Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

অাম কুড়াতে সুখ

আম কুড়াতে সুখ, কার না সুখ লাগে আম কুড়াতে। আর সেটা মামার বাড়ী হলে তো আর কথাই নেই। পল্লী কবি জসীম উদ্দিন আম কুড়িয়ে সুখ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তার কবিতায়….

“ঝড়ের দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের শাখায় উঠি
রঙিন করি মুখ”

কখনো মেঘলা কখনো ফর্সায় রূপ বদলায় সে দিনটির আকাশ। এর পর টুপটাপ শব্দ সাথে হালকা বাতাশ। নাহ সব তো ঠিক হয়ে গেল। আবার ঐ তো দেখা যাচ্ছে কি যেন ধেয়ে আসছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলছে পুরো পৃথিবীকে। এর পরিচয় নাকি কাল বৈশাখী ঝড়।

উড়িয়ে নিচ্ছে রাস্তায় পরে থাকা কাগজের টুকরো। চিঁড়ে ফেলছে গাছের পাতা। ধুলো-বলির এক স্তর জমে গেল ঘরের মেঝেতে। টেবিলেও বাদ নেই। কাল বৈশাখি ঝড় করো জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ালেও নাগরিক মনে একটু শন্তির পরশ বুলিয়ে দিতে দ্বিধা নেই তার।

বৈশাখ মাসে এরকম কত ঝড় যে হয় তার অন্ত নেই। মজার বেপার হলো ঝড়ের পর আম কুড়াতে যাওয়া। গ্রামের ছেলে মেয়েরা একাজটি কত যে অান্দের সাথে করে থাকে তা শুধু আম কুড়াতে গেছে যারা তারাই জানে। নিজেদের গাছ হলেতো কিছুই না। অন্যদের গাছের নিছে গিয়েও আম কুড়ানো হয়। মাঝে মধ্যে ঢিল ছুরে ভৌ দৌঁড়।  গাছওয়ালাদের বকনিরও কমতি নেই।

নগরায়নের এ সময় কাক ডাকা শহরের শিশুদের আম কুড়াতে যাওয়ার কথা শুধু বইতে পড়েই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। তারা আম কুড়ানোর সুখ থেকে অনেক দুরে। যাদের বাড়ীতে আম গাছ আছে তাঁরা এই ঝড়ের পরেই কাচা আম কুড়িয়ে থাকে। সেই কাচা আমের আচার, ভর্তা, ডালের সাথে আম বিভিন্ন ভাবে খেতে অভ্যস্ত। আমের আচার যেন দুমুঠো ভাত বেশি খেতে অনেক সাহায্য করে।

কাঁচা আমে রয়েছে আঁশ, যা পাকস্থলীসহ পেটের অন্যান্য অঙ্গ (ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র) ভালো রাখে। কাঁচা আম চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এর উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ চোখের জন্য ভীষণ দরকারি। লবণ, কাঁচা মরিচ দিয়ে কাঁচা আম হতে পারে ভিটামিন সি-এর পূর্ণ মিশ্রণ। ত্বকের ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দুঃসাহসী শক্তি রয়েছে কাঁচা আমের।

Comment (0) Hits: 500
 
আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ

আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আমের স্বাস্থ্য জন্য উপকার এ বিষয়ে কারো দ্বীমত নেই। কিন্তু আম পাতা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি যা আমরা অনেকেই জানিনা। আম পাতায় আছে ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদান। এই পাতায় মেঞ্জিফিরিন নামক উপাদান থাকে যা অপরিমেয় স্বাস্থ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আমের কচি পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি পান করে বা পাতা গুড়ো করে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আম পাতার ব্যবহার ও বিভিন্ন রোগ নিরাময় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সাধারণত আম পাতা ব্যবহার করা হয়।

আজ আমরা কথা বলবো আম পাতার গুণাগুণ সর্ম্পকে।

উজ্জ্বল, মাংসল এবং সূক্ষ্ম প্রান্তের আম পাতা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। আম পাতায় প্রচুর ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ পাওয়ার জন্য ফুটিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণায় আম পাতার ঔষধি গুণের কথা প্রমাণিত হয়েছে। আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

রক্তচাপ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে। ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। এতে রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে।

ডায়াবেটিস
ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে আম পাতায় যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। আম পাতার চা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে এবং সংবহন সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

শ্বসনতন্ত্র
সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমাতে আম পাতার চা সাহায্য করে। যারা ব্রঙ্কাইটিস বা অ্যাজমায়, ঠাণ্ডায় ভুগছেন; তারা মুক্তি পেতে পারেন আম পাতা ফুটানো পানি পান করে।

কানের ব্যথা
কান ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আম পাতার রস ব্যবহার হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এটি ব্যথার সমস্যা মুক্তিতে চমৎকার কাজ করবে।

পোড়া
আম পাতার ছাই ত্বকের পোড়া অংশকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। কিছু আম পাতা পুড়িয়ে ছাই করে নিন এবং এই ছাই আলতো করে পোড়া স্থানে ঘষুন। আম পাতার সাহায্যে পোড়া নিরাময় হবে খুব দ্রুত।

ইউরিক এসিড
গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উপকারী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

স্ট্রেস
অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। ২/৩ কাপ আম পাতার চা পান করে দেখুন পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে সাহায্য করবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন।

কিডনির পাথর
আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে কিডনির পাথর বের হয়ে যাবে।

গলা ব্যথা
কিছু আম পাতা পুড়তে দিন এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে।

স্বাস্থ্য বজায় রাখা
যাদের মুখের দুর্গন্ধ এবং দাঁত ও মাড়ির সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

Comment (0) Hits: 826
 

আম নিয়ে ভাবার সময় এসেছে

ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিসসাপাত, লক্ষণ ভোগ, হিমসাগর, ফজলি, আশ্বিনা শত শত নামের শত শত জাতের একটি ফল, আম। পৃথিবীতে কোন ফলের স্বাদের এত ভিন্নতা নেই-যা আমের আছে। শুধু তাই নয়, এত সুস্বাদু ফলও পৃথিবীতে নেই। এ জন্যই হয়তো আমকে ফলের রাজা বলা হয়। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং ৬৩২ থেকে ৬৪৫ খৃষ্টাব্দের মধ্যে কোন এক সময় এ অঞ্চলে ভ্রমণে বাংলাদেশের আমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেন।
 
আম অর্থ সাধারণ। প্রচুর খাদ্যপ্রাণ সমৃদ্ধ সাধারণের ফল আম। খৃষ্ঠপূর্বকাল থেকে এ জনপদে আম প্রিয় বাঙালির সন্ধান মেলে। রামায়ন ও মহাভারতে আম্রকানন শব্দের দেখা মেলে। ফল হিসেবে এ অঞ্চলে আমের ইতিহাস সাড়ে ছয় হাজার বছরের পুরনো। সম্রাট বাবর আমকে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। সুপ্রাচীনকালের সেই আম আজ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির বিরাট একটা জায়গা দখল করেছে ইতোমধ্যে। বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আম উৎপাদন পুরোটাই বাণিজ্যিক। দেশের সব জেলাতে কম-বেশী আম উৎপাদিত হলেও রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা আম উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। চাপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ মানুসের অর্থনীতির নিয়ামক আম। এ অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ পরিবারের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে শুধু আম চাষের উপর। সারাদেশে এবার আমের উৎপাদন ৪ লাখ মেঃ টনের ওপরে। এর মধ্যে শুধু চাপাইনবাবগঞ্জেই উৎপাদিত হয়েছে সোয়া দুই লাখ মেঃ টন।
 
চাপাইনবাবগঞ্জে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম গাছের পরিমাণ ১৮ লাখ। আর রাজশাহী জেলায় ৮ হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে আম উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার মেঃ টন। দেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার হচ্ছে চাপাইনবাবগঞ্জের কানসাট। কানসাট আম আড়তদার সমিতি সূত্রে জানা যায়, কানসাটে প্রতিদিন ৬ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে। বেচাকেনার পরিমাণ ইতোমধ্যে ২ হজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে আম উৎপাদন এবং বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে।
এ বছর ঢাকাসহ সারাদেশে আমের দাম অনেকটা সস্তা। অন্তত পক্ষে অন্যান্য পণ্যের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সে অবস্থায় আমের দাম বাড়েনি। অধিকন্তু চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এখনো বিপুল পরিমাণ আম অবিক্রিত। কিন্তু দেশের বৃহত্তর একটা অঞ্চলের অর্থনীতি অনেকটাই আমের উপর নির্ভরশীল। তারপরও রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর জেরার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি আম চাষের আওতায় চলে যাচ্ছে। এতে করে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের কৃষক আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ আমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের তথা জাতীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য আম নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আম চাষ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আম সংরক্ষণ, আম নির্ভরশীল শিল্প-কারখানা নির্মাণ এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি উঠেছে।
 
চাপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দের দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের মতো ভারত ও পাকিস্তানেও বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভারত ৪১ হাজার মেঃ টন এবং পাকিস্তান ৪৭ হাজার মেঃ টন আম রপ্তানি করে থাকে। আমাদের দেশে যে পরিমাণ আম উৎপাদিত হয় তাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে রপ্তানিকারকদের এগিয়ে না আসা, বিমান সমস্যা প্রভৃতি কারণে আম রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। আম পচনশীল ফল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে সংরক্ষণ সম্ভব হয় না। এজন্য আম প্তানিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা জুস তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রাণ গ্রুপ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। ২০০১ সালে প্রাণ গ্রুপ নাটোরে আমের পাল্প তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে। যে পাল্প থেকে তৈরি হয় জুস। যা বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষিদের ব্যাপক উপকারে আসছে। এবছর প্রাণ কোম্পানি রাজশাহী, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৪০ হাজার মেঃ টন আম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যা গত বছর ছিল ৩০ হাজার মেঃ টন। নাটোরে প্রাণ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন)-এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নিজেদের ক্রয়কৃত আম এবং পাল্প সংরক্ষণের জন্য ৪০ হাজার মেঃ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কথা হচ্ছে প্রাণের ৪০ হাজার মেঃ টন নয় প্রয়োজন দুই লাখ মেঃ টন আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। ব্যাপক ভিত্তিক আম সংরক্ষনাগার নির্মাণ করতে পারলে বছরের সব সময় আম পাওয়া যাবে। আবার আম চাষিরা নিজেরাও আলুর মতো আম সংরক্ষণাগারে রাখতে পারবে। ক্ষেত্রে আমের প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণাগার নির্মাণের জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। আম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রাণের মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। আমের ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে গবেষণা। কারণ আমের উৎপাদন ক্ষেত্রে অফ ইয়ার অন ইয়ার বড় ফ্যাক্টর। গবেষণার মাধ্যমে আম্রপলির মতো নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে করে একই গাছে প্রতিবছর আম পাওয়া যায়।
 
যেহেতু দেশের বৃহৎ একটা অঞ্চলের অর্থনীতি আম নির্ভর হয়ে পড়েছে। আম উৎপাদন স¤পূর্ণ বাণিজ্যিক রূপ লাভ করেছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। তাই উন্নত জাত উদ্ভাবন, উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিতে সরকারি বেসরকারি সকল প্রকার উদ্যোক্তাকে এগিয়ে আসতে হবে। এতে করে বাড়বে স্বনির্ভর লোকের সংখ্যা, বাড়বে কর্মক্ষেত্র, উপকৃত হবে জাতীয় অর্থনীতি।
 
লেখক,সহকারী পরিচালক,পিআইডি,তথ্য মন্ত্রণালয়

Comment (0) Hits: 494

আমের বাহারি নামকরন

বাংলাদেশে হাজার হাজার জাতের আম গাছ থাকলেও এর কোনো নামকরণ হয়নি। কেবল বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকৃত জাতগুলোর সুন্দর সুন্দর নাম দেওয়া হয়েছে। দেশের বাণিজ্যিক জাতের মধ্যে কয়েকটির নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু ইতিহাস লোকমুখে প্রচলিত আছে। যেমনÑ বিহারে এক ল্যাংড়া ফকিরের বাড়ি থেকে উন্নতমানের যে আম গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়েছিল তাই পরবর্তীতে ল্যাংড়া নামে পরিচিতি লাভ করে। খিরসার মতো সুস্বাদু হওয়ায় এই জাতের আমের নাম হয়েছে খিরসাপাত। সবচেয়ে নাবি জাতটি আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাছে থাকতে পারে বলে তাকে আশ্বিনা নাম দেওয়া হয়েছে। লতা বোম্বাই জাতের গাছটি চারা অবস্থায় লতার মতো বিস্তৃত হওয়ায় এটাকে লতা বোম্বাই বলা হয়। কথিত আছে, অনেক সময় এমনও হয়েছে, রানী একটি গাছের আম খুবই পছন্দ করেছেন অমনি সেই জাতের আমের নাম হয়ে গেল রানী পছন্দ। রাজা যেটি পছন্দ করেন সেটা হয়েছে রাজা পছন্দ, নায়েব পছন্দ করলে এক রকম নাম, আবার অন্য কেউ পছন্দ করলে সেই নামেই আমের নামটি প্রচলিত হয়ে গেছে। আবার খেজুরের কাঁদির মতো থোকায় থোকায় আম ধরে বলে সেই আমের নাম হয়েছে খেজুর কাঁন্দ।

এছাড়া ফজলি আম নিয়েও একটা গল্প প্রচলিত আছে।

হেরিটেজ রাজশাহী থেকে প্রকাশিত মাহবুব সিদ্দিকীর আম বিষয়ক একটি বইয়ে উল্লেখ আছে, ব্রিটিশ ভারতে মালদহ জেলার কালেক্টর রাজভেনশ ‘ফজলি’ নামকরণ করেন। এর আগে ফজলি আম ‘ফকিরভোগ’ বলে পরিচিত ছিল। কথিত আছে, ফজলি বিবি নামে এক বৃদ্ধার বাড়ি থেকে প্রথম এই জাতটি সংগৃহীত হয়েছিল। তিনি বাস করতেন বাংলার স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুঠিতে। তার বাড়ির আঙিনায় ছিল একটি পুরনো আমগাছ। তবে এটি কোন জাতের, সে বিষয়ে কোনো ধারণা ছিল না তার। ফজলি বিবি গাছটির খুব যতœ নিতেন। গাছটিতে প্রচুর আম ধরত। আমগুলো যেমন আকারে বড়, তেমনি সুস্বাদু। সেখানকার নির্জনবাসী ফকির-সন্ন্যাসীদের তিনি এই আম দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। সে জন্য ফজলি বিবি এই আমের নাম দিয়েছিলেন ফকিরভোগ।

তৎকালীন কালেক্টর একবার অবকাশ যাপনের জন্য ফজলি বিবির কুঠির কাছে শিবির স্থাপন করেছিলেন। তিনি আসার খবর পেয়ে ফজলি বিবি ফকিরভোগ আম নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। ব্রিটিশ সাহেব সেই আম খেয়ে অত্যন্ত মুগ্ধ হন। ফজলি বিবির আতিথেয়তায় তিনি এতই খুশি হয়েছিলেন যে, ওই আমের তিনি নাম দেন ‘ফজলি’। তখন থেকে এই নাম মানুষের মুখে মুখে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া বাংলাদেশে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জাতগুলোর সুন্দর সুন্দর নাম দেন গবেষকরা। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী মুক্তায়িত জাতের নাম না দিয়ে একটি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। যেমনÑ বারি আম-১. ২. ৩ ইত্যাদি।

Comment (0) Hits: 907
এক আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?- ভাবা যায়! একটি আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা। তাও আবার আমের রাজধানী-খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। ঘটনাটা কী! শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু জানান, শনিবার সকালে দুলর্ভপুর ইউনিয়নের ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
এখন বৈশাখ মাস গাছে গাছে ভরা আছে মধু ফল আমে। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আম গাছে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ডালছাড়া গাছের মধ্যখানে ধরেছে কয়েকশত আম। আর ব্যতিক্রমী ভাবে ধরা এ আম দেখেতে শিশুসহ অসংখ্য লোকের ভির হচ্ছে সেখানে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ...
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড কাউন্টির ছোট্ট শহর বাউয়েন। ছোট এ শহরের বড় গর্ব একটা আম। আমটি নিয়ে বাউয়েন শহরের মানুষেরও গর্বের শেষ নেই। লোকে তাদের শহরকে চেনে আমের রাজধানী হিসেবে। ৩৩ ফুট লম্বা, সাত টন ওজনের বিশাল এই আমের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার লোকের অভাব হয় না। তবে দিনকয়েক আগে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২