Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

ফরমালিনমুক্ত আম বাজারে

সংশয় বা আতঙ্ক কেটে গেছে। এবারও আমে ফরমালিন নেই। বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অএন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর পরীক্ষায় বাজারে আসা আমে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। গতকাল শনিবার ঢাকার কয়েকটি বাজারে অভিযান চালিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষায় আমে ফরমালিন পাওয়া যায়নি বলে জানান বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজুল হক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য সুখবর। বিশেষ করে যারা বিষাক্ত রাসায়নিকের ভয়ে মৌসুমী ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন তাদের জন্য খুবই ভালো খবর এটি। ভেজালবিরোধী অভিযানের এক সময়ের আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল-আমীন এ প্রসঙ্গে ইনকিলাবকে বলেন, এখন কৃষক থেকে শুরু করে পাইকারী-খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাই সচেতন। নিজেদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কেউই আর ফলে ফরমালিন দেয়ার পক্ষে নন। এটাকে ভেজালবিরোধী অভিযানের সুফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবেই একদিন সবকিছুই ভেজালমুক্ত হবে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ফলের বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার ভরা মৌসুমেও ফরমালিন মিশ্রিত আম আসছে না। এমনকি পুরান ঢাকার পাইকারী আড়তেও ফরমালিন দেয়ার প্রবণতা নেই। বাদামতলীর পাইকারী ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, আগে র‌্যাব-পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যেও ফরমালিন মেশানো ঠেকানো যেতো না। এখন খুব একটা নজরদারি নেই। তারপরেও কেউই ফরমালিন মেশাচ্ছে বলে তাঁর জানা নেই। আরেক পাইকারী ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, আমরা সচেতন হয়েছি। কেউ আমে বা মৌসুমী অন্য কোনো ফলে ফরমালিন বা কার্বাইড দিচ্ছে এমন খবর শুনলেই মার্কেটের ব্যবসায়ীরাই মিলে প্রতিবাদ করে, বাধা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদন কেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে ব্যবসায়ীরা যাতে গাছ থেকে আম না পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাগানগুলোতে গত ২৫ মে পর্যন্ত আম পাড়া নিষেধ ছিল। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আম চাষী মোবারক হোসেন টেলিফোনে বলেন, ফুল আসার পর কীটপতঙ্গ থেকে রক্ষার জন্য আম গাছে কিছু ওষুধ দেয়া হয়। কীট মরে গেলে আর কোনো প্রকার ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। তিনি বলেন, আগে বাগানেই ফরমালিন বা কার্বাইড ব্যবহার করা হতো একথা সত্য। এখন তা হয় না। প্রশাসন এখন অনেক কঠোর। আমে মুকুল আসার পর থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়। র‌্যাবও মনিটরিং করছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন সব সময় খোঁজ খবর নিয়েছে। এর মধ্যে ফরমালিন মেশানোর সুযোগ নাই। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরেক পাইকারী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, এখন উৎপাদক থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত সবাই সতর্ক। কেউই চায় না আমে বিষাক্ত ফরমালিন মেশাতে। এই সচেতনতাই আমকে ‘বিষমুক্ত’ করেছে। ঢাকার কয়েকজন ফল ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের আগেই ভারতীয় আম বাজারে আসে। সে সব আমে ফরমালিন মিশ্রিত থাকে। ফরমালিনের বদনামটা আসে ভারত থেকে আমদানিকৃত আম থেকেই। যাত্রাবাড়ীর ফল বিক্রেতা সায়মন বলেন, ভারত থেকে আনা আমগুলো অনেক দিন বাজারে রাখতে হয় বলে সেগুলোতে ফরমালিন মেশানো থাকে। বাজারে প্রথম আসার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকে বেশি। দামও থাকে অনেক বেশি। বেশি দাম দিয়ে ক্রেতারা ফরমালিনযুক্ত আমগুলো কেনার পর সেগুলো কেনার পর ‘বদনাম’ হয় দেশী আমের। মীরহাজিরবাগের ব্যবসায়ী আলম বলেন, দেশী আমে ফরমালিন দেয়ার প্রয়োজন হয় না। দেশী আম মোটামুটি ‘পোক্ত’ হলেই বাজারে আসে। ওই আম পাকতেও দেরি হয়। বিক্রিতে সময় পাওয়া যায়। একটানা ১০/১৫দিন রাখলেও ঝুড়ির আম পচে না। গত কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে আমের রাসায়নিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জানান, বাজারের আমে কোনো প্রকার রাসায়নিক পদার্থ বা ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায় নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই টিম অভিযানকালে আম, আপেল, আঙ্গুর এবং মাল্টার ২০টি নমুনা সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব নমুনা পরীক্ষায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার মৌসুমের আগে থেকেই ফলে ফরমালিন ও কার্বাইড ব্যবহারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সুফল এটি। আতঙ্কে মৌসুমী ফল খাওয়া ছেড়ে দেয়া মানুষের জন্য এটি অনেক বড় সুখবর। এ প্রসঙ্গে বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজুল হক গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, সারাদেশে বিএসটিআইয়ের ৬টি অফিসের মাধ্যমে ভেজালবিরোধী অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে ফলে ফরমালিন দেয়ার প্রবণতা কমেছে। তবে বিএসটিআইয়ের এই কর্মকর্তা মনে করেন, অভিযানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে সেটা অনেকটাই ফলপ্রসূ হয়েছে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী অনেক পুরনো গাছ। এর কোন কোনটি ২০০-৩০০ বছরেরও বেশি বয়সী। আবার কোনটির বয়স তার চেয়েও বেশি। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আমগাছের কথা সেদিন জানতে পারলাম ফেসবুকে একজনের পোষ্ট থেকে। একটি আমগাছ যার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও ...
দেশের বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট নিয়ে আসলো ম্যাংগো। এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ম্যাংগো ১১ টি মডেলের হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছে। এগুলোর মধ্যে ৫টি স্মার্টফোন এবং ৬ টি ফিচার ফোন। এর একটি মডেলের নাম ফজলি। এটি ফিচার ফোন। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ম্যাংগো অনুষ্ঠানিকভাবে ফোনগুলো অবমুক্ত করে। ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২