Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

রাস্তা পেরোলেই কেজিতে ব্যবধান ৪০ টাকা

চলছে মধু মাস জ্যৈষ্ঠ। রাজধানীর ফলের বাজার এখন পুরোটাই দেশি ফলের দখলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ট্রাক-পিকআপে ভরে রাজধানীতে প্রবেশ করছে মধু ফল আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচু।

রকমারি স্বাদ, রং, রূপ ও বৈচিত্র্যের এসব দেশি ফলের মৌ মৌ ঘ্রাণে ভরপুর রাজধানীর সর্বত্র। তবে স্থান ও অঞ্চল ভেদে খুচরা বাজারে আমের দামে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এমনকি এক মিনিটের দূরুত্ব এমন দুই স্থানের মধ্যেও কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পার্থক্য দেখা গেছে।

রবিবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও রাজধানীর বাজারে জাম ও লিচুর দাম এখনো বেশ চড়া। অবশ্য নাগালের মধ্যে রয়েছে আম ও কাঁঠাল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমের দাম নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। গত সপ্তাহে রাজধানীতে যে আম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে সবার আগে এসেছে হিমসাগর আম। বর্তমানেও বাজারে হিমসাগর আম সব থেকে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়েক দিন ধরে আসতে শুরু করেছে গোপালভোগ, আম্রপালি, সুরমা, ল্যাংড়াসহ আরও কয়েক জাতের আম।

এসব আমের বেশির ভাগই আসছে সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর থেকে। উত্তরবঙ্গের রাজশাহী থেকেও আম আসতে শুরু করেছে। রাজশাহীর আমের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

এদিকে স্থান ও অঞ্চলভেদে খুচরা বাজারে আমের দামে বিস্তর ফারাক রয়েছে। যাত্রাবাড়ি পার্কসংলগ্ন বাজারে যে হিমসাগর আম ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেই একই জাত ও মানের আম শহীদ ফারুক সড়কে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। অথচ এ দুটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরুত্ব মাত্র এক মিনিটের মতো। মাঝে শুধু পরিবহন চলাচলের রাস্তা রয়েছে।

মানিকনগর রেল লাইনসংলগ্ন বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে আম্রপালি। তবে কিছুটা কমে ৬০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে ল্যাংড়া ও সুরমা আম। গত সপ্তাহে এই বাজারটিতে হিমসাগর আম বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি।

বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে প্রতি কেজি ভালো মানের হিমসাগর ও গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে। আকৃতিতে কিছুটা ছোট হিমসাগর ও গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আমম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকায়। আর ল্যাংড়া আম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে মতিঝিল এলাকায় হিমসাগর আমের কেজি ছিল ১০০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা।

মতিঝিল অঞ্চলে যে আম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেই জাত ও মানের আম যাত্রাবাড়ি অঞ্চলে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মতিঝিল অঞ্চলের মধ্যেও দামের এ পার্থক্য রয়েছে। মতিঝিলের ‍দিলকুশার পিপলস ও বিসিআইসি ভবনের সামনে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া একই মানের হিমসাগর ও গোপালভোগ আম মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থিত এফবিসিসিআই ভবনের সামনের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

আমের মতোই স্থান ও অঞ্চলভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে লিচু, কাঁঠাল, জাম, আনারসসহ অন্য ফলের। যাত্রাবাড়িতে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া জাম মতিঝিলে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। আর মানিকনগরে পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকা ১২০ টাকায়।

বড় আকারের কাঁঠাল যাত্রাবাড়িতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মতিঝিলে ওই আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। একটি আনারস যাত্রাবাড়িতে ১৫ থেকে ২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই আকারের আনারস মতিঝিল থেকে কিনতে খরচ করতে হবে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বড় আকারের লিচু যাত্রাবাড়িতে এক শ পিস বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, মতিঝিলে ওই আকারের লিচুর দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

এদিকে বাজারে বেশ আগেই আসা তরমুজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে। তবে তরমুজের দাম কিছুটা চড়া। স্থান ভেদে মাঝারি আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর বড় আকারের তরমুজের দাম ২২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা।

দামের পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিলের আম বিক্রেতা মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমরা স্থায়ী ব্যবসায়ী। আমাদের কাছে কোনো খারাপ মাল নেই। ভালো মাল বিক্রি করি তাই হয়তো দাম একটু বেশি। যারা ভ্যানে করে পণ্য বিক্রি করে, তারা ভালোর মধ্যে খারাপও দিয়ে দেবে। আপনার ধরার কোনো ক্ষমতা থাকবে না। ভালো-খারাপ মিলিয়ে বিক্রি করার কারণে ওরা আমাদের থেকে কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে পারে।’

তবে মতিঝিলের এই ব্যবসায়ীর কথার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি যাত্রাবাড়িতে ভ্যানে আম বিক্রি করা মো. হোসেন আলীর কাছ থেকে আম কিনে ও কথা বলে। হোসেন আলীর কাছ থেকে আম কেনার সময় ক্রেতাদের নিজ হাতেই সব আম বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন তিনি। তার মতো অন্য ব্যবসায়ীদেরও একই সুযোগ দিতে দেখা গেছে।

দামের পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হোসেন আলী বলেন, ‘আমরা কম লাভে পণ্য বিক্রি করি। তবে লাভ কম হলেও বিক্রি বেশি হয়। আর ভালো আমের সঙ্গে খারাপ আম ভেজাল দেওয়ার সুযোগ নেই। ভালো আমের ভেতরে একটি খারাপ আম দিলেই ক্রেতরা আর কিনতে চান না।’

এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘কম দামে বিক্রি করলেও, আমাদের বেশি হয়রানির শিকার হতে হয়। পুলিশকে নিয়মিত টাকা দিতে হয়, তারপরও অনেক সময় পুলিশ এসে দোকান তুলে দেয়। অথচ ফুটপাত দখল করে যারা স্থায়ী দোকান বসিয়েছেন তাদের পুলিশ কিছু বলে না। অথচ কেজিতে ওই দোকানদাররা আমাদের থেকে অনেক বেশি লাভ করেন।’

এদিকে গত কয়েক বছর ধরে বাজারে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু আসলে ফরমালিন নিয়ে বেশ হই চই দেখা গেলেও, এবার ফরমালিন নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এবার ফলে কেমিক্যাল খুব একটা মেশানো হচ্ছে না। বাজারের অধিকাংশ ফলই কেমিক্যাল মুক্ত।

গত শনিবার (২৮ মে) ভোররাতে গাজীপুর বাইপাস আড়তের মা বাণিজ্যালয়ের মালিক লিটন হোসেন বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চল থেকে পুরোদমে আম এখনো আশা শুরু হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যেই রাজশাহী থেকে পুরোদমে আম আসতে শুরু করবে। তখন দাম আরও কমবে।’

ফরমালিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আড়তদার অথবা বিক্রেতারা আমে ফরমালিন মেশায় না। যদি কোনো আমে কেমিক্যাল থেকে থাকে, তবে তা স্থানীয় পর্যায় থেকেই মেশানো হয়। তবে আমরা যতটুকু জানি, ব্যাপারীরা এখন ফরমালিন দেন না, শুধু কালার আনার জন্য কিছু কারবাইড দিয়ে থাকেন।’

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
মধূ মাসে বাজারে উঠেছে পাকা আম। জেলা শহর থেকে ৬০ কি.মি দুরের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার স্থানীয় বাজারে ফরমালিন মুক্ত গাছপাকা আম এখন চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। মালদহ সীমান্তবর্তী বিশাল আমবাগান ঘেরা এই উপজেলায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বাজারগুলোতে শুধু গাছপাকা আম পেড়ে বিক্রয় করতে দেখা ...
দেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদাদেশেই তৈরি হচ্ছে ফ্রুটব্যাগ বাড়ছে চাহিদা বিষমুক্ত ও ভালো মানের আম উৎপাদনে ফ্রুটব্যাগ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এত দিন আমদানিনির্ভর হলেও দুই বছর ধরে এটি দেশেই তৈরি হচ্ছে। আর এ ব্যাগ তৈরি হচ্ছে আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলা ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২