Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

কোটি টাকার আম!

উঁচু উঁচু পাহাড়। শান্ত নির্জন। সবুজের বিস্তার। ঢাল-চূড়ায় সারি সারি আমগাছ। গাছে থোকায় থোকায় আম। কোনো কোনোটি ফলভারে নুয়ে পড়েছে। বাঁশের ঠেস দিয়ে রক্ষা। গাছতলায়ও পড়ে আছে আম। চারপাশে শুধু আম আর আম। বাতাসে তার মিষ্টি সুবাস। 
বান্দারবানের লামার সরই ইউনিয়নের কেঁয়াজুপাড়ায় এই আমরাজ্যটি গড়ে তুলেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। পতিত পাহাড়ের জঙ্গল সাফসুরত করে ফলের বাগান গড়ে পাল্টে দিয়েছে লামার প্রত্যন্ত এই জনপদের চেহারা। বাগানে চাষ হচ্ছে আম্রপালি, মল্লিকা, রাংগুয়াই, ফনিয়া, থাই জাতের—নামডাকমাই, কাঁচামিঠা, ব্যানানা। তবে বাগানের ৮০ শতাংশ গাছই আম্রপালির। সারা চট্টগ্রামে আম্রপালির জন্য সুখ্যাতি বাগানটির। প্রতিবছর বাড়ছে ফলন। এবার এক থেকে দেড় কোটি টাকার আম উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুরুর কথা : সময়টা ১৯৯৫। লামার কেঁয়াজুপাড়ায় প্রায় ১৫০ একর পাহাড়ে প্রথম আবাদ শুরু করলেন মেরিডিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম কামাল পাশা। তখন লামা আসাটা রীতিমতো যুদ্ধজয়ের মতো। কাঁচা রাস্তায় আটকে যেত গাড়ি। বর্ষায় তো আসা-যাওয়ার জন্য দিতে হতো কাদার সাগর পাড়ি! কেঁয়াজুপাড়ার দুই কিলোমিটার আগে গাড়ি রেখে হেঁটে যেতে হতো। তার পরও দমে যাননি তিনি। শুরুতে রোপণ করেন রাবারগাছ। ফলও ভালো হয়। আগ্রহ বাড়ে। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থার কথা মাথায় এলে সব ছেড়েছুড়ে ফিরে যেতে ইচ্ছে করত। এবার কামাল পাশার সঙ্গে যোগ দেন তাঁর স্ত্রী কোহিনূর কামাল। তিনি বর্তমানে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তির এ মানুষটির কারণে সরে আসা হয়নি লামা থেকে। কষ্ট স্বীকার করে এগিয়ে যান। ২০০৪ সালে পাহাড়ে লাগান আম্রপালি। তিন বছর পর ফলন আসে। লামা থেকে আম শহরে বাজারজাত করেই বাজিমাত। সুমিষ্ট আম্রপালি নজর কাড়ে সবার। সেই ১৫০ একরের বাগান প্রায় ৮০০ একরে ঠেকেছে। রয়েছে প্রায় ১০ হাজার আমগাছ। রাবারগাছ আছে প্রায় ১৩ হাজার। এ ছাড়া রয়েছে কাঁঠাল, সফেদা, লিচু, মালটা, কমলা, আতা, গাব, কুল, জলপাই, পেঁপে, কলা, থাই জামরুল, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ প্রভৃতির গাছও।
বাগানে একদিন: ২৪ জুন। সাত সকালে চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রা শুরু। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ হয়ে পূর্ব দিকে ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কেঁয়াজুপাড়া। বাজারের পাশে মেরিডিয়ানের কার্যালয়। কার্যালয়ে প্রধান ফটকের পাশে গাছে ঝুলছে আম্রপালি আম। অবশ্য তা বাগানের নমুনা মাত্র। তার পাশে আমগাছের চারা খেত। কার্যালয় থেকে ১০০ গজের দূরত্বে বাগান। হেঁটে কাঁচা রাস্তা ধরে বাগানে পৌঁছি সকাল ১০টার দিকে। রোদের তেজ নেই। সঙ্গে হালকা বাতাস। বাগানে ঢুকতে চোখে পড়ল সাত-আটজনের একটি দল আম পাড়ার কাজে ব্যস্ত। কেউ গাছে উঠে, কেউ নিচ থেকে আম পেড়ে খাঁচি ভর্তি করছেন। খাঁচিভর্তি আম চলে যাচ্ছে চূড়ার বিশাল শেডে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, শ্রমিকেরা গাছ থেকে পেড়ে আনা আম মুছে খাঁচিভর্তি করছেন শহরে পাঠানোর জন্য। রয়েছে ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’। এ পদ্ধতির মাধ্যমে আমের গায়ে থাকা জীবাণু রোধ ও আয়ুষ্কাল বাড়ানো হয়।
বাগান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কোম্পানির উপব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম জানান, বাগানের ফল রাসায়নিকমুক্ত রাখতে কীটনাশক কিংবা কোনো ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা হয় না। গাছে দেওয়া হয় বেশির ভাগ জৈব সার। এ ছাড়া আমের মুকুল আসার পর থেকে পোকা দমনের জন্য ব্যবহার করেন সমন্বিত বালাইদমন ব্যবস্থাপনা। ফলে আম থাকে সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত। তিনি জানান, এবার বাগানে আম উৎপাদন হবে ১৮০ থেকে ২০০ টন।
বাড়ছে চাষ : মেরিডিয়ানের দেখাদেখি লামাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আম্রপালির চাষ বাড়ছে। প্রতিবছর এখান থেকে চারা বিক্রি হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। চাষ বাড়ছে, ফলনও আসছে। কিন্তু কেনার মানুষ কম। সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা থাকলেও বিক্রেতা ও আড়তদারদের আগ্রহ নেই।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বান্দরবান কিংবা চট্টগ্রামের ফলের আড়তদাররা আমাদের আম কিনতে চান না। কারণ, আম্রপালি মিষ্টি বেশি। আম্রপালি বিক্রি করলে রাজশাহীর আম ক্রেতারা কিনতে চাইবে না। তা ছাড়া কোনো রাসায়নিক না থাকায় আমাদের আম তিন দিন পর পচা শুরু হয়। অন্য স্থানের আম বেশি দিন থাকে।’
লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ফল পাকানোর জন্য তারা কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করে না। তা ছাড়া মেরিডিয়ানের দেখাদেখি পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান করতে এগিয়ে আসছেন আরও অনেকে। এটা অত্যন্ত ভালো দিক।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
বাজারে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই আম আম রব। ক্রেতা যে আমেই হাত দিক না কেন দোকানি বলবে হিমসাগর নয়তো রাজশাহীর আম। ক্রেতা সতর্ক না বলে রঙে রূপে একই হওয়ায় দিব্যি গুটি আম চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে হিমসাগরের নামে। অনেকসময় খুচরা বিক্রেতা নিজেই জানে না তিনি কোন আম বিক্রি করছেন। ...
আম ছাড়া মধুমাস যেন চিনি ছাড়া মিষ্টি। বছর ঘুরে এই আমের জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। রসালো এ ফলের জন্য অবশ্য অপেক্ষার পালা এবার শেষ হয়েছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আম পাড়া। এর আগে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমের রাজধানীতে এতদিন আম পাড়া বন্ধ ছিল। তাইতো ...
গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
বলার অপেক্ষা রাখেনা দর্শক নন্দিত ও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি। প্রতি পর্বে চমক নিয়ে দর্শকের সামনে আসে অনুষ্ঠানটি। স্টুডিওর বাইরে এসে দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপনা সর্বদাই প্রশংসিত। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রচারিতব্য পর্বটি ধারণ করা ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২