Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

কার্বাইড কী?

ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ। এটি এক ধরনের যৌগ যা বাতাসে বা জলীয় সংস্পর্শে এলেই উৎপন্ন করে এসিটিলিন গ্যাস। যা ফলে প্রয়োগ করলে এসিটিলিন ইথানল নামক বিষাক্ত পদার্থে রুপান্তরিত হয়।

 

 

আপনি জান গ্রামে গন্জে যেখানে যত রিমোট এরিয়া আছে, কাউকে জিজ্ঞাসা করেন - ভাই কার্বাইড কি ? দেখবেন বলে দিয়েছে । মানে এমন অনেক অশিক্ষিত লোক পাবেন যারা আম , কলা পাকানোর কেমিক্যাল কার্বাইড চেনে । ফার্ষ্ট ওয়ার্ল্ডে এমন শিক্ষিত লোকও মনে হয় পাওয়া যাবেনা । কার্বাইডের পুরা নাম হল ক্যালসিয়াম কার্বাইড । এটা মূলত ব্যবহার হয় কারখানায় গ্যাস ঝালাইয়ের কাজে ।

এই যৌগের মধ্যে ক্যালসিয়াম সক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে অন্যতম । এর পারমানবিক সংখ্যা ২০। মানে ক্যালসিয়ামের একটি সক্রিয় যৌগ হলো ক্যালসিয়াম ও কার্বন নিয়ে গঠিত ক্যালসিয়াম কার্বাইড। এই রাসায়নিক পদার্থটিতে দুটি ক্ষতিকারক পদার্থ আর্সেনিক এবং ফসফরাস থাকে । মানে নলকূপ চেপে আপনার আর্সেনিক খাওয়ার কোনই দরকার নাই । খাবারের ভেজালের কারনে আপনি তা বিনা চেষ্টায় পাচ্ছেন ।

ইহা শুধু আমাদের স্বাস্থহানি নয় সুযোগ পাইলে জীবনও বিপন্ন করতে পারে। এবং আমি শুনছি এর ক্ষতি জেনেটিক কোডের মধ্যে মেসেজ ক্যারি করে যা বংশ পরম্পরায় চলে । মানে আপনার কার্বাইড খাওয়ার জন্যে আপনার সন্তান কার্বাইড যদিও না খায় ( অ্যাকসিডেন্টলী - কারন এই দেশে থাকবে কার্বাইড খাবেনা -- তাতো আর সম্ভব না ) এর এফেক্ট পাবে ।

কার্বাইড ব্যবহারের প্রথমেই এতে একটু পানির ছিটা দিতে হয়। আর ক্যালসিয়াম কার্বাইড জলীয় সংস্পর্শে এলেই অ্যাসিটিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা পাকানোর সময় ফলের সাথে মিশে ক্ষতিকর ইথাইলিনে রূপান্তরিত হয়। অ্যাসিটিলিন ইথাইলিনে রূপান্তরিত হলে ফল খুব শিগগিরই পাকতে শুরু করে ।

মাত্র ১০-১২ ঘন্টায় কস্টি কাচা কলা পেঁকে লাল হয়ে যাবে । সন্ধ্যায় বা বিকালে কলা পেড়ে কার্বাইড মারলে সকালে বাজারে পাকা কলা নিয়ে হাজির হওয়া যায় ।

কলার কাঁদির নিচে কেরোসিনের ষ্টোভ জ্বালিয়ে হিট দিয়ে কলা পাকানো হচ্ছে। কেমিক্যাল মেশানো পানি ফলের গায়ে ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে । হিট দিয়ে পাকানো কলার ভেতরের অংশ শক্ত হয়ে পড়ছে। এসব কলা একেবারেই স্বাদহীন । আবার আমে কার্বাইড দেয়ার ফলে আমের কষ ও ঘামের সঙ্গে এ পদার্থ মিশে তৈরি হচ্ছে এসিটাইলিন গ্যাস । এ গ্যাস তাপ সৃষ্টি করছে । এ তাপের ফলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পেকে যাচ্ছে আম । আম,কলার দামের সাথে যোগ হচ্ছে এই কেরোসিন আর কার্বাইডেরও দাম ।

আম কলা পেপে কি না পাকানো হচ্ছে কার্বাইড দিয়ে ? আনারস বর করার জন্যে হরমোন ইনজেকশন হাকানো হচ্ছে আর তো কার্বাইড । এই অশিক্ষিত লোকেরা এই বিদ্যা পেল কোথায় আর এত কার্বাইড পায় কোথায় ? কারা দেয় ? খাবারে কার্বাইড মিশালে লাভ কার ?

সাধারণত খাদ্যবিজ্ঞানে ফলমূল পাকানোর জন্য কার্বাইড ব্যবহারের অনুমোদন আছে, তবে সেটারও মাত্রা আছে । অর্থাৎ ওই পরিমাণ কার্বাইড ব্যবহার করলে সাধারণত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকবে না । তাছাড়া কার্বাইড ছাড়া ফলমূল পাকালে তা তাড়াতাড়ি পঁচে যায় বলে পৃথিবীতে পরিমিত কার্বাইড ব্যবহারের আইন আছে।

Comment (0) Hits: 710
 

ফরমালিন টেস্ট করার নিয়ম

মাছ, মাংস, দুধ, মিষ্টি, কলা, আম, আপেল ইত্যাদির মধ্যে ফরমালিন মেশানো হয়। এর যথেষ্ট প্রমাণ আছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাৎক্ষণিক ফরমালিন টেস্টের জন্য মাছ আমদানি পয়েন্টে সাময়িক সময়ের জন্য ল্যাবরেটরি স্থাপন করে। কিন্তু শহরে, গ্রামে-গঞ্জে, হাটে, ঘাটে,

মাঠে, বাজারে যে যথেচ্ছভাবে ফরমালিন প্রয়োগ হচ্ছে সে ব্যাপারে কিছুই করা যাচ্ছে না। কারণ এটা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার এবং এজন্য কয়েক হাজার ল্যাবরেটরি দরকার। তাই ফরমালিন টেস্টের জন্য সহজলভ্য পদ্ধতি দরকার। যাতে ক্রেতারা নিজেই ফরমালিন টেস্ট করতে পারেন এবং ফরমালিন দেয়া মাছ-মাংস কেনা থেকে বিরত থাকেন।

ফরমালিন সাধারণত জীববিজ্ঞানে নানান জাতীয় স্পেসিম্যান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার হয়। এর প্রধান কাজ পচন রোধ করা। সাধারণত ৩৭-৫০% ফরমালডিহাইডের সঙ্গে ১৫% মিথাইল অ্যালকোহল মেশালে ফরমালিন তৈরি হয়। কাজেই ফরমালডিহাইডের উপস্থিতিই ফরমালিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। ফরমালডিহাইডের পরীক্ষার জন্য কিছু কমপ্লেক্স কেমিক্যাল-এর প্রয়োজন। এগুলো হলো-

 ১। ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকে। একে বলা হয় সেরিভারস্ টেস্ট।

 ২। ফরমালডিহাইডের হালকা দ্রবণ যেমন মাছে ফরমালিন দেয়া আছে তা ধুয়ে তার পানিতে ১ সিসি সোডিয়াম নাইট্রোপ্রোসাইড মেশালে গাঢ় সবুজ নীল রঙ ধারণ করে। এতে ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এ সমস্ত কেমিক্যাল এবং রি-এজেন্ট পাওয়া খুব কঠিন এবং দামও অনেক বেশী।

 তাই সহজ এবং সাধারণ একটি পদ্ধতি বের করা যায়। যেমন সন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে পানিতে ৩% (ভলিউম) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়। ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে পানিতে অল্প মারকিউরিক কোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বে। তাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিন।

Comment (0) Hits: 571
 

ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায়

বর্তমানে জীবনযাত্রার সঙ্গে ফরমালিনযুক্ত জিনিস যেন একচ্ছত্র বিস্তার লাভ করেছে। সবজি, মাছ-মাংস, ফলমূল সবকিছুতেই ফরমালিনের ব্যবহার যেন দিন দিন বেড়েই

চলেছে। বিভিন্ন প্রচারণা, আদেশ-নিষেধ থাকলেও থেমে নেই ব্যবসায়ীদের ফরমালিন ব্যবহারের দৌরাত্ম্য। ব্যবসায়ে বেশি মুনাফা লাভের আশায় ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস যেন সহজে নষ্ট না হয়ে যায়, সেজন্যই এ ফরমালিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে সমাজের একটা অংশ অধিক মুনাফা লাভ করলেও বিপরীত অংশের সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষ ফরমালিনের গোগ্রাসের শিকার হচ্ছে। ফরমালিনে রয়েছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, যা মানুষের দেহের নানাবিদ রোগের সৃষ্টি করে থাকে।
 ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক ঃ কার্বাইড ও ফরমালিনযুক্ত খাবার থেকে ভোক্তারা আক্রান্ত হন কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে। এছাড়া মানবদেহে গ্যাষ্ট্রিক আলসার, পাকস্থলী ও অন্তনালীর প্রদাহ, ক্ষুধামন্দা, অরুচি, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলর ইত্যাদি দেখা দেয়। এমনকি লিভারে ক্যান্সারও হতে পারে। এছাড়া এর ক্ষতিকর প্রবাব পরতে পারে অস্থিমজ্জ বা বোনম্যারোর ওপর। এতে রক্তকণিকার অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। অ্যানিমিলা বা রক্তস্বল্পতা হতে পারে, আবার লিউকেমিয়া বা বস্ন্যাড ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য বিষয়টি আরো ভয়ঙ্কর।
 ফলের ফরমালিন ঃ ফলে যে ধরনের রাসায়নিক দেওয়া হোক না কেন যদি একটু সচেতন হোন, তবে ফল অনায়াসেই খাওয়া যায়। ফল খাওয়ার আগে এক ঘন্টা বা তার চেয়ে কিছু বেশি সময় ফল পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর তা ভালোমতো পরিষ্কার করলে খাওয়ার উপযোগি হয়ে ওঠে।
 সবজি , সবুজ শাকসবজিতে আজকাল ফরমালিনের মিশ্রণ ঘটানো হয়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আনা সবজি অনেকক্ষণ তাজা অবস্থায় রাখা যায় বলে সবজি ব্যবসায়ীরা এতে ফরমালিন যুক্ত করে। এসব ক্ষেত্রে সবজি রান্না করার আগে ১০ মিনিট গরম লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। তারপর তা ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোমতো পরিষ্কার করে রান্না করুন। এতে ফরমালিনযুক্ত সবজির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
 মাছ ঃ সাধারণত মাছ নদী থেকে উঠিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায় না বলে তা সংরক্ষণ করে বাজারজাত করতে হয়। এজন্য ব্যবসায়ীরা অন্য সময় বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করে পরে তা সুবিধানুয়ায়ী বাজারজাত করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই মাছই অনেক দিন সংরক্ষণ করে টাটকা অবস্থায় বাজারজাতের জন্য এখন ফরমালিনযুক্ত করা হয়। তাই মাছ বাজার থেকে এনেই এক ঘন্টা মাছ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিনের ৬০ শতাংশ কমে যায়। তাই ভালো পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রণে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিন ১০০ শতাংশ মুক্ত হয়ে যায়। তাই তারপর মাছ সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

Comment (0) Hits: 536

পাকা আমের গন্ধ নেই কেন?

বিষমুক্ত আম পেতে আম জনতা এই বছর সরাসরি বাগান থেকে, বাগান মালিক থেকে আম ক্রয় করছেন! কিন্তু আদৌ কি সেই আম জনতার আম কেনার খাওয়ার শখ সঠিক ভাবে হচ্ছে? কাড়ি কাড়ি সারি সারি অনেক গাড়ি দিয়ে আম যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি!
ঝাঁকি ভরে আম নিচ্ছে সবাই। কেজি কিংবা সের ওজনে নয় সবাই আম ক্রয় করছেন মন আর টন এ! আমার চারপাশের সকলেই আম কিনলেন এভাবেই। কেউ কেউ কুরিয়ার সার্ভিসের সাহায্যে আবার কেউ কেউ পাইকারি এনে বিক্রি করলেন পাইকারি দামে। কারো ভাইয়ের, কারো শালার, কিংবা কারো নিজের বাগানের আম দাবি করছেন বিক্রেতারা! আমার বেলায়ও এমন ঘটেছে! কিন্তু আসলেই কি আম জনতা বিষমুক্ত আম পাচ্ছেন? পাচ্ছি আর খাচ্ছি?
আমে বিষ কখন কোথায় কিভাবে গাছে মুকুল আসার পর থেকে পাকা পর্যন্ত বাগানে, আড়তে দফায় দফায় আমে দেয়া হচ্ছে সায়ানাইড, ফরমালিনসহ নানা ধরনের কেমিক্যাল। আমের রাজধানী বলে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও মেহেরপুর, রাজশাহী, নাটোর ও অন্যান্য জেলায় এই অসাধু কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বাগান মালিক, চাষী থেকে শুরু করে স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার জন্য অপরিপক্ক আম কেমিক্যাল দিয়ে আগেই পাকিয়ে ফেলে। আর পচন রোধে অর্থাত্ দীর্ঘদিন তরতাজা রেখে বিক্রির জন্য সেই আমে মেশানো হয় ফরমালিন। এই আম পাকা ও তরতাজা দেখে এক শ্রেণীর ক্রেতা কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন।
মুকুল আসার আগে গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগ ও প্রয়োজনে সেচ দেয়া হয় এবং পাতায় ম্যালথান গ্রুপের কীটনাশক কট, টিডো, ফাইটার ইত্যাদি স্প্রে করা হয়। গাছে মুকুল দেখা দিলে সামান্য কীটনাশকের সাথে ম্যানকোজের গ্রুপের ডায়াথেন অথবা কার্বন্ডাজিন গ্রুপের নইন পাওডার পানিতে গুলিয়ে স্প্রে করা হয়। তারপর আমের গুটি বড় হওয়া পর্যন্ত এনটাকল, নইন, ডায়াথেন, ব্যাপিস্টিন, ফ্লোরা, ফাইটার, টিডো ইত্যাদি ছত্রাক নাশক ও কীটনাশক স্প্রে করা হয়। আমের উপরের ময়লা পরিষ্কারের জন্য শ্যাম্পু, বোরন, ফলিকুর, রোব্রাল নামের তরল ওষুধ এবং গাছ থেকে আম পাড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে নইন, টিডো, প্রিমিয়ার, এন্টাকল নামের বিষ।
গোপালপুর বাজারের একজন কীটনাশক ব্যবসায়ী জানান, আম ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ গাছ থেকে আম পাড়ার পর দ্রুত পাকানোর কাজে ফ্লোরা নামের এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করছেন। আম ব্যবসায়ী জানান, আমের রং ভাল না হলে দাম পাওয়া যায় না তাই গাছ থেকে আম পাড়ার আগে এন্টাকল ও নইন নামের ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। তবে তারা এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেন।
‘সায়ানাইড’ দিয়ে আম পাকানো হয়। দীর্ঘদিন রেখে বিক্রির জন্য সে আমে মেশানো হয় ফরমালিন। এই দুটি কেমিক্যালেই মানবদেহে মরণব্যাধি ক্যান্সার হওয়ার আশংকা শতভাগ। দেশে ক্যান্সার রোগ আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে বিষাক্ত আমসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী দায়ী। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিত্সার জন্য আসেন। তা সামাল দেয়া চিকিত্সকদের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে বলে তিনি জানান।
মধ্যস্বত্বভোগী, অতি মুনাফালোভী, ফড়িয়া, ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক এবং আড়তদাররা আমে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ফরমালিন মিশিয়ে বছরের পর বছর বাজারজাত করছে। মূলত তাদের হাতেই দেশের ফল ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাজারে ৯৫ ভাগ আমের মধ্যেই বিষাক্ত কেমিক্যাল রয়েছে। তার বাস্তব প্রমাণও মিলছে। প্রায় প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট অভিযানে নেমে টনে টনে কেমিক্যাল যুক্ত আম ধ্বংস করে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করছেন। কিন্তু অজানা কারণে আমে বিষ মেশানো বন্ধ হচ্ছে না।
সম্প্রতি  মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে প্রাণ কোম্পানির আঞ্চলিক আম সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় বিপুল পরিমান ফরমালিনের বিষ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৮৮৭টি প্লাস্টিক ড্রামে মাত্রারিক্ত ফরমালিন মেশানো ৯০ টন আম জব্দ করেন। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
নগরীতে কেমিক্যালমুক্ত আম বিক্রির প্রতিযোগিতা চলছে। রাস্তার ধারে অস্থায়ী সেলস  সেন্টার খুলে বিক্রি করা হচ্ছে নানা জাতের আম। বিক্রেতারা বলেছেন, কোন ধরণের কেমিক্যাল মিশ্রিণ ছাড়াই নিজেদের বাগান থেকে সরাসরি আম এনে বিক্রি করা হচ্ছে। ভোক্তাদের মধ্যে এ আমের চাহিদা অনেক বেশি। নগরীর কয়েকটি এলাকা দেখা গেছে, রাস্তার ধারে অস্থায়ী সেলস সেন্টার খুলে আকর্ষণীয় ডিজিটাল ব্যানার টানিয়ে  বিক্রি করা হচ্ছে নানা জাতের সুস্বাদু আম। এসব সেলস সেন্টারে  চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আম বিক্রি করা হচ্ছে।
‘কেমিক্যালমুক্ত আম বিক্রি একটি ভাল উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের ঘোষণা অনুযায়ী এর সত্যতা যাচাই করতে কোন উদ্যোগ তেমন চোখে পরেনি । অপরদিকে উদ্যোক্তারা বলছেন, আমরা গ্যারান্টি সহকারে কেমিক্যালমুক্ত আম বিক্রি করছি। আমে কেমিক্যাল প্রমাণ করতে পারলে পুরস্কৃত করবো। সেলস সেন্টারের সামনে ব্যানার টানায়ে এ ঘোষণাও দেন উদ্যোক্তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই বিষাক্ত আম খেলে সাধারণ আম জনতার কি কি হতে পারে?

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৈয়দ আকরাম হোসাইন বলেন, বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত আম খাওয়ার পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেই কেমিক্যাল জমা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে তা ক্যান্সার সৃষ্টি করে। গর্ভবতী মায়েদের চিকিত্সকরাই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল খাওয়ার পর গর্ভবতী মা ও তার পেটের সন্তান উভয়ের মরণব্যাধি ক্যান্সার হওয়ার আশংকা বেশি বলে তিনি জানান।
কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক অধ্যাপক ডাঃ হারুনুর রশিদ বলেন,
 মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল মেশানো আম খেলে কিডনি নষ্ট হওয়ার আশংকা বেশি। গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য এই ফল খাওয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি জানান।
রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ বদরুল আলম বলেন,  কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম খেলে নার্ভ দুর্বল হয়ে নিউরোপ্যাথি রোগ হওয়ার আশংকা বেশি। ওই সকল কেমিক্যালের টক্সিনের প্রভাব পড়ে নার্ভে। এর ফলে ব্রেইনে ও নার্ভের মারাত্মক ক্ষতি হয়। গর্ভবতী মা ওই ফল খেলে তার পেটের সন্তান বিকলাঙ্গ ও হাবাগোবা হওয়ার আশংকা থাকে। দেশে বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার এটি অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে ২-৩ সপ্তাহ আম রাখা যাবে। সেক্ষেত্রে ফরমালিন ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এ কাজে বেসরকারি উদ্যোক্তা বা সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নত মানের প্যাকেট করে আম বাজারজাত করা গেলে নির্দিষ্ট সময় পর আম পাকবে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে আম জীবাণু মুক্ত করে প্যাকেটবদ্ধ করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আমের চাষ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে বলছেন। বলা হচ্ছে, মুকুল আসার আগে ছত্রাক প্রতিরোধে একবার রাসায়নিক ব্যবহার করা যেতে পারে। মুকুল পড়া বন্ধে এবং আম পরিপুষ্ট করতে ভিটামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার এবং পোকা দমন করতে সীমিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি বাগানে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি তৈরি করতে হবে।  রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, মুকুল আসার পরে এবং ফোঁটার আগে একবার স্প্রে এবং আরেকবার আম মটরদানার সমান হলে কীটনাশক দেয়া যেতে পারে।
কিন্তু কি করে চিনবেন রাসায়নিক মুক্ত আম? কেনার সময় ক্রেতা যদি একটু সচেতন থাকেন, তাহলেই কিন্তু চিনে নেয়া সম্ভব রাসায়নিক মুক্ত আম। আসুন জেনে নেই:
ক) প্রথমেই লক্ষ্য করুন যে আমের গায়ে মাছি বসছে কিনা। কেননা ফরমালিন যুক্ত আমে মাছি বসবে না।
খ) আম গাছে থাকা অবস্থায়, বা গাছ পাকা আম হলে লক্ষ্য করে দেখবেন যে আমের শরীরে এক রকম সাদাটে ভাব থাকে। কিন্তু ফরমালিন বা অন্য রাসায়নিকে চুবানো আম হবে ঝকঝকে সুন্দর।
গ) কারবাইড বা অন্য কিছু দিয়ে পাকানো আমের শরীর হয় মোলায়েম ও দাগহীন। কেননা আম গুলো কাঁচা অবস্থাতেই পেড়ে ফেলে ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়। গাছ পাকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই।
ঘ) গাছপাকা আমের ত্বকের রঙে ভিন্নতা থাকবে। গোঁড়ার দিকে গাঢ় রঙ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কারবাইড দেয়া আমের আগাগোড়া হলদেটে হয়ে যায়, কখনো কখনো বেশি দেয়া হলে সাদাটেও হয়ে যায়।
ঙ) হিমসাগর ছাড়াও আরও নানান জাতের আম আছে যারা পাকলেও সবুজ থাকে, কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি হয়। গাছপাকা হলে এইসব আমের ত্বকে বিচ্ছিরি দাগ পড়ে। ওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর।
চ) আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে শুঁকে কিনুন। গাছ পাকা আম হলে অবশ্যই বোটার কাছে ঘ্রাণ থাকবে। ওষুধ দেয়া আম হলে কোনও গন্ধ থাকবে না, কিংবা বিচ্ছিরি বাজে গন্ধ থাকবে।
ছ) আম মুখে দেয়ার পর যদি দেখেন যে কোনও সৌরভ নেই, কিংবা আমে টক/ মিষ্টি কোনও স্বাদই নেই, বুঝবেন যে আমে ওষুধ দেয়া।
জ) আম কেনা হলে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এমন কোথাও রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে না। গাছ পাকা আম হলে গন্ধে মৌ মৌ করে চারপাশ। ওষুধ দেয়া আমে এই মিষ্টি গন্ধ হবেই না।

Comment (0) Hits: 719
মাটি ও আবহাওয়ার কারণে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম এবারও দেশের বাইরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হতে যাচ্ছে।   গত বছর কীটনাশক মুক্ত আম প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার ফলে এ অঞ্চলের আমচাষীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। গত বছর ১২ মেট্রিক টন আম ইউরোপিয়ান ...
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থেকে চলতি মৌসুমে আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে উপজেলার মাহমুদপুর ফলচাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বাগানিরা আম বাগানের নিবিড় পরিচর্যা শুরু করেছে । উপজেলা কৃষি অধিপ্তরের সহায়তায় বিষ মুক্ত ও রপ্তানীযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য তারা সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও ফ্রুট ব্যাগিং ...
রাজশাহী ও রংপুরের পর এবার মেহেরপুরেও তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন প্রাকৃতিক হিমাগার। এখানে অল্প খরচে সংরক্ষণ করা যাবে পিঁয়াজ ও আলু। এই হিমাগার সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে আম ও লিচুর সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগ বলছে, এই সংরক্ষণাগার ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
বলার অপেক্ষা রাখেনা দর্শক নন্দিত ও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি। প্রতি পর্বে চমক নিয়ে দর্শকের সামনে আসে অনুষ্ঠানটি। স্টুডিওর বাইরে এসে দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপনা সর্বদাই প্রশংসিত। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রচারিতব্য পর্বটি ধারণ করা ...
নব্য জেএমবির বিভিন্ন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ সংগঠনের প্রধান আব্দুর রহমানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রায় ১৯টির মতো সাংগঠনিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত আব্দুর রহমান ওরফে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২