Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুকুল এসেছে ৯০ ভাগ আম গাছে

ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। পাশাপাশি ব্যস্তমুখর সময় পার করছেন আমের সাথে সংশ্লিষ্ঠ এই জেলার আম চাষী, শ্রমিক, আম ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রধান অর্থকারি ফসল হওয়ায় এরই মধ্যে আগাম চাষীদের মাঝে আশার আলোই সাড়া দিচ্ছে মৌসুমী ফল আমের মুকুল। গাছে গাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মৌসুমী ফল ও ফলের রাজা আমের মুকুল। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে এবছর প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০টি গাছে আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫টি, সদর উপজেলার ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৫, নাচোল উপজেলার ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯০, গোমস্তাপুর উপজেলার ২ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০ ও ভোলাহাট উপজেলার ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪০ টি গাছে আম উৎপাদন হচ্ছে। অন্যদিকে আমের বাগানগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবছর মুকুল দ্বিগুন পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন আম বাগানে ৯০ ভাগ গাছে মুকুল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরই সাথে সাথে কৃষকরাও গাছ পরিচর্যা করার জন্য ব্যস্তমূখোর সময় পার করছেন। তবে, এবছর গাছে মুকুলের অবস্থা ভালো বলে কৃষক, আম ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
আমের ইতিহাস:-
কবি জসীমউদ্দীনের ব্যক্ত করা এ সুখ বাঙালির অনুভূতিতে, আ¯^াদনে, স্মৃতিতে আদিকাল থেকে জড়িয়ে আছে। এ ভূ-ভাগের প্রিয় ফল আম বিশ্বের অন্যত্রও নিজেকে বিকশিত করেছে। প্রখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং ৬৩২ থেকে ৬৪৫ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে ভ্রমণে এসে বাংলাদেশের আমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করে তোলেন। মোগল সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) ভারতের শাহবাগের দাঁড়ভাঙ্গায় এক লাখ আমের চারা রোপণ করে এ উপমহাদেশে প্রথম একটি উন্নত জাতের আম বাগান সৃষ্টি করে আমকে আরো উচ্চতর আসনে বসান। আকবরের বাগানের আমের জাত ছিল ল্যাংড়া। দাঁড়ভাঙ্গা ল্যাংড়া বলে পরিচিত এ আম একপর্যায়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এখন রাজশাহী অঞ্চল ছাড়াও যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া জেলায় প্রচুর পরিমাণে দাঁড়ভাঙ্গা ল্যাংড়ার চাষ হচ্ছে। ল্যাংড়া আমের আদি নিবাস ভারতের বেনারস। লোক বিশ্বাস আছে, সেখানকার এক ল্যাংড়া ফকিরের নামে এ আমের নাম হয় ল্যাংড়া। বাংলাদেশে এসব উন্নত জাতের পাশাপাশি দেশীয় জাতের অনেক গাছও গৃহস্থরা মমতার সঙ্গে আগলে রেখেছেন। যশোর সদর উপজেলায় ঘুরে দেখা যায়, অনেকের বাড়িতেই হরেক জাতের আমগাছ। ভাতুড়িয়া দাঁড়িপাড়া গ্রামে মোজাম বিশ্বাসের বাড়িতে বিশ্বনাথ, মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে বউ ভোলানী, চাঁচড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের বাড়িতে ডাব, আলী রঙে বাড়িতে মনোহরা, আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে আপেল, নাছিমা আলমের বাড়িতে ময়ূরপক্সিখ আমগাছের খোঁজ পাওয়া যায়। কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার সফিউর রহমানের বাড়িতে গিয়ে মিলবে আলফানসো জাতের আমগাছের দেখা। বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু, আবহাওয়া সবই আমচাষের উপযোগী। দেশের প্রায় সব জেলায়ই আম ফলে। এমনকি উপকূলীয় লবণাক্ত ভূমিতেও এখন মিষ্টি আমের চাষ হচ্ছে। পার্বত্য জেলার জুমচাষ এলাকায়ও উন্নত জাতের আম ফলছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, যশোর আমচাষের শীর্ষে অবস্থান করছে।
বিভিন্ন জাতের আম:
আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে আগে ওঠে গোপালভোগ। তারপর ওঠে হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত আম। এরপর ল্যাংড়া। গাছপাকা ল্যাংড়া আম, দুধ দিয়ে চটকে খেলে এর সুঘ্রাণ হাতের তালুতে লেগে থাকে সারা দিন। এভাবে একের পর এক উঠতে থাকে ক্ষীরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, রানিভোগ, রানিপছন্দ, সিন্দুরা, সুবর্ণরেখা, কুয়াপাহাড়ি, নাকফজলি, ফজলি, চিনি ফজলি, সুরমাই ফজলি, চিনি মিসরি, জগৎমোহিনী, রাখালভোগ, রাঙাগুডি, গোবিন্দভোগ, তোতাপুরী, মিশ্রিকান্ত, জালিবান্ধা, বোম্বাই, ভুতো বোম্বাই, পাহাডিয়া, গোলাপখাস, কাকাতুয়া, দাদভোগ, চম্পা, সূর্যপুরী, কাঁচামিঠা, কলামোচা, শীতলপাটি, ল²ণভোগ, গোলাপবাস, কিষানভোগ বান্দিগুডি, রাংগোয়াই, আশ্বিনা, ভাদুরিগুটি, বনখাসা, বউ ফুসলানি, স্বীরমণ, দুধসর, রঙভিলা, পারিজা, আনোয়ারা, দিলশাদ, আমরুপালি, মল্লিকা, বেগমবাহার, পূজারীভোগ, পলকপুরী, রাজলক্ষী, দুধকুমারী ইত্যাদি।
জেলা অর্থকারি ফসল আম:-
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থকারি ফসল হিসেবে জেলার হাজার হাজার লোক বছরে প্রায় ৬ মাস আম ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে। কিন্তু গত ২ বছর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ফরমালিন আতংক, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাস্তবসম্মত আইন না করে আম ভাঙতে স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারনে স্থানীয় বাজারে একসাথে অনেক আম বাজারে চলে আসায় আমচাষীরা আম থেকে লাভ না পেয়ে উল্টো লোকসানে পড়ে যাওয়ায় আমবাগানগুলো পরিচর্যায় কৃষক ও আম ব্যাবসায়ীদের মধ্যে অনীহা দেখা গেছে। এ ব্যাপারে চককীত্তি এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ২ বছরে অন্তত তার ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই এ বছর তিনি কোন আমবাগান তো কেনেন নি বরং যে কয়টা আম বাগান কেনা ছিল সেগুলোও লোকসানের ভয়ে ভালভাবে পরিচর্যা করার সাহস দেখাচ্ছেন না। তবে কিছু কিছু আমবাগান মালিক সীমিত আকারে আমগাছগুলোর পরিচর্যা আরম্ভ করেছে। অন্যদিকে শাহবাজপুর এলাকার কৃষক মজিবুর রহমান জানান, গত ২ বছর থেকে আমের দাম আম ব্যবসায়ীরা না পাওয়ায় এ বছর আমবাগান গুলো এখনও কেনাবেচা হচ্ছেনা। যেখানে অন্যান্য বছর এ সময়ের মধ্যে এক একটি আমবাগান অন্তত ২/৩ বার হাত বদল হয় সেখানে এ বছর বেশিরভাগ আমবাগান কেনাবেচায় হচ্ছেনা। বৈশাখ মাসে আম পাকা শুরু হয় এবং আশ্বিন ও কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত বাজারে সর্বশেষ আম পাওয়া যায়। স্বাভাবিক ভাবে বৈশাখী আমকে দিয়েই সূচনা হয় মধু মাসের। টক মিষ্টি সুস্বাদু আশ্বিনা আম দিয়েই মধু মাসের শেষ হয় আশ্বিন-কার্তিক মাসে। এবার শিবগঞ্জে উন্নত জাতের গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, বোম্বাই, লক্ষণ ভোগ, ফজলি, আশ্বিনা এবং বিভিন্ন উন্নত জাতের গুটি আমগাছে অতীতের চেয়ে মুকুল এসেছে বেশি। শিবগঞ্জে ৩টি জাতের আম পাওয়া যায় আগাম, মধ্যম ও নাবীজাত। ফজলি, ল্যাংড়া, গোপাল ভোগ, খিরসাপাত, আশ্বিনা, সূর্যপুরী, কুয়াপাহাড়ী, হিমসাগর, বোম্বাই, মোহনভোগ, রাজভোগ, কিষাণভোগ, লতাবোম্বাই, ফুনিয়া, গোরজিৎ, সামারবেহে¯—চৌষা এ আমগুলি উন্নত জাতের এবং দামও বেশি পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমের বাগান রয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলায়। এ আম বাগানগুলির মধ্যে কানসাট রাজার বাগান, মহদীপুরের কানুমিয়ার বাগান, রাণীহাটির ইসমাইল বিশ্বাসের বাগান, বহালাবাড়ির মরহুম আলহাজ সাহেদুল্লাহ বিশ্বাসের বাগান, শিবগঞ্জের নবকান্ত বান্ধ্যার বাগান, মদন মোহন বড়গড়িয়ার বাগান উল্লেখযোগ্য। এসব আমবাগানে উন্নত জাতের আমগাছ রয়েছে। এছাড়াও ভারতের আম্রপালি, মল্লি¬কা, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি জাতের আমের বাগান শিবগঞ্জ উপজেলাতেও স¤প্রসারিত হয়েছে। আদিকাল থেকে প্রচলিত আমগুলি চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎকৃষ্ট আম বলে আজও কদর কমেনি। এগুলির মধ্যে রয়েছে গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, বোম্বাই, লক্ষণভোগ, ফজলি, আশ্বিনা। আমের বিচিত্র নাম রয়েছে। এ আমগুলির মধ্যে গুটি আম সাধারণত বিভিন্ন স্বাদের। এসব আম সাধারণত গরীব, নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি কিছুটা সস্তা দামে কিনে খায়। প্রতিবছর আম বাগান সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমবাগান বেচাকেনা শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ সাজদার রহমান জানান, আমের জন্য এবছর অফ ইয়ার হলেও এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সামনে অন্তত আরও ১৫ দিন আমের মুকুল আসার সম্ভবনা থাকায় এবার আমের উৎপাদন আশানুরুপই হবে। তিনি আরো জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫টি, সদর উপজেলার ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৫, নাচোল উপজেলার ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯০, গোমস্তাপুর উপজেলার ২ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০ ও ভোলাহাট উপজেলার ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪০ টি গাছে আম উৎপাদন হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর দেশে উৎপাদিত মোট আমের সিংহভাগই উৎপাদিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কৃষি বিভাগ জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়-ই উৎপাদিত হয় প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশে আম:
বাংলাদেশে যেসব ফল উৎপন্ন হয় তার মধ্যে আমের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। আমের নানাবিধ ব্যবহার, স্বাদ-গন্ধ ও পুষ্টিমাণের জন্য এটি একটি আদর্শ ফল হিসেবে পরিচিত। তাই আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু, আবহাওয়া সবই আমচাষের উপযোগী। দেশের প্রায় সব জেলায়ই আম ফলে। এমনকি উপকূলীয় লবণাক্ত ভূমিতেও এখন মিষ্টি আমের চাষ হচ্ছে। পার্বত্য জেলার জুমচাষ এলাকায়ও উন্নত জাতের আম ফলছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, যশোর আম চাষের শীর্ষে অবস্থান করছে। পরিসংখ্যান বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩২ হাজার হেক্টর অর্থাৎ ৭৮ হাজার ১৯৫ একর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর ফলন হচ্ছে  প্রায় ৮ লাখ ২ হাজার ৭৫০ টন। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। আর আমচাষের এলাকা তো প্রতিবছরই বাড়ছে। উৎপাদনও বাড়ছে। আরও এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের মাথাপিছু আম উৎপাদনের পরিমাণ দেড় কেজির মতো। ভারতে মাথাপিছু ১১ কেজি, পাকিস্তানে ৬ কেজি, মেলঙ্কাতে ৯ কেজি, ফিলিপাইনে ৬ কেজি, তানজানিয়ায় ৭ কেজি, সুদানে সাড়ে ৭ কেজি, জায়ারে ৫ কেজি এবং হাইতিতে ৫৫ কেজি।
আম বাজার:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রয়েছে অনেক আম বাজার। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে মহানন্দা নদীর ধারে পুরাতন বাজার, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাজার ও শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাজার অন্যতম ৩টি বড় বাজার। কানসাট হচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় আম বাজার। এখানে রয়েছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি আমের আড়ৎ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও এ প্রযুক্তিটির প্রধান গবেষক ড. মোঃ শরফ উদ্দিন জানান, বিশ্বে আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম হলেও এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় সম্ভাবনা থাকার পরও বিদেশে পর্যাপ্ত আম রফতানি হচ্ছে না। অথচ এসব সমস্যার সমাধান করা হলে উৎপাদিত আম বিদেশে রফতানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, চীনের ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি গত দু’বছর আম গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ১৮ জাতের আমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় এবার তা আমচাষীদের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করে দেন। সাধারণত একটি আম গাছে বিভিন্ন ধরনের যে কীটনাশক স্প্রে করা হয় তার খরচ থেকে এ প্রযুক্তি ব্যবহার অনেকাংশে সাশ্রয়ী। এছাড়াও মানসম্পন্ন নিরাপদ, শতভাগ রোগ ও পোকা-মাকড়মুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব এবং এ আম সংগ্রহের পর ১০-১৫ দিন পযন্ত তা সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। এমনকি দেশের মানুষ কার্বাইড, ফরমালিন আতঙ্কে যখন মৌসুমী ফল খাওয়া থেকে বিরত রয়েছিল এবং বাজারে সাধারণ আমের দর খুব হতাশাজনক, ঠিক সেসময় এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী আমচাষীদের আলোর মুখ দেখিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আর প্রযুক্তিটি আমচাষীদের কাছে আরো প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হলে কার্বাইড, ইফিফোনসহ অন্যান্য হরমোন জাতীয় কাল্টার এবং ফরমালিনের মত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার সম্পুণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হবে। সাথে সাথে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বিদেশের বাজারে রফতানির দ্বার আরও বিকোশিত হবে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মাটি ও আবহাওয়ার কারণে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম এবারও দেশের বাইরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হতে যাচ্ছে।   গত বছর কীটনাশক মুক্ত আম প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার ফলে এ অঞ্চলের আমচাষীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। গত বছর ১২ মেট্রিক টন আম ইউরোপিয়ান ...
ফলের রাজা আম।বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাতের মাঝে আমরা মূলত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত/হীমসাগর,  আম্রপালি, মল্লিকা,আড়া ...
গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২