Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হিমসাগর নামে ক্ষ্যাত ‘খিরসাপাত’ আম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে। 

এই আমের মিষ্টতার পরিমাণ, আকার, ওজন ও অন্যান্য বৈশিষ্টও আদর্শ। এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম যা দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘হিমসাগর’ নামে পরিচিত। সম্ভাবনা বিবেচনা করে ও আমেরস্বত্ব (প্যাটেন্ট) সুরক্ষার চিন্তা থেকেই ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সহায়তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ হামিম রেজা জানান, নিবন্ধনের ব্যাপারে তারা পুরো ২০১৭ সাল জুড়েই কাজ করেছেন। তারা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যে, খিরসাপাত জাতটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব। তাই খিরসাপাতকে নিবন্ধন আবেদন তালিকার শীর্ষে রাখা হয়। কারণ এ জাতটি সবচেয়ে স্বসাদু ও সবচেয়ে বেশী উৎপাদিত হয় এবং দেশে ও বিদেশে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের মধ্যে প্রথম জিআই জাত হিসেবে খিরসাপাত অন্তর্ভুক্ত হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা জাতের আমের ব্যাপারেও তারা আশাবাদী। পরবর্তিতে এ দুটি জাতও জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা  হবে। 

তিনি আরও বলেন, এটা জেলাবাসীর জন্য খুবই আনন্দের একটি ব্যাপার। সেই সাথে জিআই পণ্য হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমের নিবন্ধন এ জাতটির চাষ ও ব্যবসাকে উৎসাহিত করবে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং আম কেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশ হবে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, ‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ শিরোনামে জেলা ব্রান্ডিং করা হচ্ছে। ব্রান্ডিং এর অংশ হিসেবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ জাতের আমগুলোকে জিআই পণ্য হিসাবে নিবন্ধনের কাজ চলছে। এরমধ্যে খিরসাপাত জাতটি চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই এর নিবন্ধন (জিআই নং) পাওয়া যাবে। খিরসাপাত আম জিআই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করলে জেলার আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। সেই সাথে এটি জেলার নিজস্ব পন্য হিসেবে গন্য হবে। 

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, জেলায়  উৎপাদিত মোট আমের প্রায় ১২ শতাংশই খিরসাপাত জাতের। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এ আমকে হিমসাগর নামে চেনে। তবে জিআই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলে সকলে জানবে এ আমের প্রকৃত নাম ‘খিরসাপাত’ এবং সেই সাথে জেনে যাবে এ আমটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের। তিনি আরও জানান, জুনের প্রথম সপ্তাহে খিরসাপাত আম বাজারে চলে আসে। এ আমের প্রায় ৭১ ভাগ খাদ্যযোগ্য অংশ, ঘ্রাণ সুন্দর এবং খেতেও সুস্বাদু । সে কারণে দেশ বিদেশে এ আমের বেশ চাহিদা রয়েছে।

Comment (0) Hits: 2105
 

হিমসাগর আম রফতানি হবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে

মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ব্যবসায়ীরা।

 

উন্নত মানের আম উৎপাদনের লক্ষে এরই মধ্যে আমে ব্যাগ (ব্যাগিং পদ্ধতি) পরানোর কাজ শেষ হয়েছে। সুস্বাদু হিমসাগর আমটিকে জেলার ব্রেন্ডিং আম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই আম ছড়িয়ে দিয়ে একটি স্থান তৈরি করার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানালেন জেলা কৃষি বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর আম নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরিপুষ্ট হয়ে পেকে যায়, ফলে সময় না হওয়ায় চাষিরা গাছ থেকে আম ভাঙতে পারেন না। ফলে আম নিয়ে অনেক সময় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাই চলতি বছর আম গাছ থেকে ভাঙার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। গোপালভোগ আম ১৫ মে, হিমসাগর আম ২০ মে, ল্যাংড়া আম ৩০ মে এবং আম্রপালি আম জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে সংগ্রহের সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, ফজলি, আম্রপলিসহ নানা জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে এই জেলায়। উৎপাদিত আমের মধ্যে দেশ জুড়ে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে হিমসাগর ও ল্যংড়া আমের। ক্রেতাদের কাছে সুমিষ্ট ও সুস্বাদু এ আম দুইটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হিমসাগর আমটি জেলার ১৫টি আমবাগান নির্বাচিত করে স্বল্প পরিসরে মাত্র ১২ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে। আর আম রফতানির জন্য বায়ারদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হন জেলার ২৪ জন আমচাষি। যার মধ্যে বিদেশের বাজারে আম দেন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন চাষি। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সেসব বাগান থেকে ৪৫ হাজার আম সংগ্রহ করে।

সুস্বাদু হওয়ায় ওই সব দেশগুলোতে এই আমরে চাহিদা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। আম রফতানিতে সফল হওয়ায় চলতি মৌসুমে বায়ারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন প্রায় শতাধিক আমচাষি। ফলে চলতি বছর জেলা থেকে প্রায় ২’শ মেট্রিক টন আম ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

 

রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ চাষিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। আম রপ্তানি নিয়ে কাজ করছেন নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক সংস্থা সলিডারিডেড নেটওয়ার্ক।

ঝাউবাড়িয়া গ্রামের বাগান মালিক শাহীনুর রহমান শাহীন জানান, ৩০ বিঘা আম বাগানে ৩’শ টির ও বেশি হিমসাগর আমের গাছ রয়েছে। গাছে মুকুল আসার পর থেকেই বাগান পরিচর্যার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে এ বছর ফলন হয়েছে অনেক ভালো। আঁটি আসার পর থেকেই বাছাই করে আমে ব্যাগ পরানো শুরু হয়েছে। ব্যাগ পরানোর ফলে রোদ-বৃষ্টি কিংবা বাহিরের কোনো পোকামাকড় আমের ক্ষতি করতে পারবে না। ফলে আমটির গঠন অনেক সুন্দর ও সুস্বাদু হবে।

ঝাউবাড়িয়া গ্রামের আম চাষি বাবলু হোসেন জানান, মেহেরপুরের আম দেশের অনান্য এলাকার তুলনায় আগে পরিপুষ্ট হয়ে পেকে যায়, তাই সরকার আম গাছ থেকে ভাঙার যে নির্দিষ্ট সময় রয়েছে তার চাইতে মেহেরপুরের আম অনন্ত ১৫ দিন আগে ভাঙ্গার অনুমোতির দাবি করেন তিনি।

আমদাহ গ্রামের আম চাষি মামুনুর রশিদ জানান, গত বছরে ১৫ হাজার আম দিয়েছিলেন বায়ারদের। ভালো লাভ পাওয়ায় এবার দেড় লাখ আমে ব্যাগ পরানো হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে আম উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিটি আমে ব্যাগ পরাতে খরচ হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা। আম সংগ্রহ পর্যন্ত রফতানিযোগ্য এক কেজি আম উৎপাদন করতে খরচ দাঁড়াবে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আবার বায়ররা বাছাইকৃত আম ছাড়া নেবেন না। ফলে ছোট ও দাগসহ আম নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে চাষিরা। গত মৌসুমে প্রতি কেজি আমের দাম পাওয়া গেছে ৯৫ টাকা। এ বছরে একই দামের দাবি জানান তিনি।

আম বাগানে আমে ব্যাগিং পরানোর কাজে নিয়জিত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি আম বাগানে ব্যাগিং এর কাজ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র বিভিন্ন বাগানে অবসর সময়ে কাজ করে প্রায় ৩’শ থেকে ৪শ টাকা আয় করেছে।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মফিজুর রহমান জানান, ব্যাগে আম সংরক্ষণ করলে বোটা শক্ত হবে এবং আমটি বাইরের যে কোনো ক্ষতিকর অবস্থা থেকে রক্ষা পাবে এবং রঙ নষ্ট হবে না। পাশাপাশি কিটনাশক মুক্ত আম সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাইরের দেশে আমটি রপ্তানি হলে চাষিরা দামও ভালো পাবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হিমসাগর আমটি দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু আম। যেহেতু এই আমের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে তাই হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপলি আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

এতে একদিকে যেমন এই আম থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে অন্যদিকে চাষিরাও লোকশানের বদলে লাভবান হবে। তিনি আরো জানান, এই ধারা অব্যহত থাকবে। ইতিমধ্যেই অন্যান্য চাষিদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ব্যপক হারে এই আম বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। নিরাপদ উপায়ে চাষিদের উন্নত মানের আম উৎপাদনের কলা কৌশলের উপর বিশেষ ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, যেহেতু এই আমটি শুধুমাত্র মেহেরপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে এবং আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুন ভালো থাকায় আমটি সুস্বাদুও হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই বাগান মালিক সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করে এই আমটিকে মেহেরপুরের ব্রান্ডিং আম করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমটিকে ব্রেন্ডিং করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশের বাজারে এই আমটি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করবে এবং মেহেরপুর সহ সারা বাংলাদেশের নাম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।

এছাড়াও ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে কেউ যাতে আম বাজারজাত না করতে পারে সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেহেরপুর ॥ মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ব্যবসায়ীরা।

উন্নত মানের আম উৎপাদনের লক্ষে এরই মধ্যে আমে ব্যাগ (ব্যাগিং পদ্ধতি) পরানোর কাজ শেষ হয়েছে। সুস্বাদু হিমসাগর আমটিকে জেলার ব্রেন্ডিং আম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই আম ছড়িয়ে দিয়ে একটি স্থান তৈরি করার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানালেন জেলা কৃষি বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর আম নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরিপুষ্ট হয়ে পেকে যায়, ফলে সময় না হওয়ায় চাষিরা গাছ থেকে আম ভাঙতে পারেন না। ফলে আম নিয়ে অনেক সময় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাই চলতি বছর আম গাছ থেকে ভাঙার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। গোপালভোগ আম ১৫ মে, হিমসাগর আম ২০ মে, ল্যাংড়া আম ৩০ মে এবং আম্রপালি আম জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে সংগ্রহের সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, ফজলি, আম্রপলিসহ নানা জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে এই জেলায়। উৎপাদিত আমের মধ্যে দেশ জুড়ে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে হিমসাগর ও ল্যংড়া আমের। ক্রেতাদের কাছে সুমিষ্ট ও সুস্বাদু এ আম দুইটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হিমসাগর আমটি জেলার ১৫টি আমবাগান নির্বাচিত করে স্বল্প পরিসরে মাত্র ১২ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে। আর আম রফতানির জন্য বায়ারদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হন জেলার ২৪ জন আমচাষি। যার মধ্যে বিদেশের বাজারে আম দেন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন চাষি। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সেসব বাগান থেকে ৪৫ হাজার আম সংগ্রহ করে।

সুস্বাদু হওয়ায় ওই সব দেশগুলোতে এই আমরে চাহিদা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। আম রফতানিতে সফল হওয়ায় চলতি মৌসুমে বায়ারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন প্রায় শতাধিক আমচাষি। ফলে চলতি বছর জেলা থেকে প্রায় ২’শ মেট্রিক টন আম ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ চাষিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। আম রপ্তানি নিয়ে কাজ করছেন নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক সংস্থা সলিডারিডেড নেটওয়ার্ক।

ঝাউবাড়িয়া গ্রামের বাগান মালিক শাহীনুর রহমান শাহীন জানান, ৩০ বিঘা আম বাগানে ৩’শ টির ও বেশি হিমসাগর আমের গাছ রয়েছে। গাছে মুকুল আসার পর থেকেই বাগান পরিচর্যার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে এ বছর ফলন হয়েছে অনেক ভালো। আঁটি আসার পর থেকেই বাছাই করে আমে ব্যাগ পরানো শুরু হয়েছে। ব্যাগ পরানোর ফলে রোদ-বৃষ্টি কিংবা বাহিরের কোনো পোকামাকড় আমের ক্ষতি করতে পারবে না। ফলে আমটির গঠন অনেক সুন্দর ও সুস্বাদু হবে।

ঝাউবাড়িয়া গ্রামের আম চাষি বাবলু হোসেন জানান, মেহেরপুরের আম দেশের অনান্য এলাকার তুলনায় আগে পরিপুষ্ট হয়ে পেকে যায়, তাই সরকার আম গাছ থেকে ভাঙার যে নির্দিষ্ট সময় রয়েছে তার চাইতে মেহেরপুরের আম অনন্ত ১৫ দিন আগে ভাঙ্গার অনুমোতির দাবি করেন তিনি।

আমদাহ গ্রামের আম চাষি মামুনুর রশিদ জানান, গত বছরে ১৫ হাজার আম দিয়েছিলেন বায়ারদের। ভালো লাভ পাওয়ায় এবার দেড় লাখ আমে ব্যাগ পরানো হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে আম উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিটি আমে ব্যাগ পরাতে খরচ হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা। আম সংগ্রহ পর্যন্ত রফতানিযোগ্য এক কেজি আম উৎপাদন করতে খরচ দাঁড়াবে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আবার বায়ররা বাছাইকৃত আম ছাড়া নেবেন না। ফলে ছোট ও দাগসহ আম নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে চাষিরা। গত মৌসুমে প্রতি কেজি আমের দাম পাওয়া গেছে ৯৫ টাকা। এ বছরে একই দামের দাবি জানান তিনি।

আম বাগানে আমে ব্যাগিং পরানোর কাজে নিয়জিত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি আম বাগানে ব্যাগিং এর কাজ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র বিভিন্ন বাগানে অবসর সময়ে কাজ করে প্রায় ৩’শ থেকে ৪শ টাকা আয় করেছে।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মফিজুর রহমান জানান, ব্যাগে আম সংরক্ষণ করলে বোটা শক্ত হবে এবং আমটি বাইরের যে কোনো ক্ষতিকর অবস্থা থেকে রক্ষা পাবে এবং রঙ নষ্ট হবে না। পাশাপাশি কিটনাশক মুক্ত আম সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাইরের দেশে আমটি রপ্তানি হলে চাষিরা দামও ভালো পাবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হিমসাগর আমটি দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু আম। যেহেতু এই আমের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে তাই হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপলি আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

এতে একদিকে যেমন এই আম থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে অন্যদিকে চাষিরাও লোকশানের বদলে লাভবান হবে। তিনি আরো জানান, এই ধারা অব্যহত থাকবে। ইতিমধ্যেই অন্যান্য চাষিদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ব্যপক হারে এই আম বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। নিরাপদ উপায়ে চাষিদের উন্নত মানের আম উৎপাদনের কলা কৌশলের উপর বিশেষ ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, যেহেতু এই আমটি শুধুমাত্র মেহেরপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে এবং আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুন ভালো থাকায় আমটি সুস্বাদুও হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই বাগান মালিক সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করে এই আমটিকে মেহেরপুরের ব্রান্ডিং আম করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমটিকে ব্রেন্ডিং করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশের বাজারে এই আমটি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করবে এবং মেহেরপুর সহ সারা বাংলাদেশের নাম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।

এছাড়াও ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে কেউ যাতে আম বাজারজাত না করতে পারে সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Comment (0) Hits: 1277
 

এক আমের দাম ৩০ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?

এক আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?- ভাবা যায়! একটি আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা। তাও আবার আমের রাজধানী-খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে।

ঘটনাটা কী!

শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু জানান, শনিবার সকালে দুলর্ভপুর ইউনিয়নের কালুপুর মধ্যপাড়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর সেখানের বাগানের আম গাছে ঝুলে থাকা একটি হিমসাগর আম দেখে সেটি ডাকে তোলেন ঈদগাহের ঈমাম হাবিবুর রহমান।ঈদগাহ কমিটির সেক্রেটারি রুহুল আমিন প্রথমে আমটির দামি একশ’ টাকা বলেন। নিলামের এক পর্যায়ে আমটির দাম গিয়ে ঠেকে ২৪ হাজার টাকায়।এলাকার জোহাক মণ্ডলের ছেলে ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেরুল ইসলাম এই দাম হাঁকার পরপরই কালোপুর উত্তরপাড়ার ফজলুর রহমানের ছেলে জহির রায়হান ও ফজলু বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল করিমসহ কয়েকজন মিলে আমটির দাম ৩০ হাজার টাকা বললে আমটি তাদের কাছেই বিক্রি করে ঈদগাহ কতৃপর্ক্ষ ।কিন্তু আমটি কেনার পর তারা সেটি ঈদগাহে দান করেন। পরে সেটি ৩ হাজার টাকায় কেনেন মেহেরুল ইসলাম।সব মিলিয়ে আমটি বিক্রি করে ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ পায় ৩৩ হাজার টাকা।

Comment (0) Hits: 2036

বাংলার আমের স্বাদ পেতে বিশ্বদরবারে হাজির হিমসাগর, ফজলি

মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। মিষ্টত্বে তো দেশের অন্য যেকোনও প্রান্তের আমের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে বাংলার হিমসাগর। কিন্তু, বিশ্ববাজারে তার পরিচিতি কতটুকু? সেটা পরখ করে নিতেই এবার বিশ্ব দরবারে হাজির হচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের আম।  বিশেষ প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হবে আম। এখন শেষমুহূর্তে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা, তা দেখে নিচ্ছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর। বাংলার আমের সুখ্যাতি পৌছে দিতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে স্থানীয় এফএম রেডিওর। দিল্লির আম উত্সবে সামিল হচ্ছেন জেলার আমচাষী এবং ব্যবসায়ীরাও।

Comment (0) Hits: 1230
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
রাজশাহী ও রংপুরের পর এবার মেহেরপুরেও তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার। এখানে অল্প খরচে সংরক্ষণ করা যাবে পিঁয়াজ ও আলু। এই হিমাগার সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে আম ও লিচুর সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগ বলছে, এই সংরক্ষণাগার ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
এখন বৈশাখ মাস গাছে গাছে ভরা আছে মধু ফল আমে। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আম গাছে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডালছাড়া গাছের মধ্যখানে ধরেছে কয়েকশত আম। আর ব্যতিক্রমী ভাবে ধরা এ আম দেখেতে শিশুসহ অসংখ্য লোকের ভির হচ্ছে সেখানে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ...
দেশের বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট নিয়ে আসলো ম্যাংগো। এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ম্যাংগো ১১ টি মডেলের হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছে। এগুলোর মধ্যে ৫টি স্মার্টফোন এবং ৬ টি ফিচার ফোন। এর একটি মডেলের নাম ফজলি। এটি ফিচার ফোন। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ম্যাংগো অনুষ্ঠানিকভাবে ফোনগুলো অবমুক্ত করে। ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২