Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আমপাঁচালি

আ-তে আম-শিশুপাঠ। আম ছালা সবই গেল-প্রবাদ। খনার বচনও আছে, আমে ধান, তেঁতুলে বাণ। 'ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ, পাকা আমের মধুর রসে রঙিন করি মুখ'-কবিতা (পল্লীকবি জসীমউদ্দীন)। আবার সুকুমার রায়ও কম যাননি-আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে, কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে। বোঝাই যাচ্ছে বাঙালি আমময়। ফলের রাজা আম আবার রাজার পছন্দের ফলও আম। কবি আমির খসরু চতুর্দশ শতাব্দীতে আমকে হিন্দুস্তানের সেরা ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রখ্যাত উদ্যানবিদ পোপেনো আমকে প্রাচ্যের ফলের রাজা আখ্যা দিয়েছেন। মোগল সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) তাঁর শাসন আমলে ভারতের লাখবাগের দাঁড়ভাঙায় এক লাখ আমের চারা রোপণ করে একটি আধুনিক আমবাগান গড়ে তোলেন।

বাংলাদেশের আদি ফল ও ভারত উপমহাদেশের নিজস্ব ফল আম। চীনা পর্যটক হিউয়েন সং (৬৩২-৬৪৫) ভারতবর্ষ বেড়িয়ে আমের সুখ্যাতি করেছেন। জনশ্রুতি আছে, গৌতম বুদ্ধকে একটি আমবাগান উপহার দেওয়া হয়েছিল। যেন তিনি আমের ছায়ায় ঘুমাতে পারেন, বিশ্রাম নিতে পারেন। কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় শান্তিনিকেতনে নিজ হাতে আমের চারা লাগিয়েছেন। সংস্কৃতে এ ফলটির নামকরণ হয় আম। আমের অর্থ হচ্ছে রসদ। আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইনডিকা। উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। এখনো চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন ঝোপ-জঙ্গলে মাইলাম নামের এক ধরনের বুনো আম দেখা যায়। ২০১০ সালে আম বৃক্ষ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষের মর্যাদা লাভ করে। এখন দেশের সর্বত্র আমের চাষ হয়। পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব মতে, দেশের ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। আম গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য হচ্ছে, প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন আম উৎপাদন হয়। তাতে দেখা যায়, বছরে দেশে আম ফলে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টন। দেশে মাথাপিছু আম উৎপাদনের পরিমাণ এক কেজির মতো। ভারতে মাথাপিছু ১১ কেজি, পাকিস্তানে ছয় কেজি, মেক্সিকোয় ৯ কেজি, ফিলিপাইনে ছয় কেজি, তানজানিয়ায় সাত কেজি, সুদানে সাড়ে পাঁচ কেজি, জায়ারে সাড়ে চার কেজি, হাইতিতে ৫৫ কেজি। আমাদের দেশে উন্নত জাতের আম হয় রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে।

হরেক জাত

শতাধিক জাতের আম পাওয়া যায় এখন বাংলাদেশে। কিছু আম উন্নত আর কিছু দেশি গুটি আম হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের আমের মধ্যে রয়েছে ফজলি, আলফানসো, ল্যাংড়া, হিমসাগর, বোম্বাই, কৃষাণভোগ, গোপালভোগ, খিরসাপাত, মোহনভোগ, কোহিতুর, গোলাপখাস, আম্রপালি, মল্লিকা, গোবিন্দভোগ, সুরাট বোম্বাই, ক্ষীরমোহন, দাদাভোগ, আলমশাহী, জামাইপছন্দ, আশ্বিনা, জগৎমোহিনী, রানিভোগ, বাতাসা, রাজভোগ, লতা বোম্বাই ও চৌষা। এ ছাড়া মিশ্রিদানা, কালোপাহাড়, রাজলক্ষ্মী, গোল্লাছুট, স্বর্ণলতা, বউভোলানী, মিছরিমালা, মোহনবাসি, রাজভোগ, মধুকুলকুলি, হাঁড়িভাঙা, লক্ষ্মণভোগ, কালিদাসবাবু খায়, মাধুরী, আচাররাজ, ফালুয়া, বেগমবাহার, রত্না, লুবনা, মিক্সড স্পেশাল, বারি-৪, গৌড়মতি, সূর্যডিম, কমলাভোগ, বেলখাস, বিশ্বনাথ, বনখাসা, ভারতি, রাখালভোগ, নাকফজলি, মনোহারা, সিঁদুরে, গুটুলে, নিলাম্বরী, তোতামুখী, রস খাজা, তিলে বোম্বায়, আলতাবানু, সাহেব খাস, চম্পা, শীতলপাটি, দুধস্বর, উড়িআম, সিন্ধু, রত্না, মহানন্দা, বৃন্দাবনী, ছাটিয়াকরাসহ নানা জাতের টকমিষ্টি আম রয়েছে। পাকিস্তান থেকে আমাদের দেশে এসেছে আনোয়ার আতাউল, ফিলিপাইন থেকে এসেছে সুপার সুইট, থাইল্যান্ড থেকে বারোমাসি কাঁচামিঠা, ব্যানানা ম্যাংগো, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে লুবনা, মিয়ানমার থেকে রাঙ্গু আই বুকসেলাই আম।

 

সেরা পাঁচ আম

ফজলি

রাজশাহী অঞ্চলের ফজলি আম খুবই বিখ্যাত। ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ফজলির সঙ্গে ফজলি বিবির গল্প জড়িয়ে আছে। বাংলার স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুটিতে ফজলি বিবি বাস করতেন। ওই বাড়ির আঙিনায় বড় একটি আমগাছ ছিল। ফজলি বিবি সেই আম দিয়ে ফকির-সন্ন্যাসীদের আপ্যায়ন করাতেন। ইংরেজ শাসনামলে মালদহের কালেক্টর র‌্যাভেনস অবকাশ যাপন করতে এসে ফজলি বিবির বাড়ির পাশে শিবির স্থাপন করেন। ফজলি বিবি তাঁর গাছের আম নিয়ে কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করেন। আম খেয়ে র‌্যাভেনস মুগ্ধ হয়ে ফজলি বিবির নামে এর নামকরণ করেন ফজলি। আম গবেষণা কেন্দ্র গবেষণায় দেখেছে, এই আম গড়ে লম্বায় ১৩.৮ সে.মি. পাশে ৯.৫ সে.মি. উচ্চতায় ৭.৮ সে.মি. হয়। গড়ে ওজন হয় ৬৫৪.৪ গ্রাম। পাকা আমের ত্বকের রং সবুজ ও হালকা হলুদাভ। আঁশবিহীন রসালো সুগন্ধযুক্ত সুস্বাদু মিষ্টি এই আমের মিষ্টতার পরিমাণ ১৭.৫ শতাংশ। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ফজলি আম পাকে। রাজশাহী অঞ্চলের ফজলি বিখ্যাত।

 

ল্যাংড়া

আকবরের প্রিয় ল্যাংড়া আম ভারতের দাঁড়াভাঙা থেকে এ দেশে চলে এসেছে। যশোর, সাতক্ষীরা অঞ্চলে বড় আকৃতির সাদাটে এই আম দাঁড়াভাঙা ল্যাংড়া নামেই পরিচিত। এর পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উন্নতজাতের ল্যাংড়া আম ফলে। উন্নত জাতের আমের মধ্যে ল্যাংড়া সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। ল্যাংড়ার আদি নিবাশ ভারতের বেনারস। এখানকার একজন ল্যাংড়া ফকিরের নামেই এর নামকরণ হয়। এই আমের খোসা পাতলা। আঁটি ছোট। শাঁস হলুদাভ, সুগন্ধি, সুস্বাদু, সুমিষ্ট ও আঁশবিহীন। গড়ে ৯.৭ সে.মি. লম্বা, ৭.৩ সে.মি. চওড়া ও ৫.২ সেমি উচ্চতার ল্যাংড়া আম দেখা যায়। এর গড় ওজন ৩১৪.১ গ্রাম। মিষ্টতার পরিমাণ ১৯.৭ শতাংশ। জ্যৈষ্ঠের শেষে এই আম পাকে। আষাঢ় মাসজুড়েই ল্যাংড়া আমের দেখা মেলে।

 

আলফানসো

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় আম আলফানসো। ভারতে এক কেজি উন্নতমানের হিমসাগর বা ল্যাংড়া আমের দাম ২৫-৩০ রুপি। কিন্তু আলফানসোর কেজি ৪০০-৫০০ রুপি। ভারতের সবচেয়ে উন্নত জাতের আম হচ্ছে আলফানসো। ভারত বেশির ভাগ আলফানাসো আম বিদেশে রপ্তানি করে। গাছ হয় মাঝারি আকৃতির। ফল গোলাকার। পাকলে হলুদ হয়। শাঁসের রংও হলুদ। সুগন্ধি আর স্বাদের জন্য এই আম বিশ্ব বিখ্যাত। আমে কোনো আঁশ নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মহারাষ্ট্র, ব্যাঙ্গালুরুতে আলফানসো ফলে। ভারতের মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরির আলফানসো সবার সেরা। স্থানীয়রা একে বলে 'কাকডি হাপুস'। এর অর্থ হচ্ছে কাগজের মতো পাতলা খোসা। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সুবিমল চন্দ্র দের বাগানে প্রচুর পরিমাণ আলফানসো ফলে। তিনি বলেছেন, 'পাকা আলফানসো হাতে এক মিনিট রাখার পর হাত সুগন্ধি হয়ে যায়।' এই প্রতিবেদক পাঁচ বছর আগে নিজ বাড়িতে ভারত থেকে সংগ্রহ করে একটি আলফানসোর চারা রোপণ করেন। দুই বছর ধরে চারাটিতে ফল ধরছে। স্বাদ ভারতের আলফানসোর মতোই। তাতে মনে হচ্ছে আমাদের দেশেও আলফানসোর চাষ করা যেতে পারে। এই আম বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। আলফানসো আষাঢ় মাসে পাকে।

 

আম্রপালি

ভারতের গবেষকরা পৃথিবীর বিস্ময়কর এক আম সৃষ্টি করেছেন। নাম আম্রপালি। ভারতের শ্রেষ্ঠ নর্তকীর নাম ছিল আম্রপালি। ১৯৭৮ সালে ভারতের আম গবেষকরা দশহোরি ও নিলাম-এই দুটি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে আম্রপালি আমের জাত উদ্ভাবন করেন। এই জাতের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে উন্নত জাতের আম এক গাছে এক বছর ফলে পরের বছর ফলে না। কিন্তু আম্রপালি প্রতিবছর ফলে। এর মিষ্টতার পরিমাণ ল্যাংড়া বা হিমসাগরের চেয়ে বেশি। গাছ বামন আকৃতির। ফলনও বেশি। পাঁচ হাত দূরত্বে এক হেক্টর জমিতে এক হাজার ৫০০ আম্রপালির চারা রোপণ করা যায়। আমের আকার লম্বাটে। আষাঢ় মাসে পাকে। গড় মিষ্টতার পরিমাণ ২৩ শতাংশের বেশি। আঁটি সরু। সুস্বাদু আঁশবিহীন। ১৯৯০ সালে প্রথম আমাদের দেশে আম্রপালির চারা আসে। বর্তমানে দেশে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় আম্রপালির চারা কিনতে পাওয়া যায়। যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলায় আম্রপালির অনেক বড় বড় বাগান রয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায়ও এখন প্রচুর পরিমাণে আম্রপালি চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ১৬ মেট্রিক টন আম্রপালি ফলে। আম্রপালি অনেকটা সবজির মতো। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ সার দেওয়া প্রয়োজন। ১২-১৪ বছর বয়স হলে গাছ কেটে নতুন চারা লাগালে ভালো হয়। এর কারণ হচ্ছে, বয়সী আম্রপালি গাছের ফল ছোট হয় ও ফলন কমে যায়।

 

হিমসাগর

দেশের জনপ্রিয় আরেকটি আম হচ্ছে হিমসাগর। আকার অনেকটা ডিম্বাকৃতির। লম্বায় ৮.৭ সে.মি. পাশে ৭.১ সে.মি. উচ্চতায় ৬.৬ সে.মি. গড়ে এর আকার। গড় ওজন ২১৯ গ্রাম। ত্বকের রং সবুজাভ হলুদ ও মসৃণ। শাঁস গাঢ় হলুদ, সুগন্ধযুক্ত, সুস্বাদু, রসালো, আঁশবিহীন ও মিষ্টি। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়ে হিমসাগর পাকে। যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা জেলায় প্রচুর পরিমাণে উন্নতজাতের হিমসাগর উৎপন্ন হয়।

 

অসময়ের আম

অগ্রহায়ণের শীতে একেবারে অসময়ে আব্বাস আলী বিশ্বাসের দুই হাত উঁচু একটি গাছে বেশ কয়েকটি আম ধরেছে। এর মধ্যে একটি আম পেকেও গেছে। যশোর শহরের খালধার রোড এলাকার আব্বাস আলীর সংগ্রহে অসময়ে ধরার বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। প্রায় ১২ মাসই তাঁর গাছে মুকুল, আমের গুটি, কাঁচা-পাকা আম দেখা যায়। অসময়ে আম ধরার মতো জাত এ দেশে অনেক আগে থেকেই ছিল। ত্রিফলা, বারোমাসি নামে পরিচিত ওইসব আমের গুণগত মান উন্নত না হওয়ায় তা জনপ্রিয় হতে পারেনি। কিন্তু এখন বিদেশ থেকে নতুন নতুন জাতের আগমন ঘটছে। এ জাতগুলো অনেকেরই আস্থা অর্জন করছে। কেউ কেউ অসময়ে আম ফলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রও অসময়ে আম ফলনের জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আম ধরে বৈশাখ মাসে। পাকে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে, পৌষ-মাঘ মাসেও গাছে আম পেকে রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যশোরে আব্বাস আলীর সংগ্রহে রয়েছে বামন প্রজাতির 'মিঙ্ড স্পেশাল', 'রয়েল ফোর' ও 'থাইল্যান্ডের বারোমাসি আম'। মিঙ্ড স্পেশাল ও বারোমাসি গাছে আম ধরে রয়েছে। মিঙ্ড স্পেশালের একটি আম পেকে হলুদ হয়ে গেছে। কিন্তু গাছে গুটিও আছে। রয়েল ফোরের ডাল অনেকটা লাল রঙের। আমের রংও এমন। আব্বাস আলী বিশ্বাস বলেন, 'তিনি ভারত থেকে এই জাতগুলো সংগ্রহ করেছেন। যশোরের সার্কিট হাউসে একটি বামন আকৃতির আমগাছ রয়েছে। প্রায় সময় গাছটিতে ফল দেখা যায়। শহরের চাঁচড়া তেঁতুলতলা এলাকায় নাসিমা আলমের বাড়িতে 'ভাসতারা' নামের একটি আমগাছ রয়েছে। এ গাছটিতে মুকুল, গুটি, কাঁচা আম, পাকা আম একসঙ্গে দেখা যায়। গাছটিতে এখন মুকুল ও গুটি রয়েছে। তবে দেশের বিস্ময়কর আমগাছ রয়েছে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার হাইওয়ে নার্সারিতে। অসময়ে ১২ মাসই এই গাছটিতে কাঁচা আম, পাকা আম পাওয়া যায়। নার্সারির মালিক রেজাউল মোস্তফা বর্তমানে প্রতি কেজি আম বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা। গাছটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-ঘড়ির কাঁটার মতো প্রতি মাসেই আম ধরে। এ কারণে অনেকে একে 'ক্লক ম্যাংগো' বলে থাকে। তবে এই জাতটির নাম হচ্ছে বারোমাসি লুগনা। এটি মালয়েশিয়ার একটি উন্নত জাতের আম। অসময়ে ফলে। পাকা আম খুবই মিষ্টি। রেজাউল মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, '১৬ বছর আগে এই জাতটি আমি মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করি। এখন আমার এই জাতের ৩০টি বড় গাছ রয়েছে। অসময়ে প্রতি কেজি আম বিক্রি করি ৫০০ টাকায়। কলম বিক্রি করি ৪০০ টাকায়। গত বছর একটি গাছের আম আমি ৪৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। গাছটিতে সব সময়ই ফল থাকে। এখন কাঁচা আম, পাকা আম দুইই রয়েছে।' এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'দেশে দুবার-তিনবার ধরে এমন জাতের আম রয়েছে। অসময়ে যাতে আম ধরে এ জন্য আমরা গবেষণা শুরু করেছি। কিছু জাতও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এসব আমের গুণগত মান ভালো না হওয়ায় ও কম ফলনের কারণে জাতগুলো জনপ্রিয় হতে পারেনি। আমরাও অসময়ের আম উদ্ভাবন করতে পারিনি।'

Comment (0) Hits: 955
 

রপ্তানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ও রপ্তানি অব্যহত রাখতে আমাদের করণীয়

“প্রকৃতপক্ষে প্রচলিত বাগান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করা প্রায় অসম্ভব। আম রপ্তানির কথা মাথায় রেখে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিটি নিয়ে আমের বিভিন্ন জাতের উপর জোরদার গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। ফলাফল মিলেছে হাতেনাতেই এবং আমের রপ্তানি শুরু হয়েছে গত বছরই। গত মৌসুমে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে আমের মাছি পোকাটিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে শেষের কয়েকটি চালান নিজ দায়িত্বে নষ্ঠ করেছেন আম রপ্তানিকারকেরা। কিন্তু এটি মোটেই কাঙ্খিত নয়। এই একটি পোকার উপস্থিতিই যথেষ্ঠ্য আম রপ্তানি বন্ধ হওয়ার জন্য। শুধুমাত্র ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমের মাছি পোকা শতভাগ দমন করা সম্ভব। আশাকরছি সংশ্লিষ্ঠ্য সকলে এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।”  আমের রপ্তানি বিষয়টি এদেশের আম চাষীদের নিকট একেরারেই নতুন। আমের রপ্তানি শুরু হওয়ার পর অনেক আমচাষী চেষ্টা করেছেন তার বাগানের আম রপ্তানির জন্য। তাদের ধারণা প্রচলিত পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম রপ্তানি করা যাবে। প্রকৃতপক্ষে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে আম সংগ্রহ করার পর থেকেই। এদেশে জন্মানো সকল জাত রপ্তানিযোগ্য নয়। প্রথমেই আমাদের জানা দরকার কোন জাতগুলো রপ্তানি করা যাবে। হিমসাগর, খিরসাপাত, বারি আম-২ বা লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, বারি আম-৩ বা আম্রপালি, বারি আম-৭ ও আশ্বিনা জাতের আম সহজেই রপ্তানি করা যাবে। তবে ব্যাগিং প্রযুক্তিতিতে উৎপাদিত হাড়িভাঙ্গা আমটিকে বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। অন্যান্য জাতগুলো বিভিন্ন কারণে রপ্তানি করা সম্ভব নয়। তবে যে জাতই হোক না কেন আমগাছ হতে আম সংগ্রহের পর হতে বিভিন্ন পরিচর্যার প্রয়োজন। যেমন প্র“নিং, ট্রেনিং, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ব্যবস্থাপনা ও রোগ এবং পোকামাকড় দমন পদ্ধতি ইত্যাদি। আমগাছ হতে আম সংগ্রহ করার পর রোগাক্রান্ত বা মরা ডাল পালা একটু ভাল অংশসহ কেঁটে ফেলতে হবে। ডালপালা এমনভাবে ছাঁটাই করতে হবে যেন গাছের ভিতরের অংশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে। গাছের ভিতরমুখী ডালে সাধারণত ফুল-ফল হয় না, তাই এ ধরণের ডাল কেঁটে ফেলতে হবে। ফলে বর্ষাকালে কর্তিতঅংশগুলো হতে নতুন কুশি জন্মাবে এবং পরের বছরে এই নতুন কুশিগুলোতে ফুল আসবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে ডগার বয়স ৫-৬ মাস না হলে ঐ ডগায় সাধারণত: ফুল আসেনা। আগামী বছরে একটি গাছে কি পরিমান ফলন হতে পারে তা আগষ্ট মাসেই ধারণা পাওয়া যায়। এ সময়ের মধ্যে গাছে যতবেশী নতুন ডগা বের করা যায় ততই উত্তম। এরপর যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো আমবাগানে সার প্রয়োগ। আমবাগান হতে প্রতি বছর ভাল ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিটি গাছে প্রতি বছর কি পরিমাণ সার দিতে হবে তা নির্ভর করে মাটিতে বিদ্যমান সহজলভ্য পুষ্টি উপাদানের উপর। সব ধরনের মাটিতে সারের চাহিদা সমান নয়। সুতরাং মাটির অবস্থাভেদে সারের চাহিদা কম-বেশী হতে পারে। গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সারের চাহিদাও বাড়তে থাকে। নিম্নে আমগাছের বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সারের পরিমান দেওয়া হলো ; গোবর সার দিতে হবে রোপনের ১ বছর পর ২০ কেজি, রোপনের ২ বছর পর ২৫ কেজি, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ৫ কেজি এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে প্রতিটি গাছের জন্য ১২৫ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে ইউরিয়া রোপনের ১ বছর পর ২৫০ গ্রাম, রোপনের ২ বছর পর ৩৭৫ গ্রাম , প্রতি বছর বাড়াতে হবে ১২৫ গ্রাম এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে ২৭৫০ গ্রাম সার প্রতিটি গাছের জন্য প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি রোপনের ১ বছর পর ১০০, রোপনের ২ বছর পর ২০০, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ১০০ এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে ২১৫০ গ্রাম সার প্রয়োগ করতে হবে। এমপি রোপনের ১ বছর পর ১০০ গ্রাম, রোপনের ২ বছর পর ২০০ গ্রাম, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ১০০ গ্রাম এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে ২১৫০ গ্রাম সার প্রতিটি গাছের জন্য প্রয়োগ করতে হবে। জিপসাম রোপনের ১ বছর পর ১০০ গ্রাম , রোপনের ২ বছর পর ১৭৫ গ্রাম, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ৭৫ গ্রাম এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে ১৬০০ গ্রাম প্রতিটি গাছের জন্য প্রয়োগ করতে হবে। জিংক সালফেট রোপনের ১ বছর পর ১০ গ্রাম, রোপনের ২ বছর পর ১৫ গ্রাম ,প্রতি বছর বাড়াতে হবে ৫ গ্রাম এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে ১১০ গ্রাম প্রতিটি গাছের জন্য প্রয়োগ করতে হবে। বোরিক এসিড রোপনের ১ বছর পর ০৫ গ্রাম , রোপনের ২ বছর পর ০৭ গ্রাম, প্রতি বছর বাড়াতে হবে ০২ গ্রাম এবং ২০ বছর ও এর উর্দ্ধে ৫০-১০০ গ্রাম প্রতিটি গাছের জন্য প্রয়োগ করতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে কিছু অসাধু আম ব্যবসায়ী আম গাছে প্যাকলোবিউটাজল নামক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছেন যা কাঙ্খিত নয়। এটি ব্যবহারের ফলে আমগাছ দূর্বল হয়ে পড়ে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে গাছ মারাও যেতে পারে। সমস্ত সার ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করা ভাল। প্রথম অর্ধেক বর্ষার আগে এবং বাকী অর্ধেক আশ্বিন মাসে অর্থাৎ বর্ষার পরে প্রয়োগ করতে হবে। যদি কোন আমচাষী প্রথম কিস্তিতে সার প্রয়োগ না করে থাকেন তবে অবশ্যই দ্বিতৃীয় কিস্তিতে চাহিদার পুরোটাই প্রয়োগ করতে হবে এবং সার প্রয়োগের পর বৃষ্টি না হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক আমচাষী বাগানের ফজলি ও আশ্বিনা আম সংগ্রহ করার পর সার প্রয়োগ করেন যা মোটেই বিজ্ঞান সম্মত নয়। ফলন্ত গাছে গুড়ি থেকে ২-৩ মিটার দুরুত্বে ৩০ সেন্টিমিটার প্রশস্থ ও ১৫-২০ সেন্টিমিটার গভীর করে চক্রাকার নালা কেঁটে নালার ভেতর রাসায়নিক ও জৈব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। অথবা দুপুর বেলা যতটুকু জায়গায় গাছের ছায়া পড়ে ততটুকু জায়গায় সার ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সাধারণত আমগাছে ফল আসার পর গাছগুলো দুর্বল হয়ে থাকে। ফলে গাছের প্রয়োজন হয় খাদ্যের। সার দেওয়ার পর বর্ষা আরম্ভ হলে গাছ তার প্রয়োজনীয় খাদ্য মাটি থেকে নিতে থাকে। ফলে গাছে নতুন পাতা বের হয়। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় অনেকেই আমবাগানে প্রতিবছর সার প্রয়োগ করেন না অথবা দেরীতে সার প্রয়োগ করে থাকেন। ফলে তারা আশানুরূপ ফলন পাওয়া থেকে বিরত থাকেন। এখানে একটি কথা মনে রাখা দরকার, জুন-আগষ্ট মাসে আমগাছে যতবেশী নতুন পাতা বা ডগা বের হবে ততই উত্তম কারণ পরবর্তী বছরে এই সমস্ত ডগায় ফুল আসার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ফলে আমের ফলন বৃদ্ধি পাবে। সার প্রয়োগের পর যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো আমবাগানে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। খরা মৌসুমে ঘন ঘন সেচ দিতে হবে। তবে মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকলে সেচের প্রয়োজন পড়ে না। গবেষণা করে দেখা গেছে আম গাছে পরিবর্তিত বেসিন পদ্ধতিতে অর্থাৎ গাছের গোড়ার চারিদিকে ১ মিটার জায়গা সামান্য উঁচু রেখে দুপুর বেলা যতটুকু জায়গায় গাছের ছায়া পড়ে ততটুকু জায়গায় একটি থালার মতো করে বেসিন তৈরী করে সেচ প্রয়োগ করলে সেচে পানির পরিমান কম লাগে এবং গাছ বেশীর ভাগ পানি গ্রহণ করতে পারে। বেসিন পদ্ধতির আরেকটি সুবিধা হলো গাছের গোড়া পরিষ্কার থাকে ফলে আগাছা জন্মাতে পারে না। সেচ প্রয়োগকৃত জায়গা কচুরিপানা দ্বারা ঢেকে দিলে মাটিতে একমাস পর্যন্ত আর্দ্রতা ধরে রাখে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে আম চাষাবাদের জন্য মালচিং প্রযুক্তিটি ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। তবে আমগাছে ফুল আসার একমাস আগে সেচ না দেওয়া উত্তম। কারণ কোন কোন সময় দেখা গেছে, এই সময় সেচ দিলে গাছে নতুন পাতা বের হয় ফলে মুকুলের সংখ্যা কমে যায় এবং ফলন কম হয়। আমবাগানে জৈব পদার্থের ঘাটতি থাকলে ধৈঞ্চার চাষ করা যেতে পারে ফলে বাগানে জৈব পদার্থ সহ অন্যান্য সার যোগ হবে এবং মাটির উৎপাদন ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনা রোগাক্রান্ত ও পোকায় আক্রান্ত আম রপ্তানি হবার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই রোগ ও পোকামাকড় অবশ্যই দমন করতে হবে তবে তা অবশ্যই যথাযথ নিয়মে ও পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে। রপ্তানিযোগ্য আমে অতিরিক্ত বালাইনাশকের ব্যবহার মোটেই কাম্য নয়। অনেকে মনে করতে পারেন বালাইনাশক অতিরিক্ত ব্যবহার করলে তা বুঝার কোন উপায় নেই। আসলে বিষয়টি ঠিক নয়। উপযুক্ত প্রমান ছাড়া আম রপ্তানির জন্য নির্বাচন করা হয় না। আমের জন্য তিন বার  স্প্রে করা জরুরী। প্রথমবার মুকুল আসার আনুমানিক ১৫-২০ দিন পূর্বে, দ্বিতীয়বার মুকুল যখন ১০-১৫ সেমি লম্বা হলে এবং শেষবার আম মটর দানাকৃতি হলে। এরপর ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভাল মানের রপ্তানিযোগ্য আম পাওয়া যাবে। ব্যাগিং করার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যা অবশ্যই মানতে হবে। আমের গুটি বাধার ৪০-৫৫ দিন পরে ব্যাগিং করলে সবচেয়ে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। তবে ফজলি ও আশ্বিনা জাতে গুটির বয়স ৬৫ দিন পর্যন্ত ব্যাগিং করা যাবে। যে কোন জাত পরিপক্ক হবার ৭ দিন পূর্বে ব্যাগ খুলে দেখতে হবে। অথবা সংশ্লিষ্ঠ্য গবেষকের সাথে পরামর্শ করে আম সংগ্রহ করতে হবে। রপ্তানির আম সংগ্রহ করা হয় তুলনামুলকভাবে কয়েকদিন পূর্বে তবে আমটি অবশ্যই পুষ্ঠ হতে হবে। কারণ রপ্তানিযোগ্য আমের সংরক্ষণকাল বেশি হলে ভাল হয়। পাকা আম কোন ভাবেই রপ্তানির জন্য উপযুক্ত নয়। আম সংগ্রহ হতে শুরু করে প্যাকিং, পরিবহনে আম যেন কোন আঘাত না পায় সেই দিকে বিশেষ মনযোগ দিতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে রপ্তানি একটি দেশের জন্য সম্মান, কারও কোন অসাধু তৎপরতাই যেন এটি বন্ধ না হয় সেই বিষয়ে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে দেশের স্বার্থকে প্রধান্য দিতে হবে। তবেই আমাদের দেশের আম রপ্তানির ধারা অব্যহত থাকবে।  *ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাই নবাবগঞ্জ

Comment (0) Hits: 502
 

বিষ মুক্ত আমের গল্প!

গ্রামীনফোন সেলবাজারে ঢুকে দেখি ৬৫/-টাকা কেজি দরে বাগানের বিষমুক্ত আম বিক্রি হচ্ছে। ফোন করলাম। জানতে চাইলাম, "কিভাবে আম পাবো?" অপর প্রান্ত রাজশাহী থেকে হুমায়ুন ভাই বললেন, "ভাই আমি আপনার সাথে রাতে কথা বলবো" অপেক্ষায় থাকলাম।  এক সময় ঠিকই হুমায়ুন ভাইয়ের ফোন আসলো। হুমায়ূন ভাই বললেন, "আপনাকে ২০ কেজি আম পাঠাবো, আপনার ঠিকানা বলেন, আমি উত্তরা বলতেই হুমায়ুন ভাই বললেন,"ঠিক আছে আপনি উত্তরা সুন্দরবন কুরিয়ার থেকে ২০ কেজি আম আগামী কাল নিয়ে নিবেন। কুরিয়ার থেকে আপনাকে ফোন দিবে"।  টাকার কথা উঠাতে তিনি বললেন,"টাকা কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিবেন।"  পরের দিন ৩.৩০ মিনিটে আমাকে সুন্দরবন কুরিয়ার থেকে ফোন দিল। বলল, "আপনার ২০ কেজি আম এসেছে নিয়ে যান। আমি বললাম," ঠিক আছে আমি আসছি।"  বেশ কয়েক দিন আগে সোহেল ভাই ফুটপাত থেকে দেশী আম কিন ছিলেন। আমি দেশী আম কিনতে বারন করেছিলাম। উনাকে বলেছিলাম, বিষমুক্ত আম পেলে আপনার জন্য নিয়ে আসবো।  সোহেল ভাইকে ফোন দিলাম। বললাম, "রাজশাহীর বিষমুক্ত আম লাগবে?" যদি নিতে চান তো এক্ষুনিই উত্তরা যেতে হবে। সোহেল ভাই ১৫ মিনিট সময় নিলেন।  যথা সময়ে আমরা উত্তরা সুন্দরবন কুরিয়ারে গেলাম। না, এখানে আম নেই ৫৩ নং বাড়ীতে আম বা কাঁচামাল গুলো রাখা হয়। আমরা হাটা শুরু করলাম ৫৩ নং বাড়ির উদ্দেশ্যে।  আমরা রীতিমত ঘেমে গেলাম। হায়রে বিষমুক্ত আম। ৫৩ নং বাড়ীর সামনে যেয়ে দেখি হুলুস্তল কান্ড। মনে হচ্ছিল আমের বাজার। ঝুড়ি, কার্টুন ভর্তি সব আম। আমাদের আমের ঝুড়িটা খুজে পেলাম। একটা সাইন দিয়ে আমের ঝুড়িটা নিয়ে নিলাম।  মেইন রোডে রিকসা এপার ওপার করতে দেয়না। রিকসাওয়ালাকে বললাম,"ট্রাফিকের দিকে তাকাবেন না, সোজা রিকসা পার করে ওপারে নিয়ে চলেন। রিকসাওয়ালা আমাদের ফেভারে কাজ করলেন।  বাসার আসার পর আমের ঝুড়ি খোলা হল। দু ধরনের আম ছিল। হিম সাগর ও মোহনভোগ। আমরা ১০ কেজি করে দু'জনে ভাগ করে নিলাম।  দু'টো পাকা আম কেটে খেলাম। হুম! খাঁটি আম! স্বাদ যেন জিভেয় লেগে রয়েছে। পাকা আমের ঘ্রানে মন ভরে গেল।  রাজশাহীর হুমায়ুন ভাই এবং রাজশাহীবাসীকে প্রাণ ঢালা শুভেচ্ছা।

Comment (0) Hits: 531

ফলের মুকুটহীন সম্রাট “আম” এর অজানা কিছু তথ্য

বাংলাদেশ,ফুলে ফলে সমৃদ্ধ এই দেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে প্রতিটি মৌসুম পরিপূর্ণ হয় বিভিন্ন সুস্বাদু ফলে। গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত প্রতিটি ঋতুর আছে নিজেস্ব কিছু ফল। তবে বাঙালির কাছে গ্রীষ্ম কালটা যেন ফলের সমাহার নিয়ে আসে। আম জাম লিচু তরমুজ কতই না বাহারি ফল। তাই আমিও ভাবলাম এমন কিছু লিখি যা এই গ্রীষ্ম কালকে আরো ফলময় করে তুলবে। তাই আমি ভাবলাম ফলের রাজা ”আম” নিয়ে কিছু লিখবো।

আম একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। যা গ্রীষ্মপ্রধান দেশ গুলোতে চাষ হয়ে থাকে।আমের উৎপত্তি “Mangifera indica” যা Anacardiaceae পরিবারের একটি ফল (বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে)। কিছু সূত্রমতে এইধরণের ফল বাংলাদেশ ,ভারত ,মায়ানমারে বেশি ফলে থাকে। তবে গর্বের বেপার এইযে এর মধ্যে বাংলাদেশ এর আম বিশ্ব বিখ্যাত। বলা হয়ে থাকে ৬৩২ এবং ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত ভ্রমণকালে সুপরিচিত চীনা পর্যটক “হুইন টিসং” আমকে প্রথম বহির্বিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৫৫৬-১৬০৫ সালে মুঘল সম্রাট আকবার তৎকালীন ভারতের দ্বারভাঙা নগরে ১০০০০০ আমগাছের বাগান করেন। যা ভারত উপমহাদেশের প্রথম আমবাগান হিসেবে পরিচিত।
আমের ইংরেজি নাম “ম্যাংগো”,তামিল শব্দ  “ম্যান-গায়” থেকে এসেছে। পর্তুগিজ শাসনামলে যাকে “মাঙ্গা” বলা হতো। ১৭০০ সালের দিকে ব্রাজিল এ আমগাছ রোপন করা হয় যা ভারত উপমহাদেশের বাহিরে রোপন করা প্রথম আমগাছ।পরবর্তীতে বিভিন্ন বন্য পশুপাখি দ্বারা এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে।

বাংলাদেশে প্রচুর প্রজাতির আম উৎপাদন হয়ে থাকে। যার বেশির ভাগ রাজশাহী ,নাটোর,চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দিনাজপুরে হয়ে থাকে। এবং এইখানে ফলা আমের চাহিদা বাজারে বেশি। বিশিষ্ট কিছু বৈচিত্রের মধ্যে ফজলি ,ল্যাংড়া ,গোপাল ভোগ ,লক্ষণ ভোগ ,মোহনভোগ ,রাজভোগ,হিমসাগর ,কালুয়া ,খিরসাপাত ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়। চলুন জাতভেদে আমের কিছু বৈশিষ্ট জেনে নেই।

ফজলি :এই জাতের আম সাধারণত মৌসুমের শেষের দিকে পাওয়ায়।ফজলি সাধারণত আচার এবং জেলি তৈরিতে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি আকারে অনেক বোরো হয়ে থাকে। সাধারণত একটি আম ১-১.৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই জাতের ফলন হয়ে থাকে।

ল্যাংড়া :এইটা হয়তো অনেকেরই অজানা যে কেন এই জাতের আমকে ল্যাংড়া বলা হয়। এর পেছনে আছে একটি গল্প। যে ব্যেক্তি প্রথম এই জাতের আমগাছ রোপন করেছিলেন তার একটি পা ছিল না যার জন্য তাই এলাকাবাসী তাকে ল্যাংড়া বলে ডাকতো। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারে এই জাতের নাম দেয়া হয় ল্যাংড়া। বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত একটি আমের জাত এইটা। আকারে উপবৃত্তাকার হয় এই ধরণের আম।

খিরসাপাত:এই জাতের আমের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। আর তা হলো এই আমি খোসা না ছাড়িয়ে খাওয়া যায়। আর তার জন্য আপনাকে বেশি কিছু করতে হবে না। আপনাকে শুধু আমটাকে ভালো মতো ভর্তা করতে হবে ( খোসা সহ ) এরপর ছোট্ট একটি ফুটো করে ভেতরে থাকা ম্যাংগো জুস এর মজা নিন। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই জাতের আম পাওয়ায়। বাংলাদেশের বাজারের জনপ্রিয় আমগুলোর মধ্যে এটা অন্যতম।

কালুয়া :এই জাতের আম সাধারণত ডিম্বাকার হয়ে থাকে। পাকা অবস্থায় খোসা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে এবং ভেতরে অনেকটা লালটে হলুদ বর্ণের হয়। কাঁচা অবস্থায় প্রচুর অম্লীয় হলেও পাকার পর তা অনেক সুস্বাদু এবং মিষ্টি হয়। এই জাতের আমি গাছেই পাকাতে হয় কারণ কাঁচা অবস্থায় পারলে এর অম্লীয়ভাব তা থেকেই যায়।

হিমসাগর : হিমসাগর জাতের আম খুব অল্পসময়ে ফলন হয়। এই জাতের আম খুব মিষ্টি হয়ে থাকে। বলা হয় হিমসাগর আম যখন পাকে ,এর মিষ্টি গন্ধ ঘরে বসে পাওয়ায়। অনেকেই এই জাতের আমকে “আমের রাজা” বলে থাকে। এই জাতের আম পাকা অবস্থায় বাহির থেকে সবুজ এবং ভেতরটা হলুদাভ হয়ে থাকে। এই জাতের আমের কোনো আঁশ থাকে না। মাঝারি আকারের এই আমের ওজন  ২৫০-৩৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। বলা হয় অনেক কবি সাহিত্যিক তাদের কবিতায় ,গানে এই আমের কথা লিখে থাকে।

বাংলাদেশে এক সময় প্রায় ৬৩৯৮২০ মে.টন আম উৎপাদন হত।তবে বিগত বছর গুলোতে এর মাত্রা কমেছে।উৎপাদনের হার কোমর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে আর তা হল
১.পুরোনো গাছ গুলো আর আগের মতো ফলন দিতে পারছে না।
২.বাগান মালিকদের মৌসুমী ফল চাষের প্রতি আগ্রহ কমেছে।
৩.পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাব।
৪.ফলন সহায়ক কীটপতঙ্গের অভাব।
৫.ফলন যোগ্য জমিতে আবাসিক ভবন ,মার্কেট ইত্যাদি তৈরী।
প্রতিবছর কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী বেশি লাভের আশায় বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে আমের দ্রুত ফলন করে থাকে। যার জন্য আম হারাচ্ছে তার স্বাদ। এবং এই ধরণের আম খেয়ে প্রচুর মানুষ হচ্ছে অসুস্থ। সেই সকল অসাধু ব্যাবসায়ীদের উদ্দশ্যে বলতে চাই আপনারা হয়তো জানেন না আপনাদের এই নোংরামির জন্য আমের রাজ্য বলে খ্যাত বাংলাদেশ তার সিংহাসন হারাতে বসেছে। সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ এই সব অসাধু ব্যাবসায়ীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি প্রদানের আইন করুন। কারণ তাদের এই কাজ তা কি দেশদ্রোহিতার সমতুল্য না ?

যাই হোক। আমের মৌসুম আর হয়তো ১০-১২ দিন বাদে শুরু হচ্ছে।তাই বেশি করে আম খান চালের( চালের দাম এবার মাথার ওপরে ) ওপরে চাপ কমান। আর যেহেতু এবার পুরো মৌসুম রমজানের মধ্যে পড়ছে। তাই টাকা দিয়ে বিদেশী ফল না খেয়ে আম/কাঁঠাল খান। আপনার শরীরের শর্করার চাহিদাই পূরণ করবে ইনশাআল্লাহ।

Comment (0) Hits: 686
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সারাদেশের ন্যায় মত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও টানা ৭দিন ধরে প্রবল বর্ষনের কারণে আম ব্যবসায়ী ও আম চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। টানা বর্ষনের কারনে আম ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। অন্যদিকে গাছে পাকা আম নিয়েও বিপাকে পড়েছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে দুর্যোগপূর্ণ ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২