Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

রংপুরে হাড়িভাঙ্গা আমে ভরা হাট-বাজার

গ্রামগঞ্জের মেঠোপথ থেকে হাট-বাজার হয়ে রংপুর শহরের অলিগলি ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমে ভরে উঠেছে। বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় আম চাষেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আম চাষিরা। অন্যদিকে স্বল্প দামে মনকাড়া আম হাতের নাগালে পেয়ে ভীষণ খুশি ক্রেতারা ।
এদিকে রংপুর জেলায় এবার ১৬২ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে আম সংরক্ষণসহ নানা জটিলতায় দর পতনের আশংকা করছেন আম চাষিরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় দুই হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৯৫০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমের কারণে অনেকেই রাজশাহীর পর এখন রংপুরকে আমের এলাকা বলে থাকেন।
রংপুর মহানগরীর প্রবেশ দ্বার পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামের মেঠোপথে সারি সারি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। মিঠাপুকুর উপজেলাতেই ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩ হাজার ৮টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে।
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পুরণ করে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে এ জাতের আম চাষ করে অনেকেই ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। অন্য ফসলে খুব একটা লাভ না হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমের চাষ। চাষিরা আগ্রহ নিয়ে আম চাষে এগিয়ে আসছেন। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত বেকার যুবকরাও ঝুঁকে পড়েছেন আম চাষে।
হাঁড়িভাঙ্গা ছাড়াও এ অঞ্চলে মিছরিভোগ, ফজলি, গোপালভোগ, কপিল বাঙ্গরিসহ নানা জাতের আম চাষ হয়। আম বাগানগুলোতে সারাবছর শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন হাজার হাজার শ্রমিক। চাহিদা থাকায় বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাগান মালিকরা বলছেন, রংপুরে এবার যে আমের ফলন হয়েছে, তা সারাদেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব।
হাড়িভাঙ্গা আমের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত মিঠাপুকুর উপজেলার সর্দারপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম সরকার বলেন, চলতি বছর ১২ একর জমিতে আম চাষ হয়েছে। ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি করা যাবে।
চৌধুরী গোপালপুর জলাইডাংগা গ্রামের আমচাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি বছর ২ একর জমিতে আম চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদীন বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম আমার ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করেছে। মৌসুমের শুরুতে এ আম প্রতি কেজি ৫০ টাকা ও শেষের দিকে ১শ ৫০ টাকা থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।এদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশরাফ আলী বলেন, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দিনে রংপুরের আম সারাদেশের চাহিদা মিটিয়ে আরো বেশি করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে।বেশি লাভের আশায় আম চাষ করছেন চাষিরা। এ বছর আমের ব্যাপক ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় চাষিদের মাঝে আম চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

Comment (0) Hits: 662
 

অর্থনীতির পালে হাঁড়িভাঙার হাওয়া

রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে হাঁড়িভাঙা জাতের আম। আম চাষে গত মৌসুমে সফলতার মুখ দেখায় এবারও চাষীরা ঝুঁকে পড়েছেন হাড়িভাঙা আম চাষে। এদিকে এ আমের কারণে রংপুরে কমে গেছে রাজশাহীর উন্নতজাতের অনেক আমের কদর।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদাগঞ্জ হাটে এ আমের বেচা বিক্রি চলছে। দেশের পাশাপাশি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে এ আম।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরের তিন উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আমের চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা এখানে জমি কিনে আমের বাগান গড়ে তুলেছেন।

জানা গেছে, এ তিন উপজেলার আমের ব্যাপক সুখ্যাতি থাকায় তা দেশ ছেড়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।
এমন কি রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের কারণে এখানে রাজশাহীর আমের তেমন কোনো কদর নেই।

হাঁড়িভাঙা আম সুস্বাদু হওয়ার কারণে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্ণরেখা, কালীভোগসহ উন্নতজাতের আম বিক্রিতেও ভাটা পড়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগান মালিকরা রংপুর থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চারা নিয়ে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন।

তবে রাজশাহীর দু এক জায়গায় এ আমের চাষ হলেও রংপুরের সেই হাঁড়িভাঙার মতো স্বাদ ও গন্ধ নেই বলে দাবি করেছেন রংপুরের আম ব্যবসায়ী ও চাষীরা।

রংপুর জেলার পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের স্টেশন বাজার এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাঁড়িভাঙা আমের বড় পাইকারী হাট। এ হাট থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ভরে হাঁড়িভাঙা আম নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রংপুরের ফলের আড়ত ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসেছে হাঁড়িভাঙা আমের হাট। সেখান থেকেও পাইকাররা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

পদাগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। অনেকেই আবার বাড়ির আঙিনা, উঠান কিংবা ফসলি জমিতেও এ আমের চারা রোপন করেছেন।

কুতুবপুর, খোড়াগাছ পাইকারের হাট, পদাগঞ্জ, কদতমলী, পীরের হাট, তালপুকুর, মাঠের হাট, আখড়ের হাট ছাড়াও এলাকা জুড়ে আমের চাষ।

এখানকার মাটি আম চাষের সম্পূর্ণ উপযোগী হওয়ায় ওই এলাকার চাষীরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আম বাগানে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

বাগান মালিক রাসেল আমিন জানান, তিনি তিন একর জমিতে আমের বাগান করেছেন। গত বছর প্রথম আম বিক্রি করেছেন দেড় লাখ টাকার। এবার চার লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন।

হাঁড়িভাঙা আম কিনতে রাজশাহী থেকেও ক্রেতারা পদাগঞ্জে ছুটে আসছেন বলে জানান তিনি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক জুলফিকার হায়দার জানান, আমের জন্য বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারাদেশে হাঁড়িভাঙা আমের বিস্তার ঘটেছে। হাঁড়িভাঙা আমে রোগবালাই কম হয়। এছাড়া চারা লাগানোর দুই বছর পরই গাছে মুকুল আসে।

আর পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সে গাছে পুরোদমে আম আসতে শুরু করে। এছাড়া বোঁটা শক্ত হওয়ায় গাছ থেকে তা অকালে ঝরে যায় না। পূর্ণাঙ্গ একেকটি আমের ওজন হয় চারশ থেকে পাঁচশ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

Comment (0) Hits: 587
 

জুনে বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম

আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময় রংপুরের ঐতিহ্য সুস্বাদু ও বিখ্যাত আশবিহীন হাঁড়িভাঙা আমবাজারে পুরোদমে বেচা-বিক্রি শুরু হবে। এবার রংপুরে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল নয় দশমিক চার মেট্রিক টন। তবে এবার ফলন কম হতে পারে। চাষিদের দাবি কৃষি বিভাগের সু্ষ্ঠু মনিটরিং থাকলে রংপুরের অর্থনীতিতে এই আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

রংপুর ছাড়াও গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর উপজেলা, কুড়িগ্রামের সদর ও রাজারহাট, লালমনিরহাটের সদর ও কালিগঞ্জ এবং নীলফামারীর সদর ও সৈয়দপুরে ছড়িয়ে গেছে হাড়িভাঙার চাষ। জনপ্রিয়তার কারণে এসব জেলায় দিনদিন হাড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। তবে এবার রংপুরে আমের অফ ইয়ার হওয়ায় ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিভাগ।

 

 

এই হাড়িভাঙ্গা আমের জন্ম নিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ ঘটনা। প্রায়এক’শ বছর আগে এই আমের যাত্রা শুরু হলেও ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে নব্বই’র দশক থেকে। হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ প্রসঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, তার বাবা নফেল উদ্দিন প্রায় ৮০ বছর আগে মাসিমপুর এলাকার কুমোর বাড়ির পাশে জঙ্গল থেকে একটি আম গাছ আনেন। বাড়ির পাশে ভাঙ্গা হাড়ির টুকরোর মাঝখানে গাছটি জন্মেছিল বলে গাছটির নামকরণ করা হয় হাড়িভাঙ্গা। তখন থেকেই এ অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গা আমের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তার চারটি আমের বাগান রয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার আমের ফলন কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক আব্দুছ ছালাম জানান, প্রায় শত বছর আগে মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসুমপুর এলাকার জমিদার ছিলেন তাজবাহাদুর সিংহ। তিনি খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। তার একটি ফলের বাগান ছিল। এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ছিল। পেশাদার কিছু আম ব্যবসায়ী তার বাগান থেকে আম নিয়ে পদাগঞ্জ হাটে বিক্রি করতো। সেখান থেকে হয়তো নফেল উদ্দিন এই হাড়ি ভাঙ্গা আম ক্রয় করে আবাদ শুরু করেন। হাড়িভাঙ্গা আমের জনক হিসেবে তিনি নফেল উদ্দিনকেই স্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক হিসেবে দাবি করেন।

 

 

আব্দুছ ছালাম ১৯৯২ সাল থেকে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ শুরু করেন এবং এখন রংপুরে কয়েক লাখ হাড়িভাঙ্গা আমের গাছ রয়েছে। বর্তমানে তিনি ২৫ টি আমের বাগান করেছেন। আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাড়িভাঙ্গা আমবাজারে বিক্রি হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমের ফলন কম বলে তিনি জানান।

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, মধ্য জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাড়িভাঙ্গা আমের ফুল বা মুকুল আসে। আম পরিপক্ক হয় জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা হয়। এক একটি আমের গড় ওজন ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত। পুষ্ট কাঁচা আম ৪-৫ দিন এবং পাকা আম ২-৩ দিন সংরক্ষণ করা যায়।
প্রতি হেক্টরে হাড়িভাঙ্গা আমের গড় ফলন ১১ মেট্রিক টন। আর বিঘা প্রতি দেড় মেট্রিক টন। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ব্যয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। আর বিঘায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানায় স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

 

 

মৌসুমের শুরুতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাজার দর প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মাঝামাঝি সময়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং শেষ দিকে ৩০০ থেকে ৪২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় হাড়িভাঙ্গা আম। এ নআম চাষ করে হেক্টর প্রতি প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করেন কৃষকরা।

 

রংপুরের মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জহাট ও বদরগঞ্জের স্টেশন বাজার এ অঞ্চলের হাঁড়িভাঙ্গা আমের বড় পাইকারি হাট। এ হাট থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে হাড়িভাঙ্গা আম নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। রংপুরের ফলের আড়ত ছাড়াও টার্মিনালের পশ্চিম কোনে বসে হাঁড়িভাঙ্গা আমের হাট। এখান থেকেও পাইকাররা আম কিনে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

 

 

কৃষকরা জানান, আম পাকার আগেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাগান কিনে ক্ষতিকর বালাইনাশক মিশিয়ে আম পাকিয়ে তা বাজারজাত করছে। এতে করে যারা আম কিনে খাচ্ছেন, তারা হাড়িভাঙ্গা আমের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রচুর পরিমাণ কীটনাশক খাচ্ছেন। এতে করে আমের বদনাম হচ্ছে।

 

রংপুর কৃষি তথ্য সার্ভিসের বেতার তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সায়েম জানান, আম ফলনে এক বছর অনইয়ার এবং এক বছর অফ ইয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার রংপুর অঞ্চলে আমের অফ ইয়ার। এছাড়া অসময়ে ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় আমের ফলন কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

 রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শ ম আশরাফ বলেন, হাড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ঐতিহ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মিঠাপুকুর এবং বদরগঞ্জ উপজেলায়। সদর উপজেলার কিছু জমিতেও হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ আমের ফলন ভাল। কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা আম পড়লেও বাগানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।

Comment (0) Hits: 611

রংপুরে কুকরুল বিলে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম আম বাগান

দুই বছর আগেও রংপুর নগরীর কুকরুল বিলের দু’ধারের জায়গা পতিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিলের দু’ধারে গড়ে উঠেছে সুস্বাদু হাড়িভাঙা আমের বাগান। এ বাগান সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের নতুন খাতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, রংপুর সিটি মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর উত্সাহ ও প্রেরণায় বছর দুয়েক আগে পার্শ্ববর্তী খটখটিয়া এলাকা থেকে হাড়িভাঙা আমের চারা এনে কুকরুল বিলের দু’ধারে লাগানো হয়।

আম বাগানের তত্ত্বাবধায়ক কৃষক আলেক মিয়া জানান, প্রায় দুই কিলোমিটারব্যাপী বাগানে লাগানো ১ হাজার চারার মধ্যে ৯০০ আম গাছ রয়েছে এখন। এর মধ্যে সূর্যাপুরী জাতের গাছ ১৫টি। বাকিগুলো হাড়িভাঙা আম গাছ। চলতি মৌসুমে তিন শতাধিক গাছে আম ধরেছে। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের ভিড় বাড়ছে এখানে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাগানটি ঘুরে ফিরে গল্পগুজব করে সময় কাটাচ্ছেন। গাছের পরিচর্যায় দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন আব্দুল আলেক। তিনি আশাবাদী, আগামী বছর পুরো বাগান আমের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠবে।

এদিকে চলতি বছর অল্প হলেও আগামীতে বাগানের আম বিক্রি করে প্রতি বছর সিটি করপোরেশন কয়েক লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। তিনি বলেন, রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন এ বিলের ধারেই কয়েক লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান গাছ লাগাই। পরে গাছগুলো কেটে সাবাড় করা হয়েছে। আজ গাছগুলো থাকলে সিটি করপোরেশনের কয়েক কোটি টাকা আয় হতো বলে তিনি মনে করেন। এ সময় তিনি আমের বাগানটি নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানান। তিনি বাগানটি আরো সমৃদ্ধ করে একটি নয়নাভিরাম বিনোদন কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনার কথা জানান। তখন বাগানটিতে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আমের বৃহৎ এ বাগানটি টিকিয়ে রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, সুস্বাধু হাড়িভাঙা আমের কারণে রংপুরের নাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আমের চাহিদা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাড়িভাঙা আম এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, নগর পিতা কর্তৃক আমের বাগান তৈরি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। পাশাপাশি তিনি এ বাগান রক্ষায় অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Comment (0) Hits: 538
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
রাজধানীর মালিবাগের আবদুস সালাম। বয়স ৭২ বছর। তার চার তলার বাড়িতে রয়েছে একটি দুর্লভ ‘ছাদবাগান’। শখের বসে এ বাগান করেছেন। বছরের সব ঋতুতেই পাওয়া যায় নানা ধরনের ফল। এখনো পাকা আম ঝুলে আছে ওই ছাদবাগানে। শুধু আম নয়, ৫ কাঠা ওই বাগানজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফলসহ অন্তত ১০০ ...
বলার অপেক্ষা রাখেনা দর্শক নন্দিত ও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি। প্রতি পর্বে চমক নিয়ে দর্শকের সামনে আসে অনুষ্ঠানটি। স্টুডিওর বাইরে এসে দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপনা সর্বদাই প্রশংসিত। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রচারিতব্য পর্বটি ধারণ করা ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২