Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

সংগ্রহের সময় নির্ধারণ নিয়ে আতঙ্ক

বরাবরই কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগেই বাজারে তোলেন আম। অপরিপক্ক আম ক্ষতিকর রাসায়নিকে পাকিয়ে বাজারে তোলেন তারা। তবে কয়েক বছর ধরেই এ প্রক্রিয়া ঠেকাতে আম বাজারজাতের সময় বেঁধে দিচ্ছে সরকার।

কিন্তু সরকারি এ সিদ্ধান্তে আগে পাকা আম বাজারজাত করতে না পারায় কয়েক বছর ধরেই বিপাকে এই অঞ্চলের হাজারও আম চাষি-ব্যবসায়ী। পাচ্ছেন না আমের ন্যায্য দামও। আসছে আমের মৌসুম ঘিরেও একই আতঙ্ক ভর করছে তাদের মনে। এরই মধ্যে মুকুল থেকে গুঁটিতে রূপ নিয়েছে এই অঞ্চলের বাগানজুড়ে আম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক আম চাষ হয় এমন জেলাগুলোয় গত বছর ২৫ মের পর আম সংগ্রহের সময় বেঁধে দেয় সরকার। বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ২৫ মে গোপালভোগসহ গুঁটিজাত, ১ জুন হিমসাগর-ক্ষীরসাপাত, লক্ষ্মণভোগ, ১০ জুন ল্যাংড়া ও বোম্বাই, ২৫ জুন ফজলি, ১ জুলাই আম্রপলি ও ১৫ জুলাই আশ্বিনা আম বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরবর্তীতে নাবি জাতের ফজলিসহ অন্যান্য আম পর্যায়ক্রমে বাজারে আনার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু সময় বেঁধে দেয়ার এ সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন অনেক কৃষক।

আম বাজারজাতের সময় বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা।

কয়েকজন চাষি বলেন, সময় বাঁধা থাকায় পাকা আমও তারা বাজারে তুলতে পারেননি। আবার আম যখন বাজারে ওঠে তখন অনেক আম ওঠে যায়। এতে নায্য দাম মেলে না। কয়েক বছর ধরে এতে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই আম বিভিন্ন সময় পাকে বলেও জানান চাষিরা।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য মতে, মে মাসের মাঝামাঝিতে রাজশাহীর বাজারে উঠে গুঁটি জাতের আম। তবে মে মাসের শেষ ও জুনের শুরু দিকে বাজারে আসেবে গোপালভোগ ও রানীপছন্দ জাতের আম। এর প্রায় সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পাকবে লখনা, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, দুধসর, মোহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম।

জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসবে মৌসুমের আকর্ষণীয় ফল ফজলি। এর প্রায় ১৫ দিন পর সব শেষে বাজারে আসবে আশ্বিনা আম। পুরো মৌসুম জুড়ে বাজারে থাকে কয়েকশ জাতের আম। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটে রাজশাহীতে। কোটি টাকার বাণিজ্য হয় পুরো মৌসুমজুড়ে। আমেই নির্ধারণ করে এ অঞ্চলের অর্থনীতি গতি।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিত কর্মকর্তা আলীম উদ্দিন জানান, আম কোনো রাসায়নিক ছাড়াই ৫ থেকে ১০ দিন ঘরে রাখা যায়। আম সংগ্রহে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়ার কোনো যুক্তি নেই। কারণ এ অঞ্চলে একই জাতের আম বিভিন্ন সময়ে পরিপক্ব হতে দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া ও মাটির গুণগত কারণে এটি হয়। এছাড়া টানা খরা ও অত্যাধিক গরমেরও আম আগেভাগেই পেকে যায়।

জানা গেছে, এবারও আম সংগ্রহে সময় নির্ধারণ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। যদিও এ অঞ্চলের কৃষক, ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠনদের আপত্তির মুখে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এবার আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দুটি সভা করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। একই জাতের আম বিভিন্ন সময়ে পাকলেও একটি নিরাপদ সময় নির্ধারণ করা হবে।

সময় নির্ধারণ করা হলেও পরিপক্ব আম সংগ্রহের বিষয়ে শিথিলতা রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আম সংগ্রহ নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত রাখা হবে। এরই মধ্যে জেলা শহরের বিভিন্ন ইউনিয়নে এ বিষয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

তবে এ নিয়ে এখনো রাজশাহীতে কোন সভা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, গত বছর সময় বেঁধে দেয়ায় আম চাষি-ব্যবসয়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন খবর তাদের কাছে নেই।

বরং চাষি-ব্যবসায়ীরা তাতে উপকৃত হয়েছেন। চাষি-ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে গত বছর। এবছরও একই পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে এখনো রাজশাহী এ সংক্রান্ত কোনো সভা হয়নি।

তিনি বলেন, বিষমুক্ত আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনে এ উদ্যোগ। বরাবরই কারবাইড, ফরমালিন ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক আমদানির ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া ব্যাগিংয়ের জন্য ব্যাগের দাম কমানো ও পর্যাপ্ত ব্যাগ সরবরাহেরও দাবি থাকে। এসব বিষয়ে গত বছরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দফতরের হিসেবে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে গত পাঁচ বছরে আমবাগান বেড়েছে ১৬ হাজার ৫০৭ হেক্টর। সব চেয়ে আমবাগান বেড়েছে রাজশাহীতে ৭ হাজার ৯৭৫ হেক্টর।

এরপর নওগাঁয় ৪ হাজার ৮৬৯ হেক্টর, নাটোরে ২ হাজার ৪৭৩ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ১৯০ হেক্টর। শুধু চাষই নয় এ কবছর উৎপাদনও বেড়েছে, ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন।

গত ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর এ অঞ্চলের ৫৮ হাজার ৯২৪ হেক্টর আম বাগানে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৮ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে।

এবছরও আগান কিছুটা বেড়েছে। ফলে উৎপাদনও বাড়বে বলে ধরে নিচ্ছে কৃষি অধিদফতর। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গত বছর ২৩ হাজার ৪০০ কেজি আম রফতানি করেছেন ইংল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও সুইডেনে। এবছর তার রফতানি টার্গেট রয়েছে ২০০ মেট্রিক টন।

Comment (0) Hits: 588
 

হিমসাগর, মোহনভোগ, লক্ষণভোগ আসছে গোপালভোগ ও ফজলি

চলছে রমজান মাস। ইফতারে রোজাদাররা দেশি রসালো ফলে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অন্যদিকে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ হওয়ায় বাজারগুলো মৌসুমী ফলে ভরপুর। আম, লিচু, কাঠাল, আনারসসহ নানাবিধ লোভনীয় সুমিষ্ট ফলে নগরীর বাজারগুলো সরগরম। এসবের মধ্যে আমের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি। দামও রয়েছে হাতের নাগালে। আর তাই ক্রেতা বিক্রেতারা ভিড় করছেন নগরীর পাইকারি বাজার ফলমণ্ডিতে।
গতকাল সোমবার নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার ফলমণ্ডি ঘুরে দেখা যায় আমে ভরপুর, বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা বিক্রেতার।
টানা বৃষ্টির পর ক্রেতারা বাজারে আসতে শুরু করেছে। তাছাড়া সরবরাহ বেশি থাকায় খুশি ব্যবসায়ীরাও। তারা আশা করছেন, রমজানে ভালো ব্যবসা হবে। ফলমণ্ডির পাইকারি বিক্রেতা মো. মাসুদুল ইসলাম সুপ্রভাতকে জানান, ‘পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরেও টানা বৃষ্টির প্রভাবে গত এক সপ্তাহ বাজারে ক্রেতা ছিল না। বৃষ্টি কমে যাওয়ায় ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে। দামও রয়েছে নাগালে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ভালো ব্যবসা হবে।’
বাজারে প্রতি কেজি লক্ষণভোগ আম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, হিমসাগর ৪৫ থেকে ৫০, ল্যাংড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫, আটি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা দামে।
ফলমণ্ডিতে আম কিনতে আসা অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান সুপ্রভাতকে জানান, ‘খুচরা বাজার থেকে দাম কম থাকায় সবসময় এখান থেকে ফল কিনি। গতবারের তুলনায় এবার দাম কম দেখছি। তবে বাজারে পুরোপুরিভাবে রাজশাহীর আম এখনো আসেনি।’
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘রাজশাহীর গোপালভোগ, লক্ষণভোগসহ নানান জাতের আম আসতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে তা আসছে খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা গুটি, হিমসাগর, মোহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম।’
সম্প্রতি ফলমণ্ডির ফলে ফরমালিন
পায়নি বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে এবার ফলে ফরমালিন মেশাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, ‘আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় কাঁচা ফলে ফরমালিন মিশাতো। কিন’ এবার প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে সে সুযোগ আর হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে ক্রেতারা ফরমালিনের ভয়ে মৌসুমি ফলগুলো তেমন একটা কিনতে চাইত না। কিন’ ভ্রাম্যমাণ আদালতের টানা অভিযানের ফলে বাজারে কেউ ফরমালিন ব্যবহারের সাহস করছে না। এজন্য ক্রেতারা আশ্বস্ত হয়ে ফল কিনতে আসছেন।’
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের ম্যজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী সুপ্রভাতকে জানান, ‘রোববার ফিরিঙ্গীবাজার ও ফলমণ্ডিতে আমে ফরমালিন আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখেছি। সেখানে আমরা ফরমালিন পাইনি।’

Comment (0) Hits: 511
 

‘লখনা’ ও ‘আটি’ দিয়ে শুরু রাজশাহীর আম বাজার

‘লখনা’ ও ‘আটি’ জাত দিয়ে শুরু হয়েছে এ মৌসুমের আম বাজার। তবে ‘আমের রাজা’ ল্যাংড়া, খিরসাপাত (হিমসাগর) ও গোপালভোগ কিনতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন।

রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারের আম ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী জানান, আটি আমের পাইকারি কেনাবেচা হচ্ছে ১১০০ টাকা মণ দরে। অথচ গত বছর মৌসুমের শুরুতে আটি আম বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা মণ। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবার প্রতিকেজি আটি আমের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।

তার দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী দাম বেশি পাওয়ার আশায় লখনা জাতের অপরিপক্ব আম বাগান থেকে ভেঙে (পেড়ে) বাজারে আনছেন। বানেশ্বর হাটে লখনা জাতের আম ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাজারে আম চলে আসায় ব্যস্ততা বেড়েছে ফল ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের। মৌসুমি আম ব্যবসায়ীরা ঘর ভাড়া নিয়ে অপেক্ষা করছেন আমের জন্য।

নগরীর গুড়পট্টি এলাকার আম ব্যবসায়ী এনতাজ আলী জানান, ১০-১২ দিনের মধ্যে বাজারে আমের রাজা ‘ল্যাংড়া’ চলে আসবে। তবে গতবারের তুলনায় এবার আমের ফলন কম হওয়ায় ব্যবসাও কম হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।

সাহেববাজার এলাকার আরেক আম ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৭০) জানান, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের আগ থেকে আমের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি বলেন, জুন মাসের পুরো সময় ধরেই চলবে আমের রমরমা ব্যবসা।

নগরীর রায়পাড়া এলাকার আম ব্যবসায়ী ফরমান আলী জানান, গত বছর যে বাগানে তিনি দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন, সে বাগান থেকে এবার ৫০ হাজার টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন কিনা, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। বাগানের অনেক গাছে এবার মুকুল আসেনি। আর যে সব গাছে মুকুল এসেছিল, সেসবের ওপর দিয়েও নানা ঝড়-ঝাপটা যাচ্ছে। আর টানা খরায় গোটা গোটা আম ঝরে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের মতো এবারও আমের ফলন ভালো হবে না। মৌসুমের শুরুতে এবার রাজশাহীর অনেক গাছেই কাঙ্ক্ষিত মুকুল আসেনি। প্রাকৃতিক নিয়মে এক বছর আমের বাম্পার ফলন হলে পরের বছর ফলন হয় কম। গত বছর আমের ফলন হওয়ায় এ বছর আমের জন্য ‘অফ ইয়ার’।

গত বছর কৃষি বিভাগ ৮ হাজার ৯৮৬ হেক্টর আমবাগানে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮৮ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু অর্জন হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুন। গত বছর ১৪ হাজার ৫ হেক্টর আমবাগানে আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৭৬৭ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজশাহী জেলায় ১৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বর্তমানে আম গাছ রয়েছে ১৪ লাখ ২১ হাজার ৫০৩টি।

রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন জানান, বৈশাখ থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাসের এ পর্যন্ত রাজশাহীতে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই অনেক বাগানে গুটি আম ঝরে গেছে। তবে পরামর্শ অনুযায়ী অনেক বাগান মালিক গাছে সেচ দিয়েছেন। তারা ভালো ফলন পাবেন।

Comment (0) Hits: 665

লক্ষণভোগ আম ১ জুন থেকে পাড়ার নির্দেশ

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁতে চলছে সাজ সাজ রব। আর ঢাকায় ক্রেতাদের উন্মুখ অপেক্ষা। মধুমাসের মধুফল আম এবার পরিপক্ব হয়েই গাছ থেকে নামছে। আজ বুধবার থেকে বাজারে আসছে আগাম জাতের গোপালভোগ ও গুটি জাতের আম।

 

ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর ও লক্ষণভোগ আম ১ জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বাই ১০ জুন, ফজলি ২৫ জুন, আম্রপালি ১ জুলাই এবং আশ্বিনা ১৫ জুলাই থেকে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নাবি জাতের ফজলিসহ অন্যান্য আম পর্যায়ক্রমে বাজারে আসবে।

 

এবছর অকালে গাছ থেকে অপরিপক্ব আম পেড়ে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাতকরণ বন্ধ রেখেছে সরকার। কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিষমুক্ত আম বাজারজাতে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও ২৫ মের আগে ট্রাকে করে আম পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং লিফলেট বিতরণসহ মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তবে আমের রাজধানী থেকে আম না আসলেও আগাম আম এসেছে সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়িসহ কয়েকটি জেলা থেকে। এসেছে ভারতীয় আমও। রাজধানীর বাজারে আমের যে সমারোহ তা ভালো মানের নয়। ভালো মানের আম বলতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহীর আম। সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়িসহ দেশের ২২টি জেলায় এখন বাণিজ্যিকভিত্তিতে আমের চাষ হচ্ছে। যার মান খুব ভালো না।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীর আম চাষি, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিচর্যার অভাব আর বেশি তাপমাত্রার নেতিবাচক প্রভাবে আমের আকার অনেক ছোট হয়ে গেছে। এবার রাজশাহী অঞ্চলের আবহাওয়া চরম থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেভাগেই পাকতে শুরু করেছে আম।

 

শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের কালিনগরের আম ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, অসাধু আম ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে আম চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার বেলেপুকুরের একজন চাষি বলেন, এলাকার আম চাষিরা কেমিক্যাল তেমন ব্যবহার করে না। করলে অনেক আগে ধরা পড়ত। ঢাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে দেয় আমে। তার প্রভাবে গত বছরে অনেক আম ধ্বংস করে প্রশাসন। এবার সেই কেমিক্যাল মেশানোর কোনো সুযোগই নেই। কারণ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে আম পাড়ার।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে, সবচেয়ে ভালো মানের ও বেশি আম হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ জেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী। এখানে এ বছর ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এই দুই জেলাকে দেশের বাণিজ্যিক আম চাষের আদিভূমি বলা হয়।

 

গত ১০ বছরে দেশে আমের উত্পাদন চার গুণ বেড়েছে। ধান ও অন্যান্য শস্যের চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি লাভ হওয়ায় চাষিরা আমের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ একটি আম গাছ ৫০ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ফল দেয়ার পরও দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। কানসাটের জমিদারবাড়ির আম বাগান তার প্রমাণ। সুপ্রাচীন এই আমবাগানের গাছগুলো এখনো সুস্বাদু আম দিয়ে যাচ্ছে।
Comment (0) Hits: 637
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
ফলের রাজা আম।বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাতের মাঝে আমরা মূলত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত/হীমসাগর,  আম্রপালি, মল্লিকা,আড়া ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
রাজধানীর মালিবাগের আবদুস সালাম। বয়স ৭২ বছর। তার চার তলার বাড়িতে রয়েছে একটি দুর্লভ ‘ছাদবাগান’। শখের বসে এ বাগান করেছেন। বছরের সব ঋতুতেই পাওয়া যায় নানা ধরনের ফল। এখনো পাকা আম ঝুলে আছে ওই ছাদবাগানে। শুধু আম নয়, ৫ কাঠা ওই বাগানজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফলসহ অন্তত ১০০ ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২