Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আমের দেশে একদিন

চলছে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে দেশের সবচেয়ে বড় আমের পাইকারী হাট দেখার শখ আমার অনেক দিনের। কিন্তু সময় আর সুযোগ করে যাওয়া হয়ে ওঠে না। হঠাৎ দুই দিনের ছুটি পেয়ে বন্ধুরা মিলে ট্রেনের টিকিট কেটে ফেললাম।

রাতের ট্রেন। বন্ধুরা নির্ধারিত সময়ে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে এক এক করে জড়ো হতে লাগলেন। নীলা আপু, তানভীর ভাই, রূপন, রিপন, নিলাঞ্জনা দিদি, পারভেজ, শামীম, শিবু ভাই আর আমাকে ধরে ৯ জনের একটি দল। পুরো আকাশ আমাবস্যার মতো অন্ধকার হয়ে কালো মেঘে ছেয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। চারদিকে বাতাস বয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টি শুরু হল। রাজশাহীতে পৌঁছলাম কাকডাকা ভোরে। একটি হোটেলে নাশতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটের উদ্দেশে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে চড়লাম। সেদিনও প্রকৃতিতে ছিল বিরূপ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের মাইক্রোবাস রাজশাহী পেরিয়ে মহানন্দা নদের পাশ ঘেঁষে ছুটছে আঁকাবাঁকা পথে। রাস্তার দুই ধারে সবুজের সমারোহ। সারি সারি গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম। মাইক্রোবাস যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই মাইলের পর মাইল হাজার হাজার আমের বাগান দেখে মন জুড়িয়ে গেল। ঘণ্টা দেড়েক চলার পর থেমে যাওয়া চাকা জানিয়ে দিল আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের পাইকারী হাট কানসাটে চলে এসেছি। তখনও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। কানসাটে পৌঁছে জানা গেল কালবৈশাখীতে বৃষ্টির কারণে দুইদিন ধরে এখানে আমের হাট বসেনি। যদি সারা দিন বৃষ্টি থাকে তাহলে আজও হাট বসবে না। মনটা খারাপ হয়ে গেল।

রূপন প্রস্তাব করল চাঁপাইনবাবগঞ্জের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার। আমরা রূপনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম। বৃষ্টি থামার অপেক্ষা না করেই রওনা হলাম ছোট সোনা মসজিদ দেখতে। ১৫ মিনিটে আমরা হাজির হলাম সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন হিসেবে খ্যাত ছোট সোনা মসজিদের সোনামাখা আঙিনায়। ২০ টাকার নোটের ওপর ছাপানো মসজিদটি দিয়েই শুরু হল আমাদের পরিভ্রমণ। মসজিদ প্রাঙ্গণের আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ২ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও মেজর নাজমুল হকের সমাধি দেখে আমরা সোনা মসজিদ থেকে বেরিয়ে বাঁয়ের একটি মেঠো পথ ধরলাম।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কিছুটা পথ হেঁটে একটি আম বাগানে ঢুকে পড়লাম। পাকা আমের মৌ মৌ ঘ্রাণে মন ভরে গেল। বিস্তৃত বাগানে চাষীরা গাছ থেকে আম পেড়ে ঝুড়িতে করে ভ্যানে নিয়ে হাটে যাওয়ার দৃশ্য দেখেই পুলকিত হলাম। বাগানের মালিকের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষ হলে তিনি গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অনুমতি দিলেন।

দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকাল। সকালে বৃষ্টি থাকায় বিকেলে একের পর এক আম বোঝাই ভ্যান আসতে থাকে কানসাট হাটে। উপর থেকে দেখলে পুরো বাজারটি সবুজ আর সবুজ। কানসাট বাজারে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত আমের হাট বসে। হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ফজলি, ক্ষিরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, সিন্দুরা, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, লক্ষণভোগসহ শত শত প্রজাতির আম বেচা-কেনা হয় এ হাটে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। ৪০ কেজিতে নয়, এখানে ৪৫ কেজিতে আমের মণ ধরা হয়। হাটের পাশে ছোট একটি দোকানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত কলাইরুটি খেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আমরাও কিছু আম কিনলাম ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য। হাজার মানুষের আম কেনা-বেচার দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে টেরই পাইনি। রাতে বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই দমকা হিমেল হাওয়া ছেড়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমে এল।

কীভাবে যাবেন : ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ পথের বাস সার্ভিস হল- মর্ডান এন্টারপ্রাইজ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, লতা পরিবহন, দূরদুরান্ত পরিবহন, এনপি পরিবহন ইত্যাদি। ভাড়া ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া ট্রেনে রাজশাহী নেমে লোকাল বাসে অথবা সারা দিনের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশপাশ।

কোথায় থাকবেন : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল আছে। শহরের শান্তি মোড়ে হোটেল আল-নাহিদ, আরামবাগে হোটেল স্বপ্নপুরী, লাখেরাজপাড়ায় হোটেল রাজ, একই এলাকায় হোটেল রংধনু। এ সব হোটেলে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকায় অবস্থান করা যাবে। এ ছাড়া জেলা পরিষদ ও সড়ক বিভাগের রেস্ট হাউসে রাতযাপন করতে পারবেন।

Comment (0) Hits: 552
 

আমের সময়ে আমের দেশে

আম আর আম। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম। রাস্তার দুই ধারে যত দূর চোখ যায়, কেবলই আমের বাগান। ইচ্ছা করলেই মাটিতে দাঁড়িয়ে, এমনকি শুয়ে-বসেও ছোঁয়া যায়। চাইলে দু-একটা পেড়ে খেতেও পারবেন। যাঁরা এই অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাঁরা এখনই চলে যেতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কিংবা রাজশাহীর আমের বাগানে। প্রখর এই রোদেও ছায়াঘেরা বাগানগুলোতে পাবেন স্নিগ্ধ, শান্তিময় এক পরিবেশ। দেখবেন বিস্তৃত বাগানে একের পর এক গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে আম। ঝুড়িতে করে নিয়ে সেই আম তোলা হচ্ছে ভ্যানে। এরপর সেই ভ্যান যাচ্ছে হাটে। সেখানে সারি সারি মানুষ মণকে মণ আম বিক্রি করছেন। তবে ৪০ কেজিতে নয়, এখানে ৪৫ বা ৪৮ কেজিতে মণ ধরা হয়। কারণ, কিছু আম নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘায় অনেক আমের বাগান থাকলেও আমবাগানের আসল মজা পেতে হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেতে হবে। এখানকার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বলা হয় আমের রাজধানী। রাজশাহী শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সড়কপথে ঘণ্টা দেড়েক লাগবে। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরোটাই নাকি ছিল আমের বাগান। এখনো শহরের আদালতপাড়া, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং কলেজের পুরো অংশই আমবাগান। শহরটা ঘুরলে মনে হবে, আমবাগানের মধ্যেই যেন মানুষের বসতি। সদর উপজেলা ছাড়াও শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর—এই উপজেলাগুলোও আমবাগানের মধ্যে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে বের হয়ে মহানন্দা সেতু পেরিয়ে শিবগঞ্জের দিকে রওনা দিলে রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে হাজার হাজার আমের বাগান। শহর থেকে শিবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সঙ্গে গাড়ি থাকলে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন। রাস্তায় যেতে যেতে চোখে পড়বে আমের ভ্যান, আমের গাড়ি, মানুষের হাতে আম, মাথায় আম।

 

শিবগঞ্জের সেনের বাগান, মোজাফফর মিয়াদের বাগান, কানসাটের রাজার বাগান, কানসাটের পাগলা নদীর পশ্চিম পারের চৌধুরীদের বাগানসহ আরও অনেক নামকরা আমের বাগান রয়েছে। চাইলে রাস্তার পাশের যেকোনো আমবাগানে ঢুকে যেতে পারবেন।

কানসাটের একটি আমবাগানে বসেই গল্প হচ্ছিল কানসাট বিদ্যুৎ আন্দোলনের নেতা গোলাম রব্বানীর সঙ্গে। চকেরবাগানে তাঁর নিজেরও একটি আমবাগান আছে। তিনি বললেন, আমের বাগান তৈরি, পানি সেচ, আগাছা দমন, সার দেওয়া, ডাল ছাঁটাই, পরগাছা দমন, মুকুল আসার পর যত্ন নেওয়া, ফল এলে পরিচর্যাসহ অনেক কাজ রয়েছে। শিবগঞ্জের মানুষ সারা বছরই এসব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

সারা বছর আমবাগানগুলোতে ব্যস্ততা থাকলেও এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই—এই সময়টা আমবাগানে ঘোরার জন্য ভালো সময়। কারণ, চাইলে এই সময়ে আম খেতেও পারবেন। শিবগঞ্জে এসে আপনি যেকোনো বাগানে ঘুরতে পারবেন। বিশ্রাম নিতে পারবেন আমবাগানের মধ্যে থাকা ছোট্ট ছোট্ট মাচায়।

 

আমবাগান তো ঘুরলেন, আমের হাটে যাবেন না? শিবগঞ্জ ঘুরতে এসে কানসাট না যাওয়াটা বিশাল বোকামি। কানসাটেই সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের হাট। এখানে যত দূর চোখ যায়, দেখবেন আমের বেচাকেনা। ফজলি, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, বোম্বাই, লক্ষ্মণভোগ, ফনিয়া, হিমসাগরসহ শত শত প্রজাতির আম। কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই দেখবেন হাটে গাড়ি ঢুকছে, বের হচ্ছে, লোকজন আসছে-যাচ্ছে, মনে হবে এ যেন আমের স্বর্গ। দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেলে হাটের পাশের ছোট দোকানগুলোতে বসে খেতে পারবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত কালাই রুটি। এই হাট থেকে যত খুশি আম কিনতে পারবেন। শিবগঞ্জ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই সোনামসজিদ স্থলবন্দর। চাইলে সেখানেও একবার ঘুরে আসতে পারেন।

 

 

যেভাবে যাবেন

 

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সড়কপথ, রেলপথ কিংবা আকাশপথে চলে যান রাজশাহী। সেখান থেকে সারা দিনই চাঁপাইনাবগঞ্জের বাস ও ট্রেন চলে। চাইলে ঢাকা থেকে সরাসরিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসতে পারেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকার খুব ভালো হোটেল নেই। তাই পরিবার নিয়ে এলে রাজশাহীতে থাকাই ভালো। রাজশাহীতে থাকার জন্য যেমন সরকারি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভালো মানের অনেক হোটেলও।

Comment (0) Hits: 483
 

ঘুরে আসুন আমের হাটে

রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘায় অনেক আমের বাগান থাকলেও আম বাগানের আসল মজা পেতে হলে যেতে হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এখানকার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বলা হয় আমের রাজধানী। রাজশাহী শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।  সড়কপথে ঘণ্টা দেড়েক লাগবে। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরোটাই নাকি ছিল আমের বাগান। এখনো শহরের আদালতপাড়া, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং কলেজের পুরো অংশই আম বাগান। শহরটা ঘুরলে মনে হবে, আম বাগানের মধ্যেই যেন মানুষের বসতি। সদর উপজেলা ছাড়াও শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর, এসব উপজেলাও আম বাগানের মধ্যে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে বের হয়ে মহানন্দা সেতু পেরিয়ে শিবগঞ্জের দিকে রওনা দিলে রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে হাজার হাজার আম বাগান। শহর থেকে শিবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সঙ্গে গাড়ি থাকলে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন। রাস্তায় যেতে যেতে চোখে পড়বে আমের ভ্যান, আমের গাড়ি, মানুষের হাতে আম, মাথায় আম— চারদিকে শুধু আম আর আম। সারা দেশেই কম-বেশি আমের ফলন হয়। তবে রাজশাহী জেলা আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও জেলার আম চাষের প্রধান কেন্দ্র হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আর এখানকার মোট আমের ৬০ ভাগ উৎপাদিত হয় শিবগঞ্জে। সব মিলিয়ে জেলায় আমের গাছের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। জেলায় প্রায় দেড় লাখ টনের বেশি আম উৎপাদন হয়। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরোটাই নাকি ছিল আমের বাগান। এখনো শহরের আদালতপাড়া, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং কলেজের পুরো অংশই আমবাগান।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে বের হয়ে মহানন্দা সেতু পেরিয়ে শিবগঞ্জের দিকে রওনা দিলে রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে হাজার হাজার আম বাগান। শহর থেকে শিবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সঙ্গে গাড়ি থাকলে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন।  দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সড়ক, রেল কিংবা আকাশপথে চলে যান রাজশাহী। সেখান থেকে সারা দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাস ও ট্রেন চলে। চাইলে ঢাকা থেকে সরাসরিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসতে পারেন।  চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকার খুব ভালো হোটেল নেই। তাই পরিবার নিয়ে এলে রাজশাহীতে থাকাই ভালো। রাজশাহীতে থাকার জন্য যেমন সরকারি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভালো মানের অনেক হোটেলও।  চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারটি প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশত বাজার রয়েছে। দেশের আমের সবচেয়ে বড় বাজার বসে শিবগঞ্জের কানসাটে। কানসাটের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুইধার জুড়ে বসে আমের বাজার।  গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে বসে আমের বড় আরেকটি বাজার। এখানকার পাইকারি বাজারগুলোয় ৪০ কেজিতে এক মণের স্থলে ৪৫ থেকে ৫০ কেজিতে এক মণ হিসেবে আম বিক্রি হয়। কানসাটে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। জেলায় প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর আম বাগান আর চারটি প্রধান আমের বাজারে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার বেশি আম কেনাবেচা হয়। এখানে গড়ে ওঠা প্রায় ১২৫টি আড়ত থেকে দেশের পাইকারি ক্রেতারা আম কিনে নিয়ে যান।  গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাত, ফজলি আর হিমসাগর। আমের হাট রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর আম কেনাবেচায় জমজমাট। রাজশাহীর প্রবেশদ্বার পুঠিয়ায় প্রবেশ করার পর পরই রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধকিলোমিটার রাস্তাজুড়ে আম কেনাবেচা দেখেই বোঝা যায় এটিই বানেশ্বর আমের হাট।  পুঠিয়ার বানেশ্বর আমের হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। পুঠিয়া ছাড়াও কাটাখালী, দুর্গাপুর, বাগমারা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার বিক্রেতারাও আম বিক্রি করতে আসেন হাটে। এ কারণে আম বেচাকেনায় এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বেপারি সূত্রে জানা যায়, এই হাটে প্রতিদিন ৫ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়।  এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে। বানেশ্বর হাটকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ৫০ হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়েছে। ভোর রাত থেকেই স্থানীয় আমচাষী ও পাইকাররা ভ্যান, ভটভটি, নসিমন, করিমনসহ বিভিন্ন বাহনে আম নিয়ে আসেন বানেশ্বর হাটে। পাইকার ও চালানি বেপারিরা আম কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন স্থানে।  আমকে ঘিরে বানেশ্বর হয়ে উঠেছে রাজশাহীর প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র। বানেশ্বর এখন আমচাষী, পাইকার, ফড়িয়া ও চালানি বেপারিদের পদভারে মুখরিত।  এখানকার চাষীরা সরাসরি বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে হাটে নিয়ে আসেন। তাই বানেশ্বর হাটের আম বিষমুক্ত। রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলা পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও বাঘার কমবেশি প্রায় সব বাগানের আম এ হাটে আসে। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট। এ হাটে প্রায় আমের শতাধিক আড়ত রয়েছে। এ হাটে হাজারও লোক বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

Comment (0) Hits: 627

চাপাইনবাবগঞ্জ ভ্রমণ

উত্তরবঙ্গ ঘুরতে বের হয়েছি। ছিলাম বগুড়া, এরপর সেখান থেকে এসেছি রাজশাহী। রাতে রাজশাহীতে ছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করেছি আম এবং লিচু দিয়ে। এরপর রুম চেক আউট করে বের হয়েছি। গন্তব্য চাপাই নবাবগঞ্জ। চাপাই কোথায় যাবো, তখনো জানি না। রাজশাহী থেকে গুগল ম্যাপে দেখলাম এক ঘণ্টার মত লাগবে যেতে। তো শুনেছি চাপাই অনেক আম গাছ। আমি বাস স্ট্যান্ড থেকে নেমে কাছে ধারে কোন আম বাগানে গিয়ে ঘুরে আসব। কিন্তু নামার পর শুনলাম কানসাটের দিকে আম বাগান বেশি। অটোতে করে যেতে হবে। অটো বলতে ইঞ্জিন চালিত ছোট CNG এর মত এক ধরণের যান। কানসাই নেয়াড় জন্য ভাড়া চাইলো ৩০০ টাকা, আবার বাস স্ট্যান্ড দিয়ে যাবে। চাপাই এর সোনামসজিদ অনেক পুরাতন, প্রত্ন সম্পদ। তা কানসাই থেকেও দুরে। তার পাশেই আছে তাপাখানা। তাও প্রত্ন সম্পদ। যেহেতু এসেছি, সেহেতু দেখে চাই। তার জন্য ভাড়া চাইলো ৫০০। পরে ৪৫০ টাকায় রাজি হলো আমাকে নিয়ে গেলো।

যাওয়ার পথের দুই ধারেই অনেক আম বাগান। অনেক আমই এখনো ছোট ছোট। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার হচ্ছে কানসাই। যদিও এখনো তা জমে উঠে নি। কয়েক দিন পর তা জমে উঠবে। সোনা মসজিদ, তাহাখানা মসজিদ   দেখে ফেরার সময় এক জায়গা থেকে আম কিনে নিলাম অল্প কিছু। খাওয়ার জন্য। অটোতে বসে খাওয়ার কারণে রস ছিটকে আমার জামায় পড়ল। দুই পাশের আম বাগান দেখতে দেখতে ফিরে এলাম চাপাই নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। ঐখানে এসে অটো বেটা ৪৫০ টাকা এর জাগায় ৫০০ টাকা চেয়ে রাখল। ভদ্র ভাবেই চাইলো।

তাহাখানা মসজিদ এ দুইটি পাথর রয়েছে। একটাকে বলে মুর্দা পাথর, আরেকটা জ্যান্ত। একটা ছোট। আরেকোটা বড়। বড়টা নাকি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে

কানসাট থেকে ফেরার পথে আপচুস হচ্ছিল। সব জায়গাতে কারো সাথে না কারো সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু চাপাই খুব কম সময়ের জন্য আসার কারণে কারো সাথে দেখা হয় নি। আম কিনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি, এমন সময় Abdul Ouadud আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করল দেখা করবে। পরে আমি নাম্বার দিলাম। উনি আসল। দেখা ও হলো কথা হলো। এরপর উনি আমাকে বাসে উঠিয়ে দিল। সব জাগায় অনলাইন কমিউনিটির কারো না কারো সাথে দেখা হওয়াটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। সবাই এত আন্তরিকতা দেখিয়েছে। আমি ঢাকা বসে যা কল্পনাও করতে পারতাম না। বের হয়েছি একা একা। কিন্তু একটি বারের জন্যও মনে হয় নি আমি একা। কোন জাগায় গিয়ে আমি একা থাকি নি। কেউ না কেউ আমাকে সময় দিয়েছে। আমার এ ভ্রমটাকে দারুণ করে তুলেছে। কৃতজ্ঞতা কিভাবে যে জানাই। বলতে পারি, আমাদের অনলাইন কমিউনিটির মানুষ গুলো যথেষ্ঠ আন্তরিক।

বাস স্ট্যান্ড এসে দেখি আম বিক্রি করে। আম কিনলেই তা আমাকে ঢাকায় আনতে মোটামুটি ভালো কষ্ট সয্য করতে হবে। বাসে উঠাও, বাস থেকে নামাও। আবার বাস স্ট্যান্ড থেকে রেল স্টেশন আনো ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব চিন্তা করেই আম কিনি নাই। পরে আবার মত পরিবর্তন করে কিনে ফেললাম কিছু। ওরা বক্স করে দিল। রাজশাহী নিয়ে আসলাম। বিকেলেই চলে এসেছি রাজশাহী, ট্রেন ১১টা ২০ এ। এই আম গুলো আমার জন্য এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরহাদ ভাই এসে নিয়ে গেলো আমাকে উনার রুমে। উনার রুমে আম আর ব্যাকপ্যাক রেখে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছি আবার। মোটর সাইকেলে করে আবার ঘুরালো। নাস্তা করলাম। এদিক সেদিক ঘুরলাম। সাথে ছিল রানা। এরপর ফরহাদ ভাই এর রুমে এসে কিছুক্ষণ বসে বের হলাম সাড়ে নয়টার দিকে। রেল স্টেশনের কাছে সিটি ফুড নামক রেস্টুরেন্টে এসে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম আমরা। আমি ফরহাদ ভাই আরো একজন। আম গুলো ক্যারি করার দ্বায়িত্ব উনারা নিয়ে নিলো। আমাকে আর ধরতে দেয় নি। একে বারে ট্রেনে উঠিয়ে দিল।

ট্রেনে উঠে দেখি অনেক গুলো আমের বক্স। এক ভদ্রলোকের আম। উনার শ্বশুর বাড়ি রাজশাহীতে। শ্বশুররা থাকে না বাড়িতে। ৫ বছর আগে নাকি উনি একটি বাগানে আম গাছ লাগিয়েছে। সেগুলোতে এখন আম ধরেছে। সেই আম এখন নিয়ে যাচ্ছে ঢাকায়। দারুণ!

গতকাল যখন ট্রেনের টিকেট কেটেছি শীত বাথ নামে আমি জানতাম না কি তা। এখানে এসে দেখি স্লিপিং কোচ। ঘুমাতে ঘুমাতে ঢাকায় যাওয়া যাবে। এক কেবিনে চারটি সিট। দুই পাশে দুইটা করে। একটার উপরে আরেকটা বিছানা। আমাদের কেবিনে ছিল আরো দুইজন। একজন আরেকজনের কাজিন। তারা ঘুরতে এসেছে চাপাই নবাবগঞ্জ। এসে দুই মণ আম কিনলো। সেগুলো কুরিয়ারে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়ে ট্রেনে করে ফিরছে। উনাদের সাথে কথা হল কিছুক্ষণ। সবাই ভ্রমণ প্রিয়। ভ্রমণ নিয়ে অনেক গল্প শুনলাম উনাদের কাছ থেকে। এরপর এক সময় ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম যখন ভেঙ্গেছে তখন সকাল ৫টা। উনাদের জিজ্ঞেস করি কোথায় আমরা এখন। বলে কমলাপুর। আস্তে আস্তে ট্রেন থামল। ট্রেন থেকে নামলাম। তখন নতুন আরেকটি দিন… সুন্দর একটা ভ্রমণ করে বাড়ি ফেরার মজাই অন্যরকম।

যথেষ্ঠ ভালো লেগেছে আমার। একা বের হয়েও আমার একা মনে হয় নি। একটুর জন্যও না।

এখানে নওগাঁ এবং নাটোর ঘুরা হয় নি। তা ছাড়া মোটামুটি সব জাগায় ঘুরা হয়েছে। ইনশাহ আল্লাহ, কোন এক সময় এ গুলোও এসে ঘুরে যাবো। সব গুলো জাগাই দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে। অনেক কিছুই স্কিপ করেছি। সব কিছু সুন্দর ভাবে দেখার জন্য আরো বেশি সময় নিয়ে বের হলে সব সুন্দর মত ঘুরে দেখা যেতো।

Comment (0) Hits: 605
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
বাজারে আম সহ মাছ, ফল, সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য সংরক্ষণে যখন হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ফরমালিন, ঠিক তখনই এর বিকল্প আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহম্মদ খান। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান এই বৈজ্ঞানিক ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার আম সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রফতানি পণ্যের তালিকায় উঠে আসার এক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আম ব্যবসায়ীরা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছে এখানকার আম তাদের দেশে নিয়ে যাবার ব্যাপারে। যদিও ইতোপূর্বে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুই হাজার টন আম ...
নব্য জেএমবির বিভিন্ন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ সংগঠনের প্রধান আব্দুর রহমানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রায় ১৯টির মতো সাংগঠনিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত আব্দুর রহমান ওরফে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২