Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

চলুন ঘুরে আসি আমের রাজধানী চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের একটি জেলা চাঁপাই নবাবগঞ্জ। এই জেলাটা বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত শিবগঞ্জ থানাটা সম্পুর্ন একটি আমবাগান বললে ভুল হবেনা। যেদিকে তাকাবেন শুধুই আমের গাছ। সারি সারি গাছ একটা আরেকটার সাথে লেগে আছে। এর মাঝেই বসতবাড়ী দোকানপাট কলকারখানা।  চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরে ঢুকতেই আপনার চোখে পড়বে বিস্তির্ণ আম বাগান। যতই হাঁটবেন সারাদিন হাঁটলেও বাগান শেষ হবেনা। আমের মৌসুমে সারাদেশ থেকে লোক এখানে আসে আম কেনার জন্য, নিজ চোখে আম বাগান দেখার জন্য বা গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। চাঁপাই নবাবগঞ্জবাসীর জন্য আম আল্লাহর একটি বিরাট নেয়ামত  কারন আমি দেখেছি এই এলাকার সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয় আমকে কেন্দ্র করে। অবশ্য আম ছাড়াও এই এলাকায় আরোও অনেক কিছু আছে কিন্তু আম আসলেই সব কিছু ম্লান হয়ে যায়। নিচে আম, আমবাগান এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার বেশ কিছু তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।  আম কি?  আম এর পরিচয় পর্বে আমি উইকিপিডিয়া থেকে সরাসরি কপি পেষ্ট করলাম ।  আম (ইংরেজি: Mango) : ভারতীয় উপমহাদেশীয় এক প্রকারের সুস্বাদু ফল। কাচা অবস্থায় এর রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির(species) আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাত (varity) আছে, যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা ইত্যাদী।  বিবরণ : আম গাছ সাধারণত ৩৫-৪০মি: (১১৫-১৩০ ফিট) লম্বা এবং সর্বোচ্চ ১০মি: (৩৩ ফিট) ব্যাসার্ধের হয়ে থাকে। আম গাছ গুলো বহু বছর বাঁচে, এর কিছু প্রজাতিকে ৩০০ বছর বয়সেও ফলবতী হতে দেখা যায়। এর প্রধান শিকড় মাটির নিচে প্রায় ৬মি: (২০ ফিট) গভীর পর্যন্ত যেয়ে থাকে। আম গাছের পাতা চিরসবুজ, সরল, পর্যায়ক্রমিক, ১৫-৩৫ সে:মি: লম্বা এবং ৬-১৬ সে:মি: চওড়া হয়ে থাকে; কচি পাতা দেখতে লালচে-গোলাপী রং এর হয়। আমের মুকুল বের হয় ডালের ডগা থেকে, ফুল থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত প্রায় ৩-৬ মাস সময় লাগে।  চাষাবাদ ও ব্যবহার : ভারতীয় উপমহাদেশে আম কয়েক হাজার বছর ধরে চাষাবাদ চলছে, পূর্ব এশিয়াতে আমের প্রচলন হয় খ্রীষ্টপূর্ব ৫ম-৪র্থ শতাব্দী থেকে এবং চাষাবাদ শুরু হয় আরো পরে খৃষ্টাব্দ ১০ম শতাব্দী দিকে। ভারতীয় উপমহাদেশ এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের পর পৃথিবীর অন্য যেসব দেশে ভারতীয় উপমহাদেশের মত জলবায়ু রয়েছে, যেমন: ব্রাজিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা মেক্সিকো তে আরো অনেক পরে আমের প্রচলন ও উৎপাদন শুরু হয়। মরোক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৪ শতকে আমের বর্ণনা লিপি বদ্ধ করেন। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত উষ্ণ প্রধান জলবায়ুর অঞ্চল গুলিতে আমের চাষাবাদ হয়। এর মধ্য অর্ধেকের কাছাকাছি আম উৎপাদন হয় শুধুমাত্র ভারতেই। এর পর অন্যান্য যেসব দেশ আম উৎপাদন করে তার মধ্যে আছে চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা, ইত্যাদি। চাঁপাই নবাবগঞ্জের আম :  বাংলাদেশে যতগুলো আম উৎপাদিত হয় তার সিংহভাগই চাঁপাই নবাবগঞ্জের। এ অঞ্চলের মাটির গঠন এবং আবহাওয়া আম চাষের জন্য সবোর্ৎকৃষ্ট। আমার ছোটবেলায় আমি যে সব এলাকায় ধান, গম ইত্যাদি ফসল চাষ হতে দেখেছি এখন তার কিছুই নেই । চতুর্দিকে শুধুই আম বাগান। যতদিন আম আছে এই এলাকার সবচেয়ে গরীব মানুষটিও হাতে কিছু টাকা পয়সা নিয়ে ঘুরে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই হোক ছয় বছরের একটি শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের একজন বৃদ্ধ সবাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত আমের সংগে।  আমের মুকুল চাঁপাই নবাবগঞ্জের একটি শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক দৃশ্য। আপনি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকবেন, চোখের পলক পড়বেনা। মৌ মৌ সুগন্ধে আপনাকে মাতাল করে দেবে। আম বাগান দিয়ে যখন হাঁটবেন তখন দেখবেন আপনার পা মাটিতে পড়ছেনা। আমের ঝরা মুকুল পড়ে মাটির উপরে হলুদ কমলা আস্তরন পড়ে আছে যেন সেখানে ছড়িয়ে দেয়া আছে অপরুপ এক গালিচা। দিন গড়িয়ে যায়। আস্তে আস্তে আমের মুকুল ঝরে যায় এবং সেখানে দেখা দেয় ছোট ছোট গুটি।   আমি যখন এই টিউনটি লিখছি তখন আম তার কৈশর বয়স অতিক্রম করছে। এখন পশ্চিমাকাশে এক টুকরা কালো মেঘ দেখা দিলেই সব ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ব্যাগ বা বস্তা যার যেটা আছে সেটা নিয়েই ছুটবে আম গাছের নিচে। আবার সকাল হলেই আপনি বাড়ীর পাশ দিয়ে ধুপধাপ শব্দ শুনতে পাবেন। কে কার আগে বাগানে যেতে পারে। মায়েরা তার বাচ্চার কুড়ানো আম ছোট ফালি করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিয়ে সংরক্ষন করেন সেটাকে বলা হয় "আমচুর"।  ছোট পুঁটিমাছ ছোল করে তার মাঝে কয়েক টুকরা আমচুর ছড়িয়ে দিলে তার স্বাদ আপনার মুখে লেগে থাকবে অনেকদিন। সেই আম কুড়িয়ে নিয়ে এসে কেউ বাজারে বিক্রি করে। এক টাকা, দুই টাকা কেজি এইভাবে আম বড় হবার সাথে দামও বৃদ্ধি পায়। একজন ছোট বাচ্চার কাছে সে যদি ঝড়ে পনেরো-বিশ কেজি আম কুড়ায় এবং সেগুলো বিক্রি করে ৩০-৪০টাকা পায় তবে আমাদের মতো অজপাড়া গ্রামে সেটাই লাখ টাকার শামিল। কারন এটা তার নিজস্ব ক্যাশ। কেউ এটাতে ভাগ বসাবেনা বা হিসাব চাইবেনা সে নিজের ইচ্ছামতো খরচ করে। আপনারা নিজেদের ছোটবেলায় একবার ফিরে গিয়ে মনে করার চেষ্টা করুন (সবাই না) দোকানে একটি খেলার জিনিস বা কোন কিছু খাওয়ার শখ হয়েছে কিন্তু বাবার কাছে চাইতে পারছেন না। বা চাইলেও অনেক সাধনা করতে হতো। কিন্তু আমাদের এলাকার বাচ্চাগুলোকে দেখলে আপনার এক ধরনের হিংসা হবে। তারা আমের সময় প্রত্যেকেই কমপক্ষে একশত টাকার মালিক। রাস্তা দিয়ে যখন তারা হাঁটে তখনও একটা মুডের মধ্যে থাকে। মার্বেল বলেন, লাটিম বলেন যদি ইচ্ছা হয় "হার্ডক্যাশ" দিয়ে সুতা এনে ঘুড়ি বানিয়ে অথবা কয়েকজনে চাঁদা তুলে ব্যাটবল কিনে রাজ্যসুখ ভোগ করে।  আম যখন একটু বড় হয় তখন ভিতরের আঁটি শক্ত হতে থাকে। এই সময় ঝড় হলে শুধু ছোট বাচ্চারাই নয় বড়রাও ছোটে আম বাগানের উদ্দেশ্যে। একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে আম কুড়ানোর প্রতিযোগীতা। আমের দামটাও তখন একটু বেশি থাকে। কেজিপ্রতি ৫টাকা বা তার উপরে দাম থাকে আমের। একজন মানুষ যদি ঝড়ের সময় আম বাগানে যায় এবং সে যদি সব চেয়ে অকর্মাও হয় তবেও কমপক্ষে বিশ-ত্রিশ কেজি আম কুড়াতে পারবে। এভাবেই মানুষ আমের সময় ফ্রি ফ্রি কিছু টাকা কামাই করে। ঝড় হলে ছেলে বুড়া ধনী গরীব বলে কোন কথা নাই। সবাই ছোটে আম বাগানের দিকে কারন আম কুড়িয়ে খাবার যে মজা, আপনাকে সারা পৃথিবীর সব আম গাছের মালিক বানিয়ে দেয়া হলেও আপনি সেটা পাবেন না। একজন বড় মাপের ধনীও যদি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকেন এবং গাছ থেকে আম পড়ে তবে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেন না।  এই সময় আম বিক্রি ছাড়াও সেটাকে রান্না করে খাওয়া যায়। বিশেষ করে মাছের সঙ্গে আম রান্না করলে সেটা অমৃতের কাছাকাছি চলে আসে। মায়েরা শিশুদের কুড়িয়ে আনা আমগুলোকে আচার করার জন্য চার টুকরা করে সেটাকে লবন, মরিচ, হলুদ মাখিয়ে রোদে শুকাতে দেন। সেই জিনিস দেখলে আপনার জিহ্বায় পানি আসা ওয়াজিব। আমি লিখতে গিয়েও আমার জিহ্বায় জল অনুভব করছি। টক, ঝালের অপুর্ব সমন্বয়ে আপনাকে পাগল করে দেবে। আপনি যতই খাবেন মন ভরবে না। সবশেষে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি আপনার হাজার বছরের তৃষ্ণা নিবারন করে দেবে। আমার মনে আছে আমি ছোটবেলায় আম কুড়ানোতে বেশ পারদর্শী ছিলাম। আমার আম্মু আমার আমগুলো আমার ইচ্ছামতো গুড় মিশিয়ে রান্না করতেন। আমি এবং আমার বোন ভাতের সঙ্গে, রুটির সঙ্গে আবার সারাদিন আঙ্গুলে লাগিয়ে রেখে খেতেই থাকতাম। আচারের জন্য আম শুকানোর সময়তো আমরাও বসে যেতাম রোদের মধ্যে । ভাইবোনে প্রতিযোগীতা করে খেতাম লবন মরিচ মাখানো কাঁচা আম। যেটুকু থাকতো সেগুলোকে সরিষার তেল মাখিয়ে বয়ামে করে রেখে দিতেন সারা বছরের জন্য। এখনও যদি কোন কারনে বাড়ীতে ভালো তরকারী না থাকে তবে কয়েকটুকরো আমের আচার দিয়েই আমরা পেটপুরে গরম ভাত খেতে পারি। আচার শব্দটার সাথে এখন আপনারাও বেশ পরিচিত। প্রতি বছর ঢাকায় আচার প্রতিযোগীতা হয়। বাজারেও নানা কিসিমের আচার কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু মায়ের হাতের তৈরি আচারের স্বাদ আপনি সারা পৃথিবীর বিনিময়েও পাবেন না।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী অনেক পুরনো গাছ। এর কোন কোনটি ২০০-৩০০ বছরেরও বেশি বয়সী। আবার কোনটির বয়স তার চেয়েও বেশি। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আমগাছের কথা সেদিন জানতে পারলাম ফেসবুকে একজনের পোষ্ট থেকে। একটি আমগাছ যার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২