Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আমের রাজধানী রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি চাঙ্গা

আমের কল্যাণে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
উৎপাদন বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এবার রাজশাহীতে অন্তত আড়াই শ’ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হবে।
সর্বত্রই এখন কেবল আম আর আম। বাগানে-বাগানে শুধুই আম। বাজার থেকে এরই মধ্যে গোপালভোগ ও মোহনভোগ বিদায় নিলেও তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে খিরসাপাত, ল্যাংড়া, লখনা, রাণীপছন্দ, আম্রপলি, রাণীপ্রসাদসহ বিভিন্ন জাতের বাহারি নামের সুস্বাদু আম।
কেবল হাট-বাজার নয়, আমকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিও। রাজশাহী অঞ্চলের দুইটি বড় আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে দুই কোটি টাকার আম। আমের কারবার নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৌসুমী কর্মসংস্থানও হয়েছে। জ্যৈষ্ঠের পর পুরো এ জুন মাস জুড়ে চলবে ‘আমের ব্যবসা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গাছের আম নামানোর কামলা থেকে আম চালানের ঝুড়ি বানানো এবং বাজারগুলোয় নানা ধরনের সহায়ক কাজে নিয়োজিত লোকজনের কর্মসংস্থানের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। আম বাণিজ্যের কারণে অর্থবছরের শেষ দিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয়ও বেড়েছে লেনদেনের হার।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজার। এছাড়াও নগরীর সাহেব বাজার, কোর্ট বাজার, শালবাগান বাজার, শিরোইল বাস টার্মিনাল, বাঘা, চারঘাটসহ প্রতিটি উপজেলার বাজারে জমে উঠেছে আম ব্যবসা।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা ভায়ালক্ষীপুর এলাকার আমচাষী মান্নাফ আলী বাসস’কে জানান, সাত সকালে উঠেই গাছ থেকে আম নামাতে শুরু করেন তারা। এরপর ওজন করে প্যাকেটজাত করে ওইদিনই পাঠিয়ে দিচ্ছেন বানেশ্বর বাজারে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত আমের খাঁচি তৈরি, সাজানো ও বাঁধাই কাজে প্রতিদিন তার বাগানে ২০ জন লোক কাজ করছেন।
রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুল আলীম জানান, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাসের শেষ নাগাদ প্রায় তিন মাস চলে আমের ব্যবসা দেশের মোট আম উৎপাদনের ৭০ শতাংশই উৎপন্ন হয় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তবে মোট উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি উন্নত জাতের আম ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
তিনি জানান, এ বছর রাজশাহীতে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর থেকে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, এবার খরার কারণে আমে হপার পোকার আক্রমণ তেমন একটা দেখা যায়নি। এ কারণেই আমের চেহারা ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এবার রাজশাহীতে প্রায় আড়াই শ’ কোটি টাকার আমের ব্যবসা হবে।
রাজশাহী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের ওপর অবস্থিত বানেশ্বর বাজারটি দেশের বৃহত্তম আমের বাজার। এখানকার আম ব্যবসায়ীরা তেমনটিই মনে করেন।
আমকে ঘিরে বানেশ্বর হয়ে উঠেছে রাজশাহীর প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রও। আমের মৌসুমে বানেশ্বরে আমচাষী, পাইকার, ফড়িয়া ও চালানি ব্যাপারীদের পদভারে এখন সরগরম রাত-দিন। আমই বদলে দিয়েছে বানেশ্বরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর অর্থনীতির চিত্র।
বানেশ্বর বাজারের ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন জানান, ‘ভোররাত থেকে ফড়িয়ারা আম কিনে জমা করছেন আড়তে। আড়ত থেকে পাইকার ও চালানি ব্যাপারিরা আম কিনে ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে।
বানেশ্বর বাজারে ভাল্লুকগাছি গ্রামের আম ব্যবসায়ী হোসেন আলী জানান, অনেক ক্রেতার বিশেষ চাহিদা থাকায় সে অনুযায়ী বাগান থেকে আম ভেঙেই তা সরাসরি খাঁচিতে ভরে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কুরিয়ার সার্ভিসে মণ প্রতি ৪ থেকে ৫শ’ টাকা লাগছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বড় ব্যাবসায়ীরা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
নগরীর সাহেব বাজার এলাকার আম ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে খিরসাপাত বা হিমসাগর সাড়ে ২৪শ’ টাকা, ল্যাংড়া ২৫শ’ টাকা, লখনা ১৯শ’ টাকা ও রাণীপছন্দ ১৮শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
গাছ থেকে আম অনায়াসে চলে আসবে নিচে। পড়বে না, আঘাত পাবে না, কষ ছড়াবে না, ডালও ভাঙবে না। গাছ থেকে এভাবে আম নামানোর আধুনিক ঠুসি (ম্যাঙ্গো হারভেস্টর) উদ্ভাবন করেছেন একজন চাষি। এই চাষির নাম হযরত আলী। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রামে। তিনি গ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
মৌসুমি ফল দিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করে স্বার্থ উদ্ধারের পদ্ধতি অনেক দিনের। বর্তমানে এই খুশি বিষয়টি আদায় করতে নগদ অর্থ খরচ করতে হলেও ফল থেরাপি ধরে রেখেছে অনেকেই। এর একটি হল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২