Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

নতুন মুকুলের গন্ধে স্বপ্ন দেখছেন নওগাঁর আম চাষিরা

ঠাঠা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। ফাল্গুনের শুরুতেই চারিদিকে আমের মুকুলের গন্ধে বাতাস সুরভিত হয়ে উঠেছে, বাতাসে এখন ম-ম গন্ধ। যেদিকে দৃষ্টি যায় গাছে গাছে মুকুল আর মুকুল। বাগানে বাগানে হলুদ-সবুজের সমারোহ। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে আমের শাখা। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে সোনালি স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষিরা।

বাগানের সারি সারি গাছে সুরভিত মুকুলের গন্ধ পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের বাতাস। আর আম গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন এ অঞ্চলের আম চাষীরা। এ জেলায় প্রতি বছর এক হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে। মাটি বৈশিষ্ট্যগত (এঁটেল মাটি) হওয়ার কারণে নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ এলাকার আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আম উৎপাদনের বৃহৎ এই জেলায় কোন প্রকার আম গবেষণা কেন্দ্র এবং আম সংরক্ষণাগার না থাকায় নায্য মূল্য পাচ্ছেন না আম চাষিরা। আম চাষিদের দাবী জেলায় গবেষণা কেন্দ্র এবং আম সংরক্ষণাগার স্থাপনের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা, সাপাহার, বদলগাছী, পতœীতলা, মান্দা, ধামইরহাট, নিয়ামতপুর ঠাঠা বরেন্দ্রভ‚মি হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে পানির স্তর মাটির অনেক নিচে হওয়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় ধরে জমি পতিত থাকে। বর্ষ মৌসুমে ঠাঠা এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে শুধু মাত্র আমন ধান চাষ হয়ে থাকে। ধানের চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়ায় নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে ঠাঠা বরেন্দ্রভ‚মির এ সব অঞ্চলে দিনদিন শতশত বিঘা জমিতে উন্নত (হাইব্রিড) জাতের আম বাগান গড়ে উঠছে।

গত পাঁচ/ছয় বছর আগে জেলায় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। গত বছর ১২হাজার ৬’শ ৭০হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়। এ বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় গত দু’বছর থেকে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

জেলার একাধিক বাগান মালিকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মাঘের প্রথম সপ্তাহ থেকে আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন বাগানের সব গাছ মুকুলে ভরে গেছে। এর মধ্যে অনেক গাছেই আমের গুটি আসা শুরু হয়েছে। এসব বাগানে তারা , গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাতি, বারি-৪, হাঁড়িভাঙাসহ আরও বেশ কয়েকটি জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন তারা। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে মুকুল রক্ষার জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ওষুধ স্প্রে করছেন।

বাগান মালিকেরা আরও জানান, আবহাওয়া এখনও অনুক‚লে রয়েছে। গত কয়েকদিন আগের বৃষ্টিপাত ও হালকা বাতাসে মুকুলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং উপকার হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে মুকুল আরও শক্ত হয়েছে। আবহাওয়া এরকম থাকলে ফলন বাম্পার হবে বলেও আশা করছেন বাগান মালিকেরা।

সাপাহার উপজেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম জানান, আম বাগানে বছরে ৯/১০বার কীটনাশক স্প্রে করা লাগে। আম চাষ লাভজনক পেশা, খরচ খুবই সিমীত। জেলার মধ্যে বিশেষ করে সাপাহার ও পোরশা অঞ্চলের মাটি এঁটেল হওয়ায় আম অনেক সুস্বাদু একারনে সারাদেশে পোরশা ও সাপাহারের আমের চাহিদাও বেশি। এ অঞ্চলের আম রাজধানীসহ সারাদেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

এছাড়া কোন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই আম বাজারজাত করা হয়ে থাকে এমনটি জানালেন এ অঞ্চলের আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিৎ কুমার মল্লিক জানান, জেলায় প্রতি বছর শতশত টন আম উৎপাদন হলেও পাইকারি বাজার না থাকায় আম কম মূল্যে বিক্রি করে দেন চাষিরা।

গত পাঁচ/ছয় বছর আগে জেলা মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। আম চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে সব সময় পরামর্শ দেয়ায় চলতি বছর জেলায় ১৩ হাজার হেক্টরেরও অধিক জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার হেক্টররেরও বেশি জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে। নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় গত দু’বছর থেকে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। আগামী বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ অঞ্চল থেকে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২