Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

ছোট হয়ে আসছে আমের বাজার, দাম দ্বিগুণ

হিমসাগর, গোপালভোগ, লখনার মতো উন্নতজাতের আমগুলো বেশ কিছু দিন আগেই বাজার থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন বাজারে বেশি পরিমাণে আছে ফজলি ও আশ্বিনা। স্বল্প পরিমাণে আছে আম্রপালি ও ল্যাংড়া। আম শেষ হয়ে আসায় ছোট হয়ে এসেছে আমের বাজার। ফলে এই মুহূর্তে আমের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

 

 

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ থেকে আমের দাম বাড়তির দিকে। গতকাল শনিবারও মণে ১০০ টাকা বেশিতে আম বিক্রি হয়েছে। বাগানে আম প্রায় শেষ হতে আসায় দাম এখন উঠতির দিকে। বেশি দাম না দিলে বাগান মালিকরা আমই দিতে চাচ্ছেন না। ফলে কিনতে হচ্ছে বেশি দামে, বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশিতে। এতে আমচাষিরা লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

 

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়ার বানেশ্বরে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ ফজলি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে। প্রতি মণ লাড়ুয়া ভোগ বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার টাকায়। এছাড়া আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ তিন হাজার টাকায়। এছাড়া খুবই সামান্য পরিমাণে থাকা ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায়।

 

রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, শালবাগান ও শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার আমের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে আসায় কমেছে আমের দোকানের সংখ্যা। ফলে বেড়েছে দাম। এই তিন বাজারে আম্রপালি, মহারাজ ফজলি, সুরমা ফজলি ও আশ্বিনা আম বিক্রি হতে দেখা যায়।

 

শিরোইলের রাজন ফল ভাণ্ডারের বিক্রয়কর্মী রবিউল ইসলাম জানান, নানা জাতের ফজলি এখানে দুই হাজার ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চোষা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। খুব কম পরিমাণে থাকায় ল্যাংড়া ও আম্রপালির দাম আরও চড়া। এগুলো ছয় থেকে সাত হাজার টাকা মণ দরেও বিক্রি হচ্ছে।

 

বাদশা আমের আড়তের মালিক বাদশা শেখ ঢাকাটাইমসকে বলেন, আম কমতে কমতে এখন ফজলি এবং আশ্বিনার মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে শুরু করেছে। ফজলি বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস আগেই। তবে আশ্বিনা আসছে গত সপ্তাহ থেকে। ফজলি বাজারে মিলবে আরও প্রায় ১৫ দিন। আর আশ্বিনা পাওয়া যাবে আরও প্রায় মাসখানেক। বাজারে আমের সরবরাহ কমার কারণে দাম বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

 

শালবাগান বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহীতে বৃষ্টি লেগেই আছে। এই বৃষ্টির কারণেও আমচাষি এবং ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে ঠিকমতো আম পাড়তে পারছেন না। এতে বাজারে আমের সরবরাহ কমেছে। ফলে দামও বেড়েছে কিছুটা। এরপরেও আম বিক্রি কমেনি। শেষ মুহূর্তে চাহিদাও বেড়েছে মৌসুমি এ ফলের।

 

সাহেববাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, এবার আমের মৌসুম শুরু হয়েছিল রোজার ভেতর। তাই দাম ছিল কম। চাষি, ব্যবসায়ীরাও এতে খুব একটা লাভবান হননি। রোজার পর থেকেই আমের দাম বাড়তে থাকে। এখন আম শেষ হতে থাকায় দাম বাড়তেই থাকবে। বাড়তি এ দাম কমার সম্ভাবনাও কম। কারণ, মৌসুমের শুরুর দিকে যেসব চাষিরা আম বিক্রি করে খুব বেশি লাভবান হতে পারেননি, তারা এখন চড়া দাম ছাড়া আম বিক্রি করছেন না।

 

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এবার আম এসেছিল এক লাখ ২৬ হাজার ৪৮০ গাছে। জেলায় এবার দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে মৌসুমের শুরুতেই ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার গতিবেগের এক কালবৈশাখীতে ঝরে পড়ে প্রচুর আম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন চাষিরা। আমের দাম সাধ্যমতো বাড়িয়ে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন কোনো কোনো চাষি।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
বাজারে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই আম আম রব। ক্রেতা যে আমেই হাত দিক না কেন দোকানি বলবে হিমসাগর নয়তো রাজশাহীর আম। ক্রেতা সতর্ক না বলে রঙে রূপে একই হওয়ায় দিব্যি গুটি আম চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে হিমসাগরের নামে। অনেকসময় খুচরা বিক্রেতা নিজেই জানে না তিনি কোন আম বিক্রি করছেন। ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আমচাষীদের নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী ও সভা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে এলাকার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা অংশ ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২