Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase
ছবিটি রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের কৃষি ফার্মের বাগান থেকে তোলা

রাঙামাটিতে মুকুলিত আম বাগান

পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটি জেলা-উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে এখন চোখে পড়ে চারদিকে শুধু আমের মুকুল আর মুকুল। শীতের মৌসুম শেষে বসন্তে আম গাছের দিকে তাকালে বুঝা যায় আমের মৌসুম এসে গেছে। এবার অন্য বছরের তুলনায় আমের মুকুল অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে সব জায়গায়।

রাঙামাটিতে রূপালি, ল্যাংড়া, ফজলি মিশ্রিভোগসহ দেশি জাতের আমের মুকুলে ভরে গেছে আম বাগানগুলোতে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বাগান মালিকরা আশা করছেন।

তবে যেসব গাছে আমের মুকুল এসেছে এগুলো সঠিকভাবে পরির্চযা করলে স্থানীয় মানুষের চাহিদা পূরণ করে এবছর দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাতকরণের সুযোগ হবে।

রাঙামাটিতে বিভিন্ন অঞ্চলের জেলা-উপজেলার বাগানগুলোতে এবছর শতকরা ৭০-৮০ ভাগ আমগাছে মুকুল এসেছে। ফাল্গুন মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাঙামাটির সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আম বাগানগুলোর গাছে গাছে এখন আমের মুকুলের শুধু ম ম গন্ধ।

রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের কৃষি ফার্মের বাগানগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু চোখে পড়ে আমের মুকুল আর আমের মুকুল।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, যদি সঠিক সময় বৃষ্টি হয় তাহলে সব কয়টি গাছে আমের মুকুলে ফলনও হতে পারে ভালো।

Comment (0) Hits: 727
 

পাহাড়ী আমগাছে বাম্পার ফলনের আশা

ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতে চন্দনাইশ অঞ্চলের মধু মাসের আগমনী বার্তা বইতে শুরু করেছে। এখানকার বাতাস এখন আমের মুকুলের সুগ্রানে ভরপুর। আম গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গিয়ে হলদে রং ধারন করেছে। মুকুলের আধিক্য দেখে ভালো ফলনের আসায় বুক বেধেছেন এ অঞ্চলের আম গাছের মালিকেরা।

বাঙালীর জীবনের সাথে আম্রফল বা আমের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের এ কালে হয়তো সবার পক্ষে নগদ পয়সায় বহু মূল্যে আম কিনে রসা সাধন সম্ভব হয় না। কিন্তু এক সময় পল্লী বাংলার প্রতি গৃহস্থের বাড়িতেই আমবৃক্ষ বা আম গাছ থাকত। সে সুবাদে এখনকার তুলনায় অনেক কম জন অধ্যুষিত সেকালের বাংলাদেশ সবার পক্ষে এ পরম সুস্বাদু মধু ফলের মহনীয় রসা সাধন সম্ভব হত। মূলতঃ মধু মাসের প্রধান ফল আমের সাথে বাঙালীর যে নিবিড় আত্মীয়তা তার সূত্রপাত ও সংহতি গড়ে উঠা এভাবে। সন্দেহাতীতভাবে সেটা ঘটেছে সেকালের সে দিনের প্রাচীন বাংলায়। আমরা কেবল তার উত্তরাধিকার হয়ে চলেছি।

কিন্তু ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছি বলা কঠিন হবে। কেননা জীবন ধারণ ও জীবিকা অর্জনের তাগিদেই এখন সমাজ বিন্যাস, জনগণ ও জনবসতী বিন্যাসের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও নতুন নিয়মনীতি এসেছে। ফলের রাজ্যে আমের সাথে বাঙালীর যে সম্পর্ক নৈকট্যের তা বোধ করি আর কোন ফলের সাথে নেই। তাই বুঝি আমের মুকুল গাছে এলেই বাঙালীর মন আকুল হয়ে উঠে। বাঙালী আরো অনেক আকুলতার মত আম্র আকুলতাও ভাষায় উপস্থাপন কষ্টসাধ্য। বাঙালীর প্রবল প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাই হয়তো গেয়ে উঠেন “আনো আমের মুকুল”।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন বলেছেন, সাধারণতঃ এ মাসেই আমের মুকুল আসার সময়। আমের মুকুল আসার সাথে সাথেই পোকাও আসতে শুরু করে। মুকুলের মধ্যে পোকা ঢুকে পড়ে। এ সময় স্প্রে করে কীটনাশক দিয়ে পোকা তাড়াতে হবে। অন্যথায় সে পোকা থেকে মুকুল থেকে পরবর্তীতে আমফলে প্রবেশ করবে। আমের কলি আসার সময়ও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। এটা কিছুদিন পর পর অব্যাহত রেখে আম সংগ্রহ করার ১৫ দিন পূর্বে স্প্রে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কীটনাশকের ক্ষতিকারক দিক রোধ হবে না। আম পাকার ১৫ দিন পূর্বে স্প্রে বন্ধ করলে কীটনাশকের মেয়াদ শেষ হলে সে আম নিরাপদে খাওয়া যাবে। কৃষকদের এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন মজুমদার বলেছেন, চন্দনাইশের পাহাড়ি অঞ্চলে বেশকিছু আমের বাগান রয়েছে। যেসব বাগানে আমের মুকুল এসেছে তাতে সময়মত কীটনাশক দিয়ে পোকা থেকে রক্ষা করতে হবে। মুকুল থেকে আম কলিতে আসার পর পরিচর্যার মাধ্যমে আমের ফলন ধরে রাখার জন্য কৃষকদের তিনি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

বিজ্ঞানীদের মতে আমের মুকুল আসার আগে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন বর্তমানে তা বিরাজমান। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমগাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। এখনো পর্যন্ত কুয়াশা কম আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। কিছু আম গাছের মুকুলে পাথর দানা দেখা গেলেও এতে আতংকের কিছুই নেই।

গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে পাথর দানার কারণে আমের উৎপাদন তেমন ব্যাহত হবে না। আমের উৎপাদন বাড়াতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। একটু সতর্ক হলেই শতভাগ ফলন পাওয়া সম্ভব। সাধারণত আমের মুকুল আসার পর হোপার, পোকার আক্রমন ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগ হয়ে থাকে। এ জন্য আমের গুটি মটর দানার মত হওয়ার পর দু’বার গাছে কীটনাশক স্প্রে করতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

এ কীটনাশক ব্যবহার করতে প্রতি লিটার পানিতে মেশাতে হবে ইমিডাক্রোপিড গ্রুপের তরল কীটনাশক ০.২৫ গ্রাম। আর দানাদার কীটনাশক হলে ০.২ গ্রাম। এর সাথে ম্যানাকোজ জাতীয় ছত্রাক নাশক ০.২ গ্রাম। এ নিয়মে আম গাছে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে আম গাছ পোকামাকড়ের আক্রমন থেকে রক্ষা পাবে এবং ভালো ফলনও হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমের গুটি দেখা যাবে। উপজেলার পাহাড়ি এলাকা তথা সৈয়দাবাদ, লর্ট এলাহাবাদ, ধোপাছড়ি এলাকায় বেশকিছু আমের বাগান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে করা হয়েছে। এখানকার আম খুবই সুস্বাদু। এখন আম চাষীরা তাদের বাগান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

Comment (0) Hits: 601
 

আসাদ গাজীর ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা

অনাবাদি পাহাড়ি টিলায় সারি সারি আম বাগান। আম্রপালি, রুপালি, মল্লিকা, লেংড়া, গোপালভোগ, মোহনভোগ প্রভৃতি জাতের আম থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে গাছে গাছে। আমের ভারে নুয়ে পড়েছে ডালপালা। রামগড়ের বড়পিলাকে আসাদ গাজীর আম বাগানের দৃশ্য এমনই নজরকাড়া। পাহাড়ে তিনি আম-বিপ্লব ঘটিয়েছেন।  রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো রামগড়ের পার্বত্য এলাকাকেও আমের জন্য বিখ্যাত করতে চান তিনি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিকল্পিত চাষ করে বৃক্ষপ্রেমী আসাদ গাজী পাহাড়ে উন্নত জাতের আম উৎপাদনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। আম বাগানের জন্য তিনি শুধু রামগড়ে নয়, গোটা খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পরিচিত। সরকারি কোনো সাহায্য-সহায়তা ছাড়া নিজের কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় পাহাড়ের অনাবাদি টিলায় উন্নত জাতের আম চাষে তিনি ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। বর্তমান মৌসুমে বাগান থেকে ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন আসাদ গাজী। রামগড় উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে হাফছড়ি ইউনিয়নের বড়পিলাক এলাকায় ১৫ একর টিলাভূমিতে তিনি আম বাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় আড়াই হাজার ফলন্ত আমগাছ আছে। সব জাতের আমের ফলনই এ বছর ভালো হয়েছে। এক কথায় বাম্পার ফলন। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, আসাদ গাজী ও তাঁর সহধর্মিণী সুফিয়া বেগম শ্রমিকদের নিয়ে গাছ থেকে আম পাড়ছেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ৬৮ বছর বয়সী আসাদ গাজী বলেন, 'আমার দুই পুত্র ও এক কন্যার মতো বাগানের প্রতিটি আমগাছও সন্তানের মতো। এগুলোকে লালন-পালন করে বড় করে তোলার পর এখন আমাকে ফল দিচ্ছে।' এ বছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিটি আম্রপালি গাছে গড়ে ৬০ কেজির মতো আম ধরেছে। অন্যান্য জাতের আমের ফলনও প্রায় সমান। এরই মধ্যে রুপালি ও আম্রপালি তোলা শুরু হয়েছে। খুচরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পাইকারি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করছেন। খাগড়াছড়ির স্থানীয় হাটবাজারে খুচরা বিক্রি হলেও চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীরাই তাঁর বাগানের সিংহভাগ আম কিনে নিয়ে যান। আসাদ গাজী বলেন, তিনি তাঁর বাগানের আমে ফরমালিন বা কোনো বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করেন না। বিষমুক্ত হওয়ায় তাঁর বাগানের আমের চাহিদাও বেশি। চট্টগ্রামের আমের আড়তদার আবুল কালাম জানান, আম্রপালি ও রুপালি আম অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় এর বেশ চাহিদা আছে। তাই তাঁরা আসাদ গাজীর বাগান থেকে প্রতিবছরই আম কিনে নিয়ে যান। আসাদ গাজী জানান, ১৯৯৮ সালে তিনি প্রথমে এক একর জায়গায় আমের চারা রোপণ করে বাগান করা শুরু করেন। সে সময় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনি বিভিন্ন জাতের আমের চারা কিনে আনেন। এসব আমগাছে ভালো ফলন পেয়ে পরে অনাবাদি জায়গা কিনে ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ একর টিলায় আম বাগান গড়ে তোলেন। প্রতিবছরই তিনি বাগান সম্প্র্রসারণ করছেন। বাজারে আসল জাতের আমের চারা পাওয়া যায় না বলে তিনি নিজেই বড় নার্সারি গড়ে তুলেছেন। নিজের চাহিদা পূরণের পর নার্সারি থেকে চারাও বিক্রি করেন। বাগানে সেচ দেওয়ার জন্য টিলার ঝিরিতে বাঁধ দিয়ে জলাশয় তৈরি করেছেন। পাম্পের মাধ্যমে বাগানে সেচ দেওয়া ছাড়াও এ জলাশয়ে মাছের চাষও করেন তিনি। আম চাষে তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশে অনেকেই ছোট ও মাঝারি আকারে আম বাগান করেছেন বলে জানান আসাদ গাজী। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে তাঁর বাগান দেখতে আসেন। পাহাড়ে এ ধরনের ফলের বাগান করার জন্য সবাইকে তিনি উৎসাহ জোগান। তাঁর উৎসাহে গত কয়েক বছরে রামগড় ও এর আশপাশের এলাকায় প্রচুর আমের বাগান হয়েছে। ফলনও হচ্ছে আশাতীত। কিন্তু হিমাগার না থাকায় চাষিরা কম দামে ফল বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে খাগড়াছড়িতে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষ করে জুস তৈরির কারখানা স্থাপনে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান আসাদ গাজী। রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, আসাদ গাজীর মতো পার্বত্য এলাকার বাসিন্দাদের পাহাড়ি টিলায় ফল বাগান করা উচিত। জুম চাষ, হলুদ, আদা, কচু কিংবা কাসাভা আলু চাষ না করে আম, কাঁঠাল, লিচুর বাগান গড়ে তুললে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তিনি আরো বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন জাতের আম ও লিচু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আসাদ গাজীর মতো যাঁরাই ফল চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন, সবাই সফল হয়েছেন।

Comment (0) Hits: 557

পাল্টে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি

বাংলাদেশের তিন পাহাড়ি জেলায় বাস করে ১৫ রকমের উপজাতি। একটা সময় এসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা ছিল জুম চাষ। পাহাড়ের একটি নির্দিষ্ট স্থান পুড়ে নিয়ে তা আগাছা মুক্ত করে পোড়া ছাই মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে প্রস্তুত করা হতো জমি। অতঃপর ধানসহ নানা রকম ফসলের বীজ একত্রে মিশিয়ে নিয়ে জমিতে গর্ত করে দু’চারটি বীজ একেকটি করে গর্তে পুঁতে দিয়ে শুরু হতো জুম চাষ। অতঃপর চলতো নানা রকম পরিচর্যা আর সময়ভেদে একেকটি ফসল সংগ্রহের কাজ। আজও অনেক উপজাতি এ পেশাকে অবলম্বন করে আছে। কোন কোন উপজাতি এর পাশাপাশি অন্য পেশাও আজ গ্রহণ করছে।

এক সময় জুম চাষ দিয়ে সহজেই নির্বাহ করা যেতো সংসার। আজ পাহাড়ি পরিবারে মানুষ বেড়েছে, কমেছে জুম আবাদের জমি। সে কারণেই একই স্থানে ঘন ঘন করতে হচ্ছে জুম চাষ। মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, হচ্ছে মাটির ক্ষয়ও। ফলে ফলন যাচ্ছে কমে। জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ এখন তাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাছাড়া সঠিকভাবে বললে সারা দেশেরই মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে বেড়েছে সবরকম খাদ্যের চাহিদা। অথচ পাহাড়ের জমি রয়েছে এখনও অনেকটাই অপরিকল্পিত চাষের আওতায়। কৃষি উন্নয়ন ভাবনায় তাই পাহাড় অগ্রাধিকার পাবে সেটিই স্বাভাবিক। জুম চাষ হয় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে শেষে ফসল তুলতে মোট সময় লাগে সাত-আট মাস। বছরের চারটি মাস ধরে সে জমি থেকে যায় পতিত। আর এ সময় কোন ফসল জমিতে না থাকায় জমি থেকে যায় নগ্ন। তাছাড়া জুমে আবাদ করা প্রতিটি ফসলের উৎপাদন বিবেচনায় নিলে হতাশ না হয়ে পারা যায় না।

কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এখন সময়ের দাবী। এমনকি টেকসই পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতি বর্গ একক জমি থেকে কতটা উৎপাদন নিশ্চিত করা যায় সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কারণেই সরকার গুরুত্ব দিয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলের জমির সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনায়। এগিয়ে এসেছে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ বিভাগাসহ নানা রকম সরকারি-বেসরকারি উদ্যেক্তাগণ। বহু প্রকল্পের অধিন চলছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত কৃষি কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করতে। বিশেষ করে ফল ফসল ও মশলা চাষের জন্য এসব কর্মকাণ্ডের স্বাক্ষর পাহাড়ের পথে পথে চোখে পড়ছে ইদানিং বেশ।

কলা পাহাড়িদের এক প্রিয় ফল। এখানকার পাহাড়ের ভেতরে চোখ রাখলে সহজেই চোখে পড়ে নানা রকম বুনো কলা গাছের উপস্থিতি। অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি করতে পারে বলে এরা সহজেই বংশবিস্তার করে নেয়। বুঝি সে কারণেই বুনো কলার প্রাচুর্য সহজেই লক্ষণীয় পাহাড়ে পাহাড়ে। এদের এই প্রাচুর্যতা দেখে মনে হয় যেন কলা উৎপত্তির একটি কেন্দ্র বা নিদেন পক্ষে একটি উপকেন্দ্র এই পাহাড়ি অঞ্চল। সে যাই হোক এখানে কলা গাছ রোয়ে দেবার প্রচলন বেশ প্রাচীনকাল থেকে। জুম মাঠে তাকালে দু’চার-দশটি কলা গাছ চোখে পড়বেই। এখন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হচ্ছে কলা গাছ। বাংলা কলার গাছই এখানে সিংহভাগ। দুই ঋতুতে এখানে এখন প্রচুর কলা সংগ্রহ করা যায়। বর্ষায় আর শীতে এখানকার পথে ঘাটে সর্বত্রই কলার ছড়ি জমা করতে দেখা যায়।

পাহাড়ের মানুষের কাছে আমও একটি প্রিয় ফল। আগে ঘর বাড়ির আশপাশে বনে জঙ্গলে কেবল আম গাছ দেখা যেতো। ‘রাঙু’ নামের সেই আম ছিল বান্দরবান এলাকার অতি জনপ্রিয় আম জাত। বুকের দিকটায় এক ফালি স্থান ডেবে যাওয়া বৈশিষ্ট্যম-িত এই আমারে বর্ণ বেশ লাল আর এর একটি বিশেষ রকম আমোদে গন্ধ রয়েছে। খেতে মন্দ নয় আম জাতটি। এখনতো সারিবদ্ধভাবে পাহাড়ে লাগানো হয়েছে নানা জাতের আম গাছ। এদের চমৎকার বৃদ্ধিও ঘটছে। পাহাড়ের নগ্ন অংশও তাতে সবুজে ঢাকা পড়ছে। এসব আম গাছে ফল ধরতে শুরু করলে নিঃসন্দেহে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদার প্রাপ্যতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। এমনকি এসব ফল চলে যাবে দেশের নানা প্রান্তে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

পেঁপে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আরেকটি প্রিয় ফল। ডিসেম্বরের শেষ দিকে পাহাড়ি পথের ফল সংগ্রের জন্য নির্মিত ঘরগুলোতে আর আঙ্গিনায় পেঁপের বিশাল এক একটি স্তুুপ। পাহাড়িরা এসব পেঁপে কেটে এনে জমা করছে সেখানে। এখান থেকে তা চালান হয়ে যাবে শহরে এবং দূর দূরান্তে। পেঁপেগুলো নানা আকৃতির বটে তবে ঢাউস আকৃতির পেঁপের সংখ্যা কম নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেল এগুলো অধিকাংশই হাইব্রিড প্রকৃতির পেঁপে। লাগানো হচ্ছে লাইন করে স্থানে স্থানে। এসব ফল চাষে বেড়েছে পাহাড়িদের সম্পৃক্ততা। কাঁচা পয়সা অর্জনের একটি বড় সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে তাদের। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগও তাতে সৃষ্টি হয়েছে।

আনারসের জন্য পাহাড় এক বিখ্যাত স্থান সেই প্রাচীনকাল থেকেই। একটু ছায়াময় স্থানে এই ফলটির নির্বিঘ্নে আবাদ করা যায় বলেই হয়তো নানা রকম গাছগাছালির নিচে আনারসের অঙ্গজ অংশ পুঁতে দিয়ে জন্মানো হয় এখানে আনারস। ভারী দৃষ্টিনন্দনভাবে লাগানো হয় আনারসের চারা। জমি পরিষ্কার করে পাশাপাশি দু’লাইন করে লাগিয়ে যাওয়া হয় চারা, প্রতি দু’লাইন পর পর একটুখানি বেশি করে ফাঁক রাখা হয় এদের পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য। আনারস চাষ এবং এদের যত্ন নেবার প্রতিও পাহাড়িদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। অনেক নতুন নতুন আনারস বাগান চোখে পড়েছে পাহাড়ে।

লিচুর বাগানও গড়ে তোলা হয়েছে অনেক স্থানেই। ভারী চমৎকার এদের বৃদ্ধি। হয়তো লিচু ধরতেও শুরু করেছে। দেখলাম বড়ই গাছের বাগানও কোথাও কোথাও। জাত বাছাই করে এসব বড়ই চারা সরবরাহ করা হয়েছে। পাহাড়ে কমলারও অল্প কিছু গাছ দেখলাম যেতে যেতে। দেখলাম কাঁঠাল, সুপারি আর নারকেলের গাছ। সবচেয়ে অবাক লেগেছে রাঙ্গুনিয়া থেকে রাঙামাটি যাবার পথে সজনে গাছের সারি দেখে। সজনে গাছের ডাল কেটে কেটে পুতে দেয়া হয়েছে পথের পাশে। এটি একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই। সহজে বংশবৃদ্ধি করা যায়। সবজি হিসেবে সজনে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। ফল পেতে কষ্ট কম।

শীতকালে চিম্বুক পাহাড়ের নিচের অস্থায়ী ফলের দোকানে চোখে পড়ল একটি চমৎকার আকৃতির কাঁঠাল। এরকম অসময়ের কাঁঠাল দেখে আমার মধ্যে বড় আশাবাদ জেগে উঠলো। উদ্যানতত্ত্ববিদগণ এরকম কাঁঠালের হাজার হাজার চারা করে নিতে পারেন এসব গাছের কাঁঠাল সংগ্রহ করে নিয়ে। মৌসুমে কাঁঠাল এখন বড় সস্তা। তখন আমাদের অবহেলারও শেষ থাকে না। শীতকালে আমাদের দেশি ফলের ঘাটতিও রয়েছে। এসময় কাঁঠাল ধরলে এর আকর্ষণও বাড়বে আর এই সময়ের ফলের ঘাটতিও পূরণ করা যেতে পারে।

জাম্বুরাও চোখে পড়ছে শীতে এসে বান্দরবানে বেশ। দুই রকমের জাম্বুরা দেখলাম। একটির ফল খাড়া প্রকৃতির। সমতলে এটি কম দেখা যায়। ভেতরটা বেশ লাল এবং স্বাদও বেশ। অন্যটি আমাদের সমতল এলাকার মতই উপরে নিচে চ্যাপ্টা গোলাকার জাম্বুরা। কোনটার ভেতরের কোয়া লালতো কোনটার আবার লালচে পেঁয়াজ বর্ণ। জাম্বুরার আবাদও বাড়ানো যায় পাহাড়ে। পাহাড়ে এখন আবাদ করা হচ্ছে সমতলের আমড়াও। বেশ ভালো এদের ফলন সেখানে। আমড়ার আবাদ এলাকা বিস্তৃতির সুযোগ পাহাড়ে রয়েছে। লেবুতো পাহাড়ে চাষ করা হচ্ছে সেই কবে থেকেই। এখানকার লেবুর বৈচিত্র্যও অনেক। এদের স্বাদের ভিন্নতাও বেশি। পাহাড়ের কোন কোন লেবু জাত বীজহীন বলে এরা ভোক্তাদের কাছে অনেক লোভনীয়। এদের অঙ্গজ চারার সংখ্যা বৃদ্ধি করে পাহাড়ে সমতলে দু’জায়গায়ই বৃদ্ধি করা যায় বীজহীন লেবুর আবাদ।

যেতে যেতে পাহাড়ি সমতটে চোখ পড়লো বিদেশি এক ফল ফসলের ওপর। পাহাড়ি এক ফল চাষি এক চিলতে জমিতে ভারী যতœ করে রোপণ করেছে ড্রাগন ফলের চারা। বেশ অবাক হই তাদের সচেতনতার প্রমাণ দেখে। তাছাড়া ফল ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করারও এটি একটি স্বাক্ষর।

পাহাড়ে শাকসবিজ আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে আগের তুলনায়। বেড়েছে শাকসবজির বৈচিত্র্যও। এমনকি শীতকালে যেখানেই পানির উৎস রয়েছে সেখানেই চোখে পড়েছে নানা রকম শীতকালীন সবজি ফসল। কমলার জন্যও বেশ প্রসিদ্ধ লাভ করেছে কোন কোন পাহাড়ি অঞ্চল। মরিচতো এখানকার জুম চাষের এক অনিবার্য অণুসরণ। তাছাড়াও একক মরিচ আবাদ দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আদা আর হলুদের গাছ এখানে প্রায়শই চোখে পড়েছে। এর মানে এদের আবাদও বাড়ছে দিন দিন।

পাহাড়ের কৃষির আর একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো ফল বা সবজি চাষ ব্যবস্থাপনার তাৎপর্যময় উন্নতি। সাজানো গোছানো ফলের বাগান পাহাড়ি মানুষদের আগাছা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফসল ব্যবস্থাপনার দিকে বাড়তি মনযোগেরই সাক্ষ্য বহন করছে। পাহাড়ি মানুষ পরিশ্রমী। ফলে কোন প্রযুক্তি তারা গ্রহণ করলে তা বেশ গুরুত্বের সাথেই গ্রহণ করে। তাছাড়া প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের আগ্রহ এখন অনেকটাই বেড়েছে। নানা রকম প্রকল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও হাতে কলমে শিক্ষা স্পষ্টতই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে শাকসবজি আর ফলমূলের চাষ আরো বৃদ্ধি করা গেলে তা পাহাড়ি ও সমতল উভয় জনগোষ্ঠির জন্য এক তাৎপর্যময় বিষয় হয়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

Comment (0) Hits: 598
বাজারে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই আম আম রব। ক্রেতা যে আমেই হাত দিক না কেন দোকানি বলবে হিমসাগর নয়তো রাজশাহীর আম। ক্রেতা সতর্ক না বলে রঙে রূপে একই হওয়ায় দিব্যি গুটি আম চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে হিমসাগরের নামে। অনেকসময় খুচরা বিক্রেতা নিজেই জানে না তিনি কোন আম বিক্রি করছেন। ...
ফলের রাজা আম।বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাতের মাঝে আমরা মূলত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত/হীমসাগর,  আম্রপালি, মল্লিকা,আড়া ...
বাজারে আম সহ মাছ, ফল, সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য সংরক্ষণে যখন হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ফরমালিন, ঠিক তখনই এর বিকল্প আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহম্মদ খান। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান এই বৈজ্ঞানিক ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২