Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

পৃথিবীতে যেভাবে ছড়িয়ে পড়লো আম

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের বর্ণনাই দিয়ে গেছেন। খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে (৬৩২-৬৪৫) চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমন করেছিলেন। ইতিহাসে সম্ববত: তিনিই প্রথম ব্যাক্তি যার মাধ্যমে বাইরের পৃথিবী বিশেষ করে দূর প্রাচ্য এবং চীন আম সম্পর্কে জেনেছে। হিউয়েন সাং ভারত ভ্রমণ করে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন এর অনেক বিষয়ের মধ্যে আমের উল্লেখ ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মথুরার (উত্তরপ্রদেশ) আম সম্পর্কে তার লেখায় প্রকাশ পেয়েছে যে, সেখানে দুই জাতীয় আম জন্মাত। একটি বড় জাতের অপরটি ছোট জাতের। বড় আকারের আমটি পাকলেও সবুজ থাকে এবং ছোট আকারের আম পাকার পর হলুদ বর্ণ ধারণ করতো। কালিকাপূরাণে উল্লেখ রয়েছে আসামে বিভিন্ন ধরণের ফলের মধ্যে আমের চাষও করা হতো। পাল রাজাদের আমলে পুন্ড্রবর্ধণভুক্তি এবং শ্রীনগরভুক্তিতে আমের চাষও করা হতো। বিজয় সেনের ব্যারাকপুর তাম্র শাসন এবং ভোজবর্মদেবের বেলাভ তাম্র শাসনে উল্লেখ রয়েছে-পুন্ড্রবর্ধনভুক্তিতে আম ও কাঁঠালের চাষ হতো। ফলের মধ্যে আম উত্তর পূর্ব ভারতে ব্যাপকভাবে চাষ হতো। মথুরা থেকে আসাম অবধি আম ভাল জন্মাতো। এসকল তথ্য বরাহ মিহিরের বৃহৎ সংহিতায় রয়েছে।
এরও অনেক আগে খৃষ্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে মহাবীর আলেকজান্ডার সিন্ধু অববাহিকায় আমের বাগান এবং আম দেখেছিলেন। ইবনে বতুতা (১৩২৫-১৩৪৯) ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরেছেন। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশে অনেক দিন ছিলেন। তার বর্ণনায় বাংলাদেশে আমের উল্লেখ রয়েছে। জর্দানুস (১৩৩০) আমকে আম্বা (ধসনধ) বলে উল্লেখ করেছেন তার স্মৃতিমূলক লেখা মীরাবিলিস ডেসক্রিপ্টা  Mivabilis Deseripta  নামক গ্রন্থে। যেভাবে আম বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তা নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলঃ-

আফ্রিকায় আমঃ
আমকে বিশ্বের  অন্যান্য দেশের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছেন আরব বণিক এবং মুসলিম মিশনারীগণ। আরব বনিকেরা সিলেট ও আসাম থেকে কমলা লেবুর বীজ এবং চারা জাহাজে করে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন-তেমনি তারা ভারত থেকে আমের চারা ও বীজ সংগ্রহ করে প্রথমে আফ্রিকা মহাদেশের ট্যাাঙ্গাঁনাইকা (তাঞ্জানিয়া), সোমালিয়া, কেনিয়া, মাদাগাস্কার ইত্যাদি অঞ্চলে ছড়িয়ে দেন। এভাবেই আম ছড়িয়ে পরে পশ্চিম আফ্রিকার গিনি, আইভরিকোষ্ট, সিয়েরালিও, মালি, আপার ভোল্টা ইত্যাদি দেশসমূহে। ইবনে বতুতার বর্ণনায় জানা যায় তিনি চতুর্দশ শতকে (১৩৩১) মোগাডিসুতে (সোমালিয়ার রাজধানী) আমগাছ দেখেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে আমঃ
ইসলামের স্বর্ণযূগেই ওমানে আম গাছ পৌছে যায়। আরব মিশনারীগণ পঞ্চদশ শতকে আমের বীজ ও চারা প্যালেষ্টাইনে নিয়ে গেছেন বলে জানা যায়। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে আরবদের মাধ্যমে আম পারস্য উপসাগর এবং ইয়ামেনে বিস্তৃতি লাভ করে। মিশর ১৮২৫ সালে মুম্বাই থেকে মুকুলিত চারাগাছ আমদানি করে তাদের দেশে রোপন করে। এই আমগাছগুলোকে তারা সাফল্যের সাথে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। সেখান থেকেই দেশটির আম চাষে খড়ি। মিশরের মধ্য অঞ্চল এবং নীল নদের ভাটিতে বেশী আম উৎপাদন হয়। দেশটির ভাল ভাল প্রায় সকল জাতের আম এসেছে ভারত থেকে। প্রথম বিশ^যুদ্ধের কিছুকাল পূর্ব থেকেই ইসারইল এবং প্যালেষ্টাইনে এই অঞ্চলে আম চাষ শুরু করার প্রচেষ্টা চলে। কিন্তু আমের চারাগুলো তারা বাঁচাতে পারেনি। এর পর প্রফেসর ওয়ার বার্গ ১৯২৯ সালে মিশর থেকে বেশ কিছু মিশ্র জাতের আমের বীজ সংগ্রহ করে ইসরাইলে এনে বপন করে। এই বার কিন্তু সাফল্য এসে গেলো। এই গাছগুলো থেকে প্রথমে আম ধরা শুরু হয়েছিলো ১৯৩৩ সালে। ১৯৩৩ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে মিশর, জাভা (ইন্দোনেশিয়া), দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ফ্লোরিডা (ইউএসএ) থেকে বিভিন্ন জাতের আমের চারা ইসরাইলে চলে আসে। এভাবেই দেশটি আম চাষে এগিয়ে যায়।

আমেরিকা মহাদেশে আম চাষঃ
পর্তূগীজরা গোয়া থেকে প্রথমে আমের চারা ও বীজ দক্ষিন আফ্রিকায় নিয়ে গিয়েছিলো। সেখান থেকে খ্রিষ্টীয় ১৭০০ শতাব্দীতে পর্তূগীজরা ইতিপূর্বে ভারতবর্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া আমের চারা ও বীজ ব্রাজিলে রোপণ করে। ১৭৬৮ সালে ক্যাপ্টেন কুক ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরোতে প্রচুর আম দেখেছেন। আনুমানিক ১১৭৪২ সালে বার্বাডোসে আম পরিচিতি লাভ করে। জ্যামাইকাতে আমের অনুপ্রবেশের ঘটনাটি বেশ রোমঞ্চকর এবং উল্লেখ করার মতো। ১৭৮২ সালে ক্যাপ্টেন মার্শাল রাজকীয় জাহাজ ’ফ্লোরার’ মাধ্যমে জ্যামাইকা দ্বীপের কাছা কাছি সমুদ্রে একটি ফ্রান্সের জাহাজ আটক করেন। ফ্রান্সের জাহাজটি ভারত মহাসাগরের দ্বীপ মরিশাস থেকে যাত্রা করে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ হাইতির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। জাহাজটিতে অন্যান্য মালামালের সাথে বিভিন্ন ফলের এবং গাছের প্রচুর চারা ও বীজ ছিলো। এইরূপ ১১ নং চালানে ছিল আম, আমের বীজ এবং চারা। ক্যাপ্টেন ১১ নং চালানটি জাহাজ থেকে নামিয়ে জ্যামাইকায় বসাবসরত মি: হিনটন ইষ্টের বাগানে পৌঁছে দেন। জ্যামাইকার এই বাগানটিতেই প্রথম আম চাষ শুরু হয় । এরপর ১৮৬৯ সালে ভারত থেকে অন্তত: ২২ জাতের ভাল আমের কলম চারা জ্যামাইকাতে এনে রোপণ করা হয়। ১৮৮৪ সালে ফ্রান্সের উপনিবেশ মার্টিনিক দ্বীপের (আটলান্টিক মহাসাগর) বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে ১১ জাতের কলম চারা জ্যামাইকার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হয়। এক পর্যায়ে এমন ধারণা জন্মালো যে আম ফলটি জ্যামাইকার নিজস্ব এবং এদের স্বদেশজাত। বর্তমান জ্যমাইকার আমের সংস্কৃতি তাদের সামাজিক জীবনে এমন গভীর প্রোথিত যে, ফলের বিষয়ে জ্যামাইকাবাসী আমের অনুপস্থিতি কল্পনাও করতে পারে না।
মেক্সিকোতে আম খুব ধীরে ধীরে অথচ বেশ সাফল্যের সাথেই প্রবেশ করেছে। প্রথম অবস্থায় দুইটি উৎসের মাধ্যমে মেক্সিকোতে আম গেছে। একটি হচ্ছে ফিলিপাইন। ১৭৭৯ সারের কিছু কাল পূর্ব থেকে উঁচু পশ্চাভাগ বিশিষ্ট স্পেনীয় পালতোলা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ম্যানিলা (ফিলিপাইনের রাজধানী) থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের বুক বেয়ে সরাসরি মেক্সিকোর দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের সামুদ্রিক বন্দর আকাপুলকো (অপধঢ়ঁষপড়) পর্যন্ত যাতায়াত করতো। এই জাহাজগুলোতে অন্যান্য মালামালের সাথে ফিলিপাইন থেকে ভালো জাতের আমের চারা ও বীজ বহন করা হতো। এভাবেই মেক্সিকোতে আমের চাষ শুরু হবার দ্বিতীয় উৎসটি ছিলো ঊনবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপ থেকে পাওয়া ভাল ভাল জাতের আমের বীজ ও চারা। মেক্সিকো ছিলো স্পেনের উপনিবেশ।
হেনারী পেরিন নামের জনৈক ব্যাক্তি মেক্সিকো থেকে বেশ কিছু আমের চারা সংগ্রহ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি বাগানে রোপণ করেন। সেটি ছিলো ১৮৩৩ সাল । যদিও ফ্লোরিডার আবহাওয়া আম উৎপাদনের জন্য অনুকূল ছিল। কিন্তু আমের চারাগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কারণ নতুন পরিবেশে চারাগুলো প্রকৃত যত্ন পায়নি। এছাড়া এই সময়টিতে সেখানে যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধের আগুনেও অনেক গাছের ক্ষতি হয়েছিলো। যাহোক দীর্ঘ ২৮ বছর পেরিয়ে যায়। ১৮৬১-১৮৬২ সালে ডা. ফ্লেচার আরেকবার চেষ্টা করলেন আমেরিকার মূল ভূ-খন্ডে আমচাষ প্রবর্তনের। তার এই প্রচেষ্টা সামন্যই সফলতার মুখ দেখেছিলো। তিনি আমের বীজ সংগ্রহ করে ফ্লোরিডার দক্ষিণ পূর্ব উপকূলে রোপন করলেন। বীজ থেকে যে চারাগুলো জন্মেছিলো এর মধ্যে মাত্র একটি গাছে আম ধরে ছিলো। ফেøারিডার পশ্চিম উপকূলে সাফল্য জনকভাবে আম চাষ শুরু হয়েছিলো ১৮৭৭ সালে। ১৮৮৫ সালে ভারত থেকে উন্নতজাতের কলমের চারা এনে ফ্লোরিডায় চাষ শুরু হয়েছিলোত কিন্তু চারাগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপর  ১৮৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি অধিদপ্তরের অধীনে ফল বিষয়ক বিভাগের উদ্যেগে কলকাতা থেকে ৩৫টি ভাল জাতের চারা আমদানি করে ফ্লোরিডায় রোপন করা হয়। এগুলো কিন্তু টিকে গেলো। ১৯০০ সালের দিকে ফিলিপাইন, মালয় ও কিউবা থেকেও আমের চারা ফ্লোরিডায় গেছে। প্রথম অবস্থায় ফ্লোরিডায় ভাল জাতের আম প্রবেশ করেনি। বীজ থেকে বেড়ে উঠা আঁশ জাতীয় আম গাছের সংখ্যাই ছিল অধিক। আম গাছকে সে দেশ দীর্ঘকাল ছায়াবৃক্ষ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভারত ফিলিপাইন এ সকল দেশ থেকে ভালজাতের আম প্রবেশের পর সেখানে গবেষণা শুরু হলো। প্রথম ভাল যে জাতের আমটি ফেøারিডা পেয়েছিলো সেটি ছিলো মালগোভা। এরপর ফ্লোরিডা আম নিয়ে বাস্তবধর্মী গবেষণা শুরু করে। সেখানকার আম বিজ্ঞানী রিসোনার ভাতৃদ্বয় এবং ডেভিড ফেয়ারচাইল্ড এদের প্রচেষ্টায় পঞ্চাশেরও অধিক ভাল জাতের আম ফ্লোরিডা অঞ্চলে উদ্ভব ঘটল এবং এগুলোর ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হলো। উদ্ভাবিত আমের জাতগুলো হচ্ছে পেইরী, আমিনী, হ্যাডেন, পামার, জিল, ব্রুকস, রুবী, জুলী, সায়গণ, ক্যারাবু, টমিএ্যাটকিনসন ইত্যাদি।  এরপর ফ্লোরিডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্ণিয়ার উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে আম চাষ বর্দ্ধিত হতে থাকে। বর্তমানে আমরেকিার বড় বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে আম প্রধান একটি ফল হিসেবে নিজের স্থান স্থায়ী করে নিয়েছে। ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্ণিয়াতে প্রধান ফল আম। ফ্লোরিডার পামবীচ, ব্রেয়ার্ড, ডেডকাউন্টি, ব্রিভার্ড, পাইনাস, লীকাউন্টি এসকল এলাকায় ব্যাপকভাবে আমের চাষ হয়ে থাকে।

ইউরোপে আমঃ
আম শুধুমাত্র ইউরোপ মহাদেশে ভালোভাবে ঘাঁটি গেরে বসতে পারেনি। ইউরোপের আবহাওয়া আম চাষের জন্য মোটেই অনুকূল নয়। তবুও একদল আম উৎসাহী আমের চারা ও বীজ ইংল্যান্ডে নিয়ে কাঁচের ঘরে রেখে চাষ শুরু করেন। সেখানে আমের গাছ এই পদ্ধতিতে ১৬৯০ খৃষ্টাব্দে জন্ম নিয়েছিলো কিন্ত আম ধরেনি। তবে সেখানকার নিউ গার্ডেনের কয়েকটি আম গাছে আম ধরেছিলো ১৮০৪ সালে। শেষমেষ ইংল্যান্ডে আম চাষ সফল হয়নি।
পর্তূগীজ, স্পানিশ, ডাচ, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ এরা সকলেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে আমের বীজ ও চারা নিজেদের উষ্ণমন্ডলীয় উপনিবেশগুলোতে নিয়ে গিয়ে সাফল্যের সাথে আমের চাষ শুরু করেছিলেন। তবে তাদের নিজ নিজ দেশে সম্ভব হয়নি  আবহাওয়ার কারনে। ইউরোপে পাকা আম নিয়ে যাবার ব্যবস্থাও ছিলো না। জাহাজে যেতে যে সময় লাগতো তার অনেক আগেই আম যেত পঁচে। সে আমলে ইউরোপে খাবার উপযুক্ত আম পৌছাতে সক্ষম না হলেও কিন্তু সেখানকার অনেক নাগরিক নাবিকদের মাধ্যমে আম সম্পর্কে গুনেছিলেন এবং জেনেছেন। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনের মধ্যেই এই মনোলোভা ফলটির আস্বাদ গ্রহণের ইচ্ছা জাগতো।
তবে আম চাষে স্পানীয়রা কিছুটা সাফল্য লাভ করে। প্রথম দিকে স্পেনীয়রা আমের বীজ ও চারা তাদের দেশের মূলভূখন্ডে রোপন করার চেষ্টা করে। প্রায় সব এলাকাতেই বিফল হবার পর আন্দালুশিয়ায় সফল হয়েছিল। কেননা এখানকার আবহাওয়া ছিলো কিছুটা উষ্ণ। স্পেনের মালাগা প্রদেশে এখন অনেক ভাল ভাল জাতের আম উৎপন্ন হচ্ছে।

এভাবেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ দেশান্তরে আম ছড়িয়ে পড়েছিলো। আজ বিশ্বের অন্যতম একটি লোভনীয় ফল হলো আম। ফল উৎপাদনের দিক দিয়ে আম বিশ্বের চতুর্থ উৎপাদিত ফল। আজ এর জনপ্রিয়তা প্রশ্নতিত।

Comment (0) Hits: 620
 

২০০ বছরের পুরনো আমগাছ : যার অবস্থান বাংলাদেশে

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী অনেক পুরনো গাছ। এর কোন কোনটি ২০০-৩০০ বছরেরও বেশি বয়সী। আবার কোনটির বয়স তার চেয়েও বেশি। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আমগাছের কথা সেদিন জানতে পারলাম ফেসবুকে একজনের পোষ্ট থেকে। একটি আমগাছ যার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও অধিক!!

মনের ভিতর বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায়, কিছুদিন আগে এক ছুটির দিনে চলে গেলাম সেই ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী আম গাছটি দেখতে। আগেই বলে রাখি আমার এই আধুনিক যুগের পার্টি, ধুমধাম অনুষ্ঠানের চেয়ে গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতেই বেশি ভালো লাগে। এর জন্য এমন প্রকৃতি বিষয়ক কোন কিছুর খোঁজ পেলেই, দেখতে ছুটে চলে যাই। আর আসার সময় সাথে করে নিয়ে আসি বিশাল ভালো লাগার বেশ কিছু মুহূর্ত ও স্মৃতি।

আমি ঢাকার কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার জন্য নাবিল পরিবহন বাসের টিকেট কেটে  ছিলাম। ভালই লাগছিল চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে যেতে। মাঝে বঙ্গবন্ধু সেতুও দেখা হয়ে গেল এই সুযোগে। আমাকে ঠাকুরগাঁওয়ের বাস স্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়েছিল। যেখানে নামিয়ে দিয়েছিল সেখান থেকে সোজা চলে গেলাম সেই প্রকাণ্ড আমগাছটি দেখতে । একদম বাংলাদেশের আবহমান গ্রামবাংলার একটি গ্রামীণ পরিবেশ, যেখানে নেই কোন ঢাকা শরের যানজট, কোলাহল, ধুলাবালি। এমনি আপনার মন চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

সতেজ বাতাস, গ্রামীণ পরিবেশ দেখতে পেলাম কতদিন পর। বাস স্ট্যান্ড থেকে নেমে ভ্যানে উঠে আমগাছটির কথা বলতেই চালক রাজী। কথাবার্তায় বুঝলাম আমগাছটি দেখতে নিয়মিত অনেক মানুষ আসে। কিছুক্ষণ পর যেখানে নামিয়ে দিল, সেখানে নেমেই তো আমি অবাক। আমি কি দেখছি এটা। এটা তো আমগাছের বাগান!!

কিন্তু কাছে যেতেই ভুল ভাঙ্গল। এটা কোন আম বাগান নয়। এটা চারিদিকে ডালপালা মেলে ধরা এক বিশাল আম গাছ। যেটাকে এক নজর দেখার জন্যই আমি ঢাকা থেকে এখানে ছুটে এসেছি। যেদিক তাকাই, দেখি আমগাছটি ডালপালা ছড়িয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। বয়সের ভারে গাছটির কাণ্ড, ডালপালা কয়েকটি নুয়ে পড়েছে মাটির সাথে। কৌতূহলী চোখে দেখছি আর ভাবছি আমগাছটিতে আমের মৌসুমে কি পরিমাণ আম ধরে  থাকে?

স্থানীয় বয়স্ক মানুষদের কাছ থেকে জানা যায়, এই আম গাছের বয়স নাকি ২২০ বছর! (সত্যি সত্যি ২২০ বছর কিনা, তার পরীক্ষা এখনো হয় নি। তবে গ্রামের মানুষদের দাবি এর বয়স ২০০+ হবেই।) আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার এখনো নাকি সেই আমগাছ প্রচুর পরিমাণে আম দিয়েই যাচ্ছে। শুনে বেশ অবাক লাগল।

তবে গাছটি কে কবে লাগিয়েছেন, তার সঠিক কোন তথ্য স্থানীয়রা দিতে পারলেন না। সবাই জানালেন এই গাছের কাহিনী তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে শুনে আসছেন। তাদের বাবা, দাদাদের আমলেরও আগে থেকে গাছটি আছে।

তবে গাছটি যেই জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছে ,সেই জায়গার মালিক  নুর ইসলাম জানালেন, জায়গাটি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে উনার বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন । আর আম গাছটি তার তিন পুরুষ ধরে দেখছেন, সেই হিসেবে গাছটির বয়স ২২০ বছর তো হবেই। গাছটি সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায়, তারা এটিকে ঘিরে এখন পর্যটন স্পট বানানোর পরিকল্পনা করছেন।

আর যে ইউনিয়নে গাছটির অবস্থান, সেই গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান জানালেন, গাছটি তাদের গ্রামের গর্ব। প্রতিদিন আমার মত নাকি  দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এই গাছ দেখতে এখানে আসে।

এখানে এই গাছটিকে ঘিরে সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব, পূজা পার্বণে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। বলতে গেলে এই গ্রাম সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের বিনোদনের স্থান এই গাছটি।

চলুন কিছু তথ্য জেনে আসি গাছটি সম্পর্কে –

গাছটির অবস্থান:

গাছটি ঠাকুরগাঁও জেলায় ভারতের সীমান্তবর্তী হরিনামরা গ্রামে প্রায় ২.৫ বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।  এর উচ্চতা প্রায় ৮০-৯০ ফুট। আর পরিধি প্রায় ৩৫ -৩৬ ফুটেরও বেশি।

গাছটির সম্পর্কে কিছু তথ্য:

গাছটি দেখতে বিশাল বটগাছের মত (যদিও আম গাছ)। তার এক একটি কাণ্ডই দেখতে একটি আম গাছের সমান বড়। গাছটির দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। মনের ভিতর যেন এক প্রশান্তির পরশ লাগে।

গাছটিতে সূর্য পুরী আম ধরে। এটি ঠাকুরগাঁওয়ের এক বিখ্যাত জাতের আম। আমটি বেশ সুস্বাদু, রসালো এবং ছোট আটি বিশিষ্ট। আর গাছটির বয়স অনেক বেশি হলেও এখনও প্রচুর আম ধরে।

যেভাবে যেতে পারবেন:

১। যদি ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে গাছটি দেখতে যেতে চান, তাহলে প্রথমেই আসতে হবে ঠাকুরগাঁও। এরপর সেখান থেকে হরিনামরা গ্রামে যেতে হবে। সেখানে আপনি ভ্যান পাবেন। সেই ভ্যানে করে একদম গাছটির কাছাকাছি এসে নামিয়ে দিবে আপনাকে।

২। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি নিয়েও ঘুরে আসতে পারবেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা:

১। এখানকার নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোন ঝামেলা নাই। আশে পাশে সবাই আমাদের বাংলাদেশের আবহমান গ্রাম বাংলার সহজ সরল মানুষ। তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না । আর আপনি কোন বিপদে পড়ে সাহায্য চাইলে, তারা সহজ সরল মনেই আপনাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে।

২। যারা যাবেন, তাদের প্রতি একটাই অনুরোধ এটা আমাদের বাংলাদেশের প্রকৃতি। তাই ময়লা, আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে এই জায়গাটি নষ্ট করবেন না।

কারণ আসার পথে দেখলাম বেশ কয়েকটি বিরিয়ানির প্যাকেট ফেলে রাখা হয়েছে। হয়ত কোন গ্রুপ পিকনিকে এসেছিল। আর পানির বোতল তো যেখানে সেখানে ফেলে চলে গেছে।

এতে কি হচ্ছে? বলুন তো? কার ক্ষতি হচ্ছে? আমাদেরই কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে দিন দিন। তাই এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া উচিত। যেন যেখানে সেখানে আমরা ময়লা, প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতল ফেলে পরিবেশ নোংরা না করি।

Comment (0) Hits: 582
 

বিদেশীদের আগ্রহ বাড়ছে চাঁপাইয়ের আমে

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার আম সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রফতানি পণ্যের তালিকায় উঠে আসার এক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আম ব্যবসায়ীরা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছে এখানকার আম তাদের দেশে নিয়ে যাবার ব্যাপারে। যদিও ইতোপূর্বে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুই হাজার টন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা এখন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি, পাঁচ হাজার টনে উন্নীত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে। জুনের প্রথম সপ্তাহে ও মধুমাস জ্যৈষ্ঠের তৃতীয় সপ্তাহে তিনটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রথম চালান ৮৫ টাকা কেজি দরে তিন (৩) টনের কাছাকাছি আম ইউরোপের দেশসমূহে পাঠানোর মধ্য দিয়ে এক ধরনের কর্মচাঞ্চল্যতা দেখা দেয় স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের মধ্যে। একই ভাবে দ্বিতীয় চালান পাঠাবার প্রস্তুতি নিয়ে এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছয় টন আম পাঠানো হয় ইংল্যান্ডে।

 

লি এন্টারপ্রাইজ, কেটিএস এন্টারপ্রাইজ ও মরিশন এন্টারপ্রাইজ অতি দক্ষতার সঙ্গে প্যাকেটজাত করে জার্মানি ও ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রথম চালানে এখানকার ক্ষিরসা পাতের (হিম সাগর) আধিক্য অধিক পরিমাণে থাকলেও দ্বিতীয় চালানে পাঠানো হয়েছে খুবই উৎকৃষ্ট মানের ল্যাংড়া। এর মধ্যে গাজীপুর ল্যাংড়াও রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম প্রথম ও দ্বিতীয়বার উন্নত মোড়ক জারের মাধ্যমে রফতানির জন্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব বাজারে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশের বাজারে আম রফতানি করলেও এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দী হিসাবে পাশে মিলেছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে শিবগঞ্জ অঞ্চরের আম বিদেশের বাজারে অতি আধুনিক প্রতিযোগিতায় স্থান করে নেবার পর বিদেশীদের নজর পড়েছে চাঁপাইয়ের ভোলাহাট অঞ্চলের প্রতি। কারণ ভোলাহাট ভারতের শ্রেষ্ঠ আম উৎপাদনকারী এলাকা মালদহের একেবারে কাছাকাছি। মালদহ সদর, ইংরেজ বাজারসহ তাদের ৮টি বড় ধরনের আম উৎপাদনকারী এলাকা হতে ভোলাহাটের দূরত্ব অনেক ক্ষেত্রেই ঢিল ছোড়া দূরত্বসহ প্রায় ৩৫ মিনিটের পথ। তাই বিদেশের আম ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই টার্গেট করেছে ভারতীয় আম বাজারকে টেক্কা দিতে ভোলাহাটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা। কারণ ভোলাহাটের আম ভারতীয় উৎপাদিত আমের সমকক্ষ। তাই বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের আম পৌঁছা মাত্র টার্গেট করে ভোলাহাটের আম নিয়ে যাবে। দামেও কম ও মানের দিক দিয়েও সমকক্ষ হবার কারণে এবার বিদেশী আম ব্যবসায়ীদের নজর পড়েছে ভোলাহাটের ওপর। বিদেশীরা কৌশল হিসাবে প্রথম চটে বেছে নেন ভোলাহাটে একটি সেমিনার করার। এই অঞ্চলের সব চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তড়িঘড়ি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি করে নিয়ে আসেন ইউনিভার্সিটি অব ফিলি পাইন লসরেনোমের প্রফেসর এন্তাকে। জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃষি বিজ্ঞানী কৃষিবিদ, ফাও প্রতিনিধি ড. সামিম আহম্মেদ চৌধুরী, ড. জিল্লুর রহমানসহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার করে বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন ১৩ আম চাষী ও ১০ জন আম ব্যবসায়ীর হাতে। এসব উপকরণের মধ্যে রয়েছে গরম পানিতে আম শোধন মেশিন (হটওয়ার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট), ১০টি আম পাড়ার ঠুসি, ২০টি ক্যারেট ও বাগান থেকে আম পরিবহনের জন্য ১টি ভ্যান প্রদান করা হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম উৎপাদন, আম পাড়া, গরম পানিতে আম শোধন এবং সঠিক পদ্ধতিতে পরিবহনের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলাহাট থেকে বিদেশে আম রফতানির লক্ষ্যে ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনকে এসব উপকরণ দেয়া হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আঞ্চলিক অফিস এশিয়া এন্ড দি প্যাসিফিকের যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

Comment (0) Hits: 618

‘ইত্যাদি’ এবার চাপাইনবাবগঞ্জে

বলার অপেক্ষা রাখেনা দর্শক নন্দিত ও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি। প্রতি পর্বে চমক নিয়ে দর্শকের সামনে আসে অনুষ্ঠানটি। স্টুডিওর বাইরে এসে দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপনা সর্বদাই প্রশংসিত। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রচারিতব্য পর্বটি ধারণ করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। 

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে হর্টিকালচার সেন্টারের অভ্যন্তরের আম্রকাননে এবারের পর্বের শুটিং হয়েছে। এখানে ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। অনেক আন্দোলন, সংগ্রামের সিদ্ধান্তও হয়েছে আমতলাতে। এসব কারণেই বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখে ইত্যাদির ধারণ স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয় এই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে। এ উপলক্ষে আম বাগানকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। শেকড় সন্ধানী ‘ইত্যাদি’তে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচার বিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষদের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। 

এবারের পর্বেও রয়েছে তেমনি কয়েকটি প্রতিবেদন। থাকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আম নিয়ে দুটি প্রতিবেদন। রয়েছে ফজলে রাব্বী রবিন নামে এক যুবকের সর্পপ্রীতির ওপর একটি প্রতিবেদন। খুলনার ফুলতলা উপজেলার প্রচার বিমুখ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ, শিক্ষানুরাগী কুতুবুদ্দিন আহমেদের ওপর শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। 

এবারের বিদেশী প্রতিবেদন করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাশে অবস্থিত অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলার নবাবদের আবাসস্থল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদে। এই প্রতিবেদনে জানা যাবে নবাবদের নানান বিচিত্র ঘটনা। ''ইত্যাদি'' একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে ২৯ এপ্রিল রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর।

Comment (0) Hits: 633
এক আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?- ভাবা যায়! একটি আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা। তাও আবার আমের রাজধানী-খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। ঘটনাটা কী! শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু জানান, শনিবার সকালে দুলর্ভপুর ইউনিয়নের ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় দু ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন-রানীহাটি ইউনিয়নের বহরম গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে মো. কামাল হোসেন (৩৫) ও একই এলাকার শীষ মোহাম্মদের ছেলে মো. আবু। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী অনেক পুরনো গাছ। এর কোন কোনটি ২০০-৩০০ বছরেরও বেশি বয়সী। আবার কোনটির বয়স তার চেয়েও বেশি। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আমগাছের কথা সেদিন জানতে পারলাম ফেসবুকে একজনের পোষ্ট থেকে। একটি আমগাছ যার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও ...
নব্য জেএমবির বিভিন্ন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ সংগঠনের প্রধান আব্দুর রহমানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রায় ১৯টির মতো সাংগঠনিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত আব্দুর রহমান ওরফে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২