্রায় সব ধরনের মাটি যেমন- দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ, এঁটেল, পাহাড়ি, পাললিক, পাথুরে বা কংকরময় মাটিতেও আম জন্মাতে পারে। এমনকি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ের ঢালেও আম চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর দিক থেকেও এসব অঞ্চল আম চাষের জন্য অনুকুল। তাই দেশের পূর্বাঞ্চলসহ সর্বত্র উৎকৃষ্টজাতের আম উৎপাদনের জন্য সবাইকে সচেতন ও আন্তরিকতার সাথে উদ্যোগী হতে হবে। আমরা মনে করি যেদিন দেশের সর্বত্র উন্নত জাত ও মানের আম উৎপাদন করে প্রত্যেকেই আমের মিষ্টি স্বাদ ভোগ করতে সক্ষম হবেন সেদিনই ফলের রাজা আম কথাটির যথার্থ সার্থকতা খুজে পাওয়া যাবে।

 


তাই আমি মনে করি, দেশের চাহিদা ও পুষ্টির কথা মনে করে যদি আমরা আম্রপলির চাষ করি তবে আশা করি অল্প পুজিতে কুটি পতি হওয়া সম্ভব। আম্রপলি ভারতের একটি পরিকল্পিত উপায়ে সংকরজাত। দোশোহারী ও নীলাম এর মধ্যে সংকরায়ন করে আম্রপলি আম্রপলি জাত সৃষ্টি করা হয়েছে। এ আম্রপলি জাতের আম অতি সুস্বাদু এবং অতি উৎকৃষ্টমানের এমন কি ল্যাংড়া ও গোপাল ভোগ আমের চেয়েও সুস্বাদু। এই জাতীয় আম সমিষ্ট ও উৎকৃষ্টমানের। সবচেয়ে বড় লক্ষণীয় বিষয় হলো অল্প বা কম জায়গাতে এ আমের বাগান করা সম্ভব। আম্রপলি প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৬০০ এ জাতের গাছ রোপণ করা সম্ভব। আম্রপলি আমের গাছে প্রচুর পরিমাণে আম ধরে। এই জাতের আম বাগান তৈরী ব্যানিজ্যিক ভিত্তিতে করা খুবই লাভজনক। এ জাতের আমের আবাদ করে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে এ জাতের আমের বাগান করা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী নার্সারীতে কলম তৈরী করে তা বাগানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই জাতের আম ছোট থেকে মাঝারী আকারের এবং ফল দেখতে লম্বাটে ডিম্বাকৃতি। এই ফল গড়ে লম্বায় ৯.৬ সেঃ মিঃ, গড় উজন ২০১.৬ গ্রাম। এই আম আঁশবিহীন,শাসগাঢ কমলা রঙ এবং সুস্বাদু ও সুগন্ধী। এই আম একটি নাবী জাতের আম। আমটি বাংলাদেশের আষাঢ় মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে পাকে। ফল পরিপক্ক হতে ফুল আসা থেকে প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগে। আম্রপলি জাতের আম বাগান তৈরীর জন্য নিম্নের পদ্ধতি পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

 

 
জমি নির্বাচন : উচুঁ, মাঝারি উচুঁ জমি ও পরিপূর্ণ আলো বাতাস পায় এমন জায়গা এজন্য নির্বাচন করতে হবে। জমি তৈরি : আমের বাগান তৈরি করতে হলে জমি উত্তম রূপে চাষ এবং মই দিয়ে জমি সমতল করতে হবে। জমি থেকে আগাছামুক্ত, ইট-পাথর খোয়াসহ জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে। কারণ মাটিতে যদি কোন ইট পাথর অবস্থান করে তা হলে শিকড়, মাটির গভীরে প্রবেশ করতে বাধাগ্রস্ত হয়। মাটিতে অমস্নের ভাগ বেশি থাকলে জমি তৈরির সময় হেক্টর প্রতি ১০০০ কেজি চুন ব্যবহার করা যেতে পারে। সুবিধা থাকলে গাছ রোপনের পূর্বে জমিতে সবুজ সারের চাষ করা ভাল। তাড়াহুড়া করে গাছ না লাগিয়ে মাটিকে সাধ্যমত উর্বর করে তাতে আমের গাছ লাগানো ভাল। পাহাড়ী এলাকায় ভূমি ক্ষয় নিবারন করার জন্য উলট পালট না করেই বাগান তৈরী করতে হবে। চারা রোপনের সময় :- বর্ষার প্রারম্ভে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গাছ রোপনের উপযুক্ত সময়। বর্ষার শেষের দিকে অর্থাৎ ভাদ্র আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। তবে অতিরিক্ত বর্ষায় রোপন না করাই ভাল।

 

 
গর্ত তৈরি :- বর্গাকার বা আয়তাকার কিংবা ত্রিভূজাকার যে প্রণালীতে চারা রোপন করা হবে সেই অনুসারে গ্রীষ্মের আগে গর্ত করে জায়গা ঠিক করতে হবে। আমের জাত, জমির উচ্চতা এবং স্থানীয় আবহাওয়ার উপর গর্ত তৈরি নির্ভর করে। আম্রপলি জাতের জন্য ২.৫ মিটার দূরে দূরে চারা রোপন করতে হবে। চার রোপনের জায়গা খুটি দিয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। তারপর সেই খুটি তুলে প্রায় ৭৬ সেঃ মিঃ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা ঠিক রেখে গর্ত করতে হবে। গর্ত করার ১০-১৫ দিন পর্যন্ত রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। গর্তে সার প্রয়োগঃ- গোবর সার ১০ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমপি ২৫০ গ্রাম, জিপসাম ৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১০ গ্রাম গর্ত পরিমাণ মাটিতে সার গুলো ভাল ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে এবং তা গর্ত পুরোটা ভরতে হবে। যেহেতু গর্তের উপরের মাটি নিচের মাটি ভৌতিক ও পুষ্টির দিক থেকে উন্নত হওয়ায় তা চারার প্রাথমিক বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।


চারা রোপন : গর্তে সারসহ মাটি দেওয়ার অন্তত ১৫/১৬ দিন পর চার রোপণ করতে হবে। তবে লৰ্য রাখতে হবে যে, আমের চারা রোপনের পর একটা খুটি দিয়ে চারাটি শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। যাহাতে বাতাসে চারাটি ভেঙ্গে পরে না যায়। আগাছা দমন :- আগাছা আম গাছের খাদ্য ভাগ বসায়। সে জন্য গোড়ায় মাটি কুপিয়ে আগাছা পরিস্কার করে দিতে হবে। প্রতি বছর বাগানে লাঙ্গল দিয়ে চাষ দিতে হবে। প্রথম দফা বর্ষা আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথে এবং দ্বিতীয় দফা বর্ষা শেষ হওয়ার পর পরই জমিতে চাষ দিলে অতি সহজেই আগাছা দমন করা যায়। মাটির খাদ্য আগাছায় টেনে নেয়। ফলে চার দুর্বল বা মরে যেতে পারে। তা ছাড়া রোগ ও পোকা মাকড় থেকে রক্ষার জন্য সর্বদ াগাচা মুক্ত রাখতে হবে এবং সরকারী কৃষিবিদের সাথে সব সময় যোগা যোগ রক্ষা করে চলতে হবে। চারা রোপনের পর গাছের সুষ্টু বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত সার প্রয়োগ করা প্রযোজন। গাছের আকার, বয়স ও মাটির উর্বরতার উপর সারের পরিমাণ বিশেষভাবে নির্ভর করে। আম চাষে যেমন আর্থিক লাভবান হওয়া যায় তেমনি আমের পুষ্টি গুণ ছাড়াও এর বিশেষ উপকারিতা রয়েছে।এক কথায়, আম পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সুস্বাদু ফল। স্বাদে গন্ধে এবং খাদ্যমানে এর তুলনা বিরল। আমের উদ্ভিদ তাত্তি্বক নাম হল গধহমরভবৎধ ওহফরপধ. এটি অহধপধৎফরধপবধব পরিবারভুক্ত। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই কমবেশী আম উৎপন্ন হয়ে থাকে। পুষ্টি ও ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ এ আমের কদর রয়েছে ছোট বড় সবার কাছে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৮ হাজার ৩ শত মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন আছে। এ ছাড়া পাকা আমে আছে ক্যালরী, প্রোটিন, শর্করা, লৌহ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি ও সি কম বেশী রয়েছে। কাঁচা আমে বেশী পরিমাণে ভিটামিন সি ও লৌহ জাতীয় উপাদান থাকে।


পানি সেচ : আমের চারা রোপনের পর পানি সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে পানি দিয়ে চারা বড় হতে সাহায্য করতে হবে এবং সব সময় যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন বসন্ত ও গ্রীষ্মে শীতকালের চেয়ে বেশি পানি দিতে হবে। ভারী মাটিতে পানি বেশি দিতে হয়। অন্যদিকে, যে অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম সে অঞ্চলে সেচের পরিমাণ বেশি হবে। গাছ রোপনের পর প্রথম বছর যাতে গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয় সেজন্য সেচ ঘন ঘন দিতে হবে। গাছের গোড়ায় কয়েক বার পানি দেওয়ার পর মাটির চটা বেঁধে যায় তখন নিড়ানী দিয়ে গোড়ায় চটা ভেঙ্গে ফেলে মাটি ঝুর ঝুরা করে দিতে হবে। আম যে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানে সহজলভ্য প্রতিক্রিয়াহীনভাবে কত উপকার করতে পারে তা আলোচনা করা হলো :-


০১। আমাশয় রোগে কঁচি আমপাতা ও জামপাতার রস ২ থেকে ৩ চা চামচ পরিমাণ একটু গরম করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। ০২। আমের কুশি ও হরতকি একসাথে দুধের সাথে বেটে মাথায় লাগালে খুসকি কমে যায় এবং মাথার চুল পড়া বন্ধ হয়। ০৩। চুলের অকাল পক্কতার গস্নানি মুছতে আম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। থেঁতানো আমের কুশি ৫/৬ গ্রাম এবং শুকনো আমলকি ২/৩ টুকরা এক সাথে ১০/১২ চা চামচ নিয়ে লোহার পাত্রে পানিতে ভিজিয়ে সেটা ছেঁকে নিয়ে চুলে লাগালে অকালপক্কতা দূর হয়। ০৪। অনেক সময় দেখা যায়, মাথায় কোন খুসকি নেই অথচ চুল উঠে যায়। এ ক্ষেত্রে কঁচি আমের আটির আঁশ থেঁতো করে পানিতে ভিজিয়ে ছেঁকে, সেই পানি শুকনো চুলের গোড়ায় লাগালে চুল ওঠার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। ০৫। কোন কোন লোক আছে যাদের পা শীত ও গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে ফেটে যায়। এর দরুন চলাফেরা করতে যেমন কষ্ট হয়, তেমনই মনের মধ্যে নেমে আসে অশান্তির ছাপ। এই অশান্তির ছাপ দূর করতে হলে পা ফাটা শুরুহবার পর থেকেই আম গাছের আঠার সাথে কিছু ধনের গুঁড়ো মিশিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ০৬। অনেকের নখের কোনে ঘা হয়। এ ধরনের ঘা নখের কোনে ধুলাবালি জমেও হতে পারে। এই ঘা নখকুনি নামে পরিচিত। আম গাছের নরম আঠার সাথে একটু ধনের গুড়ো মিশিয়ে নখের কোনে টিপে দিলে আসত্দে আসত্দে সেরে যাবে। ০৭। পোড়া ঘা শুকাতে আম পাতার জুড়ি নেই। কোন কারণে আগুনে পুড়ে গিয়ে ঘা হলে আমপাতা পোড়া ছাই ঘিয়ে মিশিয়ে লাগালে পোড়া ঘা শুকিয়ে যায়। ০৮। আমের কচি পাতা চিবিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত অকালে পড়ে না বা নড়ে না। ০৯। যাদের শরীরের দাহ বেশী এবং প্রায়ই বমি বমিভাব হয় তাদের জন্য ৩/৪টি আম পাতার সিদ্ধ পানিই যথেষ্ট। ১০। রক্ত অঅমাশয়ের মত কষ্টদায়ক মারাত্মক ব্যাধির উপশম হয় আমের দ্বারা। আম গাছের ছালের রস এক থেকে দুই চামচ মাত্রায় আধ পোয়া দুধে মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশয় সেরে যায়। ১১। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগিদের যখন পেট গুড় গুড় শব্দ করে ডাকে ও পাতলা পায়খানা হয়, সে সময় আম গাছের ছালের উপরের স্তরটা চেঁছে ফেলে দিয়ে সেই ছাল গরুর দুধে তৈরী দইয়ের সাথে বেটে খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয় ও পেট গুড় গুড় থাকে না। ১২। পস্নীহা বাড়লে পাকা আমের মিষ্টি রস ৭/৮ চা চামচ, ২-১ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার হয়। ১৩। অজীর্ণ রোগে আম খুবই উপকারী। অজীর্ণ বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে। অতিরিক্ত মাছ খাওয়ার দরুণ অজীর্ন হলে কাঁচা আম খেলে উপকার পাওয়া যায়। আবার অতিরিক্ত মাংস খেয়ে অজীর্ণ হলে আমের আটির শাঁস খেতে হয়। ১৪। পাঁচড়ার যন্ত্রণায় কষ্ট পেলে সে কষ্ট দূর করতে পারে আমের আঠা। এই আঠা লেবুর রস অথবা তেলে মিশিয়ে পাঁচড়ায় ব্যবহার করলে উপশম হয়। ১৫। আমবীজের শসের ক্বাথ আদার সাথে সেবন করলে উদরাময়ে আরাম হয়। আম বাংলাদেশের জাতীয় ফল না হলেও এদেশে উৎপাদিত ফলসমূহের মধ্যে আমের স্থান সবার উপরে।অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার চাপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত আম গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ও স্থানীয় কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের প্রচেষ্টার ফলে অত্র এলাকার আম বাগান মালিক গণ আম বাগানের পরিচর্যা করার ব্যাপারে বর্তমানে অনেক সচেতন।বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার আম বাগান মালিকগণও যদি সচেতন হয়ে উঠেন তবে এ দেশের আম এর উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এ দেশের পুষ্টির অভাব দূর করার সাথে সাথে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সুগম হবে।


অন্যান্য ফলের মত আম গাছেও রোগ ও পোক মাকড়ের আক্রমন হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকা মাকড় দমন করতে ব্যর্থ হলে আমের ফলন মারত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। আম বাগানে রোগ ও ক্ষতিকর পোকা দমনের অন্যান্য পদ্ধতি তেমন ফলপ্রসু না হওয়ায় ছত্রাক নাশক বা কীটনাশক সপ্রে করা বেশী কার্যকর।অন্যান ছোট আকারের ফসলের ক্ষেত্রে অন্যান্য দমন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে, যেমন :- আক্রান্ত পাতা বা গাছের অংশ ছিড়ে ফেলা, পোকার ডিম বা কীড়া সংগ্রহ করে ধবংস করা, জাল দিয়ে পূর্ণাঙ্গ পোকা ধরে ধবংস করা ইত্যাদি। রোগ বা পোকার আক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে, বহুবর্ষজীবী বৃহৎ আম গাছে সপ্রে করা একান্ত জরুরী। এ ছাড়াও হরমোন বা সারের দ্রবণ প্রয়োগ করার জন্য সপ্রে যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়। আমের মুকুলে হপার বা ফুদকী পোকার আক্রমণ হলে সমস্ত ফুল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া মুকুলে অ্যানথ্রাকনোজ বা পাউডারী মিলডিউ রোগের আক্রমণ হলে সমপূর্ণ মুকুল ও তার ফুন্নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই মুকুলে হপার বা রোগের আক্রমণ হলে দ্রুত সপ্রে করার পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে গড়ে মাত্র ২৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে ১.৮৭ মিলিয়ন টন ফল উৎপাদিত হয়। এর বেশীর ভাগই আসে বসতবাড়ীতে রোপিত গাছ থেকে। জমির দুষ্প্রাপ্যতা, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও উপকরণের অভাব, ভালজাতের চারা/কলম ব্যবহার না করা ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশে ফলবাগান বৃদ্ধি পাচ্ছেনা এবং আমাদের হেক্টর প্রতি ফল উৎপাদনও পার্শ্বববর্তী দেশের তুলনায় অনেক কম।
আমাদের দেশে যে জমি অকেজো পরে আছে তাতে শিক্ষিত বেকার ভাই বোনেরা ইচ্ছে করলে তাতে কৃষিবীদ এর সহযোগিতায় আম্রপলি চাষ করে দেশের চাহিদা পুরণ করে বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। মনে সদ ইচ্ছা থাকলে এই প্রকল্পের সমপ্রসারন করে কুটি টাকার মালিক হওয়া কোন সময়ের ব্যাপার নয়। কৃষি সেক্টরে বহু নজির আছে ৫০০০/ টাকা পুজি নিয়ে কুটি টাকার মালিক হয়েছে। আসুন চাকুরী নামের সোনার হরিণের পিছনে না দৌড়িয়ে একটি আম্রপলি প্রকল্প হাতে নিয়ে কোটিপতি হইদ।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
আম ছাড়া মধুমাস যেন চিনি ছাড়া মিষ্টি। বছর ঘুরে এই আমের জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। রসালো এ ফলের জন্য অবশ্য অপেক্ষার পালা এবার শেষ হয়েছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আম পাড়া। এর আগে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমের রাজধানীতে এতদিন আম পাড়া বন্ধ ছিল। তাইতো ...
রাজশাহী ও রংপুরের পর এবার মেহেরপুরেও তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার। এখানে অল্প খরচে সংরক্ষণ করা যাবে পিঁয়াজ ও আলু। এই হিমাগার সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে আম ও লিচুর সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগ বলছে, এই সংরক্ষণাগার ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২