Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

নার্সারী যন্ত্রপাতি

নার্সারীতে বিভিন্ন কাজ যেমন বীজতলা তৈরি, চারা উৎপাদন, চারার যত্ন ও পরিচর্যা, চারা তোলা, কলম তৈরি ইত্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি থাকা বাঞ্ছনীয়। নিন্মে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

১) কোদাল (spade)

জমি কর্ষণের পর বীজতলা তৈরি, নার্সারী বেডের মাটি আলগা ও ঝুরঝুরা করা, নিকাশ নালা তৈরি ও পরিষ্কার করা, নার্সারীতে চলাচলের জন্য ছোটখাট রাস্তা তৈরি করা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে কোদাল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
২) ট্রাওয়েল (trowel) মাটিসহ চারা তোলা ও স্থানান্তরের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়, তাছাড়া নিড়ানির কাজেও একে ব্যবহার করা যায়।
৩) গার্ডেন ফর্ক (garden fork) বীজতলায় মাটি আলগা করা ও আগাছা নিড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
৪) হ্যান্ড কালটিভেটর (hand cultivator) এর কাজ গার্ডেন ফর্কের মতই।
৫) ডিবলার (dibbler) বীজতলায় নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে বীজ বোনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৬) দ্বিফলকবিশিষ্ট ছুরি (double bladed knife) রিং ও প্যাচ বাডিং করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৭) এক ফলকবিশিষ্ট চাকু (one bladed knife) কাটিং, কলম, কুঁড়ি সংযোজন ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।
৮) সিকেচার (secateurs) ধারালো ফলকবিশিষ্ট এ কাঁচি মাতৃগাছ থেকে নিরাপদে জোড় সংগ্রহ, কলম বিচ্ছেদ ও ছাঁটাই এর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৯) প্রুনিং শীয়ার্স (pruning shears) কলমের চারা ও গুল্মজাতীয় গাছের ছোট-খাট অবাঞ্ছিত ডালপালা কেটে ফেলার কাজে ব্যবহৃত হয়।
১০) গ্রাফটিং নাইফ (grafting knife) বিভিন্ন কলম তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
১১) বাডিং নাইফ (budding knife) বিভিন্ন বাডিং ও কুঁড়ি সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
১২) প্যাচ বাডার (patch budder) প্যাচ বাডিং করার জন্য দরকার হয়।
১৩) প্রুনিং করাত (pruning saw) ডালপালা ছাঁটাই এর কাজে ব্যবহৃত হয়।
১৪) সীড ড্রিল (seed drill) বীজ বোনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
১৫) হ্যান্ড লেভেলার (hand leveller) বীজতলার মাটি সমান করার জন্য দরকার হয়।
১৬) হ্যান্ড রেক (hand rake) বীজতলায় মাটি আলগা করা ও ঝুরঝুরা করার জন্য দরকার হয়।
১৭) পাওয়ার সেপ্রয়ার, বাকেট, ডাস্টার ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার নার্সারীতে কীটনাশক ও রোগনাশক ছিটানোর জন্য দরকার হয়।
১৮) ব্লেড (blade) পলিথিন স্ট্রিপ তৈরি করা, কলম ও কুঁড়ি সংযোজনের ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়।
১৯) ধারানোর জন্য পাথর চাকু ধারানোর জন্য দরকার হয়।
২০) চালুনি (sieve) বীজ প্রকিয়াজাত করনের জন্য দরকার হয়।
২১) পলিথিন ব্যাগ ভিনিয়ার কলম তৈরিতে দরকার হয়।
২২) রাবার স্ট্রিপ, ফিতা ও পলিথিন স্ট্রিপ কলম তৈরি ও কুঁড়ি সংযোজনের জন্য দরকার হয়।
২৩) ওয়াটারিং ক্যান (watering can) চারাগাছে পানি দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৪) পট, ট্রে ও বিভিন্ন ধরণের পাত্র চারা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া পটে চারাগাছ, কলম বা ফুলসহ বিক্রয় করার জন্য দরকার হয়।
২৫) সিলিন্ডার (cylinder) তরল রাসায়নিক দ্রব্য মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৬) গ্রাফটিং মোম গ্রাফটিং এর সময় ক্ষতস্থান বায়ুরোধী করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে তাড়াতাড়ি উপজোড় ও আদিজোড় একসাথে জোড়া লাগে।
২৭) কীটনাশক ও রোগনাশক নার্সারীতে কীটপতঙ্গ ও রোগ-বালাই দমনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
২৮) সার ও কম্পোষ্ট সীডবেড, নার্সারী বেড ও পটে ব্যবহার করা হয়।
২৯) দড়ি (rope) গুটি কলম ও অন্যান্য কলম করার সময় দরকার হয়। তাছাড়া অন্যান্য প্যাকিং এর কাজে দরকার হয়।
৩০) মিজারিং টেপ ফিতা সীডবেড তৈরির সময় জমি মাপার জন্য দরকার হয়।
৩১) নিক্তি (scale/balance) বীজ, সার ইত্যাদি মাপার জন্য দরকার হয়।
৩২) লাঙ্গল, আচড়া, শাবল ও খন্তা মাটি কর্ষণ ও গর্ত করার জন্য দরকার হয়।
৩৩) টিউব ওয়েল, পাম্প ও বালতি পানি সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩৪) এন্টিবার্ড নেট (antibird net) পাখির হাত থেকে ফল রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩৫) হেজ শীয়ার্স (hedge shears) বাগানের চারপাশে বেড়া বা হেজ ছেঁটে সুন্দর করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩৬) ট্রি প্রুনার (tree pruner) গাছের বড় ডাল-পালা কাটার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩৭) প্লান্টিং বোর্ড (planting board) গর্তের মাঝখানে সঠিকভাবে চারাগাছ রোপণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩৮) সীড মাস্টার (seed master) ছোট পিচ্ছিল বীজ বোনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩৯) ফ্রুট পিকার (fruit picker) ফল পাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪০) প্লান্ট কেয়ার মিটার (plant care meter) মৃত্তিকার আর্দ্রতা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪১) প্লাটফর্ম স্টেপ ল্যাডার (platform step ladder) ফল পাড়ার জন্য ও ছাঁটাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪২) নী গার্ডস (knee guards) কাজ করার সময় হাঁটুতে বাঁধা হয়।
৪৩) অন্যান্য যন্ত্রপাতি >যেমন এক ও দুই চাকার ঠেলাগাড়ি, প্লাষ্টিক বা রাবারের পাইপ ইত্যাদি বিভিন্ন দ্রব্য স্থানান্তরের জন্য দরকার হয়।

Comment (0) Hits: 1316
 

আমের বীজ ব্যবস্থাপনা

সাধারনত বেশিরভাগ আমের জাত একবীজপত্রী হয় , তবে কিছু জাত বহুবীজপত্রীও হয়ে থাকে। আমগাছে  অধিক বৈচিত্রের জন্য  অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করার সুপারিশ করা হয়।  

 

অঙ্গজ জননের কিছু পদ্ধতি    

 

জোড় কলমঃ

 

জোড় কলমে তিন মাস থেকে তিন বছরের আঁটির চারা ব্যবহার করা যেতে পারে। চারা এক বছরের হলে জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিকে মূল শিকড় কেটে দিতে হবে। ১৫-২০ দিন পরে ওই চারাগাছ মাটির টবে (২০ X ১৫ X ১০ সেমি) তুলে রাখতে হবে। আরও ১৫-২০ দিন পরে এই চারা ভাল জাতের গাছের সমান মোটা ডালের সাথে জোড় কলম বাঁধতে হবে।

 

আঁটির চারা এবং ভাল জাতের গাছের ডালে ৬-৮ সেমি পরিমান লম্বা এবং ১/৩ অংশ গভীর করে কেটে কাটা অংশ মুখোমুখি জুড়ে ভাল করে সুতলি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে যতদিন অবধি ভাল করে জোড়া না লাগে। মাটির কাছাকাছি প্রয়োজনমত শাখা না পেলে অনেক সময় টবগুলিকে উঁচুতে তোলার জন্য মাচা বানাতে হয় এবং কখনও কখনও টবে জল সেচ করার দরকার হয়। ২-৩ মাস পরে চারাগাছটির মাথার দিক ও ভাল জাতের ডালটির গোড়ার দিকে কেটে ফেলে নামিয়ে আনতে হবে। তারপর গাছটি ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখতে হবে। 

 

ভিনিয়ার কলমঃ

 

এই পদ্ধতিতে ১ বছরের আঁটির চারাতে ৩-৪ মাসের ভাল জাতের গাছের প্রান্তিক ডাল জোড়া দেওয়া হয়। আঁটির গাছ এবং ভাল জাতের গাছের নির্বাচিত ডাল (সায়ন) ১৫-২০ সেমি লম্বা, সম পরিধি বিশিষ্ট এবং পেন্সিলের মত মোটা হওয়া উচিত। চারা গাছ এবং ভাল গাছের নির্বাচিত ডালে ৪-৫ সেমি লম্বা এবং ২/৫ অংশ গভীর করে কেটে মুখোমুখি জুড়ে এলকাথেন (২০০ গেজ কাগজের ১.৫ সেমি চওড়া ফিতে)  দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। ৩-৪ সপ্তাহ বাদে ভাল জাতের যে ডালটি লাগানো হয়েছে তাতে কচি পাতা বের হলে, আঁটির গাছের ডগাটিকে জোড়ার ৫ সেমি উপর থেকে কেটে ফেলতে হবে। 

 

জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাস এই ধরনের কলম করার ভাল সময়। 

 

 

 

 

 

আঁটি কলমঃ

 

আঁটি কলম দুই পদ্ধতিতে করা যায়- 

 

১) আঁটি থেকে আনুমানিক ৩-৪ সেমি উপরে চারার মাথাটি কেটে বাদ দিতে হবে। তারপর একটি ধারালো ছুরি দিয়ে চারার কাটা দিক থেকে আঁটির দিকে লম্বালম্বি ২-৩ সেমি চিরে দিতে হবে। এবার ভাল জাতের নির্বাচিত ডালটিকে দুপাশ থেকে ২-৩ সেমি লম্বা তির্যকভাবে কেটে চারার চেরা অংশ বসিয়ে, ১.৫ সেমি চওড়া এলকাথেন কাগজ দিয়ে ভাল ভাবে বেঁধে দিতে হবে যাতে কোন ফাঁক না থাকে বা জল প্রবেশ না করতে পারে। 

 

২) চারাটিকে আঁটির উপর থেকে আনুমানিক ৩-৫ সেমি লম্বা তির্যকভাবে কেটে মাথার অংশ বাদ দিতে হবে। বাঞ্ছিত ভাল জাতের ডালটিকেও অনুরূপভাবে কাটতে হবে যাতে চারার কাটা অংশের উপর সঠিকভাবে বসান যায়। এবার কাটা অংশ দুটি মুখোমুখি জুড়ে ১.৫ সেমি চওড়া এলকাথেন কাগজ দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।

 

এছাড়াও চোখ কলম, মুকুট কলম, গুটি কলম প্রভৃতি পদ্ধতিতে আমের কলম তৈরী করা যায়। 

 

 

 

 

 

রোপন পদ্ধতি 

 

(১) বর্গাকার। 

 

(২) আয়তক্ষেত্র। 

 

(৩) পঞ্চভুজ। 

 

(৪) ষড়ভুজ। 

 

(৫) চিত্রাকার।

 

 

 

রোপনের সময় 

 

জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

 

 

 

রোপনের দুরত্ব 

 

সাধারনত ১১ মিটার X ১১ মিটার  এবং  সংকর জাতের ক্ষেত্রে ৩ মিটার X ৩ মিটার। 

 

 

 

গর্তের পরিমাপ 

 

১ মিটার X ১ মিটার X ১ মিটার 

 

 

 

গাছের সংখ্যা /একর 

 

৩৩ গাছ / একর ( ১১ মিটার X ১১ মিটার )

Comment (0) Hits: 831
 

আমের চারা বিক্রি হলো লাখ টাকায়

রাজধানীর বাণিজ্যমেলার মাঠে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ২০১৫ তে কেনাবেচার কথা কম বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিক্রি একেবারেই নেই বলা হলেও লাখ টাকায় উন্নত জাতের আমের চারা বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারি উচ্চ গুণসম্পন্ন ‘ওয়ার্ল্ড কিং ম্যাংগো’ নামের একটি চারা বিক্রি করে লাখ টাকায়। উচ্চ মূল্যসম্পন্ন গাছের চারা বিক্রির কথা হিসাবে না ধরলে তুলনামূলক হিসাবে বিক্রি একেবারেই কম।

গাছের দাম এক লাখ, তাও আবার আম গাছ! বৃক্ষ সম্পর্কে যাদের ধারণা একেবারেই কম, শুনে তাদের কাছে অবিশ্বাস্যও মনে হতে পারে। তবে শুধু তাই নয়, বিশেষ কোন প্রজাতির গাছের দাম এক থেকে দেড় লাখ। এমনকি এক লাখ টাকা দামের বট বনশাই নামের একটি বৃক্ষ দেখা গেল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের নার্সারির স্টলে। নার্সারির ম্যানেজার কবির হোসেন খান জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের স্টলে ৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এমনকি এক লাখ টাকা দামের গাছও আছে। বট বনশাই। তবে বিক্রি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ বছর বিক্রি তেমন ভাল নয়। একটানা পাঁচ বছর ধরে মেলায় অংশ নিচ্ছি, তবে এমন কম বিক্রি আর হয়নি। ব্র্যাকের এ স্টলে প্রায় তিন শ’ থেকে চার শ’ প্রজাতির বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ রয়েছে। এমনকি আছে শোভা বর্ধক নানা গাছ। ক্যাকটাস তো আছেই। গাছের নাম বললে শেষ হবে না। নানা বর্ণের নানা রঙের চেনা জানা অচেনা প্রজাতির গাছ। অপরিচিত তবু চেনা জানা সবুজ ভুবন। আম, জাম, কাঁঠাল, আমলকি, তরমুজ, কুল, কাঁঠাল, পেয়ারা, তেজপাতা। চেনা জানা আবার আচেনা। তেলসুর, গামার, গর্জন, লেবু, লিচু কি নেই! বিশ্বের নানা প্রান্তে সকল গাছের সমারোহের নাম জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০১৫। অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে যে কোন মেলা আয়োজনের পেছনে ভিন্ন একটি অর্থ বহন করে। প্রচার, প্রসার ও ব্যবসায়িক মুনাফার বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়োজন হয় অধিকাংশ মেলার। তবে বাণিজ্যমেলার মাঠে আয়োজিত এবারের বৃক্ষ মেলাটি প্রচার না পাওয়ায় হতাশ নার্সারি মালিকরা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নার্সারির নানা প্রজাতি ও বর্ণের বৃক্ষ সবুজ হয়ে ওঠা বাণিজ্যমেলার মাঠে এ মেলার আয়োজনে আছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে। তবে নামমাত্র স্টল বসিয়ে দিয়ে এর প্রচার প্রচারণার বিষয়ে তারা অনেকটাই নীরব। শুক্রবার দুপুরের নামাজের পর মেলায় অবস্থানকালীন এক ঘণ্টা সময়ে মেলার তথ্য কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি কোন কর্তাব্যক্তিকে। তথ্য কেন্দ্রের পাশেই অবস্থিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে একটি ফোন নম্বর দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

২৫ বছর ধরে নার্সারির ব্যবসা করেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার দেলোয়ার হোসেন। নিজের গড়া নার্সারির নাম দিয়েছেন বনরুপা নার্সারি। মেলার ৫৫ নং স্টলে কথা হয় তার সঙ্গে। দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২৫ বছর ধরে নার্সারি করছি। অন্যবারও মেলায় অংশ নিই। রোজ ও আনুষ্ঠানিভাবে মেলা উদ্বোধন না হওয়ার কারণে বেচাকেনা কম। লোকজনও কম আসছে। প্রায় দুই সপ্তাহ মেলায় অংশ নিয়ে তিনি মাত্র ৭০ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমার স্টলে প্রায় ১৫০ প্রজাতির নানা ধরনের গাছ আছে। শোভাবর্ধক নানা ধরনের বৃক্ষ তরুণ প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে।

লেকভিউ সেন্টারের সামনে অনেকটা খেজুর গাছের মতো পানিক্স পাম নামে একটি বৃক্ষ। যে সেই গ্রামের শীতকালের দৃশ্য। খেজুর গাছের মতো গাছটিতেও যেন সদ্য হাঁড়ি দেয়া হয়েছে। মেলা ঘুরে অন্য রকম এক শীতলতা অনুভূত হয়। কেউ কেউ বলেছে, যেন সবুজের এক গ্রামে পরিণত হয়েছে এ মাঠ। মেলায় ঘুরে যে কারও নার্সারি করার শখ জেগে উঠতে বাধ্য।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার মেলায় অন্য যে কোন দিনের তুলনায় বৃক্ষপ্রেমীদের ভির ছিল বেশি। তবে সব মিলিয়ে রোজার কারণে বিক্রির পরিমাণ ছিল কম। মেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পিকআপে ওঠানো কিংবা নামানো হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ।

Comment (0) Hits: 494

গাছের চারায় স্বপ্ন বুনছেন ওহিদ শেখ

মানুষ স্বপ্ন দেখত আকাশ ছোঁয়ার। আকাশ ছোঁয়ার পর সেই ক্ষুদ্র মানুষগুলো এখন মহাকাশে বসবাস করার পরিকল্পনা করছে। আঁকছে রঙ্গিন স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়? স্বপ্ন কি মাত্র একজন দেখে? কোটি কোটি মানুষ স্বপ্ন দেখে। রংপুরের ওহিদ শেখের স্বপ্নটা আলাদা। তিনি গাছের চারায় চারায় স্বপ্ন আঁকেন,স্বপ্ন বুনেন,স্বপ্ন দ্যাখেন। প্রশ্ন হতে পারে গাছের চারায় কোন স্বপ্ন থাকে নাকি? স্ব-চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। ২৫ একর জমিতে ৯ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করে ওহিদ শেখ স্বপ্ন দেখছেন“ দেশটাকে বৃক্ষে বৃক্ষে সবুজ করে তুলবেন।
ওহিদ শেখের সাথে একদিন

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের ওহিদ শেখ কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল এক মাত্র পুঁজি তার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সামান্য মালীর চাকরী করতেন তিনি। চাকুরীরত অবস্থায় ৯০এর দশকে নগরীর মর্ডান মোড়ে ২৪ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে গাছের চারা রোপণ করেন। উৎপাদিত চারা বিক্রি করতে অবসর সময়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়াতেন। নিজ উদ্যোগে তিনি রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা রোপণ করে দিয়েছিলেন। চাকরী থেকে অবসর নিয়ে ধার দেনা করে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। বর্তমানে নগরীর মর্ডান মোড় ও রংপুর জেলার সদর উপজেলার শলেয়া শাহ, হরকলি, রতিরামপুর এলাকায় নিজের জমি৬ একরও চুক্তিবদ্ধ ১৯একরসহ মোট২৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন নিজ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নাসিম নার্সারি। সেখানে প্রায় দেশী-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের ৯ লক্ষ চারা রয়েছে। তার নার্সারির উৎপাদিত চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদা ব্যাপক। দেশের বান্দরবন, সিলেট, মৌলভী বাজার, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া,সাতক্ষিরা, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা নির্বিঘ্নে ট্রাক নিয়ে এসে তার নার্সারি থেকে চারা ভর্তি করে নিয়ে যায়। তার নার্সারি থেকে প্রতি বছর ব্যয় মিটিয়ে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। নিজে অক্ষরজ্ঞান না জানলে ও ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন ওহিদ শেখ। তার নার্সারিতে কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক বেকারের। তিনি এখন স্বপ্ন দেখবেন এটাই বাস্তবতা।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়

 

রংপুর দিনাজপুর সড়কের পার্শ্বেই নাসিম নার্সারির সাইনবোর্ড। বর্ষার বৃষ্টি নেই। প্রচণ্ড রোদ। ওহিদ শেখ শ্রমিকদের সাথে কাজ করছেন। দেখিয়ে দিচ্ছেন চারা টবে রোপণের পদ্ধতি। ওহিদ শেখ আমরা এসেছি জেনে উঠে দাঁড়ালেন ক্ষণিক থেমে আমাদের উদ্দেশে বললেন“ এই যে আম গাছের চারা গুলো টবে রোপণ করা হচ্ছে। এ গুলো আমার সন্তান। আমি তাদের সন্তানের মতোই পালন করেছি। একটু বড় হলে সে গুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বল্প মূল্যে পাঠাবো। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় আমার নার্সারির চারা যাচ্ছে । আমি মনে করি চারা নয় আমার সন্তান যাচ্ছে।

 

আবেগের করুন রূপ

 

একটি ফোন এলো। ওহিদ শেখ রিসিভ করলেন। চোখ লাল হয়ে উঠলো তার। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কার ফোন? তিনি কেঁদে ফেললে। বললেন,নার্সারির আয়তন বাড়াতে গিয়ে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়েছে। টাকা চেয়ে ফোন করেছে একজন। সুদের উপর টাকা না নিয়েও কোন উপায় ছিল না। ৭৫ লক্ষ টাকা ঋণের মধ্যে আছেন। চারা বিক্রি হলে শোধ করতে হবে। এর পর নতুন চারা লাগানোর সময় আবার ঋণ করতে হবে। যা আয় হয় তাও জমা থাকে না।

 

গাছের চারার সমারোহ

 

চারি দিকে গাছের চারা আর চারা। অধিকাংশ চারাগাছ হাড়িঁভাঙ্গা আমের। তার নার্সারিতে ফলজ চারা গাছের মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা, লেংড়া, রুপালী, আম্রপলি, গোপাল ভোগ, আশ্বিনা, মিশ্রিভোগ, খিরসা, ফজলিসহ নানান রকম আমের কলম চারা। বেদানা,চায়না,বোম্বাই, মাদ্রাজি লিচুর চারা আছে। ছয় ফুট থেকে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের চারা ও আছে। এ ছাড়া আকাশমণি, অ্যাকাশিয়া ক্রস, ম্যানজিয়াম, রেইনট্রি, আমড়া, ডালিম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং ঔষধি নিম, আগরসহ দেশীয় প্রজাতির গাছের চারাও রয়েছে। তার সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক দুর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি প্রতিষ্ঠায়। এরই মধ্যে তার নার্সারি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের একদল গবেষক। পরিদর্শন দলে ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার মন্ডল, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শংকর কুমার রাহা, ডীন, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ ছোলায়মান আলী ফকির প্রমুখ।

 

ওহিদ শেখের মুখে ক্ষোভের কথা

 

আমার নার্সারি ব্যবসা বেড়েছে। জমির পরিমাণ বেড়েছে। উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু খরচ সমালাতে হিমশিম খেতে হয়। বর্গাকৃত জমির ভাড়া,শ্রমিক বেতন,চারা উৎপাদন খরচ,ফসফেট,পটাস, গোবর,দোআঁশ মাটি ক্রয়, সেচ,টব ক্রয় ইত্যাদি খাতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি নেই তাই বিক্রিও কম। তাই ঋণের মধ্যে আছি। দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ উৎপাদন করছি। এ পর্যন্ত সরকারী কোন সহায়তা পাইনি । সরকারের সাহায্য পাওয়া আমার অধিকার।

 

আমরা মানুষ কতই না স্বপ্ন দেখি। কত কিছুই না পারি। ওহিদ শেখ কি পারবে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে? তিনি বলেন আমি ভীত নই। অনেক ঋণ তবুও। আমি নার্সারির আয়তন আরও বাড়াবো। সারাদেশে স্বল্প মূল্যে গাছের চারা ছড়িয়ে দেবো। দেশটাকে বৃক্ষে বৃক্ষে সবুজে ভরে দেবো। সবুজের সৌন্দর্যকে দেখার জন্যই তো আমাদের বাংলাদেশে জন্ম। এমন কথা শোনার পর কথা থাকে না। আপনি সফল হয়ে উঠুন ওহিদ শেখ।

Comment (0) Hits: 534
মেহেরপুরে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চলতি বছরও আম চাষিরা লাভের আশা করছেন। এদিকে গেল বছর স্বল্প পরিসরে সুস্বাদু হিমসাগর আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি হলেও এ বছর ব্যাপক হারে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাগান মালিকও আম ...
আম ছাড়া মধুমাস যেন চিনি ছাড়া মিষ্টি। বছর ঘুরে এই আমের জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। রসালো এ ফলের জন্য অবশ্য অপেক্ষার পালা এবার শেষ হয়েছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আম পাড়া। এর আগে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমের রাজধানীতে এতদিন আম পাড়া বন্ধ ছিল। তাইতো ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
এখন বৈশাখ মাস গাছে গাছে ভরা আছে মধু ফল আমে। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আম গাছে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডালছাড়া গাছের মধ্যখানে ধরেছে কয়েকশত আম। আর ব্যতিক্রমী ভাবে ধরা এ আম দেখেতে শিশুসহ অসংখ্য লোকের ভির হচ্ছে সেখানে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ...
নব্য জেএমবির বিভিন্ন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ সংগঠনের প্রধান আব্দুর রহমানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রায় ১৯টির মতো সাংগঠনিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত আব্দুর রহমান ওরফে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২