Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

চাপাইনবাবগঞ্জ ভ্রমণ

উত্তরবঙ্গ ঘুরতে বের হয়েছি। ছিলাম বগুড়া, এরপর সেখান থেকে এসেছি রাজশাহী। রাতে রাজশাহীতে ছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করেছি আম এবং লিচু দিয়ে। এরপর রুম চেক আউট করে বের হয়েছি। গন্তব্য চাপাই নবাবগঞ্জ। চাপাই কোথায় যাবো, তখনো জানি না। রাজশাহী থেকে গুগল ম্যাপে দেখলাম এক ঘণ্টার মত লাগবে যেতে। তো শুনেছি চাপাই অনেক আম গাছ। আমি বাস স্ট্যান্ড থেকে নেমে কাছে ধারে কোন আম বাগানে গিয়ে ঘুরে আসব। কিন্তু নামার পর শুনলাম কানসাটের দিকে আম বাগান বেশি। অটোতে করে যেতে হবে। অটো বলতে ইঞ্জিন চালিত ছোট CNG এর মত এক ধরণের যান। কানসাই নেয়াড় জন্য ভাড়া চাইলো ৩০০ টাকা, আবার বাস স্ট্যান্ড দিয়ে যাবে। চাপাই এর সোনামসজিদ অনেক পুরাতন, প্রত্ন সম্পদ। তা কানসাই থেকেও দুরে। তার পাশেই আছে তাপাখানা। তাও প্রত্ন সম্পদ। যেহেতু এসেছি, সেহেতু দেখে চাই। তার জন্য ভাড়া চাইলো ৫০০। পরে ৪৫০ টাকায় রাজি হলো আমাকে নিয়ে গেলো।

যাওয়ার পথের দুই ধারেই অনেক আম বাগান। অনেক আমই এখনো ছোট ছোট। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার হচ্ছে কানসাই। যদিও এখনো তা জমে উঠে নি। কয়েক দিন পর তা জমে উঠবে। সোনা মসজিদ, তাহাখানা মসজিদ   দেখে ফেরার সময় এক জায়গা থেকে আম কিনে নিলাম অল্প কিছু। খাওয়ার জন্য। অটোতে বসে খাওয়ার কারণে রস ছিটকে আমার জামায় পড়ল। দুই পাশের আম বাগান দেখতে দেখতে ফিরে এলাম চাপাই নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। ঐখানে এসে অটো বেটা ৪৫০ টাকা এর জাগায় ৫০০ টাকা চেয়ে রাখল। ভদ্র ভাবেই চাইলো।

তাহাখানা মসজিদ এ দুইটি পাথর রয়েছে। একটাকে বলে মুর্দা পাথর, আরেকটা জ্যান্ত। একটা ছোট। আরেকোটা বড়। বড়টা নাকি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে

কানসাট থেকে ফেরার পথে আপচুস হচ্ছিল। সব জায়গাতে কারো সাথে না কারো সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু চাপাই খুব কম সময়ের জন্য আসার কারণে কারো সাথে দেখা হয় নি। আম কিনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি, এমন সময় Abdul Ouadud আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করল দেখা করবে। পরে আমি নাম্বার দিলাম। উনি আসল। দেখা ও হলো কথা হলো। এরপর উনি আমাকে বাসে উঠিয়ে দিল। সব জাগায় অনলাইন কমিউনিটির কারো না কারো সাথে দেখা হওয়াটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। সবাই এত আন্তরিকতা দেখিয়েছে। আমি ঢাকা বসে যা কল্পনাও করতে পারতাম না। বের হয়েছি একা একা। কিন্তু একটি বারের জন্যও মনে হয় নি আমি একা। কোন জাগায় গিয়ে আমি একা থাকি নি। কেউ না কেউ আমাকে সময় দিয়েছে। আমার এ ভ্রমটাকে দারুণ করে তুলেছে। কৃতজ্ঞতা কিভাবে যে জানাই। বলতে পারি, আমাদের অনলাইন কমিউনিটির মানুষ গুলো যথেষ্ঠ আন্তরিক।

বাস স্ট্যান্ড এসে দেখি আম বিক্রি করে। আম কিনলেই তা আমাকে ঢাকায় আনতে মোটামুটি ভালো কষ্ট সয্য করতে হবে। বাসে উঠাও, বাস থেকে নামাও। আবার বাস স্ট্যান্ড থেকে রেল স্টেশন আনো ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব চিন্তা করেই আম কিনি নাই। পরে আবার মত পরিবর্তন করে কিনে ফেললাম কিছু। ওরা বক্স করে দিল। রাজশাহী নিয়ে আসলাম। বিকেলেই চলে এসেছি রাজশাহী, ট্রেন ১১টা ২০ এ। এই আম গুলো আমার জন্য এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরহাদ ভাই এসে নিয়ে গেলো আমাকে উনার রুমে। উনার রুমে আম আর ব্যাকপ্যাক রেখে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছি আবার। মোটর সাইকেলে করে আবার ঘুরালো। নাস্তা করলাম। এদিক সেদিক ঘুরলাম। সাথে ছিল রানা। এরপর ফরহাদ ভাই এর রুমে এসে কিছুক্ষণ বসে বের হলাম সাড়ে নয়টার দিকে। রেল স্টেশনের কাছে সিটি ফুড নামক রেস্টুরেন্টে এসে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম আমরা। আমি ফরহাদ ভাই আরো একজন। আম গুলো ক্যারি করার দ্বায়িত্ব উনারা নিয়ে নিলো। আমাকে আর ধরতে দেয় নি। একে বারে ট্রেনে উঠিয়ে দিল।

ট্রেনে উঠে দেখি অনেক গুলো আমের বক্স। এক ভদ্রলোকের আম। উনার শ্বশুর বাড়ি রাজশাহীতে। শ্বশুররা থাকে না বাড়িতে। ৫ বছর আগে নাকি উনি একটি বাগানে আম গাছ লাগিয়েছে। সেগুলোতে এখন আম ধরেছে। সেই আম এখন নিয়ে যাচ্ছে ঢাকায়। দারুণ!

গতকাল যখন ট্রেনের টিকেট কেটেছি শীত বাথ নামে আমি জানতাম না কি তা। এখানে এসে দেখি স্লিপিং কোচ। ঘুমাতে ঘুমাতে ঢাকায় যাওয়া যাবে। এক কেবিনে চারটি সিট। দুই পাশে দুইটা করে। একটার উপরে আরেকটা বিছানা। আমাদের কেবিনে ছিল আরো দুইজন। একজন আরেকজনের কাজিন। তারা ঘুরতে এসেছে চাপাই নবাবগঞ্জ। এসে দুই মণ আম কিনলো। সেগুলো কুরিয়ারে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়ে ট্রেনে করে ফিরছে। উনাদের সাথে কথা হল কিছুক্ষণ। সবাই ভ্রমণ প্রিয়। ভ্রমণ নিয়ে অনেক গল্প শুনলাম উনাদের কাছ থেকে। এরপর এক সময় ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম যখন ভেঙ্গেছে তখন সকাল ৫টা। উনাদের জিজ্ঞেস করি কোথায় আমরা এখন। বলে কমলাপুর। আস্তে আস্তে ট্রেন থামল। ট্রেন থেকে নামলাম। তখন নতুন আরেকটি দিন… সুন্দর একটা ভ্রমণ করে বাড়ি ফেরার মজাই অন্যরকম।

যথেষ্ঠ ভালো লেগেছে আমার। একা বের হয়েও আমার একা মনে হয় নি। একটুর জন্যও না।

এখানে নওগাঁ এবং নাটোর ঘুরা হয় নি। তা ছাড়া মোটামুটি সব জাগায় ঘুরা হয়েছে। ইনশাহ আল্লাহ, কোন এক সময় এ গুলোও এসে ঘুরে যাবো। সব গুলো জাগাই দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে। অনেক কিছুই স্কিপ করেছি। সব কিছু সুন্দর ভাবে দেখার জন্য আরো বেশি সময় নিয়ে বের হলে সব সুন্দর মত ঘুরে দেখা যেতো।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আমচাষীদের নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী ও সভা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে এলাকার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা অংশ ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
মৌসুমি ফল দিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করে স্বার্থ উদ্ধারের পদ্ধতি অনেক দিনের। বর্তমানে এই খুশি বিষয়টি আদায় করতে নগদ অর্থ খরচ করতে হলেও ফল থেরাপি ধরে রেখেছে অনেকেই। এর একটি হল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২