Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

পটুয়াখালীতে এবার আম্রপালি শীর্ষে

ফজলি, ক্ষীরশাপাতি আর ল্যাংড়া তারকা ছিল আম পরিবারের। দ্বিতীয় তালিকা ছিল মল্লিকা আর ফজলি। দক্ষিণাঞ্চলে এই আমগুলোই চাষ হতো সচারচর। তাদেরকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে আম্রপালি। ল্যাংড়াকে ল্যাং মেরে এখন আম্রপালি শীর্ষে। আমের ওজন, সংখ্যা আর কৃষকদের চাহিদা- এই তিনটি বিভাগেই প্রথম হয়েছে আম্রপালি! কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণায় এই এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাই পটুয়াখালীর গবেষণাকেন্দ্র ছেড়ে বারি আম ৩ (আম্রপালি) প্রজাতি এখন কৃষক পর্যায়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে পটুয়াখালী শহরের ইউসুব হোসেন নামের এক চাষি অন্তত ২৫টি আম্রপালি চাষ করে বিপুল পরিমাণ আম পেয়েছেন। বিষমুক্ত এই আম গাছ থেকেই বিক্রি শেষ হয়েছে। 

উদ্যানতত্বের গবেষকরা বলছেন, গবেষণার জন্য রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির আমের গুণগত মান, ফলন, বাজারমূল্য ও স্বাদের বিচার করা হয়। এ সব বিচারে আম্রপালি সবাইকে টপকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। তারা বলছেন, ফজলিকে পেছনে ফেলে ফলনের সঙ্গে রসের প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা পেল আম্রপালি! আমের ফলন গবেষণায় প্রতিযোগিতায় বাজিমাত করেছে আম্রপালি। ইতিমধ্যেই ৩০০০ চারা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকদের হাতে পৌঁছে গেছে। তাদের সহযোগিতায় আম্রপালি চাষে এক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। আগামীতে তারা আগ্রহী চাষীদের বিনামূল্যে চারার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে আম্রপালি চাষে উদ্ভুধ করবেন।

উদ্যানজুড়ে আম আর আম
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ঘেঁষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্র। উদ্যানতত্ত্বে প্রবেশের সময় সারি সারি আম গাছ আপনাকে কুনিশ করে অভ্যার্থনা জানাবে। আমের ভারে নুয্য গাছগুলো বাঁশ দিয়ে ঠেক দিয়ে কোন মতে কিছুটা সোজা রাখা হয়েছে। রাস্তার বা দিকে অন্তত ২৫টি গাছে শুধু আম আর আম। ফ্রট ব্যাগে মোরা গাছের সবুজ পাতার দেখাই মেলা ভার। ব্যাগ খুলতেই বেড়িয়ে আসল বড় আকৃতির হালকা হলুদ বর্নের আম। প্রবেশদ্বারের ডান দিকেই রয়েছে আরো অন্তত ১৫ প্রজাতির আম। 

গবেষণার জন্য পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রে ২০১১ সালে অন্তত ২০ প্রজাতির আম রোপন করা হয়। বারি আম-১, বারি আম-২, বারি আম-৩, বারি আম-৪, বারি আম-৫, বারি আম-৮, গোপালভোগ, মলি্লকা, ল্যাংড়া, ফজলি, পাহুতান এবং ক্ষিষড়াপাট রয়েছে। কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সমভাবে প্রত্যেক প্রজাতির আম গাছের যথাযথ পরিচর্যা করেন। ফলে অধিকাংশ গাছেই দুই বছর যেতে না যেতেই থোকায় থোকায় মুকুল ধরে। ভাল ফলন পেতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে প্রথম আমের মুকুল রাখা হয়। কিন্তু ওই বছর গাছে তেমন ফলন ধরে না। পরের বছর প্রতিটি গাছে আম ধরে। গবেষণার জন্য তখন থেকেই আমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 

২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের গবেষণার সেই তথ্য গেঘে দেখা গেছে, বারি আম-১ প্রজাতির প্রতিটি গাছে ৬ থেকে ১৯টি আম ধরেছে। বারি আম-২ গাছে ৪৯ থেকে ১০০টি, বারি আম-৩ গাছে ১৮৭ থেকে ৩৯৫টি, বারি আম-৪ গাছে ৪৯ থেকে ৭৯টি আম ধরেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের চিত্র অনুযায়ী ওজনের হিসেবে প্রতিটি বারি আম-৩ প্রজাতির গাছে প্রায় ৬৪ কেজি আম ধরেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বারি আম-৪। প্রতিটি গাছে প্রায় ৫৩ কেজি আম ধরেছে। প্রতিটি গাছে প্রায় ৩৫ কেজি আম উত্পাদন করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বারি আম-৮। তৃণমূল পর্যায়ের চাষিরা সাধারণত বারি প্রজাতির আম তেমন চাষ করতেন না। তারা ফজলি, মল্লিকা, ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া চাষ করতেন।  

ব্যাগিং পদ্ধতির চাষ
সরেজমিনে দেখা যায়, পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য অধিকাংশ আম কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে গাছের পরিচর্যা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এই গাছগুলো লাগানোর এক বছরের মধ্যেই ফল ধরে। যত দিন বাঁচবে, তত দিন এসব গাছে আম ধরবে। দক্ষিনাঞ্চলে 'ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি'তে আমরাই প্রথম আম চাষ শুরু করেছি। কীটনাশক ও কেমিক্যাল ছাড়া উৎপাদিত এই আমের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিদেশেও এর কদর অনেক বেশি। অন্য আমের চেয়ে এর দাম দ্বিগুণ হওয়ায় লাভবান হবেন এ অঞ্চলের চাষিরা। 

তিনি আরো বলেন, লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষে ঝুঁকছেন। তাই আগামীতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে এক কৃষক আম চাষ করেছেন। কিন্তু এসব কাজের জন্য যে পর্যাপ্ত শ্রমিক ও ব্যাগ প্রয়োজন, তা সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। চীন থেকে আনা প্রতিটি ব্যাগ চার টাকা দরে  বিক্রি হচ্ছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশের একমাত্র কারখানায় উৎপাদিত ব্যাগ সাড়ে ৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চড়া দাম হলেও ব্যাগের সংকট থাকে মৌসুমজুড়েই। তাই ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই এই পদ্ধতিতে চাষ করতে পারছেন না। আর ব্যাগের দাম কমলে বিষমুক্ত স্বাস্থ্যকর আম উত্পাদন আরও বাড়বে। 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইফতেখার মাহমুদ ও রেজাউল করিম বলেন, প্রথম বারই সাফল্য এনে চমকে দিয়েছে আম্রপালি। গুণগত মান ও বাজার মূল্যের বিচারে দ্বিতীয় অবস্থানে হয়েছে বারি আম-৪ (হাইব্রিড আম)। স্বাদের বিচারে প্রথম এই আম্রপালি। ২০১১ সালে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে চারা এনে উদ্যানের কৃষি খামারে চাষ শুরু করা হয়। বর্তমানে খামারের ১ হেক্টর জমিতে অন্তত ২০ প্রাজাতির আম চাষ হচ্ছে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বলছে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে পরিবেশগত ভাবে আম্রপালি চাষে কৃষকরা সফলতা পাবে। তারা আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন খামারির কাছে এর কলমযুক্ত চারা বিতরণ করছি। কলমের মাধ্যমে এর বিস্তার করা হচ্ছে। বীজ থেকে করলে মাতৃগাছের মতো ফল পাওয়া যায় না। 

গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, ২০১৬ সালে বারি আম-৩ এবং বারি আম-৪ জাতের অন্তত ৩০০০ কলম দেওয়া হয়। ওই গাছগুলো এখন ছয়-সাত ফুট উচ্চতার হয়েছে। এক বছর বয়সী গাছে আমের মুকুল আসে। তবে চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী গাছ থেকে প্রতিবার প্রায় ৩০০টি আম আহরণ করা যায়। তিনি জানান, এই জাতের একটি গাছে বছরে প্রায় ৬০ কেজি পর্যন্ত আম হয়। আমটি খেতে সুমষ্টি। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরো বলেন, আস্তে আস্তে এই জাতের আমের চাষ বাড়বে। বাড়ির ছাদেও এই আমের চাষ সম্ভব।

Leave your comments

0
terms and condition.

People in this conversation

মাটি ও আবহাওয়ার কারণে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম এবারও দেশের বাইরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হতে যাচ্ছে।   গত বছর কীটনাশক মুক্ত আম প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার ফলে এ অঞ্চলের আমচাষীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। গত বছর ১২ মেট্রিক টন আম ইউরোপিয়ান ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২