Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

মমতার নির্দেশে মোদির ঘরে ল্যাংড়া-হিমসাগর-ফজলি আম

এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সামিল হলেন আম-কূটনীতিতে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যৌথ সফরই প্রমাণ, মমতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিক্ততা এখন অনেকটাই ঘুচেছে। এবার তাতে মন মাতানো সুগন্ধের ছোঁয়া।  মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানায় পৌঁছে গিয়েছে বাংলার বাছাই করা ল্যাংড়া-হিমসাগর-ফজলি-গোলাপখাসের সম্ভার। সম্প্রতি 'দিল্লি হাটে' তৃতীয় আম উৎসবের সূচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। সেখান থেকেই সেরা আম যাচ্ছে মোদি ও তার সতীর্থদের ঠিকানায়।  গোটা কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের কমিশনার আর ডি মিনা। আমগুলো যাতে দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে, সে জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ পদ্ধতির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছেও পৌঁছেছে মমতার উপহার। পৌঁছেছে রাষ্ট্রপতির ভবনেও।  দিল্লি-দরবারে বরাবরই শুভেচ্ছা, সৌভ্রাতৃত্ব ও উষ্ণতার দূত হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছে আম। আশির দশকে তিন-তিনটে যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে দু'দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্কের ভিত গড়তে আম কূটনীতিতেই ভরসা রেখেছিলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান— মহম্মদ জিয়া-উল-হক এবং ইন্দিরা গান্ধী।  ইউপিএ সরকারের আমলে ২৬/১১-র মতো ভয়াবহ হামলা হয়েছে, চরমে উঠেছে ভারত-পাক তিক্ততা। তা সত্ত্বেও মুম্বই হামলার পর দু’দেশের মধ্যে হঠাৎই বেড়ে যাওয়া তিক্ততা কমাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে কুড়ি কিলোগ্রাম আলফানসো আম পাঠান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। পাল্টা সৌজন্য দেখান গিলানিও।  ২০১০ সালে পাকিস্তানে হওয়া বন্যায় ভারতের সাহায্যের প্রতিদানে পাঁচ বাক্স পাকিস্তানের আম এসে পৌঁছায় মনমোহনের বাসভবনে। গিলানি থেকে মনমোহন। নওয়াজ শরিফ থেকে নরেন্দ্র মোদি। গত সেপ্টেম্বর ৭ রেসকোর্সে শরিফের পাঠানো আমই প্রমাণ করে দিয়েছে, পাল্টালেও আম বিনিময়ের সেই ট্র্যাডিশন কিন্তু সমানে চলছে।  আরও পিছনে তাকাতে চান? বেশ, পিছিয়ে যাওয়া যাক পাঁচশো বছর। বাবরের আমল। ইতিহাসবিদরাই মনে করিয়ে দিলেন, বাবর থেকে শুরু করে শাহজাহান— মোগল সম্রাটরা আগাগোড়াই বেশ আম-রসিক। এবং আম-কূটনীতিকও। রাজসভায় আগত বিদেশি অতিথি ও অন্য বাদশাদের নিয়মিত আম ভেট পাঠাতেন।  তার নাতি আকবর এক ধাপ এগিয়ে বিহারের দ্বারভাঙ্গার কাছে লাখিবাগে লক্ষাধিক আম গাছের চারা পুঁতেছিলেন। তবে রাজভোগের জন্য নির্দিষ্ট সে আম চেখে দেখার অনুমতি ছিল না আমজনতার। শুধু তা-ই নয়, এ দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আমের স্বাদ, কোনো মাটিতে কোন আম ভাল হয়— সে সবের সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে 'আইন-ই-আকবরি'তে।  আকবরের নাতিও তেমন। শাহজাহান এতই আম-ভক্ত ছিলেন যে, তার চোখের সামনে আমগাছ পুঁততে হত মালিদের। ইতিহাস বলে, দক্ষিণ ভারতের একটি বিশেষ প্রজাতির আম তিনি এতটাই পছন্দ করতেন যে, দাক্ষিণাত্যের দায়িত্বে থাকা তার এক পুত্র (তিনিই সম্ভবত ঔরঙ্গজেব) সেই আম দিল্লিতে না পাঠিয়ে নিজে খেয়ে নেওয়ায় তার উপরে যারপরনাই খেপে যান ভারতসম্রাট শাহজাহান।  শুধু সম্রাট নন, ইতিহাস বলছে, মোগল আমলে উজির-ওমরাও মহলেও পারস্পরিক উপহার হিসেবে দেদার চলত আম আদান-প্রদান।  আর ছিল বাণিজ্য। ছিল কেন, এখনও আছে। বাদশাহী যুগের উদাহরণ ছেড়ে একুশ শতকের একটা চমকপ্রদ তথ্য দেওয়া যাক। ২০০৬ সালে মার্কিন মোটরবাইক নির্মাতা সংস্থা হার্লে-ডেভিডসন ভারতে ব্যবসা করতে ঢোকে।  আর তার বদলে মার্কিন মুলুকে আম বিক্রির অনুমতি পায় ভারত। এ বার মমতার পাঠানো আম কিন্তু মার্কিন, ব্রিটিশ, চিনা ও বাংলাদেশি দূতাবাস-সহ বিভিন্ন দূতাবাসেও গিয়েছে। পাক দূতাবাসেরও সেই তালিকায় নাম থাকার কথা। তৃণমূল নেত্রীর আম কূটনীতি তাই শুধু অন্তর্দেশীয় নয়, আক্ষরিক অর্থেই আন্তর্জাতিক।  প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই বিহার থেকে প্রত্যেক বছর সেরা লিচু ‘উপহার’ পেয়ে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি। সেই রেওয়াজে ছেদ পড়েছে এই বছর। লিচুর ফলন এতই খারাপ যে, তা কাউকে উপহার দেওয়ার যোগ্য নয়। টিম মমতার অবশ্য সেই চিন্তা নেই। তবে এই আম-দৌত্যে নানা রসায়ন দেখছেন অনেকে।  সুষমা স্বরাজ-বসুন্ধরা রাজে-স্মৃতি ইরানিদের নিয়ে বিতর্কে ইদানীং কোণঠাসা বিজেপি সরকার। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন হইহল্লায় পণ্ড হলে একগুচ্ছ সংস্কারমুখী বিল আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা। এই পরিস্থিতিতে অরুণ জেটলি বা নিতিন গডকড়ীর মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মুখে শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশংসা।সুষমা-কাণ্ডে মমতাও নিরপেক্ষ অবস্থানে।  অধিকাংশ সংস্কারমুখী বিলের প্রশ্নে কংগ্রেস-বাম এর আগে সংসদে পাশে পেয়েছে তৃণমূলকে। কিন্তু গত অধিবেশন থেকেই তৃণমূলের অবস্থানে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যে যুযুধান হলেও সংসদ চালাতে মোদীকে ইদানীং পরোক্ষ সাহায্য করছেন মমতা। সৌজন্যের সেই ছবিই ধরা পড়েছিল বাংলাদেশ সফরে। এ বার মমতার আম-কূটনীতি তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।  কিন্তু ১০ জনপথ? সোনিয়া বা রাহুল গান্ধীর কাছে কি যাবে মমতার উপহার? রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, তালিকায় এমন কোনও নাম আছে বলে তাদের চোখে পড়েনি।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ...
চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ নয়ালাভাঙাতে মাইক্রোবাস হতে ছোড়া বোমার আঘাতে দুই জন আহত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- রানিহাটি ইউনিয়নের বহরম গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে মো. ...
ঝিনাইদহে দিন দিন বাড়ছে আম চাষের আবাদ। স্বাস্থ্য ঝুঁকিবিহীন জৈব আর ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করছে এই এলাকার আমচাষিরা। এ বছর ফলন ভালো হওয়ার আশায় খুশি তারা। জেলা থেকে বিদেশে রপ্তানী আর আম সংরক্ষণের দাবি চাষিদের। জানা যায়, ২০১১ সালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় আমের আবাদি জমির ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
মৌসুমি ফল দিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করে স্বার্থ উদ্ধারের পদ্ধতি অনেক দিনের। বর্তমানে এই খুশি বিষয়টি আদায় করতে নগদ অর্থ খরচ করতে হলেও ফল থেরাপি ধরে রেখেছে অনেকেই। এর একটি হল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত ...
ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচরে একটি আম গাছের গোড়া থেকে গজিয়ে উঠেছে হাতসদৃশ মসজাতীয় উদ্ভিদ বা ছত্রাক। ওই ছত্রাককে অলৌকিক হাতের উত্থান এবং ওই হাত ভেজানো পানি খেলে যেকোন রোগ ভাল হয় বলে অপপ্রচার করছে স্থানীয় ভ- চক্র। আর ওই ভ-ামির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২