Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আম বাগানে ‘কালটার’ আতঙ্ক

চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার আম বাগানগুলোতে যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ ‘কালটার’। এ কারণে আম বাগানগুলো ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে সম্প্রতি পাঠানো এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার আম চাষের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সম্প্রতি একটি নতুন হুমকি দেখা দিয়েছে। বেপারীরা অগ্রিম ও অধিক পরিমাণে আম উৎপাদনের জন্য আম গাছে ‘কালটার’ নামক রাসায়নিক প্রয়োগ করছে। এতে আম বাগানের মালিকগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জের ৫০%, সদরের ২০-২৫%, গোমস্তাপুরের ৩০%, ভোলারহাটের ২০-২৫% এবং নাচোলের ১০-১৫% আম বাগানে বর্তমানে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ সাল থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার আম বাগানগুলোতে ‘কালটার’ ব্যবহার শুরু হয়। ওই বছরই কালটারের ব্যবহার সম্পর্কে বাগান মালিকরা জানতে পারেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কালটার ব্যবহার করার কারণে প্রথম দুই থেকে তিন বছর আম বাগানগুলোতে ব্যাপক হারে আমের উৎপাদন হয়। পরে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে মারা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার আম বাগানগুলোতে কালটারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে আম বাগান ক্রেতা/ বেপারীরা লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে আম বাগানের মালিকদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘কালটার’ ব্যবহার পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নিষিদ্ধ নয়। ওই সব দেশে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা মানা হয়। এ কারণে বাংলাদেশে কালটার-এর ব্যবহার বিধি ও মাত্রা নির্ধারণ করার জন্য নীতিমালা বা আইন প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘কালটার’ এর প্রয়োগ এখনও পর্যন্ত অনুমোদিত নয়। এ কারণে কালটারের ব্যবহার রোধে চাঁপাই নবাবগঞ্জ আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি ও তথ্য অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় ‘কালটার’ সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা (বন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট আইনে) নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া যায়। ওই জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে যাতে বাংলাদেশে সহজেই ‘কালটার’ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ সচেতন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়ার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি, বিজিবি মহাপরিচালক এবং রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

Comment (0) Hits: 630
 

আমগাছের নতুন বিপদ ‘কালটার’

চোরাই পথে আসা ‘কালটার’ নামে একধরনের রাসায়নিক চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আমবাগানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রথম দু-তিন বছর গাছে আমের ভালো ফলন হচ্ছে। কিন্তু এর পরে আমগাছ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে, ফলের আকার ছোট হয়ে ওজনও কমে যাচ্ছে।
আমাদের জাতীয় বৃক্ষ আমগাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন আশঙ্কা জানিয়ে গত ৩১ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হামিম রাজা ও শরফ উদ্দিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে এই অভিমত তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলছেন, কালটার ব্যবহারের কারণে গত মৌসুমে অনেক নামকরা বাগানের আমগাছে কোনো মুকুল আসেনি, যা আমচাষি ও বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। এর ব্যবহার অব্যাহত থাকলে এই এলাকার আমবাগান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। এই ক্ষতি পোষাতে গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন।
কালটার বা প্যাকলোবিউট্রাজল উদ্ভিদের একধরনের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক রাসায়নিক। এটি তরল বা পাউডার উভয় অবস্থাতেই পাওয়া যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে করা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে এই রাসায়নিক প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে কেউ কেউ এনে আমগাছে তা প্রয়োগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ১০ বছরের কম বয়সী আমগাছে কালটার ব্যবহার করলে ওই গাছ দু-তিন বছর পর ধীরে ধীরে মারা যাবে। আর ১০ বছরের বেশি বয়সী গাছেও যদি অপরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, তাহলেও গাছের ক্ষতি হবে। আমের ফলন পর্যায়ক্রমে কমে আসবে। তাই এটি যাতে কৃষকেরা ব্যবহার না করেন, সে জন্য আম চাষ হয় এমন জেলাগুলোতে কর্মশালা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রচারপত্র তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে এ বছরের শুরুর দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কালটার ব্যবহারের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ৩ মে দেশীয় আমের বাজারের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয় বিএসটিআইকে একটি চিঠি দেয়। সেখানেও কালটার ব্যবহারে আমগাছ ও ফলনের ক্ষতির বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, এটি ব্যবহারে স্বল্প মেয়াদে ফলের উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে কমে যায়। গাছের পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে যায়, ডাল মরে যায়। চূড়ান্তভাবে গাছ মারা যায়।
গত মাসের শুরুতে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বেশ কিছু আমবাগান ঘুরে কালটার ব্যবহারের বিষয়টি দেখা গেছে। শিবগঞ্জের সৎরাজিপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়কের ভাঙারির দোকানে স্তূপাকারে কালটারের অনেক বোতলের হদিস পাওয়া যায়। বেশ কয়েকটি বাগানে গাছের চারপাশে পরিখার মতো নালা দেখা যায়। পরে বেশ কয়েকজন চাষি বলেন, এই নালার ভেতর কালটার দেওয়া হয়। অনেক আমবাগানে কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত কয়েক বছরের জন্য আমবাগান ইজারা নেন এমন চাষিরা দ্রুত লাভের আশায় কালটার ব্যবহার করে থাকেন। এতে প্রথম দু-তিন বছর খুব ভালো ফলন হয়। দ্রুত মুকুল ও গুটি ধরে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আমচাষি ইসমাইল খান শামিম জানালেন, তিনি দুই বছর আগে এক ব্যবসায়ীকে তাঁর বাগান ইজারা দিয়েছিলেন। ওই ব্যবসায়ী গোপনে কালটার ব্যবহার করে প্রচুল আমের ফলন পান। কিন্তু গত বছর তিনি খেয়াল করেন যে কয়েকটি গাছ ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। তাই ইজারা বাতিল করে দিয়ে তিনি নিজেই এখন আমবাগানের দায়িত্ব নিয়েছেন।
গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৫০ শতাংশ বাগানে, গোমস্তাপুরে ৩০ শতাংশ, সদরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং নাচোলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আমগাছে এই কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদন্তে শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবুল কালাম বলেছেন, এলাকার ৮০ শতাংশ বাগানে রাতে গোপনে কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমবাগানে কালটার নামক রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং আমবাগান ধ্বংসের আশঙ্কা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে দেয়। তাতে বলা হয়, বহুবার কীটনাশক ও বালাইনাশক ছিটানোর কারণে আমবাগানে প্রতিবছর নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এখন আমবাগানে অজানা রাসায়নিকের ব্যবহার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কালটার তার একটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালটার ব্যবহারে প্রথমত গাছের নতুন শাখা-প্রশাখা খাটো হয়ে যায় এবং পাতার আকার ছোট হয়। গাছের আকার-আকৃতি রোগাক্রান্ত অথবা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে এমন চেহারা হয়। গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বিভিন্ন রোগ এবং পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। আগাম ফুল আসার প্রবণতা দেখা যায়। ফলের আকৃতি ছোট হয়ে আসে, ওজন কমে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন কীটনাশক ও রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি সিনজেনটার তৈরি একেকটি বোতল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।
জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কালটার চোরাচালান বন্ধে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি। কৃষকেরা যাতে এটি ব্যবহার না করেন, সে জন্য প্রতিটি আম চাষের জেলায় তাঁদের কাছে প্রচার চালাচ্ছি।’

Comment (0) Hits: 639
 

ফলনের আশায় বাগানে কালটার, মারা যাচ্ছে আমগাছ!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের একটি গ্রাম দেবীনগর। শ্যামল ছায়ায় এই গ্রামের ভেতরে ‘সেলিমাবাদ জামে মসজিদ’। মসজিদটির একটি আমবাগান রয়েছে যেখানকার আম বিক্রি করে ইমামের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষাঙ্গিক খরচ মেটায় মসজিদ কমিটি। কিন্তু বাগানের ১২ টি আমগাছের মধ্যে ৯ টিই মারা গেছে! আর যে তিনটি বেঁচে আছে- সেগুলোও মারা দ্রুত মারা যাবে বলে আশঙ্কা করছে মসজিদ কমিটি কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করেই ৯ টি আমগাছ মারা যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুষছেন ‘কালটার’ নামে এক হরমোনকে!

সেলিমাবাদ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসলাইল খান শামীম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ২০০৬ সালে তিন বছরের জন্য মসজিদের বাগানটি এক ব্যবসায়ীকে লিজ দেওয়া হয়। লিজের সময় শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে ৯ টি গাছ মরে গেছে। আর যে ৩ টি গাছ আছে তাও মারা যাওয়ার পথে।

তিনি দাবি করেন, অতি মুনাফার লোভে ওই ব্যবসায়ী গাছগুলোতে কালটার প্রয়োগ করেন। এতে আমের ফলন বেশি হয়েছে; লাভ হয়েছে তার। কিন্তু নষ্ট হল মসজিদের সম্পদ।

এই অবস্থা শুধু মসজিদের আমবাগানের নয়, আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক বাগানেরই। ব্যাপকভাবে কালটার ব্যবহারে অনেক বাগানেরই এমন অবস্থা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে বর্তমানে কালটার আতঙ্কে ভুগছেন বাগান মালিকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আম চাষি শামীম খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যে ব্যবসায়ীকে বাগান ইজারা দিয়েছিলাম- তিনি গোপনে কালটার ব্যবহার করেন। এজন্য প্রথম বছরে প্রচুর আমের ফলন পেয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর খেয়াল করি যে কয়েকটি গাছ আস্তে আস্তে মারা যাচ্ছে। তাই ইজারা বাতিল করে দিয়েছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালটার বাণিজ্যিক নাম, এর রাসায়নিকের জেনেরিক নাম পাকলোবিউট্টাজল। এই হরমোনের কাজ হল আম গাছের সাধারণ বৃদ্ধিকে ঠেকিয়ে রাখা। কিন্তু এদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক ফলনের জন্য আমগাছে কালটার ব্যবহার করছেন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি- দেশে কালটারের যে অবৈধ চাহিদা তার প্রায় ৯০ ভাগই সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবহার হয়। বর্তমানে এদেশের আম বিদেশে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু কালটার ব্যবহারে আস্তে আস্তে যেমন আম বাগানগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে- তেমনি অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখনই সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কালটার বলে পরিচিত এই রাসায়নিক দেশে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে চোরাই পথে আনছে কালটার।

কানসাটের আম ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, কালোবাজারিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে নিয়ে আসছে কালটার। তার পর গোপনে তা বিক্রি করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটার তৈরি একেকটি বোতল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আম বাগানে গোপনে কালটার ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, কালটার ব্যবহার ঠেকানোর জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এ বছর এখনো কালটার ব্যবহারে তার নজরে আসেনি বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা পরিষদের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পাকলোবিউট্রাজল দিলে আমের লতাপাতা গজানোর জন্য যে হরমোন আছে তার সাথে বিক্রিয়া করে। ফলে গাছের বৃদ্ধিকে আটকে দেয়। আমগাছের নির্দিষ্ট বয়সে এই হরমোন দেওয়া হয়ে থাকে বিভিন্ন দেশে। তবে তা মূলত স্বল্প আয়ুর আমের জাতে দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব আম জাতের বয়স থাকে মুলত ১০ থেকে ১৫ বছর- সেগুলোতে এই হরমোন দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই হরমোন পানির সাথে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দেওয়া হয়।

যেহেতু বাংলাদেশের আমের জাতগুলো দীর্ঘজীবী অর্থাৎ এদের আয়ু কমপক্ষে ১০০ বছর তাই বিজ্ঞানীরা তা ব্যবহারে পরামর্শ দেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দশ বছরের কম বয়সে কালটার ব্যবহার করলে গাছের অনেক ক্ষতি হতে পারে। আবার ৩০ বছরের বেশি বয়সের গাছে প্রয়োগ করলে ক্ষতি হয়। যেহেতু আমাদের গবেষণার দিক থেকে কোনো ক্লিয়ারেন্স নাই। এজন্য কালটার ব্যবহারের জন্য আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি না।

তারমতে, উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ আম বাগান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অবৈধ পথে আনা কালটার ব্যবহার বাড়ছে।

বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই কালটারের ব্যবহার ঠেকাতে। সচেতনতা চালাচ্ছি চাষী পর্যায়ে। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি যেন, চোরাই পথে পাকলোবিউট্রাজল জাতীয় কোন হরমোন ঢুকতে না পারে।

এ বছরের শুরুর দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কালটার ব্যবহারের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৫০ শতাংশ বাগানে, গোমস্তাপুরে ৩০ শতাংশ, সদরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং নাচোলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আমগাছে এই কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে।

Comment (0) Hits: 663

ভোলাহাটে বিষাক্ত কালটার ব্যবহারে মরছে আমগাছ

ভারত সীমান্ত  দিয়ে চোরাই পথে আসছে কালটার। বেশি ফলন লাভের আশায় সে কালটার ব্যবহার করে  আমগাছের শিকড় কেটে রাতের অন্ধকারে অতিরিক্তমাত্রায় কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ক’বছর যেতে না যেতেই ৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত আম উৎপাদন হওয়া আমগাছ মারা যাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। এ উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল আম। এক বছর আম না হলে ঘরে ঘরে দূর্যোগ নেমে আসে। আমবাগান মালিকেরা পরির্চচা করতে না পেরে এমনকি আর্থিক সমস্যার কারণে ৩ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত পাতায় আমবাগান বিক্রি করে আমব্যাসায়ীর কাছে। আমব্যবসায়ীরা নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আমবাগান ক্রয় করে থাকে। পরে আমবাগান মালিকেরা আম ব্যবসায়ীদের উপর গভীর বিশ্বাসের উপর ছেড়ে দিয়ে আমবাগানে যাওয়া আসা ছেড়ে দেন।
আর এরই সুযোগেই রাতের আধারে চলছে কালটার বিষ প্রয়োগের কার্যক্রম। এতে আমব্যবসায়ীরা সাময়িক লাভবান হলেও আমগাছ মরে যাওয়া চরম ক্ষতির মূখে পড়েছেন আমবাগান মালিকেরা।

আমবাগানকে ঘিরে গড়ে উঠা বেসরকারী সংস্থা আম ফাউন্ডেশন নানা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না খোড়া ঘুড়ার মতই অবস্থা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা বিষাক্ত কালটার থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে আমবাগান মালিকেরা জানান।

উপজেলার চরধরমপুর গ্রামের আমবাগান মালিক মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, তার তাঁতীপাড়া মৌজার, ১৭৭ নম্বর খতিয়ানের ১৭০ ও ১৭১ নম্বর দাগের ১একর ৩৩শতাংশ জমিতে ৫০টি আমগাছের একটি আমবাগান ২০১৪ সাল হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪ বছরের জন্য উপজেলার যাদুনগর গ্রামের অবৈধ আমব্যবসায়ী শাহাজাহান বাবুর কাছে বিক্রয় করে । নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে পরে জালিয়াতি করে ২য় স্ট্যাম্পের বাম পাশে আমগাছ মরে গেলে বাগান মালিককে দায়িত্ব নিতে হবে বলে জালিয়াত করে।

তিনি বলেন, আমবাগানে বিষাক্ত কালটার ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে এ জালিয়াত করেছে। বর্তমানে কালটার ব্যবহারের কারণে ১৭টি আমগাছ মরতে বসেছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কালটার ব্যবহারে আমগাছ মরে যাওয়ায় আমবাগান মালিকেরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলার আমবাগানে গোপনে কালটার ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে বলে জানান। তবে কালটার ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্তক থেকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এদিকে আমফাউন্ডেশন ভোলাহাটের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, কালটার মানব দেহে যে ক্যান্সার রয়েছে তার চেয়েও ভয়াবহ কালটার। কালটার ব্যবহারে ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে বিভিন্ন ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে ফাউন্ডেশন।

সচেতনমহল সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভোলাহাটের একমাত্র অর্থকরী ফসল আমকে বাঁচাতে কালটার ব্যবহার বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।

Comment (0) Hits: 552
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
আম ও আমজাত পণ্য রপ্তানী বিয়য়ে সেমিনার হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রপ্তানীর প্রশিক্ষন কর্মসুচীর আওতায় শনিবার সকালে দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম। আলোচনার মাধ্যমে আম রপ্তানী ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২