Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আম্রপালি আম

এটি নাবিজাতের আম। উৎকৃষ্ট এবং উচ্চ মানসম্পন্ন এই আমটি শংকর জাতের। উত্তর ভারতের (লখৌন অঞ্চল) বিখ্যাত আম দু’সেহরী এবং দক্ষীণ ভারতের অপর একটি বিখ্যাত জাত নীলম। এই দুইটির মধ্যে শংকরায়ণ ঘটিয়ে আম্রপালির জন্ম। ফল বিজ্ঞানীগণ নীলম জাতের পুরুষ মুকুল এবং দু’সেহরী জাতের স্ত্রী মুকুলের মধ্যে পরাগায়ণ ঘটিয়ে সৃ্ষ্টি করেছেন মনলোভ অভিজাত শ্রেণীর আম আম্রপালি। ১৯৭৮ সালে আমটির নামকরণ করে ভারতে প্রথম ছাড় হয়েছে। ফলটির নামকরণের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক একটি প্রেক্ষাপটা। ভারতের বিহাররাজ্যে প্রাচীনকালে বৃজি নামে একটি গণযুক্তরাষ্ট্র ছিল। এই রাষ্ট্রের রাজধানী ছিল বৈশালি। বৈশালির রাজোদ্যান নামক স্থানে আম্রবৃক্ষের পাদমূলে অম্বপালি নামে এক মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। পালিভাষায় আম্রকে অম্ব বলা হয়। নগরের উদ্যান পালক এই অম্বপালির ভোরণপোষণের ভার গ্রহণ করেন। আম্রদান পালকের কন্যা বলে তার নাম হয় অম্বপালি বা আম্রপালি। বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে আম্রপালি অনিন্দ্য সুন্দরী হয়ে উঠতে থাকে। কোথাও এতটুকুও খুঁত নেই। এরপর আম্রপালি হলেন রাজ্যের সভানর্তকী। কারণ সে আমলে বৈশালীতে আইন ছিলো, অনিন্দ্য সুন্দরী নারী কখনও পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে পারবেন না। জনসাধরণেরর আনন্দের জন্য তাঁকে উৎসর্গ করা হবে। আম্রপালি সুন্দরী, মহিমাময়ী, মনোহরিনী এবং সর্বোৎকৃষ্ট বর্ণসুষমার অধিকারিণী ছিলেন। নাচ, গান ও বীণাবাদনে সেকালে তার তুলনা ছিল না। তিনি পালি ভাষায় কবিতাও রচনা করতেন। সেকালোর বহু পদমর্যাদাশীল গুণীজন তার ভক্ত ছিলেন। মগধের রাজা বিম্বিসার নিজেও আম্রপালির গুণমুগ্ধ ছিলেন। আম্রপালি গৌতম বুদ্ধের বাণী শুনে ভিক্ষণী সংঘে যোগ দেন। শেষ জীবনে তিনি দিব্যজ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন। স্বীয় দেহের ক্রমধ্বংসশীল প্রকৃতি তার দৃষ্টিগোচরে আসে। পৃথিবীর সকল বস্তুর নশ্বরত্ব তিনি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা আমটির নামকরন করে আম্রপালিকে অমরত্বদান করেছেন, সন্দেহ নেই। আম্রপালি তার পিতৃ ও মাতৃ গুণের (দু’সেহরী ও নীলম) চেয়ে অনেক উন্নত। ফলটি দেখতো লম্বাটে নিম্নাংশ অনেকটা বাঁকানো। আম্রপালি দুই জাতের রয়েছে। একটির গড়ন ছোট অপরটি তুলনামূলক বড়। ছোট জাতের গড় ওজন ১৭০ গ্রাম এবং বড়টির গড় ওজন ২৫০ গ্রাম। পোক্ত অবস্থায় ত্বকের রং সবুজ অথবা লালচে হলুদ হয়। পাকলে খুব সুন্দর রং ধারন করে। ত্বক মসৃণ এবং খোসা পাতলা হয়। আমটি অত্যন্ত রসালো, সুস্বাদু এবং সুগম্ধযুক্ত হয়। আঁশ বিহীন অত্যন্ত কড়া মিষ্টির এই আমে খাদ্যাংশ রয়েছে ৭৫% মিষ্টতার পরিমান ২৪%। আমটি কেটে খাওয়ার উপযোগী। আমের গাছ বামন আকৃতির। কম দূরুত্বে অর্থাৎ ২.৫ মিটার পর পর রোপণ করা সম্ভব। গাছে প্রচুর ফল ধরে এবং প্রতি বছর ফল আসে। আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহে ফল পাকা শুরু হয়। ফুল আসা থেকে পরিপক্ক হতে পাঁচ মাস সময় লাগে। ফল সংগ্রহের পর পাকতে ৫-৬ দিন সময় লাগে। বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সফল এবং বাংলাদেশে বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় আম হচ্ছে আম্রপালি। এই আমটি আমরা নিজস্ব বাগান থেকে সংগ্রহ করে সম্পূর্ন ফরমালিন এবং কার্বাইডমুক্ত ভাবে আপনাদের নিকট পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিচ্ছি।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ...
ফলের রাজা আম।বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাতের মাঝে আমরা মূলত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত/হীমসাগর,  আম্রপালি, মল্লিকা,আড়া ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২